আবার মা হওয়ার আগে কতটা সময় দরকার

admin@czit
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:১৮ AM, ১৫ জুন ২০২০

একজন নারীর আবার মা হতে হলে এক বছর সময় নেয়া উচিত বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া ও হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের উদ্যোগে কানাডায় এ গবেষণা চালানো হয়।

বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির প্রায় দেড় লাখ শিশু ভূমিষ্ঠের নীরিখে পরিচালিত এ গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকাভিত্তিক জার্নাল জামা ইন্টারনাল মেডিসিনে।

এতে বলা হয়েছে, সময়ের এ ব্যবধান মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। অন্যদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকায় ১৮ মাস বিরতির পর আবার সন্তান নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

নতুন গবেষণায় যুক্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবার গর্ভধারণের জন্য এক বছরের বেশি সময় নেয়ার প্রয়োজন নেই। সাধারণত অল্প সময়ের ব্যবধানে গর্ভধারণ করলে সন্তান অপরিণত ও ছোট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া বেড়ে যায় মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি।

গবেষণার এ নতুন ফল বয়স্ক নারীদের ভরসা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গবেষক দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য ওয়েন্টি নরম্যান বিবিসিকে জানান, পঁয়ত্রিশের বেশি বয়সী যেসব নারী, যারা মা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য ‘উৎসাহব্যঞ্জক খবর’ এটি।

গবেষণায় আরো যেসব তথ্য উঠে এসেছে:

১. এক বছরের কম সময়ে গর্ভধারণ যে কোনো বয়সী নারীর জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

২. ৩৫ বছর বা এর বেশি বয়সে গর্ভধারণ মা ও সন্তান দুজনের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। মা হওয়ার আদর্শ সময় ২০ থেকে ৩৪ বছর বয়স।

৩. ৩৫ বছরের বেশি বয়সী কোনো নারী সন্তান জন্মের ছয় মাসের মধ্যে আবার গর্ভধারণ করলে তা তার মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

৪. তরুণ কোনো নারী সন্তান জন্মের ছয় মাসের মধ্যে গর্ভধারণ করলে অপরিণত শিশু হওয়ার ঝুঁকি থাকে সাড়ে ৮ শতাংশ।

গবেষণাটি শুধু কানাডায় পরিচালিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর ফল প্রাসঙ্গিক কিনা, সে বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। গবেষক সোনিয়া হার্নান্ডেজ-ডিয়াজ বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে গর্ভধারণ আসলে অপরিকল্পিত গর্ভধারণের বহিঃপ্রকাশ, বিশেষ করে বেশিরভাগ তরুণী মায়েদের ক্ষেত্রে।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নারীরা কতটা সময়ের ব্যবধানে সন্তান নেবেন- তা সম্পূর্ণ নারীদেরই ইচ্ছা। তাদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। আর বিশেষজ্ঞদের উচিত নারীদের এ বিষয়ে সবসময় সহযোগিতা করা।

আপনার মতামত লিখুন :