যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বার্নহ্যাম, শপথ নিচ্ছেন কবে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ জুলাই, ২০২৬, 2:12 PM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ জুলাই, ২০২৬, 2:12 PM
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বার্নহ্যাম, শপথ নিচ্ছেন কবে
যুক্তরাজ্যের সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের পদত্যাগের পর দেশটির নতুন সরকারপ্রধান হওয়ার পথে রয়েছেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আগামীকাল ১৯ জুলাই, সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন বা দায়িত্বগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
ওই দিন যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন কিয়ার স্টারমার। তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরেই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হন কেইর স্টারমার। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি লেবার পার্টির প্রেসিডেন্ট বা শীর্ষ নেতাও হন তিনি।
তবে গত মে মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি এবং উগ্র ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে’র উত্থানের জেরে দলের ভেতরে ব্যাপক চাপে পড়েন কিয়ের স্টারমার এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। অবশেষে গত ২২ জুন যুক্তরাজ্যের প্রধামন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতার পদ থেকে ইস্তফা দেন স্টারমার।
স্টারমারের পদত্যাগের পর থেকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারি দল লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা হিসেবে দলটির জেষ্ঠ্য নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম উঠে আসে। গতকাল শুক্রবার বার্নহামকে দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে লেবার পার্টি। এখন বাকি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হওয়া।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার কিয়ার স্টারমার পদত্যাগপত্র প্রদানের অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে বৈঠক করবেন রাজা চার্লস। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হবে যে তিনি যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধামন্ত্রী হওয়ার জ্য প্রস্তুত কি-না। যদি তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেন— তাহলে তখন থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রী।
কেইর স্টারমারের পদত্যাগপত্র জমা এবং রাজা চার্লসের সঙ্গে অ্যান্ডি বার্নহামের বৈঠক— উভয়ই হবে বাকিংহাম প্যালেসে। সেখানে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবেন বার্নহাম এবং ভাষণ দেবেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের কাজটি হয় সরকারি দলের এমপি এবং ভোট দিতে সক্ষম কর্মীদের ওপরে। লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দলটির প্রেসিডেন্ট বা শীর্ষ নেতা হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল; কিন্তু এক্ষেত্রে তার সামনে বড় বাধা ছিল এই যে তিনি এমপি ছিলেন না।
গতমাসে একটি উপনির্বাচনে আলোচিত রিফর্ম ইউকে পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন বার্নহ্যাম। এই জয়ের মধ্য দিয়েই দলের শীর্ষ নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর অবশ্য চাইলে প্রচলিত প্রথা ভেঙ্গে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারবেন বার্নহ্যাম; যুক্তরাজ্যের সংবিধানে এ সংক্রান্ত ধারা রয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি প্রথা ভাঙবেচন না, অর্থাৎ নতুন নির্বাচন দেবেন না।
বস্তুত, অবৈধ অভিবাসী সংকট সমাধানে কার্যকর সমাধান হাজির করতে না পারা এবং উগ্র ডানপন্থি রিফর্ম ইউকে পার্টির উত্থানে কয়েক বছর ধরে টালমাটাল অবস্থায় আছে যুক্তরাজ্যের রাজনীতি। গত ১০ বছরে মোট ৬ জন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে দেশটি; সোমবার বার্নহ্যাম ক্ষমতা গ্রহণের পর এই সংখ্যা পৌঁছাবে ৭ জনে।
সূত্র : বিবিসি