হামহামে পর্যটকদের গাইড ‘হামি’

admin@czit
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৩৬ AM, ১৬ জুন ২০২০

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কুরমা বনবিট এলাকায় নৈসর্গিক হামহাম জলপ্রপাত অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। ধারণা করা হয় এই জলপ্রপাতটির উচ্চতা ১৩৫-১৬০ ফুটের মধ্যে।

দুর্গম জঙ্গলে ঘেরা জলপ্রপাতটি দেখতে গিয়ে অনেক সময় পথ হারিয়ে ফেলেন অনেকে। উপরন্তু, পাশেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, তাই পথ হারিয়ে নো ম্যানস ল্যান্ড বা অন্য দেশে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনাও থাকে। এছাড়া, হামহামের নৈসর্গিক দৃশ্যে মোহিত হয়ে অনেকে ফেরার কথা ভুলে যান। তখন সন্ধ্যা নেমে গেলে সেখানকার ঘনায়মান অন্ধকার, ওপর থেকে ঝরনার পানি পড়ার শব্দ ও বনের পশু-পাখির বিচিত্র আওয়াজে ভয়ও পান অনেকে। গহিন পাহাড় এবং ঝিরি পথের পিচ্ছিল রাস্তায় একটু বেখেয়াল হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

তবে, হামহাম ঝরনা দেখতে যাওয়া সৌন্দর্য পিয়াসি নিসর্গ প্রিয় পর্যটকদের এই সব প্রতিকূলতায় ‘হামিকে’ পাওয়া যাবে গাইড হিসেবে। বন থেকে বের হয়ে লোকালয়ে আশা পর্যন্ত হামি আপনাকে পথ দেখাবে। কখনো সামনে থেকে, কখনো পেছনে থেকে আগলে নিয়ে আসে পর্যটকদের। পাহাড়ি পথ বা ঝিরি দুটিতেই সে সমান তালে পর্যটকের পাশে গায়ে গায়ে মিশে হাটে। ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় সে বিকল্প পথে দেখাবে। বিকল্প পথে যেতে চিৎকার করে ডাকবে।

‘হামি’ একটি কুকুর। হামহাম ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের প্রিয় বন্ধু সে। তবে তখনই এই বন্ধুর দেখা পাওয়া যায়, যখন হামহামে সন্ধ্যা নামে বা বনে কেউ পথ হারিয়ে ফেলে। আর যদি আপনার সঙ্গে গাইড না থাকে, তাহলে বুঝবেন কুকুরটিই আপনার গাইড। হামহাম ঝরনায় সর্বশেষ একজন পর্যটক থাকলেও ‘হামি’ ফিরবে না। যখন শেষ পর্যটক হামহাম থেকে চলে আসবেন তখন হামিও লোকালয়ের পথে হাঁটবে।

স্থানীয় গাইড ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, হামি নামের এই কুকুরটি প্রায় ২ বছর ধরে পর্যটকদের সঙ্গে প্রতিদিন সকালে হামহাম জলপ্রপাতে যায়। সেখানে সারা দিন সে থাকে। পর্যটকদের দেয়া বিভিন্ন খাবার খায়। তার সঙ্গে আরেকটি কুকুর আছে ‘মামি’ নামের। তবে হামিই দুরন্ত ও দায়িত্বশীল। যতক্ষণ সেখানে পর্যটক থাকবেন ততক্ষণ হামি সেখানে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :