হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ এবং আইনের সংস্কার

মোহাম্মদ ইয়াসিন আরফাত সাজ্জাদ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:২৩ PM, ১৫ জুন ২০২১

সারা দেশের সকল আইনজীবীর (সুপ্রীম কোর্টের নিয়মিত প্র্যাকটিসিং আইনজীবী ব্যতিত) দাবী হচ্ছে বড় জেলা এবং সকল বিভাগীয় সদরে সংবিধানের সুযোগ/সম্মতি মোতাবেক স্হায়ী কিংবা মৌসুমী হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ স্হাপন করা। যাহা আমার ব্যক্তিগত বিবেচনায় বর্তমানে বাস্তব সম্মত নহে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি, সুপ্রীম কোর্ট বারের ভূমিকা, উচ্চতর আদালতের পূর্ববর্তী রায় ও হাইকোর্টের বিচারপতিগণের অনিহা বিবেচনায় নিলে তাহা ভবিষ্যতে অসম্ভব ও অলিক কল্পনা বলে মনে হয়। মোটাদাগে হাইকোর্টের এখতেয়ার হচ্ছে- (১-৪) CPC . & CrPC অনুসারে সিভিল/ ক্রিমিনাল আপিল ও রিভিশন, (৫) Constitution অনুসারে রীট আদিম, (৬-৯) এডমিরালটি/ কোম্পানি আদিম ও আপিল, (১০-১২) ভ্যাট-টেক্স্-কাস্টম ডিউটির বিষয়ক (১৩) নির্বাচনী ট্রাইবুন্যাল মামলা। সর্বাধিক মামলা ও জনগুরুত্ব হল ১-৪। এর জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন নাই। শুধুমাত্র CPC ও CrPC সংশোধন করে হাইকোর্ট এর স্হলে ইংল্যান্ডের আদলে সার্কিট কোর্ট অব আপিল (Circuit Court of Appeal) বসায় দিলে হবে এবং সারা দেশের বিভাগীয় সদর ও মামলা বেশী এমন পুরাতন বৃহৎ প্রত্যেক জেলায় দুই বা ততোধিক স্হায়ী বেঞ্চ বসালে হবে। উক্ত সার্কিট কোর্টও হাইকোর্টের মত কোর্ট অব রেকর্ড হবেন। সার্কিট কোর্টের দুইটি ডিভিশন থাকবে– সিভিল ডিভিশন ও ক্রিমিনাল ডিভিশন। বিদ্যমান হাইকোর্টের নিকট দায়েরি সকল সি্ভিল ও ক্রিমিনাল আপিল- রিভিশন-মোশন-মিস মামলা সার্কিট কোর্টে হবে। তবে ক্রিমিনাল মামলায় ডেথ সেন্টেন্স রেফারেন্স হাইকোর্ট ডিভিশনে হবে। উক্ত সার্কিট কোর্টের বিচারপতিগণ হবেন গুণে, মানে, মর্যাদায়, বেতনে, নিয়োগ ও চাকরীর শর্ত মোতবেক হাইকোটের বিচারপতির সমান।সরাসরি আপিল বিভাগ ও প্রধান বিচারপতির নিকট দায়বদ্ধ থাকবেন। তাহাদের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আপিল বিভাগে হবে। আর কোম্পানি ও এডমিরাল্টি ম্যাটারের আপিল এখতেয়ার হাইকোর্টে রেখে আদিম মামলার এখতেয়ার সম্পন্ন নতুন আদালত ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাতে স্হাপন করা দরকার। একইভাবে কাস্টম ডিউটি সংক্রান্তে মামলার জন্য নতুন এখতেয়ার সম্পন্ন আদালত ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং পয়রায়/ মহিষখালী (নতুন সমুদ্র বন্দর এলাকা) তে প্রতিষ্ঠা করা দরকার। অন্যদিকে, জেলা কেন্দ্রীক কিছু কিছু/ সব রীট ম্যাটার এডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যালে এখতেয়ার দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, এডমিনিস্ট্রটিভ আপিল ট্রাইবুনাল, লেবার আপিল ট্রাইবুন্যাল, ভূমি আপিল সংস্কার বোর্ড তুলে দিয়ে আপিল এখতেয়ার সার্কিট কোর্ট কিংবা হাইকোর্টে দিলে ভাল হবে। তাহলে হাইকোর্টের উপর চাপ কমবে, মামলা দ্রুত নিস্পত্তি হবে। মানুষ কম খরচে বিচার পাবে। সংবিধান সংশোধনের দরকার হবে না। সংবিধানের তথাকথিত মৌলিক কাঠামোর প্রশ্ন আসবে না!!! শুধু একটু রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। উল্লেখ্য যে, ইংল্যান্ডে নিকট অতিতে নুতন, আধুনিক, যুগউপযোগী CPR & CrPR প্রণীত হয়েছে। ইহা আমার ব্যক্তিগত মতামত ও চাওয়া, ভাল লাগলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কিংবা সমষ্টিগতভাবে দাবী- আন্দোলন করে, চাপ প্রয়োগ করে, দাবী আদায় করা যেতে পারে। তথাপি, ফৌজদারী বিচারব্যবস্থা নিয়ে আইন চর্চাকারীরা শুরু থেকে বিরক্ত। জামিন, কাস্টডি, রিমান্ড, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ,তদন্ত, বিচারিক অনুসন্ধান, সাক্ষ্য পদ্ধতি ও গ্রহণ, সাফাই সাক্ষী-আসামী পক্ষের ডকুমেন্ট-প্রমাণ- বক্তব্য উপস্হাপন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইংল্যান্ডের আদলে বিস্তারিত গাইডলাইন জরুরী। CPC & CrPC হালনাগাদকরণ সহ আইনজীবীদের জন্য Practice Direction এবং বিচারকদের জন্য Judge’s Guidelines। যাতেJudicial Mind & Proper Legal Knowledge বিহীন ডিসক্রেশন নামক স্বেচ্ছাচারিতা, লেজুটভিত্তি ও দলকানা মনোভাবের অভিযোগও কমবে এবং আইনজীবীরা কোর্টের সময় নষ্ট করবে না। দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি হবে। — মোহাম্মদ ইয়াসিন আরফাত সাজ্জাদ, অ্যাডভোকেট,

আপনার মতামত লিখুন :