ঢাকা ০৬ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ফুড সেফটি মুভমেন্টের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করলেন প্রধানমন্ত্রী ইরানে নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়াল : পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল ঢাকা থেকে বাতিল হলো ২১০ ফ্লাইট প্রাথমিকভাবে ৯ উপজেলায় চালু হচ্ছে কৃষি কার্ড ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক ঈদের ছুটি একদিন বেড়েছে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলার হুমকি ইরানের চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান

কক্সবাজার এলএ শাখায় বেপরোয়া সার্ভেয়ার ও দালাল, নীরব জেলা প্রশাসন

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুন, ২০২৩,  11:51 AM

news image

আব্দুর রহমান ও আব্দুল মাজেদ সম্পর্কে তারা চাচা ভাতিজা। কক্সবাজার টেকনাফ সেন্টমার্টিনে বিজিবি সদস্যদের জন্য বিওপি কমপ্লেক্স ও তিনটি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের জন্য তাদের জমি অধিকগ্রহণের নোটিশ পেয়ে ক্ষতিপূরনের চেক পাওয়ার জন্য  কক্সবাজার ভূমি অধিকগ্রহণ (এলএ) শাখায় আবেদন জমা দেন তারা।

এরপর এলএ শাখায় একাধিকবার যাওয়া আসা করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে সার্ভেয়ার সায়েদুল ইসলামের ধারস্ত হন তারা। কিন্তু সার্ভেয়ার তাদেরকে সেন্টমার্টিনের ইউপি সদস্য চিহ্নিত দালাল মোঃ ছৈয়দ আলমের সাথে দেখা করার পরামর্শ দেন। তার দেখানো পথ ধরে এগোতেই ইউপি সদস্যের সাথে দেখা করলে তিনি কক্সবাজার বাজারঘাটাস্থ একটি হোটেলে তাদেরকে ডেকে বলেন; তারা যেই আবেদনটি জমা দিয়েছে সেটির বিরুদ্ধে কেউ একজন অভিযোগ দায়ের করেছে। এটি সমাধান করতে অভিযোগকারী, সার্ভেয়ার ও উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করতে গুনতে হবে ৪৪ লাখ টাকার চেক ও নগদ ১৭ লাখ টাকা। তা না হলে ক্ষতিপূরণের চেক পাওয়া যাবে না। তবে টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষতিপূরণের কানাকড়িও পবেনা জানিয়ে একটি সতর্ক বার্তাও দেন বলে জানান আব্দুল মাজেদ।

এরপর আব্দুর রহমান ও মাজেদ দীর্ঘদিন এলএ শাখায় ঘুরে কোন সমাধান না পেয়ে ক্ষতিপূরনের চেক দ্রুত পাওয়ার আশায় ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। এরপর ইউপি সদস্য মোঃ ছৈয়দ আলম তাদেরকে কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা হোটেল ওভালে এনে জোর করে একটি স্টাম্পে স্বাক্ষর নেন এবং অভিযোগ সমাধান করার জন্য ২২ লাখ করে ৪৪ লাখ টাকার দুইটি চেক নেন দুইজনের কাছ থেকে। এর কিছুদিন পর ১ কোটি ৫১ লাখ টাকার দুইটি ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন তাদের হাতে। যার এলএ মামলা নং- ০৫/ ২০২০-২১। পরে চুক্তি অনুযায়ী সার্ভেয়ার ও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জন্য নগদ ১৭ লাখ টাকা বুঝে নেন ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলম। পরে ইউপি সদস্য জোর করে নেওয়া ৪৪ লাখ টাকার ও ষ্ট্যাম্পের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি ও মামলার ভয় দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন আব্দুর রহমান ও মাজেদ।

জানা যায়, কক্সবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এইসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অধিকগ্রহণ করা হচ্ছে ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি। এসব জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণের চেকের জন্য কক্সবাজার ভূমি অধিকগ্রহণ শাখায় আবেদন করেন নিয়ম অনুযায়ী।

অভিযোগ আছে, এসব আবেদনের খতিয়ান ও দাগ নাম্বার দালালদের সরবরাহ করে অভিযোগ দায়ের করান সার্ভেয়ার। পরে আবেদনকারীদের ডেকে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হলে চেক পাওয়া যাবে না বলে আবেদনকারীদের ঘুরাতে থাকেন। এক পর্যায়ে আবেদনকারীরা বিরক্ত হয়ে সার্ভেয়ারের কথা মত দালালদের শরণাপন্ন হন। এবং মোটা অংকের টাকা নিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি করে কমিশনের মাধ্যমে ক্ষকিপূরণের চেক হস্তান্তর করেন।

এভাবে একের পর এক অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কক্সবাজার ভূমি অধিকগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার সায়েদুল ইসলামের কমিশনের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও অভিযোগ থাকার পরেও অদৃশ্য কারনে কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছে না উর্ধতন কর্তৃপক্ষ। শুধু অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে পাশ কাটান তারা।

অভিযোগ রয়েছে, এল এ শাখার অফিসের ভিতরে ও বাইরে রয়েছে একাধিক দালাল চক্র। এসব দালাল চক্রের মাধ্যমে ঘুষ না দিলে কোন কাজই করেন না এলএ শাখার সার্ভেয়ার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়াও কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়ে একজনের ক্ষতিপূরণ অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া, প্রকৃত মালিকদের মামলা-মোকদ্দমার ফাঁদে আটকে ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ করাসহ নানান দুর্নীতি-অনিয়মের নানান অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার ভূমি অধিকগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার ও অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

এর আগে কক্সবাজার টেকনাফ সেন্টমার্টিনে বিজিবি সদস্যদের জন্য বিওপি কমপ্লেক্স ও তিনটি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের জন্য অধিকগ্রহনের ক্ষতিপূরণের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার চেক দ্রুত করে দেওয়ার জন্য সেন্টমার্টিনের ইউপি সদস্য দালাল মোঃ ছৈয়দ আলমের মাধ্যমে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করার জন্য জমির মালিক মোঃ আলম শাহীনের কাছ থেকে ১৬ পার্সেন্ট অর্থাৎ ৫৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন দালাল সেন্টিমার্টিনের ইউপি সদস্য মোঃ ছৈয়দ আলম ও এলএ শাখা-২ এর সার্ভেয়ার মোঃ সায়েদুল ইসলাম।

জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মোঃ ছৈয়দ আলম বলেন, চেক এবং স্ট্যাম্প অভিযোগকারীদের জন্য নিয়েছিলাম। তাদের সাথে চুক্তি ছিল ক্ষতিপূরণের চেক পাশ হওয়ার পর অভিযোগ নিষ্পত্তির ৪৪ লাখ টাকা দিয়ে দিতে হবে। কিন্তু তারা ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা পাওয়ার পর চেক পাশ করাচ্ছে না। তবে, নগদ ১৭ লাখ টাকার নেওয়ার
বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার এলএ শাখা-২ এর সার্ভেয়ার মোঃ সায়েদুল ইসলাম বরাবরের মত কমিশন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার ভূমি অধিকগ্রহণ কর্মকর্তা (গ্রুপ-২) সুভাশীষ চাকমাকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির