২২ অক্টোবর ও ৫ নভেম্বর খুলনা সফর করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সম্ভাব্য এ সফর ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম খুলনা সফর।সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান হয়ে আকরাম পয়েন্টে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এলএনজি আমদানি ও পুনর্গ্যাসীকরণের অবকাঠামো স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে জাহাজে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণ করা হয়। পরে তা গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ ধরনের টার্মিনাল স্থাপনের মাধ্যমে এলএনজি গ্রহণ ও গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে আকরাম পয়েন্টে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন, বিনিয়োগ, নির্মাণকাজ শুরুর সময় এবং গ্যাস সরবরাহের সময়সূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য পরিদর্শন প্রকল্পটির উপযোগিতা যাচাইয়ের অংশ।প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সামনে রেখে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। এ সময় খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানান, সূচি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে আকরাম পয়েন্টে যাবেন। তবে দাকোপে তার কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরটি সরকারি। স্থানীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও তার আগমন ঘিরে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এলাকার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।এদিকে, আগামী ৫ নভেম্বর বিকাল ৪টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ উপলক্ষে গত ১২ অক্টোবর খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে সরকারি দপ্তরগুলোর প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনে নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ার প্রবণতা কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
সরকারকে উদ্দেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা চাইনি তাদের পতন, চেয়েছিলাম তাদের সফলতা। তাদের সফলতা মানে দেশের সফলতা। আমরা এতদিন বলতাম, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব। আজকে থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ। ওদের কোনো যোগ্যতা নেই বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার।’রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা সবার আগে বাংলাদেশের স্লোগান দিলেও সবার আগে বাংলাদেশ নয়। সবার আগে তারা নিজে, নিজের পরিবার, তার সন্তান, তার ভাগনা, তার ভাতিজা, তার শ্বশুর, তার স্ত্রী—এগুলো সবার আগে। আমরা সিন্ডিকেটের কাছে প্রিয় বাংলাদেশকে তুলে দেব না। ওই দিন শেষ। যুবকরা জেগে উঠেছে, পূর্ণ মুক্তি না আসা পর্যন্ত ওরা ঘুমাবে না। আর আমরা যুবকদের সঙ্গে তাদের চেয়েও আরও শক্তিশালী যুবক হয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা ২৪-এ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জ্বালাও-পোড়াও লাগে না, খালি হাতে ঈমানি বল ও দেশপ্রেম বুকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়। এটা আমাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। এ পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব এবং নব্য ফ্যাসিবাদেরও পতন হবে ইনশাআল্লাহ।’বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরবেলা পর্যন্ত বিএনপি একটি মজলুম দল ছিল। এরপর রাতারাতি তারা অতীত ভুলে গেছে। জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করলেও গণভোটের ব্যাপারে বিএনপি কোনো ভিন্নমত জানায়নি। জামায়াত চেয়েছিল, গণভোট আগে হোক, যাতে এটি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু বিএনপি একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের দাবি জানায়।শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, একই দিনে একই ব্যক্তি দুটি শপথ নেবেন। কিন্তু বিএনপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। তার অভিযোগ, এর মধ্য দিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।তিনি বলেন, ‘জাতি ভোট দিয়েছে একটি সরকার গঠন করে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার জন্য, আরেকটি ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য। দুই ভোটের মূল্যায়ন যদি বিএনপি করত, আমাদের এক সেকেন্ডের জন্যও সংসদের বাইরে আপাতত আন্দোলন করার প্রয়োজন হতো না। এরাই তো আমাদের আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছেন।’এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আপনারা তো ইতিহাসে প্রমাণ রেখেছেন। আপনারা হাসিনার পথে হাঁটতে সবচেয়ে ভালোবাসেন। ক্ষমতার জন্য কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মনের ভেতরে হাসিনার প্রদর্শিত পথেই আপনারা হাঁটেন।’রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের আমির আজকেই বোধ হয় একটা কথা বলেছেন, যে বিএনপি ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তা আমি তাকে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের পথ কী? কোনটা পথ? একটা দৃষ্টান্ত দেখান।’রিজভী বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সবকিছু মাফ করে দেওয়া কিংবা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বিএনপির কোনো নেতা বলেননি। বিএনপির প্রধান নেতা তারেক রহমানও এমন কথা বলেননি । অথচ এখন বিএনপির বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টদের পথে হাঁটার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে জনগণ চেনে, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় না। কিন্তু আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আপনারা ইসলামের নামে দিয়েছেন, আল্লাহর নামে দিয়েছেন। অনেক কথা বলছেন মানুষের মনকে জয় করার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই উল্টো কাজ করেছেন।’রিজভী বলেন, ‘আপনারা অতীতের যত কাজ, সে কাজগুলো কিন্তু আপনারা করেছেন শেখ হাসিনার পথ ধরেই।’তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এরশাদ সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তার অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতও এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরে আওয়ামী লীগ সে অবস্থান থেকে সরে আসে এবং জামাতও সে অবস্থান থেকে সরে আসে। আপনারা (জামায়াত)তো প্রমাণ রেখেছেন ইতিহাসে। আপনারা হাসিনার পথে হাঁটতে সবচাইতে ভালোবাসেন। ক্ষমতার জন্য কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মনের ভেতরে হাসিনার প্রদর্শিত পথেই আপনারা হাঁটেন।’রিজভী বলেন, ১৯৯৪-৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আন্দোলনেও জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে একই পথে হেঁটেছে। ইতিহাসের এসব উদাহরণ উপেক্ষা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অসংখ্য নেতাকর্মীদের গুপ্তহত্যার আত্মদান, স্যাক্রিফাইস এবং ত্যাগের মধ্যে দিয়ে এই দল তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্য। গণতন্ত্র হচ্ছে তার আদর্শিক চেতনা।’জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে দলটির আদর্শিক অবস্থান কী, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতে জামায়াতের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, আফসার আহমেদকে বড় ভাই বলে ডাকলেও তাদের সম্পর্ক ছিল অনেকটা পিতা-পুত্রের মতো। তার সান্নিধ্য থেকে রাজনীতি বোঝার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক কিছু শিখেছেন তিনি।সভায় বিএনপির নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী সহসম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বাস্থ্য-বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মামুনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘যারা স্বাস্থ্য সংস্কারের দায়িত্বে তারা চিকিৎসা নেয় বিদেশে। যারা শিক্ষাখাতকে সংস্কার করতে চায় তাদের ছেলেমেয়েরা পড়ে বিদেশে।’রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ভোট চুরি করেছে, আর বিএনপি নির্বাচনের ফলাফল চুরি করেছে। নির্বাচের পর তারা অর্ধেক ফল মেনে নিয়েছে আর অর্ধেক মানেনি। যে অর্ধেকে বিরোধীরা জিতেছে তা তারা মানতে পারেনি।’হাসনাতের দাবি, নিজেদের পক্ষে যাওয়া ফলাফল মেনে নিলেও গণভোটের ফলাফল মানেনি বিএনপি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও নেয়নি। ফলে জুলাই সনদ এখন কার্যকারিতা হারিয়ে অলংকারে পরিণত হয়েছে। অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলেও গত সাত মাসে ১৭ বার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে দলটি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জয়পুরহাটে ল্যাপটপ বণ্টন ও সারের ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘ল্যাপটপগুলো ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার শুরু হয়েছে। ফয়সল আলিম ফেসবুকে লেখেন, ল্যাপটপগুলো ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন। বিগত ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে খাওয়া শেষ, এখন আর কিছুই নাই খাওয়ার মতো, কারণ খাওয়া স্থগিত হয়ে গেছে।সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে তিনি লেখেন, জয়পুরহাট-পাঁচবিবিতে সারের ডিলারশিপ এমনভাবে দিলেন, যাতে নির্যাতিত নেতাকর্মীরা কেউ সুযোগ পেল না। আত্মীয়স্বজন, স্ত্রী, ভাই, ছেলে, মেয়ে, শাশুড়ি কাউকে বাদ রাখলেন না। আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি, আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে।’তার ওই পোস্টের মন্তব্যে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রতিক্রিয়া জানান। কেউ কেউ তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। আবার কেউ কেউ অভিযোগের পরিবর্তে নেতাকর্মীদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। স্থানীয় পুরানাপৈল ইউনিয়নের বিএনপি কর্মী উজ্জ্বল হোসাইন কমেন্টে লেখেন, ‘এসব বলার চাইতে আপনে কিছু করে দেখান ভাই।’এদিকে ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়সল আলিম গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেন না। তাই এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি সোচ্চার থাকব এবং অনিয়মগুলো তুলে ধরবই। তিনি জানান, সারের ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার নির্যাতিত নেতাকর্মীদের কেন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ফয়সল আলিমের ফেসবুক স্ট্যাটাসের বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। ফয়সল আলিম যেসব অনিয়মের কথা বলেছেন, সেগুলো সত্য নয়।
অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে এনসিপির কার্যালয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই তিন দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে তিনটি দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এনসিপি যাবে না। এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান।’এতে উপস্থিত ছিলেন– এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া শূন্য আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রকাশি হয়েছে জোর প্রতিযোগিতা। আসনটিতে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে অন্তত ৭০ জন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন।মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সিংহভাগই সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেত্রী। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিভিন্ন স্তরের নেত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া হেভিওয়েট বিএনপি নেতাদের স্ত্রী ও কন্যারাও যুক্ত হয়েছেন মনোনয়নের এই দৌড়ে।শুক্রবার (দিনটি নির্দিষ্ট থাকলে বসানো যাবে) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ফরম বিতরণ করা হয়। সকাল থেকেই কার্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সারা দিন ধরে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় নেত্রীরা ফরম সংগ্রহ করেন। মনোনয়ন ফরমটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার টাকা।বিএনপি দপ্তরের দায়িত্বে থাকা তারিকুল ইসলাম তেনজিং যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম পূরণ করে জমা দেওয়া যাবে। এজন্য জামানত হিসাবে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের।ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় ছিল কর্মচাঞ্চল্য। ছিল নেতাকর্মীদের স্লোগান, বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট জটলা। কেউ ফরম সংগ্রহ করছেন, কেউ আবার সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়ন পাওয়ার হিসাবনিকাশ নিয়ে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী এক আসনের মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির নেত্রীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।এদিন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ। এছাড়া মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস এবং ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা ফরম সংগ্রহ করেন।উল্লেখ্য, ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তৎকালীন সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ১ অক্টোবর সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামী ১২ নভেম্বর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।