মালিক নজরুলের ইচ্ছাকৃত ভুলে ঝরে ২২ শ্রমিকের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:২৭ PM, ০৯ মে ২০২১

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার হিজলতলায় প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ড ঘটতো। আগুন থেকে বাঁচতে কারখানার কর্মীরা মালিক নজরুল ইসলামকে বারবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দিতেন। কিন্তু তাতে ভ্রূক্ষেপ করেননি তিনি। নজরুলের সেই অবহেলায় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর কারখানাটিতে ফের অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যাতে প্রাণ হারান ২২ শ্রমিক।

ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সম্প্রতি চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলামের দেয়া চার্জশিটে একমাত্র আসামি করা হয়েছে প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক নজরুল ইসলামকে (৩৫)। যদিও তিনি মামলাটিতে জামিনে রয়েছেন।

চার্জশিটে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘আসামি নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কারখানায় প্রায়ই আগুন লাগতো। কারখানাটির শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা মালিক নজরুল ইসলামকে আগুন থেকে বাঁচার সাবধানতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার কথা বারবার তাগিদ দিলেও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এতে কর্ণপাত করেননি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর কারখানাটিতে আগুন লাগে।’

চার্জশিটে আরও বলা হয়, ‘ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ২১ জন মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ছয়জন গুরুতর জখম হন, যা পেনাল কোড ৩০২/৩০৭/৩২৬ ধারায় অপরাধ। আসামি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে পেনাল কোড ৩০২/৩০৭/৩২৬ ধারায় চার্জশিট দেয়া হলো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম  বলেন, ‘তদন্তে আসামি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তাই তার বিরুদ্ধে পেনাল কোড ৩০২/৩০৭/৩২৬ ধারায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর কারখানাটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো শ্রমিক আলমের (৩৭) ছোট ভাই জাহাঙ্গীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ওই মামলা করেছিলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ওই কারখানায় এর আগেও একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কারখানার মালিক ও মামলার অন্য অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন না নিয়ে এবং অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা যেমন—জরুরি নির্গমণ ব্যবস্থা, পানি ইত্যাদির মজুত না রেখে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :