শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় পালিত হচ্ছে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ আগস্ট, ২০২৬, 1:26 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ আগস্ট, ২০২৬, 1:26 PM
শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় পালিত হচ্ছে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী
সারাদেশে দোয়া, শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় পালিত হচ্ছে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) ‘আপসহীন’ নেত্রী খ্যাত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী।
সারাদেশে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শ্রদ্ধা ও রুহের মাগফিরাত কামনায় দিনটি পালন করছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুর পর এটি খালেদা জিয়ার প্রথম কোনো জন্মবার্ষিকী উদযাপন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার প্রয়াণের কারণে এবার সব ধরনের উৎসব পরিহার করা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল থেকেই ঢাকাসহ দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় এবং স্থানীয় মসজিদগুলোতে বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
দোয়া-মাহফিলে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার শান্তি ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।
এ ছাড়া বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন পৃথকভাবে রক্তদান কর্মসূচি, এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং স্মরণসভা আয়োজন করেছে।
গৃহবধূ থেকে ‘আপসহীন’ নেত্রী
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৬০ সালে ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করার পর দলের চরম ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।
১৯৮৪ সালের আগস্টে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন।
জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী ৯ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে রাজপথের প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে ছিলেন। গণতন্ত্রের লড়াইয়ে সামরিক সরকারের সঙ্গে আপস করেননি তিনি। যে কারণে তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি দেওয়া হয়।
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও অনন্য নির্বাচনী রেকর্ড
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে তার রয়েছে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। রাজনৈতিক জীবনে যতবার ও যতটি আসনে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তার একটিতেও কখনো পরাজিত হননি। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ৫টি করে আসনে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩টি আসনে দাঁড়িয়ে সবকটিতেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন
তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। তার আমলেই সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনা বেতনে অধ্যয়ন ও উপবৃত্তি চালু করেন। এছাড়া মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসার, ভ্যাট ব্যবস্থার প্রবর্তন, তৈরি পোশাক খাতের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা চালু এবং বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মাণকাজ তার আমলেই সম্পন্ন হয়।
রাজনৈতিক নিপীড়ন ও শেষ জীবন
২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় চরম রাজনৈতিক বৈরিতা ও নিপীড়নের শিকার হন তিনি। ৪০ বছরের স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাসের বাড়ি থেকে তাকে উচ্ছেদ করা হয়। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাবন্দি হন এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসভবন 'ফিরোজা'-য় কার্যত অন্তরীণ থাকেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সম্পূর্ণ মুক্তি পান। তবে দীর্ঘ অন্তরীণ জীবনে উন্নত চিকিৎসার অভাবে লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘গণতন্ত্রের মা’ খ্যাত বেগম খালেদা জিয়া।