সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মর্গের দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 3:55 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 3:55 PM
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মর্গের দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ছড়িয়ে পড়া উৎকট দুর্গন্ধে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মর্গের এক্সজস্ট ফ্যানের মাধ্যমে দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহবুবুজ্জামান ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলোতে প্রতিদিন এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্লাসে ঢোকার উপায় নেই। মর্গের এমন পচা গন্ধে টিকতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বমি করেছে। এই দুর্গন্ধের মধ্যে সারাক্ষণ ক্লাস করা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে আমাদের স্বাস্থ্য ও পড়াশোনা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘মর্গের উৎকট গন্ধের কারণে মাহবুবুজ্জামান ভবনের শ্রেণিকক্ষে থাকা যাচ্ছে না, স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করাও সম্ভব হচ্ছে না। এই গন্ধে আমি নিজেও বমি করেছি। অনেক শিক্ষার্থীও বমি করেছেন, অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে এ ধরনের দুর্গন্ধের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ভোগান্তিকর। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
এদিকে মর্গটির অবকাঠামোগত ত্রুটি থাকার কথা স্বীকার করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. সোলায়মান কবীর। তিনি বলেন, ‘গরমের জন্য এটা একটা ফ্যাক্টর এবং অবকাঠামোগত অনেক ত্রুটি রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি কমানোর জন্য আমরা কিছু কাজ হাতে নিয়েছি। কাল কেমিক্যাল আসবে। সেটা আসার পর পরিস্থিতি আরও কমে আসবে।’
মর্গের নকশায় ত্রুটি থাকার কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে যে সেটআপটা করা হয়েছিল, সেটাই ভুল ছিল। এটা কখনোই রাস্তার পাশে হওয়ার কথা নয়। তবে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। দ্রুতই সমাধান হবে।’
তবে কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগে সন্তুষ্ট নন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে মর্গের বাতাস নির্গমন ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস বা বন্ধ করে দুর্গন্ধের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।