ঢাকা ১৮ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেন জি কে শামীম পাশার দান উল্টে দিয়ে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে মেসি সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ মার্কিন চাপের মধ্যেই লেবাননে স্থায়ী সেনাপোস্ট করছে ইসরায়েল টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম, মরিচের কেজি ২০০ টাকা জীবন দেব, তবু ২৪ হারিয়ে যেতে দেব না : জামায়াত আমির বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার উপকূলে ২ নৌকাডুবি : ৫৩০ রোহিঙ্গা নিহত মৃত্যুর তিন দিন আগে শেষ সাক্ষাৎকারে যা বলেছিলেন শহীদ আবু সাঈদ ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য ফাঁস দেশের ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

কুমিল্লায় কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে কামার সম্প্রদায়ের চোখে নেই ঘুম

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ জুন, ২০২৩,  12:21 PM

news image

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলে আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে উপজেলাগুলোর বিভিন্ন হাটবাজারে জীবিকার তাগিদে দরিদ্র কামার শিল্পীরা বর্তমানে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। আর মাত্র ৩ সপ্তাহ বাকী নেই ঈদুল আযহার। আগামী ২৯ জুন পবিত্র ঈদুল আযহার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে। তবে প্রকৃতি বর্ষার আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে ঈদুল আযহা উপলক্ষে নানান পণ্যের বাজার পাগলা ঘোড়ার মত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। অপরদিকে গরু খামারী ও গরু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়েই চলছে। 

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এ অঞ্চলে কামার শিল্পীদের স্থানীয় ভাবে তৈরী করা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোরবানীর পশু জবাই ও মাংস টুকরা করতে ওইসব হাতিয়ার প্রয়োজন এটাই স্বাভাবিক। ফলে দা, বটি, চাপাতি, ছুরি, চাকু ও ধামা তৈরীসহ ওইসব পুরানো দেশীয় অস্ত্রে শান দিতে ইতিমধ্যেই ব্যাস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের কামার শিল্পীরা। দিনরাত চলছে তাদের কোরবানীর পশু জবাই যন্ত্রপাতি তৈরীর এ কাজ। সারাক্ষণ যেন ঢুং, ঢাং ও টুং টাং শব্দে মুখোর কামার দোকানের আশেপাশের এলাকা। এ অঞ্চলে বিশাল শিল্পের সঙ্গে জড়িত কামার সম্প্রদায়ের লোকজন লৌহ ও ষ্টীলসহ বিভিন্ন ধাতবদ্রব্য দিয়ে পশু জবাইয়ের  প্রয়োজনীয় ওইসব দেশীয় হাতিয়ার তৈরীর মাধ্যমে পূর্ব পুরুষদের এ পেশা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তারা।   

স্থানীয় কামার শিল্পীদের একটি সূত্র জানায়, জেলা দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, লালমাই, নাঙ্গলকোট, বরুড়া ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র কোরবানী ঈদ আসলে এ পেশার মানুষদের একটু ব্যস্ততা বেড়ে যায়। অন্য সময় অর্থ্যাৎ বছরের বেশির ভাগ সময় অলস ভাবে কাটাতে হয় তাদের। এবার ঈদে বটি, দা, বড় ছুরি ও ধামা তৈরীতে ৩ থেকে ৪’শ টাকা করে মুজুরী নেয়া হচ্ছে। আর তৈরী করা এসব সামগ্রী বিক্রি করবে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায়। গরু কাটার ছোট ছুরি বিক্রি  ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে গরু কাটার ছোট ছুরির চাহিদা একটু বেশী রয়েছে। এবারের ঈদে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ওইসব মালামাল তৈরী করতে যেসব মালামাল প্রয়োজন তা বাজারে উচ্চ মূল্য। ফলে তৈরীকৃত ওইসব দেশীয় হাতিয়ার বিক্রি করতে হবে বেশি দামে। আগের মত এখন আর নতুন করে মানুষ ওইসব পন্যে কিনতে চায়না কারন ঘরে থাকা পুরানো হাতিয়ারগুলো পুনরায় শান দিয়ে ধারালো করে নিচ্ছে বেশির ভাগ লোকজন। 

জেলা দক্ষিনাঞ্চলের আরেকটি সূত্র জানায়, জেলার বরুড়ার আমড়াতলি ও গালিমপুর বাজার, লালমাই উপজেলার বিজয়পুর, লালমাই, বাগমারা, হরিশ্চর, ভুশ্চিবাজার, লাকসাম উপজেলার দৌলতগঞ্জ বাজার, মুদাফরগঞ্জ বাজার, বিজরা ও পাঁচথুবি বাজার, মনোহরগঞ্জ উপজেলার পোমগাঁও, বাইশগাঁও, হাসনাবাদ, লক্ষনপুর, খিলা, নাথেরপেটুয়া ও বিপুলাসার বাজার এবং নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা, মক্রবপুর, বক্সগঞ্জ, দোলখাঁর ও ঢালুয়া বাজারে কামার সম্প্রদায়ের তৈরী দেশীয় লৌহজাত যন্ত্রপাতির ব্যবসা বিগত কয়েক বছর যাবত ধরে জমে উঠেছে। ওইসব সম্প্রদায়ের লোকজন এলাকার চাহিদা মিটিয়ে অন্য এলাকার হাট-বাজার গুলোতে ওইসব যন্ত্রপাতি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছে।  

এ ব্যাপারে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের কামারশিল্পী সম্প্রদায়ের একাধিক নেতার মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 


logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির