ঢাকা ০৬ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ফুড সেফটি মুভমেন্টের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করলেন প্রধানমন্ত্রী ইরানে নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়াল : পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল ঢাকা থেকে বাতিল হলো ২১০ ফ্লাইট প্রাথমিকভাবে ৯ উপজেলায় চালু হচ্ছে কৃষি কার্ড ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক ঈদের ছুটি একদিন বেড়েছে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলার হুমকি ইরানের চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান

বিশেষ সীলের মাধ্যমে অবৈধ গরু বৈধতা দিচ্ছে রামু থানা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ জুন, ২০২৩,  12:07 PM

news image

বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি হয়ে কক্সবাজার রামু উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন প্রবেশ করে কয়েকশো অবৈধ গরু। এসব অবৈধ গরু বিক্রির বৈধতা দিয়ে ক্রয় রশিদে বিশেষ সীলের মাধ্যমে গরু প্রতি দুই হাজার টাকা করে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়ির বিরুদ্ধে। 
 
কয়েকজন গরু ব্যাবসায়ীর অভিযোগ, রামুর বিভিন্ন বাজার থেকে অবৈধ গরুগুলো ক্রয় করতে ইজরাদার, ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশকে টাকা দিয়ে ক্রয় রশিদে সীল নিতে হয়। রশিদে দুই হাজার টাকা দিয়ে পুলিশের বিশেষ সীল নেওয়া না হলে বিভিন্ন সময় গরু আটক করে নিলামে তোলেন রামু থানার ওসি। 
 
যদিও ক্রয় রশিদে বিশেষ সীলের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদ রানা ও রামু থানার ওসি মো. আনোয়ারুল হুসাইন।
 
জানা যায়, বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি হয়ে কক্সবাজার রামুর কয়েকটি বাজারে প্রতিদিন শত শত গরু জড়ো করা হয়। এসব অবৈধ গরু গুলোকে বৈধতা দিয়ে রশিদ, বিশেষ সীল ও টোকেনের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জনপ্রতিনিধি, ইজারাদার ও রামু থানা পুলিশ। বাজার থেকে গরু ক্রয় করে ইজারাদারের রশিদে পুলিশকে দুই হাজার টাকা দিয়ে বিশেষ সীল না নিলে আটক করা হয় ক্রয়কৃত গরু। এরপর দেওয়া হয় নিলাম। এভাবে টাকার জন্য রামু থানা পুলিশ গরু ব্যাবসায়ীদের জিম্মি করে রেখেছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন একাধিক গরু ব্যাবসায়ী। 
 
আব্দুর রহিম নামের এক গরু ব্যাবসায়ীর দাবী, তিনি  প্রতি গর্জনিয়া বাজার থেকে দুই থেকে তিনটি গরু ক্রয় করে বাইরে বিক্রি করেন। গর্জনিয়া বাজার থেকে ক্রয় রশিদের মাধ্যমে প্রতিবারেই পুলিশকে দুই হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় রশিদে বিশেষ সীল মেরে গরুগুলো বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় বা বাইরে বিক্রি করা হয়। তবে এইবারে তিনটি গরু নিয়ে যাওয়ার সময় টাকা বাচাতে পুলিশের সীল মারা হয়নি। তাই পুলিশ টাকা না পেয়ে তার গরুগুলো আটক করে রামু থানায় নিয়ে যায়। এবং নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
 
গর্জনিয়া বাজারের দেলোয়ার হোসেন নামের এক গরু ব্যাবসায়ী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গর্জনিয়া বাজার থেকে গরু কিনে বাইরে বিক্রি করেন। সর্বশেষ তিনটি গরু কিনে বাজারের ইজারাদারের কাছ থেকে ক্রয় রশিদ সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িকে ২ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় রশিদের উপর একটি বিশেষ সীল নিতে হয়। সেই সীল না নেওয়ায় তার তিনটি গরু আটকিয়ে রামু থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এবং পরবর্তীতে তাদের কষ্টের টাকায় ক্রয় করা গরু গুলোর ক্রয় রশিদ থাকলেও পুলিশ নিলামে তুলছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
 
জানতে চাইলে রামু গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদ রানা অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে মোবাইলে কথা বলতে রাজি হননি। এবং বক্তব্য নিতে হলে গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়িতে গিয়ে দেখা করতে হবে বলে জানান প্রতিবেদককে।
 
জানতে চাইলে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আনোয়ারুল হোসাইন জানান, অবৈধ গরু পাচারের সংবাদে  বিভিন্ন সময় অবৈধ গরু আটক করা হয়। সর্বশেষ ৭টি গরু আটক করা হয়েছে। এব এবং সেগুলো যথাযথ নিয়মে নিলামের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ফাড়ির বিশেষ সীলের মাধ্যমে টাকা না পাওয়ায় গরু আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, অবৈধ গরু ব্যাসায়ীদের গরু আটক করলে তারা অনেক কথা বলবে। অনেক অভিযোগ করবে। এগুলো সত্য নয়।  তবে অবৈধ গরু পাচারের বিষয়ে রামু থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির