লকডাউনে নারী ও শিশু নির্যাতন

admin@czit
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৫৪ AM, ১৬ জুন ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ক্রমেই বাড়ছে ‘লকডাউন’-এর মেয়াদ। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে সুরক্ষার আহ্বান জানানো হচ্ছে বারবার। ফলে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মানুষই এখন ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু কীভাবে কাটছে মানুষের সময়? ঘরে থাকা মানুষের প্রাত্যহিক রুটিন পাল্টে যাচ্ছে। নারী-পুরুষ নানা পদ রান্নার কৌশলটা রপ্ত করার চেষ্টা করছে, ঘরের কাজে নারীর সহায়ক হয়ে পাশে থাকছে অনেক পুরুষ। কেউ কেউ আবার ডুবে থাকছে সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজ ফিড ও ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে। ফলে রাতের ঘুম ভোরে, আবার অনেকের ভোর হচ্ছে দুপুরে। কোনো কাজে নেই কোনো তাড়া, নেই কোনো ব্যস্ততাও। সময় পার করাটাই যেন বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুরা আটকে আছে ঘরে। স্কুলে যাওয়া বন্ধ। বন্ধুদের সঙ্গে ছোটাছুটি আর খেলাধুলা সবই প্রায় বন্ধ। বাইরে বেরুতে মানা। তাই শিশুর মনোজগতে ঘটছে নীরব যুদ্ধ। লকডাউনের কারণে ক্রমেই বাড়ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ভবিষ্যৎ শঙ্কাটি। তৈরি হচ্ছে অনিশ্চিত জীবনবোধের।

তবে এটি গোটা দেশের পুরো চিত্র নয়। এর উল্টো চিত্রও রয়েছে। সবার দৃষ্টি যখন করোনার দিকে তখন প্রায় নীরবেই বেড়ে যাচ্ছে নারী ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যা। যেসব পরিবারে স্বামীরা যে কোনো অজুহাতে বৌকে মারধর করেন, সবাই ঘরে থাকায় সেসব পরিবারে নির্যাতনকারী স্বামী এখন নির্যাতনের আরও নতুন নতুন ছুঁতো খুঁজে পাচ্ছেন। বর্তমান এই কঠিন সময়ে এ ধরনের পুরুষদের কাছে স্ত্রীরা হয়ে উঠছেন তাদের রাগ দেখানোর সহজ জায়গা। লকডাউনে ওই পরিবারগুলোতে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে শিশুদের সামনেই। যা শিশুর মনোজগতে বিরূপ প্রভাব তৈরি করছে, বাধাগ্রস্ত করছে তার মানসিক বিকাশকেও।  লকডাউনের এ সময়ে ঘরে আবদ্ধ অনেক পুরুষই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে হতাশাগ্রস্ত ও চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। ফলে বাড়ছে তাদের মানসিক চাপও। নিজেকে হালকা করার কৌশল হিসেবে কারও কারও সব চাপ ও ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে ঘরে থাকা নারী ও শিশুটির ওপর। এভাবেই বাড়ছে নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিমাণ।

সম্প্রতি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন একটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে শুধু এপ্রিল মাসেই দেশে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪ হাজার ২৪৯ নারী। যার মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্যাতিত ১ হাজার ৬৭২জন। তাদের মধ্যে ৮৪৮ জন শারীরিক নির্যাতন, প্রায় ২ হাজার নারী মানসিক নির্যাতন ও ১ হাজার ৩০৮ জন অর্থনৈতিক নির্যাতন (খাদ্য ও অর্থাভাব) এবং ৮৫ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়া পরিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪২৪ শিশুও। এ জরিপের ফল আমাদের সমাজের এক দুর্বিষহ চিত্রকে সামনে নিয়ে এলো। করোনার দুর্যোগের মধ্যে এ ধরনের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :