ঢাকা ০৬ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ফুড সেফটি মুভমেন্টের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করলেন প্রধানমন্ত্রী ইরানে নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়াল : পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল ঢাকা থেকে বাতিল হলো ২১০ ফ্লাইট প্রাথমিকভাবে ৯ উপজেলায় চালু হচ্ছে কৃষি কার্ড ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক ঈদের ছুটি একদিন বেড়েছে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলার হুমকি ইরানের চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান

কোরবানির গরু বেচা-কেনা করলে রামু পুলিশকে দিতে হয় চাঁদা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুন, ২০২৩,  11:48 AM

news image

আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে জমে উঠেছে কক্সবাজার  রামু উপজেলার বৃহত্তর গর্জনিয়া গরু বাজার। এই বাজারে প্রতিবছর দূর দূরান্ত থেকে গরু কিনতে আসেন হাজার হাজার ক্রেতা। গরু বেচা-কেনার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুলিশের একটি চাঁদাবাজ চক্র।

অভিযোগ আছে, গর্জনিয়া বাজারে প্রকাশ্যে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে কচ্চপিয়া ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ড তিতার পাড়া এলাকার মোঃ বেলালের ছেলে সোহেল নামের এক ব্যাক্তির মাধ্যমে চাঁদা তোলা হয়। 'চেকার' নামের বিশেষ সীল মেনে গরু প্রতি নেওয়া হয় ২ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিমাসে কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ  মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু আসে গর্জনিয়া বাজারে। মিয়ানমারের অবৈধ গরুও বিক্রি হয় সেখানে।  একটি গরু বিক্রি করা হলে বাজারের ইজারাদার একটি রশিদের মাধ্যমে বিক্রেতার কাছ থেকে ২ হাজার ও ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হয় ১ হাজার টাকা। এরপর পুলিশের প্রতিনিধি সোহেলের কাছ থেকে উক্ত রশিদে ২ হাজার টাকা দিয়ে 'চেকার' নামের একটি বিশেষ সীল মেরে নিতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। এইভাবে পুলিশের এই প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতি মাসে গর্জনিয়া বাজার থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মাসুদ রানা।

স্থানীয়রা জানান, গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল রানার প্রতিনিধি সোহেল প্রতি গরু বাজারে চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে থাকে। গরু বেচা-কেনা হলে ইজারাদারের প্রতিনিধিরা ক্রেতা ও বিক্রেতাকে সোহেলের কাছে নিয়ে আসেন ২ হাজার টাকা দিয়ে সীল মারার জন্য। কেউ যদি সীল না মেরে চলে যায় সোহেল পুলিশ ফাঁড়িে ইনচার্জকে ফোন করে দিয়ে গরুগুলো পথে আটকিয়ে দেয়। এবং গরুগুলো নিলামে বিক্রি করে দেয়। এই ভয়ে সবাই টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে সীল মেরে নেয়।

করিম উল্লাহ নামের বাজার ইজারাদারের এক প্রতিনিধি জানান, প্রতি বাজারে ৪০০ থেকে ৮০০ দেশী ও মিয়ানমারের অবৈধ গরু বিক্রি হয়। এসব গরু বিক্রির পর বিক্রয় রশিদের মাধ্যমে ইজারাদারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ৩ হাজার টাকা। এবং সোহেল নামের পুলিশের একজন প্রতিনিধি একটি সীলের মাধ্যমে গরু প্রতি নেয়া হয় ২ হাজার টাকা। 

গৃহপালিত গরু বিক্রি করতে আসা কয়েকজন ব্যাক্তি জানান, বছরের পর বছর কোন মেডিসিন ছাড়া কত কষ্ট ও যত্ন করে গরুগুলো বড় করেছি কোরবানির বাজারে বিক্রি করব বলে। বাজারে মিয়ানমারের গরুতে ভরপুর হওয়ার কারনে কাঙ্খিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও একটি গরু বিক্রি করলে ইজারাদার ও পুলিশের প্রতিনিধিকে দিতে ৫ হাজার টাকা। এটি তাদের প্রতি জুলুম করা হচ্ছে বলে দাবী করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

কোরবানের জন্য গরু কিনতে আসা বেদার আলম নামের এক ব্যাক্তি জানান, আগে জানতাম মিয়ানমারের অবৈধ গরু থেকে পুলিশ টাকা নিতো। কিন্তু নিজেদের কোরবানির জন্য গৃহপালিত গরু কিনতে এসেও পুলিশের নামে 'চেকার' নামের একটি সীল মেরে সোহেল নামের এক ব্যাক্তি ২ হাজার টাকা নিলো। অনেক অনুরোধ করার পরেও ছাড় দিলো না। উল্টো পুলিশ গরু আটক করে জরিমানা করবে বলে হুমকি দিয়েছে সোহেল নামের পুলিশের ওই প্রতিনিধি। 

দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুর রহিম নামের দুই গরু ব্যাবসায়ীর অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে গর্জনিয়া বাজার থেকে গরু কিনে বাইরে বিক্রি করেন। সর্বশেষ ছয়টি গরু কিনে বাজারের ইজারাদারের প্রতিনিধিকে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় রশিদ সংগ্রহ করে গরুগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ক্রয় রশিদ থাকা স্বত্বেও গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম রশিদের উপর পুলিশের সীল না থাকায় আটকিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।  পরবর্তীতে তাদের কষ্টের টাকায় ক্রয়কৃত গরু গুলো ক্রয় রশিদ থাকার পরেও নিলামে তুলে বিক্রি করে দেন রামু থানা পুলিশ। 

জানতে চাইলে পুলিশের প্রতিনিধি সোহেল বিশেষ সীলের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

জানতে চাইলে রামু গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, পুলিশের কোন প্রতিনিধি বাজারে চাঁদা আদায় করে না। কেউ পুলিশের পরিচয়ে নিয়ে থাকলে এ বিষয়ে জানা তার জানা নেই। পুলিশের প্রতিনিধি পরিচয়ে কেন টাকা তুলা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন। এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আনোয়ারুল হোসাইনের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বিভিন্ন ব্যাস্ততা দেখিয়ে কোন মন্তব্য করেননি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন মন্তব্য করেননি তিনি।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, সোহেল নামের কোন ব্যাক্তি পুলিশের নামে টাকা তোলার বিষয়টি জানা নেই। এরকম যদি হয়ে থাকে খোজ নিয়ে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির