ঢাকা ২৩ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
চীনে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে নিহত ৯০, এক দশকের মধ্যে সর্বাধিক প্রাণহানির রেকর্ড কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১৯ পরিবারকে ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার অনুদান ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু, প্রথমদিনে যাত্রী চাপ কম ত্রিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় পৌঁছানোর পর ডুলিকে বাংলাদেশের কোচ ঘোষণা ঈদযাত্রায় প্রস্তুত দৌলতদিয়া ঘাট, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কর্তৃপক্ষ নেত্রকোণায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ অভিযুক্ত ডিবি কার্যালয়ে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে র‍্যাব জাপানের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি অনুমোদন সড়ক-সেতুর কাজ সমাপ্ত না করেই শেষ হচ্ছে কেবিএস প্রকল্প, অনিশ্চয়তায় তিন জেলার উন্নয়নকাজ

চীনে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে নিহত ৯০, এক দশকের মধ্যে সর্বাধিক প্রাণহানির রেকর্ড

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ মে, ২০২৬,  2:41 PM

news image

উত্তর চীনের শানসি প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আজ শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতি খনি দুর্ঘটনা। এর আগে ২০২৩ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার একটি খনি ধসে ৫৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনো পুরোদমে চলছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে অন্তত ৯ জন খনিশ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং খনির ভেতরে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, শানসি প্রদেশের চাংঝি শহরের লিউশেনইউ কয়লাখনির ভেতরে ক্ষতিকারক কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যখন খনিতে বিস্ফোরণ ঘটে, তখন ভূগর্ভে মোট ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আজ শনিবার সকাল ৬টার মধ্যে অন্তত ২০১ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করে ওপরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের নানামুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কয়লা এখনো দেশটির প্রধান জ্বালানি উৎস। চীনের মোট জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি মেটানো হয় কয়লা পুড়িয়ে।
দুর্ঘটনাকবলিত শানসি প্রদেশটি চীনের কয়লা উত্তোলনের অন্যতম প্রধান হাব। তবে এখানকার খনি শিল্পে নিরাপত্তার রেকর্ড অত্যন্ত দুর্বল ও কুখ্যাত। বিগত বছরগুলোতে এই প্রদেশে একই ধরনের অসতর্কতা ও নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে হাজার হাজার প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট চিন পিং এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই খনি কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে এবং বিস্ফোরণের মূল কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির