মার্কিন আহ্বান উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে ন্যাটোভুক্তসহ অনেক দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ জুলাই, ২০২২, 12:19 PM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ জুলাই, ২০২২, 12:19 PM
মার্কিন আহ্বান উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে ন্যাটোভুক্তসহ অনেক দেশ
ইউক্রেনে রুশ সেনাদের অভিযানের ১২৮ দিন পার হয়েছে। তবে এখনো যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়াকে বিভিন্নভাবে দুর্বল করতে নিষেধাজ্ঞার জাল পেতেছে পশ্চিমা বিশ্ব। দেশটি থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি বন্ধ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় দেশ।
এদিকে, পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ফাঁদ মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা। নিজদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তারা দাবি করছে, বর্তমানে রাশিয়ায় জ্বালানির বিক্রি বেড়েছে।
অপরিশোধিত তেল উৎপাদনে রাশিয়া বিশ্বে তৃতীয়। যুদ্ধের আগেও এ অবস্থানে ছিল দেশটি। বেসরকারি অর্থনৈতিক নজরদারি সংস্থা ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ডটকমের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইউক্রেনে আক্রমণের পর থেকে তেল রপ্তানি করেই রাশিয়া সবচেয়ে বেশি আয় করেছে। তাদের অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির রপ্তানিও বেড়েছে।
ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রথম ১০০ দিনে ৯ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি করেছে রাশিয়া। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯৮ কোটি ডলারের জ্বালানি অন্য দেশে রপ্তানি করেছে দেশটি।
কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কারা রাশিয়ার জ্বালানি কিনছে- কারণ রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করার অর্থ হলো পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করা।
সমীক্ষা বলছে, এই তালিকায় সবার আগে রয়েছে চীন, তারপরই জার্মানি এবং ভারত। রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশও। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো বরাবরই তাদের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্য মূলত রাশিয়ার ওপর নির্ভর করে। দেশগুলোর প্রয়োজনের ৪১ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা হয় রাশিয়া থেকেই।
ইউক্রেন হামলার পর যে আড়াই হাজার কোটি ডলারের পাইপলাইন গ্যাস রাশিয়া রপ্তানি করেছে, তার ৮৫ শতাংশ গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে। আক্রমণ শুরুর প্রথম ১০০ দিনে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি ৬১ শতাংশও হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশেই।
এই আমদানিকারকের তালিকায় রয়েছে জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডসের মতো ন্যাটোভুক্ত বহু দেশের নাম। তবে এই দেশগুলোকে আমদানিতে টেক্কা দিয়েছে চীন। গত মে মাসে রাশিয়া থেকে গড়ে প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে চীন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি। নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া থেকে আমদানি সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে ভারত। যুদ্ধের ১০০ দিনে রাশিয়ার মোট রপ্তানি করা তেলের ১৮ শতাংশই পাঠানো হয়েছে ভারতে।
এদিকে, রুশ বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযান কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে। সম্প্রতি পুতিন বলেন, আমি কখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন উল্লেখ করে কথা বলি না। কারণ, আমি বিশ্বাস করি- এটা জীবন, এটা বাস্তবতা। তাছাড়া আরেকটি কারণ আছে। আমি যদি (সামরিক অভিযান বন্ধের) ডেডলাইন ঘোষণা করি, তাহলে যুদ্ধক্ষেত্রে দুপক্ষের সেনাদের মধ্যেই হামলা-সংঘাত আরো বাড়তে পারে এবং এটা একেবারেই আমাদের কাম্য নয়। কারণ, আমরা আমাদের লোকজনের (সেনা) জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোকে ঘিরে দ্বন্দ্বের জেরে সীমান্তে আড়াই মাস সেনা মোতায়েন রাখার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওই ঘোষণা দেয়ার দুদিন আগে ইউক্রেনের রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিয়ন্ত্রিত দুই অঞ্চল দনেতস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন তিনি।