ঢাকা ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ হওয়া জাহাজটি উল্টে গেছে, নিখোঁজ ১৪০ যাত্রী স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নয়, মানুষের মৌলিক অধিকার : ডা. জুবাইদা ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধিদলের বৈঠক চড়া দামে মাছ-মুরগি-ডিম, বাড়তি দামেও তেলের সংকট বাড়ল সোনার দাম, ভরি ছাড়াল দুই লাখ ৩২ হাজার টাকা সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছি : শফিকুর রহমান আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নয়, মানুষের মৌলিক অধিকার : ডা. জুবাইদা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  4:32 PM

news image

আয়, অবস্থান বা সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা না করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভোথিয়েটারের প্লেনারি হলে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর ‘হেলথ ইনোভেশন ফর অল : এক্সপ্যান্ডিং অ্যাকসেস টু অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ কেয়ার’ শীর্ষক প্লেনারি আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উন্নত হাসপাতাল বা আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহকে স্বাস্থ্যসেবার মানের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। অনেক রোগী শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ার পর বিশেষায়িত হাসপাতালে আসেন। প্রয়োজনীয় সেবা বাড়ির কাছাকাছি না থাকায় তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। আধুনিক তৃতীয় স্তরের স্বাস্থ্যসেবাও অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, রোগ গুরুতর হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করতে হবে। এজন্য প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি সম্প্রসারণ প্রয়োজন। ডেঙ্গু বা হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য যেন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে না হয়, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। 

সব স্ক্রিনিং কর্মসূচির সঙ্গে রোগ নির্ণয়, পরামর্শ, চিকিৎসা, ওষুধ, পর্যবেক্ষণ ও রেফারেল ব্যবস্থা যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ডা. জুবাইদা বলেন, বাংলাদেশকে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য চাহিদার জন্যও প্রস্তুত হতে হবে। এর মধ্যে ডিমেনশিয়া, পারকিনসনস রোগসহ বয়স্কদের মধ্যে দেখা দেওয়া বিভিন্ন রোগ রয়েছে।

তিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, মানুষের বাড়ির কাছাকাছি চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলেন।পরিকল্পিতভাবে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগকে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে নারীদের জন্য এতে কাজের সুযোগ তৈরি হবে। এসব স্বাস্থ্যকর্মী কমিউনিটি পর্যায়ে স্ক্রিনিং, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা ও রেফারেল সেবায় সহায়তা করতে পারবেন।

রোগীদের কমিউনিটি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে জেলা ও বিশেষায়িত হাসপাতালে নির্বিঘ্নে পাঠাতে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। চিকিৎসার পর রোগীর তথ্য আবার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও থাকতে হবে, যাতে চিকিৎসা শেষে রোগীরা স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন।

বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান, নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ, সংক্রামক রোগের পরীক্ষা, রক্তের বিভিন্ন উপাদান পৃথকীকরণ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য জাতীয়ভাবে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. জুবাইদা। একই সঙ্গে রক্তদাতা থেকে রোগী পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার তথ্য অনুসরণযোগ্য করার কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উদ্ভাবন মানেই ব্যয়বহুল যন্ত্র তৈরি বা নতুন কোনো অ্যাপ চালু করা নয়। রোগীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান করে—এমন উদ্ভাবনই সবচেয়ে মূল্যবান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য গবেষক, শক্তিশালী ওষুধশিল্প, অভিজ্ঞ চিকিৎসক, ডিজিটাল সক্ষমতা, কমিউনিটি পর্যায়ের সংগঠন এবং উদ্যোক্তাদের একটি উদ্যমী প্রজন্ম রয়েছে। গবেষণা, যাচাই, নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্বশীল ক্রয় ও সেবা দেওয়ার মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিটি অংশকে রোগীর প্রয়োজন ও অধিকারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। তাহলেই দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কে আজাদ খান।

আলোচনায় অংশ নেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন, টিএমএসএসের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মতিউর রহমান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আক্তার হোসেন, ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম খান এবং এসকেজেন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. সাদাফ সাজ সিদ্দিকী।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির