ঢাকা ০১ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ফেনীর ‘মুহুরী-কহুয়া’ সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ, দুই বছরে ঝরেছে ৪৬ প্রাণ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজন ভালো পরিকল্পনা, কার্যকর নেতৃত্ব ও দৃঢ় সংকল্প সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো পদক্ষেপ নেবে কমিশন-ইসি সচিব রেলওয়ের এডিপি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর নির্দেশ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের ফুটপাত দখলের চেষ্টা চললে আরও অভিযান হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক কেরানীগঞ্জ কারাগারে অসুস্থ হাজতির ঢামেকে মৃত্যু সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা এমপি পদ থেকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙচুর-আগুন: চার মামলায় আসামি ২ হাজার

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজন ভালো পরিকল্পনা, কার্যকর নেতৃত্ব ও দৃঢ় সংকল্প

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ অক্টোবর, ২০২৬,  2:54 PM

news image

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ভালো পরিকল্পনা, কার্যকর নেতৃত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয় নয়; এটি একটি সংস্কৃতি। ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র-সব পর্যায়েই উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর চর্চা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি : চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অনেক প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে একই ধরনের বা পরস্পর ওভারল্যাপিং কর্মসূচি রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এর সফট কপি বিশ্লেষণ করা গেলে একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থা একই সময়ে কর্মসূচি পরিচালনা করছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘একই ধরনের কর্মসূচির ওভারল্যাপিং যদি শুধু শনাক্ত করা যায়, তাহলে এডিপির অদক্ষতার বড় একটি অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব।’ সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের জন্য বিবেচনা করলে হবে না। বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশের অর্থনীতি বিচ্ছিন্ন নয়। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দেশের পণ্য ও সেবাকে প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। উৎপাদনশীলতা না বাড়ালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের যে সংযোগ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে ইচ্ছা করলেই বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। তাই দেশের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি।

উৎপাদনশীলতাকে একটি ‘সংস্কৃতি’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, শুধু শিল্পকারখানায় উৎপাদনশীলতা বাড়ালেই হবে না। ঘরের কাজসহ দৈনন্দিন জীবনেও কম শ্রম ও সময়ে বেশি কাজ করার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে একই কাজ কম শ্রমঘণ্টায় সম্পন্ন করে উৎপাদন বাড়ানোই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারেও পরিবর্তন আনছে। তবে এটি শুধু বাংলাদেশের বিষয় নয়; বিশ্বের সব দেশের জন্যই এটি বিবেচনার বিষয়। তাই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে।

শিল্পমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক শ্রমিক উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছেন। তাদের সবাই উচ্চশিক্ষিত নন কিন্তু প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবহারের সক্ষমতা তাদের রয়েছে। সমাজের অন্য অংশের মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এ জন্য ভালো পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্যাপ লিডারশিপ’ অর্থাৎ উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে ভালো পরিকল্পনা, ভালো নেতৃত্ব এবং লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় মনোভাব ও সংকল্প দরকার।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ ও দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) মো. ফজলুল হক প্রমুখ।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তর যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, কোম্পানির প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও এসএমই উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির