ফ্রান্স-আমিরাতের মধ্যে জ্বালানি চুক্তি সই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ জুলাই, ২০২২, 11:40 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ জুলাই, ২০২২, 11:40 AM
ফ্রান্স-আমিরাতের মধ্যে জ্বালানি চুক্তি সই
ফ্রান্সের প্যারিসে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের মধ্যে বৈঠকের পর জ্বালানি প্রকল্পের একটি কৌশলগত চুক্তি সই হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ জুলাই) দেশ দুটির মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ফরাসি সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা অন্য কোথাও হাইড্রোজেন, পুনর্নবীকরণযোগ্য এবং পারমাণবিক শক্তির খাতে যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করা।
এতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে অনিশ্চিত শক্তির প্রেক্ষাপটে, এই চুক্তি সহযোগিতার জন্য একটি স্থিতিশীল দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোর পথ প্রশস্ত করবে। এটি নতুন শিল্প চুক্তির পথ উন্মুক্ত করবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি মূল অংশীদার হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে কারণ তারা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে আমদানি প্রতিস্থাপনের জন্য বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের বিকল্পের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
শেখ মোহাম্মদ, এমবিজেড নামেও পরিচিত। সৎভাইয়ের মৃত্যুর পর গত মে মাসে দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রথম বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফর এটি। জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ফ্রান্সে থাকবেন তিনি।
দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যাহ্নভোজের পর, ফরাসি জ্বালানি জায়ান্ট টোটাল এনার্জি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এডিএনওসি এর মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ম্যাক্রোঁর সহযোগীরা বৈঠকের আগে বলেন যে ফ্রান্স কৌশলগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে ডিজেল সুরক্ষিত করতে আগ্রহী।
অপরদিকে, আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, শেখ মোহাম্মদ ম্যাক্রোঁকে বলেছেন, ইউএই বিশ্বে এবং বিশেষ করে ফ্রান্সে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করতে আগ্রহী।
সফরের আগে তার কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ জোর দিয়ে বলেন, কিভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউরোপের দিকে তার জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় চালু করতে চাইছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ৪০ বছর ধরে আমাদের তেল সুদূর পূর্বে বিক্রি করেছি এবং এখন সংকটের এ সময়ে আমরা তা ইউরোপের দিকে নিয়ে যাচ্ছি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ফ্রান্স সফরের আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন। জ্বালানির জন্য সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
জার্মানিতে জুনের শেষের দিকে জি-৭ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় ম্যাক্রোঁ এবং বাইডেনকে।