ভোগান্তি ছাড়াই মিলছে চার দেশের বিমানের টিকিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:৩১ PM, ১৯ এপ্রিল ২০২১

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুরে যেতে ইচ্ছুক আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শনিবার থেকে বিশেষ ফ্লাইট চালু হয়েছে। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সৌদি, আমিরাত, ওমান, কাতার- এই চার দেশের টিকিট সহজে পাওয়া গেলেও সিঙ্গাপুরের টিকিট মিলছে না। এ বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি বিমানের মতিঝিল অফিসের কর্মকর্তারা।

তবে সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকেই আগত যাত্রীদের টিকিট দেয়া শুরু হয়েছে। কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই নিজ নিজ গন্তব্যের টিকিট পাচ্ছেন। অনেকেই আবার নিদিষ্ট তারিখে ফ্লাইট আছে কি-না খোঁজ নিতে আসেন।

এর আগে গতকাল রোববার সামান্য হট্টগোল তৈরি হলেও আজ শৃঙ্খলভাবেই সবাই টিকিট নিচ্ছেন। রোববার যাত্রীদের বাড়তি চাপে অফিসের গ্লাস এবং মেইন ফটকের তৈরি গ্রিলের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এদিন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। রয়েছে পুলিশের উপস্থিতি, তারাও শৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়াতে সহযোগিতা করছেন।

এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তারা বলছেন, একদিকে গণপরিবহন বন্ধ অন্যদিকে পথে পথে পুলিশের চেকপোস্টে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। পরে টিকিট-পাসপোর্ট দেখিয়ে তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয় চেকপোস্ট থেকে। আর গণপরিবহন বন্ধ হওয়ায় নিজেরা নিজেরাই প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস ভাড়া করে বিমান অফিসে এসেছেন। এতে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে তাদের।

কুমিল্লা থেকে আসা ওমান প্রবাসী ইসমাইল হোসেন জানান, গণপরিবহন বন্ধ হওয়ায় আমাদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একদিকে আমাদের পকেট থেকে বাড়তি টাকা যাচ্ছে, অন্যদিকে পথে পথে পুলিশের চেকপোস্টে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। চেকপোস্টে অনেকক্ষণ ধরে আমাদেরকে চেকিং করে তারপর ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। তার দাবি, অন্তত প্রবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে চেকপোস্টগুলো উন্মুক্ত রাখা দরকার।

সৌদি, আমিরাত, ওমান, কাতার যেতে ইচ্ছুক আটকে পড়া প্রবাসীরা টিকিট পেলেও সিঙ্গাপুরগামীদের টিকিট আপাতত মিলছে না। বিমানের ফ্লাইট নির্দিষ্ট না হওয়ায় সিঙ্গাপুরগামীদের টিকিট নেই বলে জানানো হচ্ছে।

মতিঝিল বিমান অফিসে কর্মরত একজন জানান, সিঙ্গাপুরগামী বিমানের ফ্লাইট নির্দিষ্ট হয়নি। সেক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রির প্রশ্নই আসে না। আগে ফ্লাইট ঠিক হবে তারপরেই টিকিট বিক্রি শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, এই পাঁচটি দেশে গমনেচ্ছু প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে যাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স রয়েছে, তাদেরকে বিদেশ গমনে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। যাদের ভিজিট ভিসা আছে কিন্তু বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নেই, তারা বিদেশ গমনে অগ্রাধিকার পাবেন না। তবে ভিজিট ভিসা নিয়ে যেসব বাংলাদেশি কর্মের উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাবেন, তারা বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে যেতে পারবেন।

এক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্স এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ন্যাশনাল ক্যারিয়ারসহ অন্যান্য ক্যারিয়ার বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।

যেসব যাত্রী টিকিট কেনা সত্ত্বেও লকডাউনের কারণে বিদেশ যেতে পারেননি, তাদেরকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ন্যাশনাল ক্যারিয়ারের অতিরিক্ত বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে বিদেশে প্রেরণ করার ব্যবস্থা করা হবে।

টিকিটের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিশেষ ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং চার্জ সাধারণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চার্জের সমপরিমাণ প্রদেয় হবে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিদেশগামী যাত্রীদের পিসিআর টেস্ট নির্বিঘ্নে এবং স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে ফলাফল প্রদান করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

কঠোর লকডাউন চলাকালে যারা এই পাঁচ দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশে জরুরি প্রয়োজনে যেতে ইচ্ছুক, তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র সাপেক্ষে ট্রানজিট-প্যাসেঞ্জার হিসেবে বিশেষ ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে পারবেন। যাত্রীরা এয়ারপোর্টে আসার পথে পাসপোর্ট/ভ্যালিড ভিসা/বিমানের টিকিট/বিএমইটি কার্ড অথবা নিরাপত্তা এজেন্সি কর্তৃক ইস্যুকৃত পাস সঙ্গে রাখবেন।

অন্যদিকে প্রবাসীরা জরুরি প্রয়োজনে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের শর্তে দেশে আসতে পারবেন। এক্ষেত্রে কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলকভাবে প্রদর্শন করতে হবে যাত্রীকে।

মিশনগুলো দেশে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসী কর্মীদের তালিকা প্রস্তুত করবে। আর যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ দিয়াবাড়ি, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। এসব দেশ থেকে যেসব যাত্রী দেশে আসবেন, তারা বোর্ডিং এর আগেই কোয়ারেন্টাইনের জন্য নির্দিষ্ট হোটেলে বুকিং নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :