ঢাকা ২৪ জুলাই, ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম
ঢাবির হলে হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা আজ গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল কর্মসূচি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবরে ঢাকা কলেজে হল ছাড়ার হিড়িক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা রাজধানীতে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি শুরু বিএনপি কার্যালয়ে মিলল ১০০ ককটেল ও ৫০০ লাঠি মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে মাঝরাতে বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান জাফর ইকবালের বই বিক্রি না করার ঘোষণা বুকস অব বেঙ্গলের ৫ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস, ভূমিধসের শঙ্কা সায়েন্সল্যাবে শিক্ষার্থীদের অবরোধ, যানচলাচল বন্ধ

শত বছর আগে বার্মা থেকে নিয়ে আসা বিলম্বি ফলের রয়েছে প্রচুর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩,  1:12 PM

news image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে এ ফলের নাম বিলম্বি। নবীনগরের একটি ঐতিহ্যবাহী টক ফল এটি। রসালো ও মুখরোচক ফলটি তরকারিতে অপূর্ব স্বাদ এনে দেয়। দেশের অন্য কোথাও বিলম্বি ফল সাধারণত চোখে পড়ে না। তবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সীমিত আকারে এ ফলের চাষ হয় বলে জানা গেছে। এই ফল দেখতে অনেকটা লম্বা সাইজের পটলের মত,কিন্ত টক। রং হালকা সবুজ তবে পাকা অবস্থায় ধারণ করে হলুদ বর্ন। তেঁতুলের মতো এতটা করা টক নয় এই ফল মাছের তরকারি আর ডালে ব্যবহৃত হয় বেশি। তাছাড়া আচারও করা যায়। বিলম্বি বারোমাসি ফল। এ ফলের গাছ ১২ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। গাছের ডালে সমাহার চিরল পাতার। একটি গাছ একনাগাড়ে ফল দেয় ১৫ থেকে ২০ বছর। প্রতিটি ডালে ধরে প্রচুর ফল । একটি গাছ বর্ষায় ১০০ কেজি এবং শীতকালে ৫০ কেজি পরিমাণ এর ফলন দিতে পারে। গোড়ায় পানি জমলে গাছ মারা যায়। বিলম্বির চারা হয় বীজ থেকে। ৩ বছরে ফল ধরে। ফুল থেকে ফল হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে হয় খাওয়ার উপযোগী। গাছ থেকে পাড়ার দই তিন দিন পরে পচে যায় এ ফল। পাছা চেটে দিলে ফলন বেশি হয়। স্থানীয় বাজারে  প্রতি কেজি বিলম্বি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নবীনগরে বিলম্বি গাছ সংগ্রহ ইতিহাস ও বেশ প্রাচীন। প্রায় শত বছর আগে নবীনগরের তৎকালীন পোস্ট মাস্টার ইয়াকুব আলী চৌধুরী ব্যক্তিগত ভাবে এই গাছের চারা সংগ্রহ করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় আদালতের চাপরাশি নরেন্দ্র চন্দ্র মোদি সংগ্রহ করে দেন এ গাছের চারা। বর্তমানে এখানকার বেশ কিছু বাড়িতে বিলম্বি গাছ রয়েছে। শুধু তাই নয়, এলাকার বিলম্বি চারা অনেকেই শখ করে নিয়ে গেছেন ইউরোপ-আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে। অনেকের অভিমত কৃষি বিভাগের উদ্যোগে নবীনগরে ঐতিহ্যবাহী ফলের পুষ্টি গুনাগুন নির্ণয় করা দরকার। তাছাড়া বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিবেচনা করা যেতে পারে তরকারি এবং আচার হিসেবে বিলম্বের সম্ভাবনাকে।
বিলিম্বি ফলের ঔষধি গুন ঃ-
১. বিলিম্বি গাছের ফল প্রতিনিয়ত খেলে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । ২. সর্দি কাশি নিরাময়ে  বিলিম্বি ফুল ভালো কাজ দেয়। গরম পানির সঙ্গে এটিকে জ্বাল দিতে হবে । এই পানি নিয়মিত সেবন করলে সর্দি-কাশি ভালো হয়ে যায় । ৩. বিলিম্বির পাতা বিষধর প্রাণীর কামড় থেকে নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। ৪. বিলিম্বির পাতা বেটে গায়ে লাগালে চুলকানি নিরাময় হয়ে থাকে ।   ৫. বিলিম্বি গাছের ফল প্রতিনিয়ত খেলে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । ৬. বিলিম্বির পাতা বিষধর প্রাণীর কামড় থেকে নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায় । ৭. ফিলিপাইননে বিলিম্বির পাতা চুলকানি, ফোলা, বাত, মাম্পস বা চামড়া ফাটার জন্য পেস্ট হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
কুমিল্লা, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর ফলন বেশি। বিলিম্বি ছোট মাছ, বড় মাছের মাথা বা মাছের ডিম দিয়ে রান্না করে খেলে স্বাদ অনেকগুণ বেড়ে যায়। ডাল বা মাংসতেও বিলিম্বি ব্যবহার করা যায়। একটি বিলিম্বি গাছ বাড়িতে থাকলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে সারা বছরই পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলি করা যায়। অপ্রচলিত এ ফলটি এখন বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, বিক্রিও হয় বেশ চড়া দামে। পরিচিতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদাও বাড়ছে দিনে দিনে।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির