ঢাকা ১৭ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেন জি কে শামীম পাশার দান উল্টে দিয়ে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে মেসি সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ মার্কিন চাপের মধ্যেই লেবাননে স্থায়ী সেনাপোস্ট করছে ইসরায়েল টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম, মরিচের কেজি ২০০ টাকা জীবন দেব, তবু ২৪ হারিয়ে যেতে দেব না : জামায়াত আমির বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার উপকূলে ২ নৌকাডুবি : ৫৩০ রোহিঙ্গা নিহত মৃত্যুর তিন দিন আগে শেষ সাক্ষাৎকারে যা বলেছিলেন শহীদ আবু সাঈদ ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য ফাঁস দেশের ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেন জি কে শামীম

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ জুলাই, ২০২৬,  6:50 PM

news image

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত 'রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে একক নিয়ন্ত্রণ চান জিকে শামীম' শীর্ষক সংবাদ এবং তার পরদিন প্রকাশিত 'রেলের বিজ্ঞাপনে যুবলীগ নেতা: মাফিয়াদের পুনর্বাসন করা যাবে না' শীর্ষক সম্পাদকীয়র তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জি.কে.বি. অ্যান্ড কোম্পানী (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস.এম গোলাম কিব্রিয়া শামীম (জি কে শামীম)। প্রকাশিত সংবাদ ও সম্পাদকীয়কে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি এর বিরুদ্ধে নিজের সুস্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
​প্রতিবাদে জি কে শামীম জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থা থেকেই তিনি তৎকালীন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী হলেও কখনো সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের মূল কমিটিতে নিজেকে জড়াননি। অথচ প্রকাশিত সংবাদে দুঃখজনকভাবে তাঁকে 'যুবলীগের নেতা' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে তৎকালীন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীসহ দলটির নীতিনির্ধারকেরা বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে পরিষ্কার করে বলেছেন, জি কে শামীম কখনই যুবলীগের কোনো কমিটিতে ছিলেন না এবং এই সংগঠনের রাজনীতির সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। মূলত জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী হওয়ার কারণেই ফ্যাসিবাদের দোসররা তাঁর ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার চলমান কাজ আটকে দেয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে এবং ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘ ৬ বছর কারাগারে আটকে রাখে। ওই সময় তাঁর বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইটের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও মালামাল লুট করে নেওয়া হয়।
​ক্যাসিনো কারবারের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তিনি বলেন, "আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আমি কোনোদিন ক্যাসিনো কারবারে সম্পৃক্ত ছিলাম না এবং ক্যাসিনো কী জিনিস তাও আমি জানি না। কেউ যদি আমি ক্যাসিনো খেলেছি বা এর সাথে জড়িত রয়েছি এমন একটি ভিডিও বা ছবি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পারে, তবে আমি প্রকাশ্যে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে রাজি আছি। কোনো প্রমাণ ছাড়া কেবল মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে আমাকে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সাজানো হয়েছে।" তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ ও যাবতীয় সম্পদ ক্রোক করে এবং তাঁর ৯০ বছরের বৃদ্ধ মাকেও জেলে যেতে বাধ্য করে তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল।
​রেলওয়ের বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত নিউজের জবাবে জি কে শামীম বলেন, আদালতের নির্দেশে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি মাত্র একবার রেল ভবনে গিয়েছেন। 'রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে একক নিয়ন্ত্রণ' চাওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সেখানে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং কাগজপত্রের বৈধতা যাচাই করেই তাঁর প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এখানে কোনো অনৈতিক বা অসততার আশ্রয় নেওয়া হয়নি। তাছাড়া মন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশের প্রেক্ষিতে উক্ত কাজটি 'বাংলাদেশ রেলওয়ে বিজ্ঞাপন নীতিমালার' আলোকে সহযোগিতা করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে রেলওয়েকে অনুরোধ করা হয়েছিল, যা প্রমাণ করে তাঁর প্রতিষ্ঠান দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়মকানুনের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল।
​অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি জীবনে কোনোদিন দেশের বাইরে একটি টাকাও পাচার করেননি। তাঁর কোনো সন্তান বিদেশে লেখাপড়া করে না এবং দেশের বাইরে তাঁর কোনো সম্পদ নেই। তাঁর যাবতীয় সম্পদ সম্পূর্ণ বৈধভাবে অর্জিত এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ করদাতাদের অন্যতম একজন হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়ে আসছেন। ১৯৯১ সাল থেকে দীর্ঘ তিন যুগ ধরে তাঁর প্রতিষ্ঠান একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছে। দীর্ঘ ৬ বছর অন্যায় জেল খাটার পর তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় সাজানো প্রপাগান্ডা ও মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির