অতিথি পাখিরা আসে- দল বেঁধে, ঝাঁকে ঝাঁকে

admin@czit
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৪৮ AM, ১৫ জুন ২০২০

সুদূর সাইবেরিয়া কিংবা অন্য কোন শীত প্রধান অঞ্চল থেকে একটু উষ্ণতার খোঁজে তারা আকাশে ডানা মেলেছিল। হাজার হাজার মাইল পথ পেরিয়ে অবশেষে তারা কাঙ্ক্ষিত সেই ঠিকানার সন্ধান পায়। তাদের পছন্দের এই ঠিকানা হলো- বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি।

বেঁচে থাকার পর্যাপ্ত খাবার আর উপযুক্ত পরিবেশের জন্য প্রতিবছরই এই অতিথি পাখিরা আসে, দল বেঁধে, ঝাঁকে ঝাঁকে। নভেম্বরে শীত যখন তীব্র হতে শুরু করে তখনই প্রিয় হাকালুকির উদ্দেশে তারা রওনা হয়। দলে দলে আসতে থাকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। ফেব্রুয়ারি-মার্চে গরম বাড়তে শুরু করলে তারাও চলে যায় নিজ দেশে।

প্রতি বছরের মতো এবারও অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শোনা যায় অগণিত পাখির কিচিরমিচির। তারা আপনমনে খাচ্ছে, গাইছে আর জলকেলিতে মেতে উঠছে।

শীতকালে হাকালুকি দেখতে যাওয়া পর্যটকদের আকৃষ্ট করে এই অতিথি পাখির দল। অবশ্য কিছু শিকারির লোভী চোখ সুযোগ খোঁজে, নানা ফাঁদে আটকে ফেলে অতিথিদের। এদের কেউ অতিথি পাখি শিকার করে নিজের রসনা বিলাসের জন্য, আবার কেউবা তাদের বিক্রি করে পকেট ভারী করে। তবে প্রশাসনের নজরদারি আর সামাজিক সচেতনতায় অতিথি পাখি শিকার আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমছে।

সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওরের আয়তন প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর। প্রতি বছর শীতকালে শীতপ্রধান দেশ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আসে হাকালুকিতে।

হাওরের বিভিন্ন বিল-বাঁওর-ঝিল এখন অতিথি পাখির স্বর্গরাজ্য। হাকালুকিতে ছোট-বড়-মাঝারি মিলে ২৩৮টি বিল রয়েছে। তবে হাওরের বাইয়া, গজুয়া, হাওরখাল, রঞ্ছি ও কালাপানি বিলে অতিথি পাখি বেশি আসে।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার হাকালুকি পাড়ের যুধিষ্ঠিপুর গ্রামের শাহাদাত হোসেন ও জুড়ী উপজেলার কান্দিগাঁওয়ের আসুক মিয়া রবিবার দেশ রূপান্তরকে জানান, নানা জাতের অতিথি পাখির কলকাকলিতে হাকালুকি এখন মুখর। এবার হাওরে বালিহাঁস, ভুতি হাঁস, গিরিয়া হাঁস, ল্যাঞ্জা হাঁস, গুটি ঈগল, কাস্তেচড়া, কুড়া ইগল, সরালি, পান ভুলানি, কালেম, টিটি, পেডিসহ অন্তত ১৫-২০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি ইতিমধ্যে চলে এসেছে। তবে এর মধ্যে বালিহাঁস ও ভুতি হাঁসের সংখ্যা বেশি। তাছাড়া সাদা বক, কানি বক, পানকৌড়ি, চিল, বাজপাখিসহ দেশীয় প্রজাতির নানা পাখি রয়েছে। তারা জানান,  হাওরে সকালে ও বিকেলে পাখিদের ওড়াউড়ি বেশি দেখা যায়। হাওরের সব জায়গায় পাখিদের খাবার রয়েছে। তাই পাখিরা এক জায়গায় দল না বেঁধে বিচ্ছিন্নভাবে পুরো হাওরজুড়ে অবস্থান করছে।

আপনার মতামত লিখুন :