দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির দুই কর্মসূচি স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, 1:00 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, 1:00 PM
দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির দুই কর্মসূচি স্থগিত
দেশের বর্তমান সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির ঘোষিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
স্থগিত কর্মসূচি দুটি হলো—
১) “রেলওয়েকে লাভজনক করতে দুর্নীতিবাজমুক্ত রাজনীতিক এবং কর্মকর্তা প্রয়োজন” শীর্ষক সংলাপ ও সংবাদ সম্মেলন
২) চট্টগ্রাম সিআরবি দপ্তর প্রাঙ্গণে ঘোষিত দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান কর্মসূচি
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ভূত জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সম্ভাব্য অস্থিরতা এবং বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত, নীতি ও আদর্শে অটল অবস্থানঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন,
“দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তার বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে আমাদের ঘোষিত কর্মসূচি দু’টি সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এটি কোনো ভাবেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসা নয়।”
তিনি আরও বলেন,
রেলওয়েকে লাভজনক, টেকসই ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য দুর্নীতিবাজ রাজনীতি ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেটমুক্ত ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য—এই নীতিগত অবস্থান থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি এক চুলও সরে আসবে না।”
সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি অপরিবর্তিতঃ
সংগঠনটির নেতারা জানান, জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সম্ভাব্য উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে—এমন সময়ে কর্মসূচি পালন না করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করাই সংগঠনের কাছে অধিক দায়িত্বশীল ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়,
“আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনানুগ। আমরা চাই না কোনো কর্মসূচি ভুল ব্যাখ্যা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হোক।”
রেলওয়ে সংস্কার প্রশ্নে অবস্থান অপরিবর্তিতঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি জানিয়েছে, কর্মসূচি স্থগিত হলেও রেলওয়ের দুর্নীতি, নিয়োগ–বাণিজ্য, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং পোষ্যদের ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার প্রশ্নে সংগঠনের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নতুন তারিখ, সময় ও স্থান যথাসময়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও সংগঠনটি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতঃ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কর্মসূচি স্থগিত করে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি একটি পরিণত, দায়িত্বশীল ও রাষ্ট্রসচেতন সংগঠনের পরিচয় দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করেছে যে—সংগঠনটি তাৎক্ষণিক উত্তেজনার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নীতি, জনস্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেয়।