জটিলতা সৃষ্টিকারী ও সাংঘর্ষিক নিয়োগবিধি ২০২০’র মাধ্যমে রেলওয়ের জনবল নিয়োগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৪৯ PM, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

রেলওয়ে কর্মচারী বান্ধব নিয়োগ বিধি-নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রণয়ন না করে সুচাতুরতা, বৈষম্যপূর্ণ, সামঞ্জস্যহীন, স্বৈরাচারিতামূলক, জটিলতা সৃষ্টিকারী ও সাংঘর্ষিক নিয়োগবিধি ২০২০’র মাধ্যমে রেলওয়ের জনবল নিয়োগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির।

আজ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং রোজ রোববার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “২২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্যাডার বহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ গেজেট আকারে প্রকাশ হওয়ার পর হতে রেলওয়ের সকল রেজিষ্টার্ড শ্রমিক সংগঠন ও রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি, বৈষম্যপূর্ণ ও সামঞ্জস্যহীন সাংঘর্ষিক এ নিয়োগ বিধিমালার বিভিন্ন বিষয়ের উপর আপত্তি ও সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু রেলপথ মন্ত্রণালয় তাদের আপত্তি ও দাবির বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তা অন্ধকারে রেখেই গত ২৯ আগষ্ট ২০২১ তারিখে ‘দৈনিক জনকন্ঠ’ পত্রিকায় রেলওয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টার শূন্যপদে নিয়োগের জন বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে অত্যন্ত সুচাতুরতা ও স্বৈরাচারীমূলক আচরণের মধ্য দিয়ে নিয়োগবিধি ২০২০ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।”

তিনি আরো বলেন, “নিয়োগ বিধি ১৯৮৫ অনুযায়ী পোষ্যর সংজ্ঞা, নিয়োগ পদ্ধতি, পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ, সরাসরি নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রেলওয়ে নিয়োগ ব্যুরো, পূবাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক কর্তৃক তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর নিয়োগের জন্য কমিটি গঠনের ক্ষমতাসহ রেলওয়ে কর্মচারীবান্ধব নিয়োগ বিধি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংশোধিত নিয়োগ বিধি ২০২০ সংশোধনপূর্বক অন্তর্ভুক্ত করে কর্মচারীবান্ধব নিয়োগ বিধি প্রণয়ন না করে জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারির কারণে রেলওয়েতে কোন প্রকার শ্রমিক অসন্তোষ ও নিয়োগ বিধি জটিলতায় কোন রকম মামলা মোকদ্দমা হলে এর দায়ভার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে গ্রহণ করতে হবে। কারণ সংশোধিত নিয়োগ বিধি ২০২০ এর (৯) হেফাজতে বলা হয়েছে (১) সিভিল আপিল নং-৪৮/২০১১ এ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় Bangladesh Railway Non-Gazetted Service Recruitment Rules, 1985, ১৯৮৫, অতঃপর উক্ত রুলস বলিয়া উল্লেখিত, বিলুপ্ত হইয়াছে। (২) উক্তরূপ বিলুপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, প্রজাতন্ত্রের কর্মের ধারাবাহিকতা বহাল ও অক্ষুন্ন রাখিবার নিমিত্ত, জনস্বার্থে, উক্ত রুলস এর অধীন- (ক) কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোন ব্যবস্থা, প্রদত্ত আদেশ, নিয়োগ, চাকরি স্থায়ীকরণ বা পদোন্নতি এই বিধিমালার অধীনকৃত, গৃহীত বা প্রদত্ত বলিয়া গণ্য হইবে; এবং (খ) কোনো কার্যক্রম অনিষ্পন্ন থাকিলে উহা এই বিধিমালার অধীন নিষ্পন্ন করিতে হইবে। (৯) এর হেফাজত অনুযায়ী উক্ত সংশোধিত নিয়োগবিধি ২০২০ সাংঘর্ষিক। হেফাজতের (ক) অনুযায়ী সংশোধিত নিয়োগ বিধির পূর্বে নিয়োগ বিধি ১৯৮৫ এর আওতায় পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১৬৮৪ (এক হাজার ছয়শত চুরাশি) টি পদের বিপরীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং কোন কোন পদের বিপরীতে মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও পদগুলোর নিয়োগ হচ্ছে না, নানা প্রকার গড়িমসি ও অজুহাতে বিগত কয়েকবছর যাবত যা আইন ও বিধি-বিধানের আলোকে গ্রহণযোগ্য নয়। জনস্বার্থে সামরিক সরকার কর্তৃক সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকান্ড যদি বহাল থাকে তাহলে প্রজাতন্ত্রের কর্মের ধারাবাহিকতা বহাল ও অক্ষুন্ন রাখা এবং রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারীর স্বার্থে নিয়োগ বিধি ১৯৮৫’র বৈধতা কি দেয়া যায় না?”

তিনি বলেন, “সংশোধিত নিয়োগবিধি ২০২০ এর কারণে রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী অধিকার বঞ্চিত হওয়ার ফলে রেলওয়ের পোষ্যদের উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জটিলতা সৃষ্টিকারী, সাংঘর্ষিক, দূরভিসন্ধিমূলক বৈষম্যপূর্ণ ও সামঞ্জস্যহীন নিয়োগ বিধি ২০২০ বাতিল করে রেলওয়ের শ্রমিক-কর্মচারীবান্ধব নিয়োগবিধি প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় সর্বোচ্চ আদালতের সুবিচার প্রার্থনা করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা থাকবো না।”

আপনার মতামত লিখুন :