ঢাকা ২৯ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
মাদক যেন ফেরিওয়ালার বাদাম, হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক যেন ফেরিওয়ালার বাদাম, হাত বাড়ালেই মিলছে উলিপুরের কেতকীর বিলে ফুটছে পদ্ম, হাতছানি দিচ্ছে পর্যটন ও মৎস্য খামারের সম্ভাবনা ১২ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, কিছুটা কমতে পারে ঢাকার গরম স্বস্তি নেই বাজারে, চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ-মুরগি-সবজি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান হোসেনি দালান থেকে শুরু হয়েছে তাজিয়া মিছিল ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প : ২৩৫ জনের মরদেহ উদ্ধার, আহত ১ হাজার ৫ শতাধিক জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে

মাদক যেন ফেরিওয়ালার বাদাম, হাত বাড়ালেই মিলছে

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ জুন, ২০২৬,  1:26 PM

news image

দৌলতপুরের ধর্মদহে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামে মাদকের বিস্তার নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক ও জনসমাগমস্থলে হাত বাড়ালেই গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্মদহ গ্রামে দিন-রাত মাদক কেনাবেচা চলছে। আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে মাদক কারবারিদের তৎপরতা। একসময় গোপনে মাদক বিক্রি হলেও বর্তমানে প্রকাশ্যেই এই ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, স্বপন মেকার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী তরুণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, তুলনামূলক সচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে ফেনসিডিলের ব্যবহার বেশি হলেও কম দামের কারণে ইয়াবা ও গাঁজার দিকে ঝুঁকছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মাধ্যমে বিভিন্ন নির্জন এলাকায় ভ্রাম্যমাণভাবে মাদক সরবরাহ করা হয়। এছাড়া মোটরসাইকেল গ্যারেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটেও প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে।
ধর্মদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন,
"মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই অল্পবয়সী। মাদকের ভয়াল ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আমরা শিক্ষক ও অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমাজসেবক বলেন,
"স্থানীয় ও বাইরের মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। এসব সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তের সংখ্যা আরও বাড়বে।"
ধর্মদহ গ্রামের সচেতন নাগরিকরা নতুন প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, স্বপন মেকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন,
"মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: মনিরুজ্জামান মনির