২২ অক্টোবর ও ৫ নভেম্বর খুলনা সফর করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সম্ভাব্য এ সফর ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম খুলনা সফর।সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান হয়ে আকরাম পয়েন্টে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এলএনজি আমদানি ও পুনর্গ্যাসীকরণের অবকাঠামো স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে জাহাজে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণ করা হয়। পরে তা গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ ধরনের টার্মিনাল স্থাপনের মাধ্যমে এলএনজি গ্রহণ ও গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে আকরাম পয়েন্টে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন, বিনিয়োগ, নির্মাণকাজ শুরুর সময় এবং গ্যাস সরবরাহের সময়সূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য পরিদর্শন প্রকল্পটির উপযোগিতা যাচাইয়ের অংশ।প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সামনে রেখে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। এ সময় খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানান, সূচি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে আকরাম পয়েন্টে যাবেন। তবে দাকোপে তার কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরটি সরকারি। স্থানীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও তার আগমন ঘিরে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এলাকার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।এদিকে, আগামী ৫ নভেম্বর বিকাল ৪টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ উপলক্ষে গত ১২ অক্টোবর খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে সরকারি দপ্তরগুলোর প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনে নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ার প্রবণতা কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিতমানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি সবসময় অন্তরে ধারণ করতে হবেমাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, “আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ায় কাউকে ভয় করা যাবে না। জীবনের প্রতিটি কাজ আখিরাতে জবাবদিহির অনুভূতি নিয়ে পরিচালনা করতে হবে। দুনিয়াতে বিশ্রাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বিশ্রাম হবে পরকালে।”তিনি বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। মাদকের কারণে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। আমরা মাদকমুক্ত সমাজ চাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকার এখনো মাদক নির্মূলে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। মাদকের বিস্তার রোধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে।২০ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আয়োজিত দিনব্যাপী পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলা উদ্দীন সিকদারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য জনাব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ আমীরুজ্জামান এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা জামায়াতের আমীর এস এন আবদুচ ছালাম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এমপি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে—এই অনুভূতি সব সময় অন্তরে ধারণ করতে হবে।তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো অন্যায়, অনিয়ম কিংবা অসত্যের কাছে মাথা নত করা যাবে না। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে হবে। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীলতার অর্থ শুধু কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকা নয়; বরং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি এবং সমাজের অসংগতি দূর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন, আচার-আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে মানুষের সামনে উত্তম আদর্শ উপস্থাপন করতে হবে।মাদক সমস্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে জামায়াতের আমীর বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকেও বিপর্যস্ত করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্মিলিতভাবে মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি একটি নৈতিকতাভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীল ও কর্মীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং সাংগঠনিক যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়ে এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়।তিনি দায়িত্বশীলদের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।শিক্ষা শিবিরে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, বায়তুলমাল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. আবদুল হামিদ চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নুরুন্নবী, জনাব রফিকুল ইসলাম, মাস্টার নুরুছ ছালাম, ইউসুফ বিন আবু বক্কর, ইঞ্জিনিয়ার বোরহান উদ্দিন, জসিম উদ্দিন আজাদ, মাওলানা মুহিউদ্দীন, মাওলানা বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। পরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।’মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।চট্টগ্রামে জামায়াতের প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলনএর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নগরের খুলশী থানার জিইসি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলন-২০২৬ শুরু হয়। সম্মেলন চলে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনসহ আনুমানিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সাথী-সদস্যদের আমৃত্যু সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।গত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান জামায়াত আমির। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।জান্নাতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ নাকচ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেন।সম্মেলন শেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে নগরের চকবাজার এলাকার হোটেল পেনিনসুলায় যান জামায়াত আমির। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে চাকসু নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে তার চট্টগ্রাম ছাড়ার কথা রয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদক সমাজকে শেষ করে ফেলতেছে। ইশরাক হোসেনের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো, এতটুকু। তার কাজকে নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশন হলে দলের মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলনে অংশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।জামায়াত আমির বলেন, জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করা ঠিক নয়। ইশরাকের উদ্দেশ্য ভালো হলেও, অন্যরা এর অপব্যবহার করতে পারে। তবে তার কাজের সমালোচনা করার কিছু নেই।মাদক নিয়ে জামায়াত আমিরের বার্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মাদক তো আমরা নির্মূল চাই। আমাদের সংসদে আইন পাস হয়েছে ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ’। আমরা তো নিয়ন্ত্রণ চাই না, আমরা নির্মূল চাই।জামায়াত আমির বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ মানুষ। অথচ সেটা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ না নিয়ে সরকার বিরোধী দলকে ঘায়েল করতে ব্যস্ত।
পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিন শীর্ষ নেতাকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুর রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ইকবাল রোডে প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতাররা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন এবং ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু।মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের বরাতে ওসি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া থেকে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন এ তিন নেতা। এ সময় তারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মোবাইলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি ঢাকায় অবস্থান করে নিজ নিজ এলাকায় দলীয় কার্যক্রম জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।ওসি আসাদুর রহমান আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আত্মগোপনে ছিলেন। অন্যদিকে, মকলেছুর রহমান মিন্টু ও শহিদুল ইসলাম রতন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই পলাতক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে।
অস্ত্র নিয়ে মাদক প্রতিরোধ করতে গিয়ে বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। পদত্যাগের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ফেসবুকে ইশরাক লিখেছেন, ‘জনাব নাহিদ ইসলামকে একটু হলেও নতুন বন্দোবস্তের ধারক ভাবতাম। আমার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মাদকের মহামারি ও এর প্রতিকার সম্পর্কে শূন্য শতাংশ কথা বলে ১০০ শতাংশ আমার ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিলেন তিনি। তাহলে নাকি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে ইত্যাদি। আগে মাদকের ইস্যুটা অ্যাড্রেস করলে ভালো হতো না? এরপর আমারে ফাঁসিতে ঝুলাইতি। দুঃখিত জেন-জি, কোনো নতুন বন্দোবস্ত এদের মাধ্যমে পাচ্ছেন না।’নাম না জানিয়ে একজনের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, ‘নাম বললাম না। তবে আরেকটি ছেলে যার থেকে মানসিক সমস্যা ছাড়া কিছুই আশা করিনি। কোথা থেকে নম্বর নিয়ে ফোন করে বলল ভাই এরপর গেলে আমাকে নিয়েন। এই মাদক আমাদের ধ্বংস করে যাচ্ছে। আসলে এই পার্টির ভবিষ্যৎ শূন্য। মাদক নির্মূল করতে গিয়ে ফৌজদারি মামলা খেয়ে আসতে হবে, তাও বৈধ উপায়ে, আইন প্রণেতা হয়ে, পুলিশ সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর।’নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য তিনি আরও লেখেন, ‘নাহিদকে বলবো কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ বের করে একটা মামলা করে দেন আমার নামে। আমি নিজে গিয়ে সারেন্ডার করে জেলে চলে যাব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বলে কথা। এভাবে ঘোড়ার ডিম রাজনীতি এরা করে যাবে। কিছুই পরিবর্তন করবে পারবে না।’মাদক নির্মূলের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার। বিক্রেতারা অপেক্ষা কর।’এর আগে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন কেন পদত্যাগ করলেন, তার ব্যাখ্যা সরকারকে দিতে হবে।নাহিদের ভাষ্য, ‘ইশরাক হোসেনের অপরাধ কী, তাও পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কারও অপরাধ থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি; সেখানে পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়।’
এবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণা করার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে জনাব ইশরাক হোসেনদের।সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেয়া স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি।হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন,‘একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও কেন জনাব ইশরাক হোসেনকে নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো, সরকারের কাছে এই প্রশ্নের জবাব চাওয়া জরুরি।’তিনি লেখেন, ‘এর পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যেসব প্রতিষ্ঠানের, তারা যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করত, তাহলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন সরাসরি এভাবে মাঠে নামতে হবে? এই পরিস্থিতির দায় কি শুধু ইশরাক হোসেনের, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতারও দায় রয়েছে? যদি মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও বর্তায়।’তিনি আরও লেখেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়াই যদি সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে? রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর থাকলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হবে? একই ধরনের প্রশ্ন দেখা যায় যখন প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে টয়লেট পরিদর্শন করতে হয়। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি এসব বিষয় পরিদর্শনে যেতে হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এটি কেবল একটি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়; বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, তারও প্রশ্ন।’এনসিপির এই নেতা লেখেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি প্রধানমন্ত্রীকে নিজে তদারকি করতে হয়, প্রতিমন্ত্রীকে নিজে রাস্তায় নেমে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি এভাবেই পরিচালিত হতে থাকে এবং একসময় জনগণই যদি পরিস্থিতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে, তখন সরকার কী করবে? তখন কাকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবে? ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সংকট সামাল দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান হয় না।’তিনি লেখেন,‘রাষ্ট্রকে কার্যকর করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে, ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায়, একজনকে সরিয়ে দিয়ে সমস্যার মূল জায়গাটি আড়াল করা ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হবে না ।’পরিশেষে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘দিনশেষে ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে জনাব ইশরাক হোসেনদের।’