পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমলের বিসিআইসির সার ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে পারলেই সার ব্যবস্থাপনা সঠিক গতি ফিরে আসবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুলাই, ২০২৫, 10:31 PM

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুলাই, ২০২৫, 10:31 PM

পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমলের বিসিআইসির সার ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে পারলেই সার ব্যবস্থাপনা সঠিক গতি ফিরে আসবে
বিসিআইসি ডিলার এসোসিয়েশন'র সাবেক সভাপতি বিগত পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমলে হাজার কোটি টাকার সার চুরির কোন সমাধান পতিত সরকার করনি, সেই ডিলার এসোসিয়েশন এখনো বলবদ রয়েছে! কিন্তু এ সরকার ও যদি এ বিসিআইসি ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে না পারে তাহলে ভবিষ্যতেও আর কোনদিন এর সমাধান হবে না।
ইউনিয়ন বাসিন্দা না হয়েও অন্য ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের ব্যাক্তিবর্গ ক্ষমতার জোরে ডিলার নিয়েছে!
ডিলার নিতিমালা অনুসারে ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া অন্য সকল ডিলারদের নিয়োগ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগ দিলে অটোমেটিক সার ডিলার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যাবে।
অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক পরিবারে ৩-৪-৫ করে বিসিআইসি ডিলার আবার কোন পরিবারের ৭ টি পর্যন্ত বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে। এ ভাবে এক পরিবারে একাধিক ডিলার থাকলে কোন ভাবেই কৃষক বান্ধব নিতিমালা হতে পারে না।
নতুন নিতিমালায় এক পরিবারে একাধিক ডিলার থাকতে পারবে না, যাদের আছে তাদের একটি বাদে অন্য সব ডিলার বাতিল করলে নিতিমালা কাজে আসবে। কৃষকদের দাবি ও তাই। এছাড়া কৃষি কর্মকর্তা ও খামারবাড়ির কর্মকর্তারাও তাই চাই।। পরিবারের একাধিক ডিলার বাতিল না করলে যত নিতিমালায় হোক না কেন কোন কাজে আসবে না।।
সার নিতিমালা যতটা সহজ ও সিন্ডিকেট মুক্ত হবে ঠিক ততটাই উপকৃত কৃষকরা। কৃষকের জন্যই সার, সেই সার ডিলারদের মধ্যে বিএডিসি ও বিসিআইসি বিভিন্ন ভাগাভাগির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। এক দোকান থেকে ইউরিয়া আবার আর এক দোকান থেকে নন-ইউরিয়া এ নিয়মে কৃষকরা ভুগান্তিতে পরে।
অনুসন্ধানে জানা যায় অধিকাংশ ডিলাররা নিজ নিজ ডিলার পয়েন্টে ব্যবসা করেন না, নামে মাত্র দোকান থাকলেও সার নামানো হয় থানা পর্যায় দোকানে এতে করে খুচরা ডিলারদের সার পরিবহন ব্যায় বেড়ে যায়। সে দাম বৃদ্ধির চাপ অটোমেটিক কৃষকের উপর পরে।
আবার ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও অন্য ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ পাওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ও কৃষকদের সারে ভোগান্তি দু:খ জনক বলেই উল্লেখ করেছে কৃষকরা।
আবার কোন ডিলার ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় নাগরিক না হয়েও অন্য ইউনিয়নে বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলার নিয়োগ পাওয়ায় সার পেতে কৃষকের ভুগান্তি পোহাতে হয়।।
স্বাভাবিক ভাবেই যে ডিলারদের ডিলার ঠিকানা অনুসারে দোকান নেই বা সার উত্তোলন করেনা সেই ইউনিয়নের কৃষকরা বেশি ভোগান্তিতে পরে। ইউনিয়নে সার না উত্তোলনের কারনে কৃষকের থানা পর্যায়ের দোকান থেকে বা অন্য ইউনিয়নে সার কিনতে যেতে হয়। এতে খরচ ও সময় বৃদ্ধি পায়, বিধাই পুর্বের নিয়মের কারণে কৃষকরা বিরক্ত।।
বিএডিসির চেয়ারম্যান বলেন,আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি বিএডিসির সার শুধু বিএডিসি পাবে, কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিসিআইসির জেলা পর্যায়ে কোন গোডাউন নাই বিএডিসির গোডাউন তারা ব্যবহার করছে এ ক্ষেত্রে আমাদের ইউরিয়া দিলে জায়গার কোন সমস্যা হবেনা। নতুন নিতিমালা হবে জেনেছি সেই নিতিমালায় বিসিআইসি থেকে বিএডিসিকে সম্পুর্ন আলাদা করলে ভালো হবে। বিএডিসি সার শুধু তাদের বিএডিসিকে বরাদ্দ দিবে, আর বিসিআইসিকে যদি বিএডিসির নন-ইউরিয়া সার নিতে হয় তবে বিএডিসিকেও ইউরিয়া সহ বিসিআইসির সার সমান হারে ভাগ করে দিতে হবে। এভাবে করলেই মনে হয় ডিলারদের সমস্যা অনেকটা দূর হবে।
ফরিদপুরের এক কৃষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এক দোকানে ইউরিয়া অন্য দোকানে নন-ইউরিয়া কিনতে আমাদের ভোগান্তিতে পরতে হয়।আমরা কৃষকরা কেন বিভিন্ন দোকানে ঘুরবো এক দোকানে যাব সে দোকান থেকে ইউরিয়া নন-ইউরিয়া সার কিনে মাঠে যাব। আমরা বিএডিসি বা বিসিআইসি বুঝিনা আমরা কৃষকরা সকল সার এক দোকানে পেতে চাই এবং নিজ ইউনিয়ন থেকেই সার কিনতে চাই আমাদের যেন ডিলারদের মার প্যাচে অন্য ইউনিয়নে যেতে না হয় এটাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি।
অন্য কৃষকেরাও একই সমস্যার কথা বলেন বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলার মারপ্যাঁচে আমরা পরতে চাই না। আমরা কৃষকরা আমাদের সব প্রকার সার এক দোকান ও নিজ ইউনিয়ন থেকেই কিনতে চাই। সার বহন খরচ বেশি লেগেছে বা থানার ডিলার থেকে আনতে খরচ বেড়েছে এ রকম কোনো প্যাঁচে আমাদেরকে পরতে যাতে না হয় সে দিকে সরকারের সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বিএডিসি সার ডিলার ইমান আলী (সভাপতি, বিএডিসি সার ডিলার এসোসিয়েশন, ফরিদপুর)বলেন, আমরাও বিএডিসি ডিলার ইউরিয়া পাই না এতে করে সার ব্যবসা করা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ইউরিয়া না পাওয়ায় কৃষকরা আমাদের কাছে কম আসে। বিএডিসি সার বরাদ্দ খুবই কম, এর মধ্যে আবার বিএডিসি সার এর অর্ধেক বরাদ্দ বিসিআইসিকে দেওয়া হয় কিন্তু বিসিআইসির কোন সার বিএডিসিকে দেওয়া হয় না বলে আমরা ব্যাবসায়ীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
তিনি বলেন সরকারের কাছে আমাদের দাবি বিএডিসির সার বিসিআইসি পেলে বিসিআইসির সার ও বিএডিসিকে দিতে হবে।। বিএডিসি ডিলারদের ও ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যাথায়, বিএডিসির সার শুধু বিএডিসি পাবে, বিসিআইসির সার শুধু বিসিআইসি পাবে,কেউ কারো সার নিতে পারবেনা।। এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।