ঢাকা ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ওয়াশিংটন পোস্টে ব্যাপক ছাঁটাই, চাকরি হারিয়েছেন ৩০০ সাংবাদিক ভারত ম্যাচ বয়কট : পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ শ্রীলঙ্কার সিকিমে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩টি ভূমিকম্প, আতঙ্ক বাংলাদেশেও ৯ম পে-স্কেলের গেজেট দাবিতে যমুনা ঘেরাও সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেল গেজেট দিতে বাধা নেই—তবু কেন ভয়- মনিরুজ্জামান মনির চট্টগ্রাম বন্দরে এবার লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা ক্ষমা ও মুক্তির মহিমান্বিত রাত শবে বরাত শবে বরাতে পুরান ঢাকায় বাহারি হালুয়া-রুটির পসরা, নেই আগের মতো আমেজ র‌্যাবের নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ ব্যবহৃত মোবাইল হস্তান্তর বা বিক্রির আগে নিবন্ধন বাতিল করতে হবে: বিটিআরসি

পে স্কেল গেজেট দিতে বাধা নেই—তবু কেন ভয়- মনিরুজ্জামান মনির

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  11:03 PM

news image

দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন যখন দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়ছে, তখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন-ভাতার প্রশ্নে রাষ্ট্র যেন রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে, আশ্বাসও এসেছে—কিন্তু বাস্তবায়নের গেজেট কোথায়?

বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি ও বিশ্লেষক মনিরুজ্জামান মনির বলছেন,

“পে স্কেল বাস্তবায়নের গেজেট দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই। বাধা যদি কিছু থাকে—তা হলো রাজনৈতিক দ্বিধা, প্রশাসনিক ভয় এবং ক্ষমতার সুবিধাবাদ।”

সংবিধান বলছে: ক্ষমতা আছে, গেজেট দিনঃ মনিরুজ্জামান মনির বলেন, সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। একইসঙ্গে সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, চাকরির শর্ত নির্ধারণকে নির্বাহী এখতিয়ারের অংশ হিসেবে স্পষ্ট করা হয়েছে।

তার ভাষায়, “অর্থাৎ সরকার চাইলে আজই গেজেট দিতে পারে। ‘পারবে না’—এই কথাটা আইন নয়, এটা অজুহাত।”

“নির্বাচিত সরকার এসে করবে”—এটা দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল

পে স্কেল নিয়ে সরকারি বক্তব্যের একটি অংশ এখন নিয়মিত শোনা যাচ্ছে—

“অন্তর্বর্তী সরকার গেজেট দেবে না, নির্বাচিত সরকার এসে সিদ্ধান্ত নেবে।”

মনিরের মতে, এটি বাস্তবে দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল।

তিনি বলেন, “সংবিধান সরকারকে ক্ষমতা দিয়েছে কাজ করার জন্য—পালানোর জন্য নয়। জনগণের অর্থে রাষ্ট্র চলে, অথচ জনগণের কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে সরকার যদি ‘পরের ঘাড়ে’ দায় চাপায়, তাহলে সেটা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অপমান।”

কর্মচারীরা কি শুধু ভোটের মৌসুমি পণ্য?

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কি শুধু নির্বাচনের আগে ‘প্রশংসা’ আর নির্বাচনের পরে ‘অবহেলা’ পাওয়ার জন্য? তারা কি রাষ্ট্রের স্তম্ভ, নাকি ক্ষমতাসীনদের সুবিধামতো ব্যবহারযোগ্য যন্ত্র?”

তার মতে, পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রশ্নটি এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়—এটি রাষ্ট্রের নৈতিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার পরীক্ষা।

গেজেট না হলে ক্ষোভ জমবে—এটাই বাস্তবতাঃ মনির আরও বলেন,

“রাষ্ট্রের অর্থনীতি যদি টিকে থাকে কর্মচারীদের ঘামে, তাহলে তাদের ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা। গেজেট না দিলে ক্ষোভ জমবে, মাঠ উত্তপ্ত হবে, এবং সেই উত্তাপ কোনো সরকারই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।”

নির্বাহী ক্ষমতা থাকলে সিদ্ধান্তের সাহসও থাকতে হবেঃ মনিরের বক্তব্য,

“অন্তর্বর্তী সরকার যদি সত্যিই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক শুদ্ধতার কথা বলে, তাহলে পে স্কেল বাস্তবায়নের গেজেট দিয়ে প্রমাণ করুক তারা দায়িত্বশীল।

ক্ষমতা হাতে নিয়ে ‘কিছুই করা যাবে না’ বলা—এটা রাষ্ট্র চালানো নয়, এটা রাষ্ট্রের সঙ্গে অভিনয়।”

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “সংবিধান সরকারকে ক্ষমতা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো—সরকার কি সেই ক্ষমতা জনগণের জন্য ব্যবহার করবে, নাকি সুবিধাবাদী অজুহাতে সময় কাটাবে?”

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির