ঢাকা ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
কমলো সোনা ও রুপার দাম সেই বিচারপতিকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দিলেন প্রধান বিচারপতি চট্টগ্রাম ওয়াসার খনন কাজের সময় মাটি ধস, ২ শ্রমিক নিহত তীব্র তাপে পুড়ছে রাজশাহী, ঢাকাসহ ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ ১৫ বিজিবির চলমান মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় গাঁজাসহ মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ ঢাকার বায়ু আজ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ঈদের আগে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস দেবে সরকার ৩৬ টাকা কেজিতে ধান, ৪৯ টাকায় সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার বুড়িমারী স্থলবন্দরে চার দিন নীরবতা, কারণ ভারতের নির্বাচন ‎

কর্নাটকের হিজাবকাণ্ডে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের রায় আজ

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ অক্টোবর, ২০২২,  12:01 PM

news image

কর্নাটকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা আজ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা) এর রায় দেবে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে কর্নাটক হাইকোর্ট রায় দেওয়ার পর আলোচিত মামলাটি ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে পৌঁছায়। গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০ম দিনের মতো যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণা স্থগিত করে বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তা এবং সুধাংশু ধুলিয়ার বেঞ্চ। বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকা বিচারপতি গুপ্তা আগামী রোববার (১৬ অক্টোবর) অবসরে যাচ্ছেন। এ কারণে এ সপ্তাহেই মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে।

সর্বোচ্চ আদালতে যুক্তিতর্ক চলাকালে আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলেছিলেন, মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরতে বাধা দেওয়া তাদের শিক্ষাজীবনকে বিপণ্ন করবে। এমন সিদ্ধান্তের কারণে তারা ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। এ সময় তারা আরো নানা যুক্তি উত্থাপন করেন।

আইনজীবীরা বলেন, কর্নাটকে রাজ্য সরকারের আদেশ স্কুল-কলেজগুলোতে সাম্য, অখণ্ডতা ও জনশৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করেছে। তারা মুসলিমদের হিজাবকে হিন্দুদের পরিধান করা ঘুনঘাট ও টিপ এবং শিখদের পাগড়ির সঙ্গেও তুলনা করেন। ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এগুলো পরে যাওয়ার বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবীরা দাবি করেন, কর্নাটক সরকারের যে আদেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তা ‘ধর্ম নিরপেক্ষ’।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি কর্নাটকের উদুপির একটি কলেজে কয়েকজন হিজাব পরা শিক্ষার্থীকে ক্লাসে বসতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কলেজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি বিজেপি বিধায়ক রঘুপতি ভাট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হিজাব পরা শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢুকতে পারবেন না।

রাজ্যজুড়ে সেই বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হিজাবের পাল্টা হিসেবে গেরুয়া উত্তরীয় পরে আন্দোলন শুরু করে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। কয়েক জায়গায় হিজাবের পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি হয়। পুলিশের সঙ্গেও একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় রাজ্যের সব স্কুল-কলেজ।

গত ২৬ জানুয়ারি কর্নাটক সরকার এ বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। ঘোষণা করা হয়, কমিটি নির্দিষ্ট সুপারিশ করার আগ পর্যন্ত ছাত্রীরা কেবল ইউনিফর্ম পরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে। হিজাব বা গেরুয়া উত্তরীয় কিছুই পরার অনুমতি নেই।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উদুপির কয়েকজন ছাত্রী কর্নাটক হাইকোর্টে রিট করেন। তারা আদালতে দাবি করেন, হিজাব পরা তাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। কোনোভাবেই তা বাতিল করা যাবে না।

তবে ১০ ফেব্রুয়ারি কর্নাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রিতুরাজ অবস্তি, বিচারপতি কেএস দীক্ষিত এবং বিচারপতি জেএম খাজি অন্তর্বর্তী রায়ে বলেন, যতদিন না রায় ঘোষণা হচ্ছে, কর্নাটকে স্কুল-কলেজ খুলতে পারে। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী ধর্মীয় প্রতীকসম্বলিত কোনো পোশাক পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে না।

এই মামলায় শুরু থেকে কর্নাটক সরকার বলে এসেছে, হিজাব পরা ইসলামের বাধ্যতামূলক অনুশীলনের মধ্যে পড়ে না। গত ১৫ মার্চ কর্নাটক হাইকোর্টও রাজ্য সরকারের পক্ষেই রায় দেন। সেদিন হাইকোর্টের তিন বিচারপতি বলেন, ইসলাম ধর্মে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক নয়। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি পরা নিষিদ্ধ করার অধিকার রয়েছে স্থানীয় সরকারের। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করেন ভুক্তভোগীরা।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির