জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রকল্প নয়, দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:৫৯ AM, ২২ মে ২০২১

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রকল্প নয়, দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং এলাকাভিত্তিক জীববৈচিত্র্য গবেষণাগার তৈরি করা। দেশজ উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রত্যেকটার সংরক্ষণ করতে হবে। মানুষ প্রকৃতিরই অংশ এবং মানুষের নানাবিধ রোগের সমাধান প্রকৃতির মধ্যেই রয়েছে।

শুক্রবার (২১ মে) অনলাইনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ এর যৌথ আয়োজনে বিশ্ব জীববৈচিত্র দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। গ্রাম ও নগরকে পাখিবান্ধব করতে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ করতে হবে। অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের জন্য আমরা মাটিতে এত বেশি সার বা কীটনাশক দিচ্ছি যে, মাটি এখন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এখন মাটিতে সার কীটনাশক না দিলে মাটি আর সাড়া দেয় না।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ নানা আন্তর্জাতিক নীতি ও সনদ স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হলেও অনেক ক্ষেত্রে এসবের কার্যকর প্রয়োগ নেই। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ৫ জুন সিবিডি সনদে স্বাক্ষর করে এবং ১৯৯৪ সালের ৩ মে অনুসমর্থন দান করে। ওইসব সনদের আলোকে বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে ‘Biodiversity and community knowledge protection act’ নামে একটি আইনের খসড়া তৈরি করেছিল। যদিও এই খসড়াকে বাদ দিয়ে পরবর্তীতে ‘জীববৈচিত্র্য আইন’ চূড়ান্ত হয়েছে।

তারা আরও বলেন, প্রজাতি হিসেবে মানুষই প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় প্রধান সহযোগী। আবার মানুষই এই প্রাণ-প্রকৃতির নির্মম হন্তারক। একক প্রজাতি হিসেবে মানুষের লাগাতার ভোগবিলাসিতা, লুণ্ঠন আর খবরদারির জন্যই আজ প্রাণ-প্রকৃতির মুমূর্ষু অবস্থা। আজ যুদ্ধবোমায় ঝলসে দেওয়া হচ্ছে ফিলিস্তিন, অঙ্গার হয়েছে আমাজন অরণ্য, রেস্টুরেন্টের জন্য কেটে ফেলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ। দুনিয়াজুড়ে প্রাণ-প্রকৃতির এই নিদান একেবারেই মানুষের তৈরি। মানুষ কেবল একা নিজে জিততে চায়, নিজের বাহাদুরিকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একা নিজের খাবার ফলাতে গিয়ে মাটি পানি সব বিষাক্ত করে ফেলেছে, অণুজীব থেকে পতঙ্গ সব ধ্বংস করছে।

তারা আরও বলেন, গত ২০ বছরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও নানা কৃষি বাস্তুসংস্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালেই দেশে প্রাণবৈচিত্র্যের বহুল মৃত্যু ঘটে। কারণ এ ঋতুতেই বোরো মৌসুমের ধান কাটা হয় আর ধান বাঁচাতে মানুষ বাবুই, চড়ুই, শালিক পাখিদের বিষ দিয়ে মারে। এছাড়া বোরো মৌসুমে ব্যবহৃত বিষ ও সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার মাটি ও জলজ প্রাণবৈচিত্র্য নিশ্চিহ্ন করে অন্য মৌসুমে চেয়ে বেশি। এছাড়া এই ‘মধুমাসে’ আম-লিচু ফল বাগানে নির্দয়ভাবে পাখিদের হত্যা করা হয়।

অনলাইন আলোচনায় যুক্ত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন, পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, পবার সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুস সোবহান, পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন, পবার সম্পাদক ও গ্রিণ ফোর্স সমন্বয়ক মেসবাহ সুমন, পরিবেশ আন্দোলন ঐক্য পরিষদের (রাজশাহীর) সভাপতি মাহবুব টুংকু প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :