ঢাকা ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে পোষ্য সোসাইটির প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলায় সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড সেনাবাহিনীর মনোবল ভাঙতেই ৫৭ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয় : এলজিআরডি মন্ত্রী পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কি না সিদ্ধান্ত সংসদে চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু কুমিল্লায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারে নারী-শিশুসহ দগ্ধ ৪ ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নেওয়া বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নেওয়া বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ চাইবে না বাংলাদেশ : খ‌লিলুর রহমান

অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে পোষ্য সোসাইটির প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  8:45 PM

news image

রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদধারীকে ঘিরে সাম্প্রতিক একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন জনপরিসরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি—উক্ত প্রতিবেদনটি তথ্যনির্ভর অনুসন্ধানের চেয়ে বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক উপস্থাপনা, অনুমাননির্ভর বয়ান এবং প্রমাণবিহীন ইঙ্গিতের ওপর দাঁড়িয়ে নির্মিত।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির পক্ষ থেকে অপ-সাংবাদিকতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির। 


১. সংবিধান ও আইনের শাসন: অভিযোগের মানদণ্ড কী?

বাংলাদেশের সংবিধান আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও প্রাকৃতিক ন্যায়নীতিকে রাষ্ট্রচালনার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করতে হলে প্রয়োজন—

সুনির্দিষ্ট নিরীক্ষা আপত্তি, দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান বা মামলা,

বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন, অথবা আদালতের পর্যবেক্ষণ।

প্রমাণহীন অভিযোগ জনসমক্ষে উপস্থাপন করা মানে হলো—জনআদালতের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত রায় ঘোষণা করা। এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

২. প্রশাসনিক কাঠামো: একক ব্যক্তির নয়, সমষ্টিগত দায়। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন একটি বহুস্তরীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। প্রকল্প প্রস্তাবনা, কারিগরি মূল্যায়ন, দরপত্র প্রক্রিয়া

অর্থ বিভাগের ছাড়পত্র, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন,কখনো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের তদারকি—এসব ধাপ অতিক্রম করেই কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। এমন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় এককভাবে মহাপরিচালককে কেন্দ্র করে “জাল” বা প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে—এমন বয়ান প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা, তা তথ্য-প্রমাণ ছাড়া বলা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।

৩. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বনাম দায়িত্ব

গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ—এটি আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। কিন্তু স্বাধীনতা কখনোই দায়িত্বহীনতার লাইসেন্স হতে পারে না।

সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালা হলো—

উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ, তথ্য-উৎসের স্বচ্ছতা, প্রামাণ্য দলিল উদ্ধৃতি,

মানহানিকর ভাষা পরিহার।

যদি কোনো প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ জবাব না থাকে, নিরীক্ষা বা তদন্তের রেফারেন্স না থাকে এবং ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় চরিত্রহনন করা হয়—তবে তা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নয়; বরং অপ-সাংবাদিকতা।

আমরা এই প্রবণতার তীব্র নিন্দা জানাই।

৪. উন্নয়ন রাজনীতি ও জনআস্থার প্রশ্ন

বর্তমানে রেল খাতে বৃহৎ বিনিয়োগ, অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, ডাবল লাইন, সেতু, সিগন্যালিং উন্নয়ন—এসব দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ।

বড় অঙ্কের ব্যয়কে প্রেক্ষাপটহীনভাবে উপস্থাপন করলে জনমনে অবিশ্বাস তৈরি হয়। এতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, বিনিয়োগকারী ও প্রশাসনিক মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দুর্নীতি থাকলে তদন্ত হোক—আমরাই প্রথম দাবি জানাবো। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া ব্যক্তিকেন্দ্রিক আক্রমণ প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে।

৫. রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির নীতিগত অবস্থানঃ বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি বরাবরই—নিয়োগে স্বচ্ছতা,  আইনি সুরক্ষা, প্রশাসনিক জবাবদিহি,

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক লড়াই

—এই চার নীতিতে অবিচল।

আমরা আদালতে গেছি, আইনি লড়াই করেছি, সাংবিধানিক যুক্তি উপস্থাপন করেছি। তাই আমরা কোনো দুর্নীতিকে সমর্থন করি না; কিন্তু প্রমাণহীন চরিত্রহননকেও মেনে নিই না।


রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হলে প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার, আইনের শাসন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম।

আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান আমাদের থাকবে।

কিন্তু অপ-সাংবাদিকতার মাধ্যমে ব্যক্তি আক্রমণ, অনুমাননির্ভর চরিত্রহনন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেবো না।

বাংলাদেশ রেলের স্বার্থে—বিচার হোক প্রমাণের ভিত্তিতে, সংবাদ হোক তথ্যের ওপর, আর সংস্কার হোক ন্যায় ও সংবিধানের আলোকে।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির