বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

রিজিক আটকে গেছে, টেনশন পিছু ছাড়ছে না? কী করবেন

জীবনে হঠাৎ চারপাশ থেকে অন্ধকার নেমে এসেছে? রিজিকের পথটা যেন থমকে গেছে, দুশ্চিন্তার ভারে ঘুম হারাম, কিংবা শত চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো কাজের সন্ধান পাচ্ছেন না? অনেক খেটেখাটুনি করেও সংসারের টানাটানি ঘুচছে না, কাজে মিলছে না কোনো বরকত? এমন জটিল মুহূর্তে কী করবেন?এমন একলা ও একাকী মুহূর্তে হতাশা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। মনে হয়, বুঝি সব পথ বন্ধ হয়ে গেল! কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের জন্য কখনোই সব পথ বন্ধ হয় না। অন্ধকার রাতের পরেই যেমন ভোরের আলোর ঝলকানি দেখা যায়, ঠিক তেমনি প্রতিটি কষ্টের পরপরই রয়েছে স্বস্তির বার্তা। জীবন যখন আপনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে, তখন ভেঙে না পড়ে ফিরে আসুন আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে। মনের গভীর থেকে করুন— ইস্তিগফার।সব জটিলতা কাটিয়ে জীবনকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করার জন্য এটি একটি মহৌষধ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন—তা হলো ‘ইস্তিগফার’ বা আল্লাহর কাছে মনেপ্রাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।ইস্তিগফার— এটি রিজিক ও রহমতের বন্ধ দুয়ার খোলার জাদুকরী চাবিকাঠি।ইস্তিগফার কেবল অতীতের গুনাহ ও ভুলত্রুটি মুছে ফেলার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবনে আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার এক জাদুকরী আমল। যখন মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে হাত বাড়ায়, তখন আসমানের রহমতের বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। কুরআন মজিদে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত নূহ (আ.)-এর মুখ দিয়ে উম্মতকে ইস্তিগফারের অপার মহিমা শিক্ষা দিয়েছেন—فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০-১২)এই আয়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ক্ষমা চাওয়ার এই সুবাসিত অভ্যাসের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ধন-সম্পদের বৃদ্ধি, সন্তানের মাধ্যমে সুখ লাভ এবং সার্বিক জীবনের অভাব দূর হওয়ার মূল রহস্য।সংকট মুক্তির আমল: যা বলছেন প্রিয়নবী (সা.)হতাশার সাগরে ডুবে থাকা মনকে সান্ত্বনা দিতে এবং কর্মজীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তার কঠিন সংকটগুলোকে সহজ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (অর্থাৎ ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে রাখবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি ও সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন, তার যাবতীয় চিন্তা-দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)আজ থেকেই শুরু হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যখনই মন খারাপ হবে, কাজের অভাব বা কোনো জটিলতায় হতাশ লাগবে— তখনই জিভে জপতে থাকুন—أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’অথবা পড়ুন সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, কিংবা মন থেকে নিজের ভাষায় আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন। হেঁটে-চলে, কাজের ফাঁকে, কিংবা নিরিবিলি রাতে দু'ফোটা চোখের জল ফেলে রবের কাছে নিজের মনের সব কষ্ট ও অভাবের কথা খুলে বলুন।জীবন আমাদের সবসময় আমাদের মনের মতো চলে না, মাঝেমধ্যে পথগুলো কেমন যেন আটকে যায়। কিন্তু সেই থমকে যাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং তা হতে পারে আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার এক সুন্দর উসিলা। তাই হতাশাকে বিদায় জানান, দুশ্চিন্তার পাহাড় সরিয়ে রেখে জিকিরে মুখরিত রাখুন আপনার দুটো ঠোঁট। প্রিয় রবের দরবারে হাত তুলে বলুন—‘হে আমার রব! আমি অনুতপ্ত, আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার রিজিক ও জীবনে বরকত দাও।’মনে রাখবেন, যে হাত আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা নিয়ে প্রসারিত হয়, দয়াময় আল্লাহ তাকে কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। কেননা তিনি বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। আপনার ইস্তিগফারই হোক আল্লাহর রহমত ও রিজিকে বরকত লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সব সংকট কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার  কার্যকরী হাতিয়ার।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

তৃতীয় টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে গেলেন তাওহিদ হৃদয়

২

পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানালেন সামান্তা শারমিন

৩

ইরানের কেশম দ্বীপে আবারও হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, স্বীকার করলেন ট্রাম্প

৪

ইরানের কেশম দ্বীপে আবারও হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, স্বীকার করলেন ট্রাম্প

৫

টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত সেনাসদস্যের দাফন সম্পন্ন

৬

জামালপুরে ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত

৭

দেশের সরকার ব্যবস্থার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

৮

৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা: প্রধানমন্ত্রী

৯

ইরানের ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১০

শরীরের যে অংশে ব্যথা হলে বুঝবেন আপনি কিডনি সমস্যায় ভুগছেন

সর্বশেষ সব খবর
১

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বার্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

২

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৩

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

৪

স্বস্তি! ১১ অক্টোবর থেকে নিয়ম মেনেই চলবে দিল্লির সমস্ত ট্রেন, বড় ঘোষণা রেলের

৫

পুলিশকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার চেষ্টায় মনিরুল

৬

হুথিদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে, হুমকি সৌদি জোটের

৭

ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় ‘বড় পরিবর্তন’

৮

আটক ৩ হাজার বিক্ষোভকারী মুক্ত হলেও হেফাজতে অভিজিৎ ও ধ্রুব রাঠীসহ চারজন

৯

‘শিক্ষাঝুঁকিতে’ দেড় লাখ রোহিঙ্গা শিশু, অন্ধকারেও আলো ছড়াচ্ছে অদম্যরা

১০

‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা: প্রধানমন্ত্রী

৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, যতবার দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ঘিরে আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে ইতিহাসভিত্তিক একটি মনোমুগদ্ধকর ডিসপ্লে উপস্থাপন করেছেন, প্রথমেই আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। ঐতিহাসিক এই দিনে সবাইকে নজরুলবর্ষের শুভেচ্ছা। দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের কাছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন।তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল। এ চক্রান্তের পথ ধরেই ২ নভেম্বর মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে কারাবন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহি জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী, গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যে অপশক্তি দেশের শৌর্য বীর্য সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে। অপশক্তি পরাভুত হয়েছে।তবে ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনোই থেমে থাকেনি। ষড়যন্ত্রের পথ ধরে তারা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালে পুনরায় ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তির পরাজয় ঘটেছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন, ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, আজকের এই দিনে আমি তাদের অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। ২০২৪ ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও প্রায় একইভাবে সিপাহি জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে- দেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। যতবার বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের পথরেখা বিচ্যুত হয়েছে, ততবার দেশ ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।৭ নভেম্বর হলো স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টাপ্রধানমন্ত্রী বলেন, দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যারা এই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে সবার একটাই গর্বিত পরিচয়- ‘আমরা বাংলাদেশি’ । এ পরিচয়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘আমরা বাংলাদেশি’ পরিচয় নির্ধারণের ভিত্তিভূমিও রচিত হয়েছিল। সুতরাং যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব এবং তাৎপর্যও ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে। ৭ নভেম্বরের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি জনতা।তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে লড়াই করেছেন। আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।তারেক রহমান বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; শুদ্ধ ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। আজকের এ আয়োজনের বিশেষত্ব হলো- আমাদের হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী; তরুণ-তরুণী যারা এই স্টেডিয়ামে ৭ নভেম্বর ঘিরে যেভাবে নির্মোহভাবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ডিসপ্লে করেছেন, আমি বিশ্বাস করি- ইতিহাস সচেতেন এই প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায়/ উজ্জীবিত এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে আর পথ হারাবে না বাংলাদেশ।তিনি বলেন, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। '৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, পঁচাত্তর সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি জনতার বিপ্লব, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় আমাদের তারুণ্য প্রমাণ করেছে- বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনোই আপস করেনি। সবার আগে বাংলাদেশ।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে দেশ এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এটিই হোক আমাদের এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক-ভৌগোলিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহি জনতার বিপ্লবের চেতনা মনেপ্রাণে ধারণ করতে হবে।এই নেতা আরও বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব; তবে সেই গৌরবের পতাকাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো- স্বাধীনতার মূলমন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা। অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো- তারুণ্যের সব সম্ভাবনাকে বিকশিত করার প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, যতবার বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, ‘দিল্লি নয় পিন্ডি নয়’, ‘নয় অন্য কোনো দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ’।

বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ, যেভাবে আবেদন করবেন

বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ, যেভাবে আবেদন করবেন

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক’ অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই বিশেষ প্রতিযোগিতা চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। পুরো নভেম্বরজুড়েই প্রতিদিন প্রতিযোগীদের জন্য থাকছে ওমরাহ প্যাকেজ জেতার সুযোগ।ফ্রি ওমরাহ প্যাকেজলটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীদের ওমরাহ পালনের সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে সৌদি সরকার। আকর্ষণীয় এই প্যাকেজে থাকছে—বিমান টিকিট: নিজ দেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া-আসার বিনা মূল্যের বিমান টিকিট।ভিসা প্রসেসিং: ওমরাহ ভিসার ফি ও এ-সংক্রান্ত সরকারি যাবতীয় প্রক্রিয়ার খরচ। আবাসন সুবিধা: মক্কা ও মদিনায় ১০ রাতের আবাসন এবং হোটেল খরচ।সহযাত্রী নেওয়ার সুযোগ: এবারের বিশেষ অফারের অন্যতম আকর্ষণ হলো, প্রতিদিনের বিজয়ী নিজের সঙ্গে পরিবারের সদস্য বা পছন্দের অন্য একজনকে বিনা ল্যে ওমরাহ পালনের জন্য নিয়ে যেতে পারবেন।জমজমের পানির উপহার: এ ছাড়া প্রতিদিন লটারির মাধ্যমে আরও ১০ জন বিজয়ী পাবেন জমজমের পানির ২০টি করে বিশেষ কার্ড। এর মধ্যে ১০টি নিজের জন্য এবং বাকি ১০টি অন্যদের উপহার দেওয়ার জন্য।নুসুক অ্যাপের কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়াবিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি মুসলিম ব্যবহারকারীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করে আবেদন করা যাবে।অ্যাপ ডাউনলোড: প্রথমে স্মার্টফোনে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ‘নুসুক’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে।অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন: অ্যাপে প্রবেশ করে নিজের নাম, ইমেইল, দেশের নাম ও বৈধ পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ইমেইলে পাঠানো ওটিপি কোডের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে হবে।চ্যালেঞ্জ সেকশনে প্রবেশ: অ্যাপের মেন্যু থেকে ‘গেম সেন্টার’ অথবা ‘নুসুক চ্যালেঞ্জ’ অপশনে যেতে হবে।দৈনিক কুইজের উত্তর: সেখানে পবিত্র কুরআন, নবীজির সিরাত, ওমরাহর নিয়মকানুন ও ইসলামি ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। একটি বিষয় নির্বাচন করে ডিজিটাল চাবি সংগ্রহ করতে হবে। এরপর বহুনির্বাচনি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। সঠিক উত্তর দিলেই প্রতিযোগীর নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই দিনের লটারির তালিকায় যুক্ত হবে।জেতার সম্ভাবনা বাড়ানো: নিজের ইনভাইট কোড ব্যবহার করে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের অ্যাপে আমন্ত্রণ জানালে অতিরিক্ত চাবি পাওয়া যাবে। এতে লটারিতে জেতার সুযোগ বাড়বে।বিশেষ সতর্কবার্তাপ্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অবশ্যই নুসুকের অফিশিয়াল অ্যাপ বা যাচাইকৃত মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। ভুয়া ওয়েবসাইট কিংবা অননুমোদিত লিংকে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।এ ছাড়া লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। তাই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেই পুরস্কার নিশ্চিত নয়।

স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের পর্নো ভিডিও তৈরি করে বিক্রি, অতঃপর...

স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের পর্নো ভিডিও তৈরি করে বিক্রি, অতঃপর...

নরসিংদীর ঘোড়াশালে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের দিয়ে পর্নো ভিডিও তৈরি করে আন্তর্জাতিক পর্নো সাইটে বিক্রির অভিযোগে গিয়াস উদ্দিন মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আটক গিয়াস উদ্দিন (৪০) গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার ঘোনাপাড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গিয়াস উদ্দিন নরসিংদীর মাধবদী থানার ভগীরথপুর এলাকার ইসলাম সিএনজি সংলগ্ন একটি বাসা ভাড়া নিয়ে নিজের স্ত্রী, মেয়ে, শ্যালী এবং ভাগ্নির নগ্ন ভিডিও তৈরি করতেন। পরবর্তীতে এসব অশ্লীল ভিডিও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি সাইটে বিক্রি করতেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পায় গোয়েন্দারা।প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে সম্প্রতি ওই পরিবারটি মাধবদীর ভগীরথপুর এলাকা ছেড়ে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার পাইকসা এলাকায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। পরে তারা পাইকসা এলাকার মঞ্জুর মোর্শেদ লিটন নামের এক ব্যক্তির নবনির্মিত ভবনে বাসা বদল করেন।গোপন সূত্রে এই তথ্য পাওয়ার পর এনএসআইয়ের একটি দল তাদের মালামাল বহনকারী গাড়িটির ওপর নজরদারি শুরু করেন। পরবর্তীতে পলাশ থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা গিয়াস উদ্দিনকে আটক করে।পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন বলেন, ওই বাসা থেকে পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত নানা আলামত পাওয়া গেছে। অন্যান্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তাদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ফরহাদ হালিম ডোনার, আমানুল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

ইরানের কেশম দ্বীপে আবারও হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, স্বীকার করলেন ট্রাম্প

ইরানের কেশম দ্বীপে আবারও হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, স্বীকার করলেন ট্রাম্প

ইরানের কেশম দ্বীপে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর, আল জাজিরার।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি নতুন স্থাপনা ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। তার ভাষ্য, স্থাপনাটি ধ্বংস করতে পাঁচ থেকে ১৫ মিনিট সময় লেগেছে।ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ছোটখাটো হামলা চালাই। তারা বিমান প্রতিরক্ষার জন্য একটি ছোট ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। আমরা সেটি প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে, হয়তো পাঁচ মিনিটেই ধ্বংস করে দিয়েছি।’এর কিছুক্ষণ আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেশম দ্বীপের সুজা এলাকায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর প্রকাশ করে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত এই দ্বীপটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি।ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি দেশটির সেনাবাহিনীর বরাতে আরও জানায়, কেশম দ্বীপের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী।এদিকে, কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবরের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, পরিস্থিতি ‘তুলনামূলক শান্ত’ রয়েছে। আলজাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে সেন্টকমের এক কর্মকর্তা জানান, তারা বিস্ফোরণের খবর সম্পর্কে অবগত আছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় সেন্টকম। পোস্টে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরঞ্জাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ— বিশেষ করে বিজ্ঞানী ও গবেষক এবং এসবের স্থানান্তর সম্পর্কে তথ্য দিলে এই পুরস্কার দেওয়া হতে পারে। তথ্যদাতাকে প্রয়োজনে অন্যত্র স্থানান্তরের সুযোগও দেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।এর আগে সোমবার ইরানের সংবাদমাধ্যম কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছিল। একই সময়ে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানায়, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে।তেহরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহতশুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প একাধিকবার জানান, তেহরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার প্রশাসনের আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা একটি চুক্তি করতে চায়।’ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এমন খবর প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার খবর প্রচার করে কেবল তারাই লাভবান হবে, যারা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে এবং অঞ্চলকে অস্থিতিশীল রাখতে চায়।শুক্রবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উন্মুক্ত আলোচনায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর মতে, এই সংকট অমীমাংসিত অবস্থায় ফেলে রাখা যায় না।তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উত্তেজনা কমানোর উপায় খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন তারা। এ প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ঠেকাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে। তেহরানের কিছু বিচক্ষণ ব্যক্তির ভূমিকার কারণেও পরিস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছে।নির্বাচনের পর ইরান নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানে পরিবর্তনমঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর শুক্রবারের হামলাকে ইরানে প্রথম নতুন সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলের জন্য ইরান যুদ্ধকেই দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প।মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর থেকে ইরানকে নিয়ে কখনো কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, আবার কখনো যুদ্ধের সমাধান কাছাকাছি বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইরানের বাকি অংশ ‘ধ্বংস’ করতে হতে পারে। তিনি এমন কিছু করলে তা শিগগিরই সবাই জানতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন।এদিকে, বুধবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেন্টাগনের কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্পের নির্দেশ পেলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারও শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজে হাজার হাজার মার্কিন বিমান ও নৌসেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।অন্যদিকে, ইরানে পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা আবারও শুরু হতে পারে— ট্রাম্পের এমন ইঙ্গিতের মধ্যে তেহরানও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। ফলে একদিকে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা— দুইয়ের মধ্যেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরিস্থিতি।

১০ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত সেনাসদস্যের দাফন সম্পন্ন

টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত সেনাসদস্যের দাফন সম্পন্ন

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের ফরিদপুরের নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে নগরকান্দার লস্করদিয়া গ্রামে মরদেহ পৌঁছায়। এসময় শোকে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার।কক্সবাজারের রামু ক্যান্টনমেন্টে প্রথম জানাজার পর, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুরে নেয়া হয় সৈনিক তিতাস শেখের মরদেহ। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।প্রিয়জনকে একনজর দেখতে ছুটে আসেন স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশিরা। সবার চোখেমুখেই বিষাদের ছায়া। এমন মৃত্যুতে শোক ছড়িয়েছে নগরকান্দার লস্করদিয়া গ্রামজুড়ে।বিকেলে লস্করদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিতাস শেখের দ্বিতীয় দফা জানাজা হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া হয় গার্ড অব অনার। পরে, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তিতাসকে।অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আফজাল শেখের দ্বিতীয় সন্তান তিতাস। ২০১৭ সালে চাকরিতে যোগদান করেন তিনি। তার ছোট ভাই আকরাম শেখও সেনা সদস্য। বৃহস্পতিবার বিকেলে, টেকনাফের নীলা ইউনিয়নে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এসময়, মানবপাচার চক্রের সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। পাল্টা জবাব দেয় যৌথবাহিনীও। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন তিতাস শেখ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।ন

১০ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানালেন সামান্তা শারমিন

পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানালেন সামান্তা শারমিন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ বিসর্জন দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনসহ বিভিন্ন কারণেই দল থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে যুগান্তরকে এসব কারণের কথা বলেন সাবেক এই এনসিপি নেত্রী।সামান্তা শারমিন জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়ে এনসিপি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বতন্ত্র অবস্থান হারাচ্ছে এবং দলটি জামায়াতে হারিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি দলে থাকা সম্ভব নয় বলেই দীর্ঘ চিন্তাভাবনা করে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছি। তার পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন দলটি থেকে আগে পদত্যাগ করা শীর্ষ নেতারাও। পদত্যাগের কারণ হিসাবে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির ঐক্যকে দায়ী করেন সামান্তা।এই নেত্রীর মতে, এ ঐক্যের কারণে এনসিপি জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষা ও নিজস্ব আদর্শিক ভিত্তি বিকিয়ে দিয়েছে।তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে নারীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা থাকলেও এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি এবং দলে চরম বৈষম্য তৈরি করা হয়েছিল।সামান্তা বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করলে আরও বেশি সিট পেত। জামায়াত এনসিপিকে ব্যবহার করেছে। এনসিপি ঐক্য না করলে জামায়াত এত সিট পেত না। এনসিপির কারণেই জামায়াত এত সিট পেয়েছে নতুবা ১০-১২টা সিট পেত জামায়াত।তিনি আরও বলেন, প্রচলিত রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে একটি নতুন প্রগতিশীল ধারা তৈরি করতে চাই। মানুষ তরুণদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এমন একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রত্যাশা নিয়ে, যারা পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর পুনরাবৃত্তি করবে না; বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাজনীতির পথ তৈরি করবে। এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম করতে চাই, যারা এমনটাই অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে চাই। আমি ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছি, সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রচলিত পুরোনো রাজনৈতিক ধারার দেওয়াল ভেঙে সব প্রগতিশীল, মুক্তিকামী ও দেশপ্রেমিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে-এমন আকাক্সক্ষা নিয়েই এগোচ্ছি। এর আগে এনসিপিতে যেসব শীর্ষ নেতা ছিলেন, যারা এখন সরে গেছেন, তাদের ভালোবাসাও পাচ্ছি। শুভেচ্ছাও জানাচ্ছেন। সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই।

দেশের সরকার ব্যবস্থার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

দেশের সরকার ব্যবস্থার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

দেশের সরকার ব্যবস্থার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।তিনি বলেন, দেশে কি আদৌ কোনো সরকার ব্যবস্থা আছে? রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) নারী শিক্ষার্থীদের ওপর গভীর রাতে পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ করেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটা দেখার এই দেশে কেউ কি নেই?তিনি আরও বলেন, হলের সিট পুনর্বহাল, আবাসন সংকট নিরসন ও প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বন্ধের মতো যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা না করে পুলিশ দিয়ে বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ছাত্রী হোস্টেলে পুরুষ পুলিশ প্রবেশ করে লাঠিচার্জ করার ঘটনা আরও উদ্বেগজনক। সরকার বলে কি আসলেই কোন ব্যবস্থা দেশে আছে?অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি পূরণ করার আহ্বানও জানান তিনি।

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে নিজেই এ কথা জানান তিনি।ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনও ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।’গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। সে ক্ষেত্রে এই নেত্রীর পদাবনতি হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়। এ নিয়ে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন সামান্তা।তিনি লেখেন, গত ১১ মাস ধরে আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি, তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক- বিতর্ক বা আলাপ- আলোচনা করেছি। যেহেতু সংগঠনে নানা চড়াই-উৎরাই থাকে, সেখানে দল যদি ভুল পথে যায় সেই পথ থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করা আমার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল। সেই কর্তব্য পালন করতে এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ দলের গৃহীত নীতিগুলোকে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ব্যতীত দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ভিন্ন কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না। আজ প্রায় এক বছরের এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করলাম, কারণ এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব বলে মনে করি না।সামান্তা লেখেন, পদত্যাগ করার জন্য আমি হয়তো আরও উপযোগী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম, যখন দলের কোনও একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডেরে প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার পদত্যাগকে মূল্যায়ন করা সহজ হতো, কিন্তু আমি মনে করি এই অপেক্ষা অর্থহীন। এনসিপি কখনও কখনও নানান ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতেই পারে (এমনকি জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত) কিন্তু তবুও পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না।তিনি আরও লেখেন, দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না; বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এখন সময় এসেছে যখন দলের সঙ্গে আমার এতদিন যেসব মতপার্থক্য হয়েছে, আলাপ আলোচনা হয়েছে সেসব বিষয় দলের সবার এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের জানানো দরকার।

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ

বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেই সাথে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণেও ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করলেন তিনি।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে দিনাজপুরে দলের সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ে আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় অংশ নেন তিনি। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অভিযোগ করে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি সারাদেশে দমন-পীড়ন চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ

ডিসেম্বরে সত্যিই কি ফিরতে চান শেখ হাসিনা?

ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরবেন—এমন ঘোষণা কয়েক দফায় দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেত্রী নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন।তবে তার এই ঘোষণাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মাথায় নিয়ে তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনার ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বাধা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি প্রকাশ্যে সাংগঠনিক শক্তি দেখাতে পারছে না। বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনীতির মাঠে দলটির অবস্থান দুর্বল।গণমাধ্যমটি বলছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থানে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনি জটিলতা।মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে শত শত মামলা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এটা নিশ্চিত।শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় একাধিকবার আবেদন করেছে বাংলাদেশ। তবে ভারত এখনো সাড়া দেয়নি। চুক্তিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগসহ কয়েকটি কারণে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। সাবেক কূটনীতিকদের কারও কারও ধারণা, ভারত হাসিনাকে ফেরত দিতে আগ্রহী নয়।অন্য পথ হতে পারে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাশ নেওয়া। কিন্তু এ ধরনের আবেদন করা হলে সরকার তা অনুমোদন করবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে পর্যালোচনার কথা বলছেন।তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবার ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দলের নেতাদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন। তার ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ মনে করেন, ফেরার প্রক্রিয়া ও বিকল্প পরিকল্পনাও তিনি ঠিক করে রেখেছেন।আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাতও জানিয়েছেন, ঝুঁকি থাকলেও ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগ গোপন তৎপরতায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। তারা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত হতে পারে। সেজন্য তারা সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলছেন।সব মিলিয়ে তার ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়া, বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ভারতের অবস্থানের ওপর। ডিসেম্বর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাই শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

ডিসেম্বরে সত্যিই কি ফিরতে চান শেখ হাসিনা?

নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্য প্রত্যাহারে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান এনসিপির আহ্বায়ক বরাবর এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম তার দেওয়া ‘চাঁদাবাজি ও লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন, দেশ পরিচালনায় তার কোনো পরিকল্পনা নাই’—এই বক্তব্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নোটিশে নাহিদ ইসলামকে বলা হয়, গত ৩০ অক্টোবর চ্যানেল ওয়ান ও চ্যানেল আই-এ সন্ধ্যার পর প্রকাশিত আপনার বক্তব্য ‌‘চাঁদাবাজি, লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন। দেশ পরিচালনায় তার কোনো পরিকল্পনা নাই’—এ বক্তব্য আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ায় আমি বিব্রত, ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়ে জানাচ্ছি যে, এ বক্তব্য অমার্জনীয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঈর্ষান্বিত করে অবাস্তব, কাল্পনিক মন্তব্য দিয়ে নিজেকে ছোট ও অপরিপক্ব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞাহীন ব্যক্তি বলে আখ্যায়িত হয়েছেন।নোটিশে বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের মতো পদধারী ব্যক্তির কাছ থেকে এমন অগ্রহণযোগ্য, কাল্পনিক, অজ্ঞ, জ্ঞানহীন, রাজনৈতিক অপ্রজ্ঞার বক্তব্য জাতি কখনো আশা করেনি। এমন বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন।নোটিশ পাওয়ার দশ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নোটিশে বলা হয়েছে।

নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

আগাম শীতের সবজিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি, মাছ-মাংসে কমছে না খরচ

আগাম শীতের সবজিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি, মাছ-মাংসে কমছে না খরচ

শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে কিছু সবজির দাম কমেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে সবজির বাজারে স্বস্তি পুরোপুরি নেই। টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের মতো কয়েকটি পণ্যের দাম এখনো বেশ চড়া। অন্যদিকে মাছ-মাংসের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ পণ্য। ফলে সবজি কিনতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ-মাংসের পেছনে ক্রেতাদের আগের মতোই বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও কিছু সবজি এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারভেদে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বেগুনের দাম জাত ও আকারভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুনের কেজি ১২০ টাকা।অন্যদিকে টমেটো ও কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা করে। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। শসার ক্ষেত্রেও রয়েছে দামের পার্থক্য। প্রতি কেজি দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে।আরেক বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, শীতের সবজি আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় দাম কমেছে। এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি পুরোপুরি বাজারে আসেনি। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখন আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি হিসেবে এসব সবজির দাম ৬০ টাকা।সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইলিশের দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। কোনো কোনো বাজারে বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।মাংসের বাজারেও দামের তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকা। এ ছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সংস্থাটির ৫ নভেম্বরের খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে। অন্যদিকে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম অয়েল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।