ঢাকা রেলওয়ে বিভাগে নিরাপত্তা সংকট
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 9:50 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 9:50 PM
ঢাকা রেলওয়ে বিভাগে নিরাপত্তা সংকট
বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ঢাকা বিভাগে নিরাপত্তা সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। গত ১০ মাসে ঢাকা বিভাগের বিদ্যমান জনবল থেকে ৭০–৮০ জন সদস্যকে চট্টগ্রাম বিভাগে বদলি করা হলেও প্রতিস্থাপক হিসেবে একজনকেও ঢাকায় পদায়ন করা হয়নি। ফলে অন্তত ৫০ জন সদস্যের ঘাটতি তৈরি হয়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা বিভাগের কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এক জরুরি চিঠিতে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে চীফ কমান্ড্যান্ট (পূর্ব), বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে অবহিত করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
“ঢাকার গুরুত্ব উপেক্ষা করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে”
চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের তুলনায় ঢাকায় চলাচলকারী ট্রেন ও অবস্থান করা রেকের সংখ্যা বহুগুণ বেশি। তদুপরি লোকোসেড, কন্ট্রোল অফিস, রেলভবনসহ কেপিআই (KPI) স্থাপনা, তিনটি পাইলট স্টেশন, জিআইবিআর ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঢাকায় অবস্থিত।
> “ঢাকা বিভাগের গুরুত্ব, ডিআইপি স্টেশনসমূহের নিরাপত্তা এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাশকতার সম্ভাবনা বিবেচনায় স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, ঢাকা বিভাগ অগ্রাধিকারযোগ্য।”
প্রতিস্থাপক ছাড়াই বদলি: নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ঢাকা বিমানবন্দর, অস্ত্রশাখা, ময়মনসিংহ ও দেওয়ানগঞ্জবাজারসহ একাধিক ইউনিট থেকে প্রতিস্থাপক ছাড়াই বিপুল সংখ্যক সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। এর ফলে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
> “ঢাকা বিভাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংকটে পড়েছে এবং চুরি প্রতিরোধে স্টাফ মোতায়েন করাও এখন প্রায় দুঃসাধ্য।”
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ইনচার্জগণ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিভাগের বিমানবন্দর, অস্ত্রশাখা ও গোয়েন্দা শাখার জনবল মঞ্জুরিও পূর্বে কমানো হয়েছিল, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
‘হয়রানিমূলক বদলি’ নিয়ে ক্ষোভ
জনবল ঘাটতির কারণে সদস্যদের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ বিরাজ করছে। বদলিকে তারা ‘হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়েছেন।
> “৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীকে ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায় ব্যতিত’ এভাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বদলি করায় সদস্যগণ এটিকে হয়রানিমূলক বদলি আখ্যায়িত করে তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।”
বদলির কারণে একদিকে কমান্ড্যান্ট বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও বারবার সুপারিশ করছেন এ ধরনের বদলি বন্ধ করার জন্য।
চট্টগ্রামের ঘাটতি পূরণের যৌক্তিক পথ
চিঠিতে প্রস্তাব করা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রকৃত ঘাটতি থাকলে সেটি চট্টগ্রাম অস্ত্রশাখা এবং চট্টগ্রাম চৌকি থেকেই পূরণ করা উচিত। কারণ অতীতেও এমন জনবল বিন্যাস বিদ্যমান ছিল।
দায় এড়ানো যাবে না সদর দপ্তরেরও
ঢাকা বিভাগের কমান্ড্যান্ট সতর্ক করে লিখেছেন—
> “বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঢাকা বিভাগের গুরুত্ব, স্টাফদের ক্ষোভ এবং নাশকতার সম্ভাবনা বিবেচনায় যদি নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটে, তবে এর দায়ভার শুধু ঢাকা বিভাগের কমান্ড্যান্ট নয়, সদর দপ্তরকেও সমানভাবে বহন করতে হবে।”
চিঠির সঙ্গে প্রতিস্থাপকবিহীন বদলির ১১টি আদেশের কপি সংযুক্ত করে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা দুর্বল হলে তার প্রভাব শুধু রেল যোগাযোগেই নয়, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়বে।
> “রাজধানীর মতো সংবেদনশীল এলাকায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জনবল সংকট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।