ঢাকা ২৪ জুন, ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম
৮ জুলাই চীন সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী ছাগলকাণ্ডের সেই মতিউরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা মেজর জিয়াসহ ৪ আসামির বিচার শুরু, ৫ জনকে অব্যাহতি ‘প্রযুক্তিজ্ঞান ছাড়া দেশ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না’ অ্যান্টিগায় নীরবতা নামিয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা দুর্নীতিতে অভিযুক্তের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ পেলে ব্যবস্থা ‘সম্পদের পাহাড়’ ছেড়ে আত্মগোপনে ছাগলকাণ্ডের মতিউরের স্ত্রী রাশিয়ার দাগেস্তানে ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ১৫ পুলিশ আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী-বিশ্বস্ত বন্ধু

হীরার ঘড়ি, ১৫ লাখের কলম... তোষাখানায় ‘ভূত’ খুঁজছে পাকিস্তান

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ মার্চ, ২০২৩,  11:35 AM

news image

তোষাখানার উপহার নিয়ে বার বার বিতর্ক তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। সেই উপহার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এবার তোষাখানার উপহারের একটি তালিকা প্রকাশ করল পাকিস্তান সরকার। ২০০২ সাল থেকে তোষাখানায় যত উপহার জমা পড়েছে, সেই নথি প্রকাশ্যে এলো। পাকিস্তানের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে হয়নি।

দেশের সরকার ও বিদেশি রাষ্ট্র থেকে সরকারি প্রতিনিধিরা যে উপহার পান, তাই জমা করা হয় তোষাখানায়। কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছিলেন, এই তোষাখানার নথি প্রকাশে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে সরকার। তারপরেই প্রকাশিত হলো নথি।

পাক সরকার ৪৪৬ পাতার একটি নথি প্রকাশ করেছে। ২০০২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তোষাখানায় যা যা উপহার জমা পড়েছে, তা ওই নথিতে রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টরা ওই সময়কালে যা যা উপহার পেয়েছেন, তা-ও রয়েছে নথিতে।

২০২৩ সালে নতুন পাক সরকারের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশ থেকে ৫৯টি উপহার পেয়েছেন। সরকারি নথিতে লেখা রয়েছে, ২০২২ সালে সরকারি প্রতিনিধি, কর্মকর্তারা ২২৪টি উপহার পেয়েছেন। ২০২১ সালে তাদের পাওয়া উপহারের সংখ্যা ১১৬। ২০১৮ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ১৭৫ আর ২০১৫ সালে সংখ্যাটা ছিল ১৭৭। ২০১৪ সালে ৯১টি উপহার জমা পড়েছে তোষাখানায়।

সাবেক পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ, ইউসুফ রাজা গিলানি, রাজা পারভেজ আশরাফ, ইমরান খান, নওয়াজ শরিফ ক্ষমতায় থাকার সময় বিদেশি রাষ্ট্র থেকে কী কী পুরস্কার পেয়েছিলেন, তাও লেখা রয়েছে নথিতে।

প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় উপহার পাওয়া কিছু জিনিস পরে দাম দিয়ে কিনে নিয়েছিলেন ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি। অভিযোগ, জিনিসগুলোর যা দাম ছিল, তার থেকে অনেক কম টাকা দিয়ে সেগুলো কিনেছিলেন তিনি। সরকারের প্রকাশ করা নথিতে সেই তথ্যও রয়েছে।

তোষাখানার নথি থেকে জানা গেছে, প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ পাকিস্তানি মুদ্রার সোনা ও হীরা বসানো ঘড়ি তোষাখানা থেকে কিনে নিয়েছিলেন ইমরান। তিনিই ঘড়িটি পেয়েছিলেন। এর আগে বা পরে কোনো পাক প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট বা কোনো মন্ত্রী এত দামী উপহার পাননি। অভিযোগ, আসল দামের থেকে অনেক কম দামে ইমরান কিনেছিলেন সেটি।

ঘড়িতেই শেষ নয়। ৫৬ লাখ পাকিস্তানি মুদ্রার কাফলিংক, ১৫ লাখ পাকিস্তানি মুদ্রার পেন, ৮৭ লাখ পাকিস্তানি মুদ্রার আংটিও কিনে নিয়েছিলেন ইমরান। এগুলো তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন। হীরের ঘড়িসহ ওই জিনিসগুলো পরে মাত্র ২ কোটি পাকিস্তানি মুদ্রার বিনিময়ে কিনে নিয়েছিলেন তিনি। সেই নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক।

পাকিস্তান তেহরিক ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান আরও একটি ঘড়ি কম দামে কিনে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ঘড়িটির দাম ছিল প্রায় ৩৮ লাখ ৮০ হাজার পাকিস্তানি মুদ্রা। ইমরান মাত্র ৭ লাখ ৫৪ হাজার পাকিস্তানি মুদ্রায় সেই ঘড়ি কিনে নিয়েছিলেন।

১৯৭৮ সালে এই তোষাখানা স্থাপন করে পাকিস্তান। নিয়ম হয়, সরকারি কর্মকর্তা থেকে আমলা, সংসদের প্রতিনিধিরা যা উপহার পাবেন, তা তোষাখানায় জমা করতে হবে। ১০ হাজার পাকিস্তানি মুদ্রার কম দামি জিনিস শুধু নিজের কাছে রাখতে পারবেন সরকারি প্রতিনিধি, মন্ত্রী ও আমলারা। দেশটির সংবাদপত্র ডন দাবি করেছে, উপহারের দামের একটা অংশ মিটিয়ে দিলে তা নিজের কাছে রাখতে পারেন সরকারি প্রতিনিধি। তবে দামের কত অংশ, তা স্পষ্ট নয়।

যদিও বার বার সেই নিয়ম ভাঙা হয়েছে পাকিস্তানে। সব থেকে বেশি অভিযোগ উঠেছে ইমরানের বিরুদ্ধে। ভোটে মনোনয়ন জমা করার সময় যে হলফনামা দিয়েছিলেন তিনি, তাতে ওই সব উপহার কেনার উল্লেখ ছিল। তারপরেই নড়েচড়ে বসে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। তদন্ত শুরু করে। এরপরেই কম দামে উপহার কেনার কথা প্রকাশ্যে আসে।

এরপরেই গত বছর জাতীয় অ্যাসেম্বলি থেকে ইমরানকে বহিষ্কার করে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ, ইমরান তোষাখানার উপহার কিনে নেওয়ার কথা গোপন করেছেন। জেলা ও দায়রা আদালতে এই নিয়ে মামলাও চলছে। তারপরেই তোষাখানায় দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এবার তাতে স্বচ্ছতা আনতে তালিকা প্রকাশ করল পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকার। তবে ইমরান একা নন, বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান, নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই এই উপহার নিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। নিন্দুকরা বলছেন, ভূত আসলে সরষেতেই। তাই নথি প্রকাশ করেও খুব বেশি লাভ হবে না।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির