বাঙালির বাংলাদেশ
আপডেট : রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন ভারতীয় পাইলট, এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন ভারতীয় পাইলট, এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিমানের ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। 

টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে লিখেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন আহত পাইলট। পরে কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামিকে আটক করেন এবং বিমানটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এ। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আবিবের দিকে যাচ্ছিল।

ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার কয়েক মিনিট আগে কো-পাইলট হামামি তাকে জানান, তিনি নামাজ পড়তে চান। এর চার-পাঁচ মিনিট পরই মাচ্ছারের মাথার পেছনে হঠাৎ প্রচণ্ড আঘাত আসে।

প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো বিমানে বড় কোনো বিস্ফোরণ বা যান্ত্রিক বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকলে তিনি বুঝতে পারেন, হামামিই তাকে আক্রমণ করছেন। তখন তিনি ভাবেন, ‘আমি যদি এটা না করি, তাহলে আমি মারা যাব।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল জানিয়েছেন, হামামি ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ এর বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, আঘাতে মাচ্ছারের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে যায়। এর মধ্যেই তিনি অনুভব করেন, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামছে। প্রথমবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে হামামি তাকে বাধা দেন।

ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় বাইরে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান মাচ্ছার। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বাঁচতে হলে তাকে নিজেকেই কিছু করতে হবে।

শেষ শক্তি দিয়ে তিনি দরজার কাছে গিয়ে সেটি খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামামিকে সরিয়ে দেন।

যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, ককপিটে ঢুকে তিনি হামামিকে বিমানের নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেন। তিনি হামামিকে গলা ধরে সরিয়ে দেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে বেঁধে ফেলেন।

হামামিকে সরানোর পর হায়ুন দেখতে পান, বিমানটি মাটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি কন্ট্রোল ধরে বিমানটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। পরে বিমানে থাকা একজন অফ-ডিউটি পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

এদিকে হামামির অতীত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় হামামিকে আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এই তথ্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না বলে জানা গেছে।

ঘটনাটিকে ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন দেশটির কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা। হামামি এর আগে একই দুবাই-তেল আবিব রুটে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে দেশটিতে যাতায়াতকারী পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই নতুন করে খতিয়ে দেখছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন ভারতীয় পাইলট, এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
0:00 0:00
1.0x
বাঙালির বাংলাদেশ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন ভারতীয় পাইলট, এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিমানের ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। 

টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে লিখেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন আহত পাইলট। পরে কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামিকে আটক করেন এবং বিমানটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এ। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আবিবের দিকে যাচ্ছিল।

ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার কয়েক মিনিট আগে কো-পাইলট হামামি তাকে জানান, তিনি নামাজ পড়তে চান। এর চার-পাঁচ মিনিট পরই মাচ্ছারের মাথার পেছনে হঠাৎ প্রচণ্ড আঘাত আসে।

প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো বিমানে বড় কোনো বিস্ফোরণ বা যান্ত্রিক বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকলে তিনি বুঝতে পারেন, হামামিই তাকে আক্রমণ করছেন। তখন তিনি ভাবেন, ‘আমি যদি এটা না করি, তাহলে আমি মারা যাব।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল জানিয়েছেন, হামামি ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ এর বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, আঘাতে মাচ্ছারের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে যায়। এর মধ্যেই তিনি অনুভব করেন, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামছে। প্রথমবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে হামামি তাকে বাধা দেন।

ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় বাইরে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান মাচ্ছার। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বাঁচতে হলে তাকে নিজেকেই কিছু করতে হবে।

শেষ শক্তি দিয়ে তিনি দরজার কাছে গিয়ে সেটি খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামামিকে সরিয়ে দেন।

যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, ককপিটে ঢুকে তিনি হামামিকে বিমানের নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেন। তিনি হামামিকে গলা ধরে সরিয়ে দেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে বেঁধে ফেলেন।

হামামিকে সরানোর পর হায়ুন দেখতে পান, বিমানটি মাটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি কন্ট্রোল ধরে বিমানটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। পরে বিমানে থাকা একজন অফ-ডিউটি পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

এদিকে হামামির অতীত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় হামামিকে আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এই তথ্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না বলে জানা গেছে।

ঘটনাটিকে ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন দেশটির কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা। হামামি এর আগে একই দুবাই-তেল আবিব রুটে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে দেশটিতে যাতায়াতকারী পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই নতুন করে খতিয়ে দেখছে।


বাঙালির বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত