এ যাত্রায় মনে হয় বেঁচে গেলাম - অসীম কুমার তালুকদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ মে, ২০২৩, 10:51 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ মে, ২০২৩, 10:51 PM
এ যাত্রায় মনে হয় বেঁচে গেলাম - অসীম কুমার তালুকদার
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহীর জিএম অসীম কুমার তালুকদার আজ (০৮/০৫/২০২৩) পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী থেকে ঢাকা যাচ্ছি। আগামীকাল রেলপথ মণ্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। যথারীতি ট্রেনটি ঘুরে দেখার উদ্যোগ নিলাম। প্রথমে এসিতে বেশ প্রয়োজন কর্মচারী তাদের স্ত্রী কন্যা ও আত্মীয়-স্বজনসহ ভ্রমণ করছিলেন, স্ত্রী কন্যা গনের টিকিট কেটে শোভন শ্রেনিতে পাঠিয়ে দেয়া হলো।কেবিন চেক করতে গিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী হিসাব কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা। তিনি হর্নিয়া জনিত অসুস্থ্যতায় ভুগছেন, স্ত্রী ও কন্যা ডাক্তার দেখাবার জন্য ঢাকা নিয়ে যাচ্ছেন। আমারা তাঁর জন্য দোয়া করলাম। এসি চেয়ারে গিয়ে একজন সৈনিক ও একজন সাংবাদিক পেলাম যারা স্টান্ডিং টিকেট কেটে এসিতে বসে ছিলেন, অনেক বুঝিয়ে নন এসিতে পাঠানো হলো। একজন যাত্রী টিকেট না কেটে ঢাকা যাচ্ছিলেন আমাদের দেখে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে পিছনে চলে গেলেন কিন্তু টিটিই বিষয়টি ধরতে পেরে তাকে ধরে এনে টিকেট কেটে দিলেন। চেকিং শেষে গত কোচে আসলে এসি যাত্রীদের তোপের মুখে পরলাম। একটি কম্প্রেসার কাজ না করায় ঠান্ডা হচ্ছে না। মারাত্মক সমস্যা অনুভূত হচ্ছে এমন ৪ জন যাত্রীকে আমার সিঙ্গেল কেবিন ছেড়ে দেবার প্রস্তাব দিলাম, শিশু বাচ্চাসহ একটি পরিবার প্রস্তাবটি গ্ৰহণ করলেন। আমি এখন সিট বিহীন যাত্রী, কিন্তু তাতে কি, এ যাত্রায় মনে হয় বেঁচে গেলাম। ঢাকা গিয়ে এসি ঠিক করতে হবে। ট্রেনে এত কড়াকড়ি আরোপ করায় দিন দিন শত্রু সংখ্যা মনে হয় বেড়েই যাচ্ছে, কিন্তু শৃংখলা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে পিছুও হঠতে পারছি না। আজকে পুরো ট্রেনে ৪২ জন টিকেট বিহীন যাত্রী পেলাম যাদের কাছ থেকে জরিমানাসহ ভাড়া বাবদ আদায় করা হলো ৮৫২০ টাকা।