যে কারণে জন্মদিন পালন করতেন না ‘মিয়া ভাই’
বিনোদন ডেস্ক
১৮ আগস্ট, ২০২৬, 1:24 PM
বিনোদন ডেস্ক
১৮ আগস্ট, ২০২৬, 1:24 PM
যে কারণে জন্মদিন পালন করতেন না ‘মিয়া ভাই’
গ্রামীণ পটভূমির সিনেমায় তিনি ছিলেন অনন্য। একের পর এক সিনেমায় তার দাপুটে অভিনয় জয় করেছিল কোটি দর্শকের মন। সেই নন্দিত অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের জন্মদিন আজ। সিনেমা অঙ্গনে যিনি সবার কাছে পরিচিত ছিলেন ‘মিয়া ভাই’ হিসেবে।
জন্মদিনে নায়ক ফারুককে ঘিরে কোনো বিশেষ আয়োজনের খবর পাওয়া যায়নি। অবশ্য বেঁচে থাকা অবস্থায় তিনি নিজেও জন্মদিন পালন করতেন না। ১৯৭৫ সালের পর থেকে আর এই দিনটি উদযাপন করতেন না অভিনেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন ফারুক। রাজনীতিও করেছেন সেই দলের। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যার শিকার হন বঙ্গবন্ধু। ওই নৃশংস ঘটনার পর থেকে ১৮ আগস্ট জন্মদিনকে আর আনন্দের মনে করতে পারেননি অভিনেতা।
ফারুকের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট, গাজীপুরে। বাবা আজগার হোসেন পাঠানের পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে ফারুক ছিলেন সবার ছোট। ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ফারুক। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এরপর ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি।
দেশ স্বাধীনের পর বীরত্ব নিয়ে ফেরেন ঘরে, মনোযোগ দেন দেশের সাংস্কৃতিক বিকাশে। যদিও মুক্তিযুদ্ধের আগেই প্রথম সিনেমা ‘জলছবি’তে যুক্ত হন তিনি। এইচ আকবর পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালে। এতে তার সঙ্গে জুটি হয়েছিলেন কবরী।
এরপর ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এবং পরের বছর নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’-এ অভিনয় করে নিজেকে প্রমাণ করেন। অতঃপর ১৯৭৫-এ ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ সিনেমা দুটির মাধ্যমে তিনি দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা পান।
ফারুক অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে আরো রয়েছে ‘নয়নমনি’, ‘মাটির মায়া’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘সারেং বৌ’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘নদের চাঁদ’, ‘সখী তুমি কার’, ‘দোস্তী’, ‘লাল কাজল’, ‘ঝিনুক মালা’, ‘বিরাজ বৌ’, ‘শিমুল পারুল’, ‘মিয়া ভাই’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘জীবন সংসার’, ‘কোটি টাকার কাবিন’ ইত্যাদি।
অভিনয় দিয়ে সবার নজর কেড়ে নেওয়া ফারুক পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেন। এরপর ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছিলেন পুরোদস্তুর একজন রাজনীতিবিদ। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ফারুক থেকেছেন আমৃত্যু। ছাত্রজীবন থেকে দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ছিলেন ফারুক।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ফারুক। ‘লাঠিয়াল’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন। এরপর আর এ পুরস্কারে আসেনি তার নাম। ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অভিনয় থেকে অনিয়মিত হওয়ার পর রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হন ফারুক। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তবে বেশিদিন ভূমিকা রাখতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন অসুস্থ। অবশেষে ২০২৩ সালের ১৫ মে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নন্দিত এই তারকা।