ছাত্রদের সৎ, চরিত্রবান ও দেশ প্রেমে উদ্যোগী হতে হবে : নূর হাকিম
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মার্চ, ২০২৬, 12:55 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মার্চ, ২০২৬, 12:55 AM
ছাত্রদের সৎ, চরিত্রবান ও দেশ প্রেমে উদ্যোগী হতে হবে : নূর হাকিম
ছাত্রদের সৎ ও চরিত্রবান হয়ে দেশ প্রেমে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. নূর হাকিম। বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা, ইফতার মাহফিল এবং নবীনবরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মরামর্শ দেন তিনি। এ মহতি অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি মো. হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্রিয়েটিভ জোন আইটির ফাউন্ডার ও সিইও আমিনুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ এর জবির সাবেক সভাপতি মো. শিমুল হোসেন, জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান, রায়হান হোসেন অপু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মনিরুজ্জামান মনির ও আব্দুর রহমান। সার্বিক সসহযোগীতায় ছিলেন মো. নিয়াজ শফিক, তাসরিফ আহমেদ, ইসমাইল হোসেনসহ অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নূর হাকিম বলেন, ছাত্রজীবনে সততা ও চরিত্র গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এটি একটি উন্নত জাতি ও সমৃদ্ধ সমাজের মূল ভিত্তি। প্রকৃত শিক্ষা কেবল বইয়ের জ্ঞান নয়, বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, বড়দের প্রতি সম্মান এবং সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয়। সৎ চরিত্রবান মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয় এবং ভবিষ্যৎ দেশ ও সমাজের জন্য আর্শীবাদ হিসেবে গড়ে তোলে।
তিনি বলেন, ছাত্রদের চরিত্রবান হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ হচ্ছে, প্রতিটি কাজে সততা বজায় রাখা এবং নিজের ভুল সংশোধন করার মানসিকতা রাখা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন ও সৎসঙ্গের সাথে চলাফেরা করা। ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক নীতি মেনে চলা, যা চরিত্র গঠনের মূলভিত্তি। তাছাড়া মাদক, সমাজ এবং রাষ্ট্রবিরোধী যে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করতে হবে। জীবনে অগ্রগামী হওয়ার জন্য বড়দের উপদেশ মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। সৎ চরিত্র হলো মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যা চর্চার মাধ্যমে অর্জন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান যুগ প্রযুক্তিনির্ভর এবং প্রতিযোগিতামূলক। সোশ্যাল মিডিয়া, গ্লোবালাইজেশন এবং দ্রুত বদলে যাওয়া জীবনধারার ফলে অনেক শিক্ষার্থী মূল্যবোধের দিক থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আর নকল, গুজব ছড়ানো, অনলাইন বুলিং, অসততা এসব যেন অনেকের কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। এমন সময়েই দরকার মূল্যবোধের চর্চা, যা একমাত্র ছাত্রজীবনে রপ্ত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। ছাত্রজীবন মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ও গঠনমূলক সময়। এ সময়ে একজন মানুষ ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে শিক্ষা, দক্ষতা ও জীবনদর্শনের ভিত্তি তৈরি করে। কিন্তু কেবল পাঠ্যজ্ঞান অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থী পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন সঠিক মূল্যবোধ। আর সেই মূল্যবোধ হলো মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও আচরণের সেই অভ্যন্তরীণ নীতি, যা তাকে সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে। তিনি সকলের সু-স্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন।