বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

রিজিক আটকে গেছে, টেনশন পিছু ছাড়ছে না? কী করবেন

জীবনে হঠাৎ চারপাশ থেকে অন্ধকার নেমে এসেছে? রিজিকের পথটা যেন থমকে গেছে, দুশ্চিন্তার ভারে ঘুম হারাম, কিংবা শত চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো কাজের সন্ধান পাচ্ছেন না? অনেক খেটেখাটুনি করেও সংসারের টানাটানি ঘুচছে না, কাজে মিলছে না কোনো বরকত? এমন জটিল মুহূর্তে কী করবেন?এমন একলা ও একাকী মুহূর্তে হতাশা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। মনে হয়, বুঝি সব পথ বন্ধ হয়ে গেল! কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের জন্য কখনোই সব পথ বন্ধ হয় না। অন্ধকার রাতের পরেই যেমন ভোরের আলোর ঝলকানি দেখা যায়, ঠিক তেমনি প্রতিটি কষ্টের পরপরই রয়েছে স্বস্তির বার্তা। জীবন যখন আপনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে, তখন ভেঙে না পড়ে ফিরে আসুন আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে। মনের গভীর থেকে করুন— ইস্তিগফার।সব জটিলতা কাটিয়ে জীবনকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করার জন্য এটি একটি মহৌষধ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন—তা হলো ‘ইস্তিগফার’ বা আল্লাহর কাছে মনেপ্রাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।ইস্তিগফার— এটি রিজিক ও রহমতের বন্ধ দুয়ার খোলার জাদুকরী চাবিকাঠি।ইস্তিগফার কেবল অতীতের গুনাহ ও ভুলত্রুটি মুছে ফেলার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবনে আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার এক জাদুকরী আমল। যখন মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে হাত বাড়ায়, তখন আসমানের রহমতের বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। কুরআন মজিদে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত নূহ (আ.)-এর মুখ দিয়ে উম্মতকে ইস্তিগফারের অপার মহিমা শিক্ষা দিয়েছেন—فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০-১২)এই আয়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ক্ষমা চাওয়ার এই সুবাসিত অভ্যাসের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ধন-সম্পদের বৃদ্ধি, সন্তানের মাধ্যমে সুখ লাভ এবং সার্বিক জীবনের অভাব দূর হওয়ার মূল রহস্য।সংকট মুক্তির আমল: যা বলছেন প্রিয়নবী (সা.)হতাশার সাগরে ডুবে থাকা মনকে সান্ত্বনা দিতে এবং কর্মজীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তার কঠিন সংকটগুলোকে সহজ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (অর্থাৎ ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে রাখবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি ও সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন, তার যাবতীয় চিন্তা-দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)আজ থেকেই শুরু হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যখনই মন খারাপ হবে, কাজের অভাব বা কোনো জটিলতায় হতাশ লাগবে— তখনই জিভে জপতে থাকুন—أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’অথবা পড়ুন সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, কিংবা মন থেকে নিজের ভাষায় আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন। হেঁটে-চলে, কাজের ফাঁকে, কিংবা নিরিবিলি রাতে দু'ফোটা চোখের জল ফেলে রবের কাছে নিজের মনের সব কষ্ট ও অভাবের কথা খুলে বলুন।জীবন আমাদের সবসময় আমাদের মনের মতো চলে না, মাঝেমধ্যে পথগুলো কেমন যেন আটকে যায়। কিন্তু সেই থমকে যাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং তা হতে পারে আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার এক সুন্দর উসিলা। তাই হতাশাকে বিদায় জানান, দুশ্চিন্তার পাহাড় সরিয়ে রেখে জিকিরে মুখরিত রাখুন আপনার দুটো ঠোঁট। প্রিয় রবের দরবারে হাত তুলে বলুন—‘হে আমার রব! আমি অনুতপ্ত, আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার রিজিক ও জীবনে বরকত দাও।’মনে রাখবেন, যে হাত আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা নিয়ে প্রসারিত হয়, দয়াময় আল্লাহ তাকে কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। কেননা তিনি বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। আপনার ইস্তিগফারই হোক আল্লাহর রহমত ও রিজিকে বরকত লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সব সংকট কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার  কার্যকরী হাতিয়ার।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা

২

তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশা গ্রেফতার

৩

২৮ দিনের প্রচারযুদ্ধ, কণ্ঠে ক্লান্তি আর বিদায়ের সুর, মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ট্রাম্প

৪

গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ, যান চলাচল বন্ধ

৫

ডার্বিতে এসি মিলানের কাছে ৩-১ গোলে হেরে সিরি আ’তে শীর্ষস্থান হারালো ইন্টার

৬

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ১০ মিনিটেই হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

৭

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, মিরপুরে ৫ মেট্রোস্টেশন বন্ধ

৮

নিবন্ধন-ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া সড়কে কোন ই-রিক্সা চলবে না: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

৯

টাকার লোভে আ.লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু লোক: মির্জা আব্বাস

১০

পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কত হবে, সিদ্ধান্ত আসছে কবে?

সর্বশেষ সব খবর
১

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

২

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

৩

পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

৪

আজকের স্বর্ণের দাম: ৮ অক্টোবর ২০২৬

৫

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ

৬

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বার্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

৭

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৮

শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৯

বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

১০

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা

পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা

পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। ছয় সদস্যের বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন।শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। আজই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।শনিবার (৩১ অক্টোবর) মালিক, শ্রমিক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন। মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, আমরা শ্রমিক সংগঠনগুলোর, বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ চার ঘণ্টা আলোচনা করেছি। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষণা দিয়েছি, রোববার আমরা মজুরি বোর্ড গঠন করবো।এদিকে, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজও (রোববার) রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

নিবন্ধন-ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া সড়কে কোন ই-রিক্সা চলবে না: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

নিবন্ধন-ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া সড়কে কোন ই-রিক্সা চলবে না: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

নিবন্ধন-ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া সড়কে কোন ই-রিক্সা চলবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে ই-রিক্সা নীতিমালা নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জানান, একজন চালক একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে পাঁচটি রিক্সার মালিক হতে পারবে। এক সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত রিক্সা অন্য সিটিতে চালানো যাবে না বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, একটি ই-রিক্সায় চার জনের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।এসময়, ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত যানটি ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া, ই-রিক্সার নতুন বিধিমালা না মানলে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

টাকার লোভে আ.লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু লোক: মির্জা আব্বাস

টাকার লোভে আ.লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু লোক: মির্জা আব্বাস

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপির কিছু লোক টাকার বিনিময় আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর শাহজানপুরে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার পাঁচ থানা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা শুনছি, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ভারত থেকে এসে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর আমাদের দলের ভেতরকার কিছু লোভী মানুষ টাকার লোভে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। সাফ কথা—বিএনপির যে শত্রু, সে আমারও শত্রু। দলের ভেতরের কেউ যদি এদের সহযোগিতা করেন, আমাদের জানাবেন, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতকারীদের হুঁশিয়ার করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো রাজনৈতিক শক্তি না পেয়ে একটি শ্রেণি আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-মিটিং করার চেষ্টা করছে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির এমন অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম করার অধিকার সবার রয়েছে। তারা রাজনীতি করুক, তাতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু কেউ অপকর্ম করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না; শক্ত হাতে তা প্রতিহত করবে।দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনেকেই অনেক কিছু ভাবছেন। কিন্তু বিএনপি এখনো মাঠে নামে নাই। আজকে ছোট্ট পরিসরে এবং বৃষ্টির মধ্যে এই সভায় মানুষের যে বাঁধভাঙা সাড়া ও আবেগ দেখা গেছে, তা থেকে বুঝে রাখুন—ঢাকা শহরে বিএনপি মাঠে নামলে কী হবে।’তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষের মিত্ররা কখনো বিএনপির বন্ধু হতে পারে না। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ নিজের অবস্থান বা পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করলে দল তাদের ছাড় দেবে না।সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন।এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাদ মোর্শেদ পাপ্পা সিকদার, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সোহাগ ভূঁইয়াসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কত হবে, সিদ্ধান্ত আসছে কবে?

পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কত হবে, সিদ্ধান্ত আসছে কবে?

পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে ৫ সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, দ্রুত বোর্ডের সভা করে নতুন মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। নতুন এই বোর্ড শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে।রোববার (১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল। তবে কবে নাগাদ এ সিদ্ধান্ত আসতে পারে, সেই দিনক্ষণ জানাননি।বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কারখানা বন্ধের ঘটনার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত আসে। শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী ছয় সদস্যবিশিষ্ট নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। আজ থেকেই এ বোর্ড কার্যকর হচ্ছে।বর্তমানে দেশের পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকরা তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, খাদ্য, বাসস্থান, পরিবহন ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভের জেরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। শনিবার গুরুত্বপূর্ণ পোশাক উৎপাদনকেন্দ্র আশুলিয়ার প্রায় ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।এ ছাড়া রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড় অবরোধ করেন কয়েকশ শ্রমিক। অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও বিক্ষোভের কারণে যান চলাচল ও কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। আজ রোববারও রাজধানীর অনেক স্থানে আন্দোলন চলছে।শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিক নেতা ও শিল্পমালিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দ্রুত বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আলোচনা করে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।তিনি শ্রমিকদের আন্দোলন ছেড়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ ও অর্থপ্রাপ্তিতে বিলম্ব হতে পারে।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

২৮ দিনের প্রচারযুদ্ধ, কণ্ঠে ক্লান্তি আর বিদায়ের সুর, মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ট্রাম্প

২৮ দিনের প্রচারযুদ্ধ, কণ্ঠে ক্লান্তি আর বিদায়ের সুর, মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক সমাবেশে যোগ দিতে ছুটে বেড়াচ্ছেন রিপাবলিকান-অধ্যুষিত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে।তবে এবারের প্রচারে ভোটারদের কাছে দেশের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ট্রাম্প নিজেই। বলরুম নির্মাণ থেকে শুরু করে নিজের শারীরিক গঠন, এমনকি মানসিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষা, বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ও উঠে আসছে তার বক্তব্যে।বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণের বদলে মাঠপর্যায়ে সমাবেশগুলো কাভার করা সিএনএনের সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এবারের প্রচারে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ভোটারদের এমনভাবে উদ্বুদ্ধ করা, যেন নির্বাচনে প্রার্থী তিনি নিজেই। যদিও তার জনপ্রিয়তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগও বাড়ছে।গত কয়েক সপ্তাহে, এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে এমন সব অঙ্গরাজ্যে প্রচারে গেছেন ট্রাম্প, যেগুলো কয়েক মাস আগেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে বিবেচিত হতো না। ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি স্বীকার করেছেন, দলটির প্রধান নির্বাচনী মুখ হিসেবে হয়তো এটিই তার শেষ বড় প্রচারাভিযান। চলতি মাসে, দুই ডজনের বেশি সমাবেশে অংশ নিয়েছেন তিনি। ফলে এসব আয়োজনকে অনেকটা বিদায়ী সফরের মতো মনে হচ্ছে।যে ব্যক্তি একের পর এক জনসভায় রিপাবলিকান পার্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছেন, সেই ট্রাম্পই এখন ‘ওয়াইএমসিএ’ গানের তালে নেচে মঞ্চ ছাড়ছেন। কানসাসের উইচিটায়, ট্রাম্পের সমাবেশ কাভার করা সিএনএন সাংবাদিক বেটসি ক্লেইনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের সমর্থকদের ধরন আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গেছে।২০১৬ ও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার কাভার করার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি চলতি বছরও নয়টি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের সমাবেশে অংশ নিয়েছেন তিনি। তার মতে, ২০১৫ সালে, ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর যেসব সমাবেশ হয়েছিল, সেগুলোতে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতের মানুষও উপস্থিত থাকতেন। অনেকেই ছিলেন কৌতূহলী কিংবা সিদ্ধান্তহীন ভোটার।কিন্তু এবারের প্রচারে যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের অধিকাংশই রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থাৎ সমাবেশগুলোতে এখন ট্রাম্পের সবচেয়ে অনুগত সমর্থক এবং তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের অনুসারীদের উপস্থিতিই বেশি। তবে কানসাসে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখেছেন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে, ১৬% পয়েন্টের ব্যবধানে ট্রাম্পকে জয়ী করা এই অঙ্গরাজ্যে ১৯৩২ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।গত ১৯ অক্টোবর, পার্ক সিটিতে, ট্রাম্পের সমাবেশে এক মায়ের সঙ্গে কথা বলেন ক্লেইন। সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শাল এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টনের মধ্যে কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে তখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ওই নারী। তার প্রধান উদ্বেগ ছিল অর্থনীতি।একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও জানান, ট্রাম্পের সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর তিনি হ্যামিল্টনকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, কানসাসের মানুষ অনেক কিছুই সহ্য করেছে। পরিবর্তন আনার মতো ভোটার সেখানে যথেষ্ট রয়েছে। এদিকে, দক্ষিণ ক্যারোলাইনার ক্লেমসনে, ট্রাম্পের সমাবেশে একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়তে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের।সিএনএন সাংবাদিক আলাইনা ট্রিনের বর্ণনা অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পশুপালন প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত সমাবেশে অন্তত ১২ বার বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। ট্রাম্প মঞ্চে ওঠার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুরু হয় প্রতিবাদ। কেউ তাকে অপরাধী বলে চিৎকার করেন, কেউ অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। আবার কেউ তাকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলেও আক্রমণ করেন।সাম্প্রতিক নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে, এমন প্রতিবাদ আগের তুলনায় বেশি চোখে পড়ছে বলে মনে করেছেন সাংবাদিকেরা। তবে এসব ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশের বদলে রসিকতা করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। পরপর তিনবার বক্তব্যে বাধা আসার পর তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা সব সময় তার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশে বাধা দেন। এমনকি, তাদের সময়জ্ঞানও বেশ ভালো বলে কৌতুক করেন তিনি। পরে বিক্ষোভকারীদের ‘ব্যর্থ’ বলেও মন্তব্য করেন।ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে ২৩ অক্টোবরের সমাবেশে ট্রাম্পকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখালেও সেখানে তার উপস্থিতিই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছিল বলে মনে করেন সিএনএন সাংবাদিক অ্যাডাম ক্যানক্রিন। ফ্লোরিডার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে সময় দিতে হয়েছে ট্রাম্পকে।সমাবেশে তিনি ভোটারদের বারবার রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ডেমোক্র্যাটদের সিনেট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সনের শক্ত অবস্থান নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিক্সনের প্রচারকে উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, তার নিজের প্রতিপক্ষ হিসেবে এমন প্রার্থী কেন নেই। তবে ইরান যুদ্ধ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির বাড়তি দাম নিয়ে খুব বেশি সময় ব্যয় করেননি তিনি। বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের প্রতি সমর্থনের পরীক্ষায় পরিণত করার চেষ্টা করেন।ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, কিছু মনে না করলে এমনটা ভাবুন যে ব্যালটে আমার নামও রয়েছে।’ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে প্রশ্ন, ট্রাম্পের বক্তব্যে অস্বস্তি জর্জিয়ার পেরিতে, ২৪ অক্টোবরের সমাবেশে, ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তেল থেকে শত শত বিলিয়ন, এমনকি ট্রিলিয়ন ডলার আয় করছে। অথচ একই সময়ে দেশটির সাধারণ মানুষকে পেট্রল ও জ্বালানির উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে।বক্তব্যের এই অসংগতির বিষয়টি যেন নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, জ্বালানির দাম ও তেল নিয়ে কথা না বলতে তার উপদেষ্টারা তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম পরে হয়তো লিখবে, মানুষ জ্বালানির উচ্চমূল্যে ভুগলেও ট্রাম্প তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের কথা বলছেন। এরপরও বিষয়টি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করবেন না বলে জানান তিনি।তার এই মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে সাংবাদিক রাফায়েল রোমোর পর্যবেক্ষণে, পেছনের সারিতে থাকা কয়েকজনকে পরস্পরের দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকাতে দেখা যায়। ওবামার সমাবেশের সঙ্গে তুলনা, নিকি মিনাজকে নিয়ে মন্তব্যমিশিগানের পোর্ট হুরনে, ২৫ অক্টোবরের সমাবেশে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তার দাবি, আগের দিন ওবামা সেখানে যে সমাবেশ করেছেন, তাতে তার নিজের সমাবেশের মতো জনসমাগম হয়নি। তবে একই সময়ে, ডেট্রয়েটে, ওবামার সমাবেশেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে জানান সিএনএন সাংবাদিক আরলেট সায়েঞ্জ। তিনি দুই নেতার সমাবেশেই উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনের মাত্র নয় দিন আগে দুই সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিপরীতমুখী রাজনৈতিক বক্তব্যের চিত্রও সামনে আসে।মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে নিয়ে ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের পাশাপাশি সমাবেশে মানুষের শারীরিক গঠন নিয়েও কথা বলেন তিনি। রিপাবলিকান সিনেটর জন হুস্টেডের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করার পর মার্কিন র‍্যাপার নিকি মিনাজের প্রশংসা করেন ট্রাম্প।মঞ্চে উপস্থিত মিনাজকে দাঁড়াতে বলার পর তার শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশংসা করতে রাজি বলে কৌতুক করেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধ এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যে ক্ষতিগ্রস্ত মিশিগানের ভোটারদের কাছে এসব মন্তব্য কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।হোয়াইট হাউসের বলরুম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা মিসিসিপির করিন্থে, ২৬ অক্টোবরের সমাবেশে, আবারও নিজের সংস্কার প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ সময় কথা বলেন ট্রাম্প। বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের সংস্কার ও নতুন বলরুম নির্মাণ নিয়ে তার আগ্রহ চোখে পড়ে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ট্রাম্পের, রুচির সমালোচনা করেছিলেন। বলরুমের নকশাকে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের রুচির সঙ্গে তুলনা করে চিজকেক ফ্যাক্টরির মতো বলেও মন্তব্য করেছিলেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, চিজকেক ফ্যাক্টরি একটি সফল প্রতিষ্ঠান এবং ওবামা হোয়াইট হাউসের রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব বোঝেন না। তার ভাষায়, হোয়াইট হাউস যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই এটি সব সময় পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা প্রয়োজন।এরপর হোয়াইট হাউসের উত্তর দিকের বারান্দার প্লাস্টার মেরামত এবং দক্ষিণ লনে নতুন হেলিপ্যাড স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। তবে এসব বিষয়ে সমাবেশে খুব একটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। একপর্যায়ে এক বিক্ষোভকারী বলরুম নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদে অশালীন ভাষায় চিৎকার করেন। মার-আ-লাগোতে ৫ হাজার ডলারে বার্গার!নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে, ২৭ অক্টোবর, টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টি ও লুবকে দুটি সমাবেশে অংশ নেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচারে গিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানরা ধরে রাখতে পারলে মার্কিন নাগরিকদের পাঁচ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হবে। করপাস ক্রিস্টির সমাবেশে ট্রাম্প সমর্থকদের সেই অর্থ দিয়ে তার বিলাসবহুল অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-আ-লাগোতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।তবে একই সঙ্গে রসিকতা করে বলেন, পাঁচ হাজার ডলারে সেখানে বড়জোর একটি হ্যামবার্গার ও ছোট একটি ডেজার্ট কেনা সম্ভব হতে পারে। এমনকি সেটিও কেনা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। জীবনযাত্রার ব্যয় যখন ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ, তখন এমন মন্তব্য রিপাবলিকান শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।বিতর্কিত নির্বাচনী বিজ্ঞাপনের পক্ষেও ট্রাম্প ওহাইও ও আইওয়ার সমাবেশগুলোতে, ট্রাম্প, ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম বিতর্কিত একটি বিজ্ঞাপনের পক্ষেও অবস্থান নেন। বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছে ওহাইও'র রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর প্রচারশিবির। বিজ্ঞাপনটিতে ডেমোক্র্যাট গভর্নর প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের বিচ্ছিন্ন থাকা মাকে মেয়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তিনি মেয়েকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যা দেন।অ্যাক্টনের দাবি, তার বয়স ১২ বছর হওয়ার পর থেকে মায়ের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। ওই সময় তার সৎবাবার বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্র্যান্ড জুরি তদন্ত শুরু করেছিল এবং তার মা সন্তানদের হেফাজত হারান। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট: উভয় শিবির থেকেই সমালোচনা হয়েছে। এমনকি, ওহাইও'র বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনও এর নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ২৮ অক্টোবর ওহাইওর সমাবেশে ট্রাম্প বিজ্ঞাপনটির সমালোচনাকে অন্যায্য বলে মন্তব্য করেন। আইওয়ার সিউক্স সিটিতেও এর পক্ষে কথা বলেন তিনি।এ ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী অ্যাশলি হিনসন। কারণ, এর আগে, একইদিন, তিনি বিজ্ঞাপনটিকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে সেটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞাপনটির পক্ষে কথা বললেও হিনসন প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।গত ২৯ অক্টোবর, দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রক হিলের সমাবেশে, সাম্প্রতিক জনমত জরিপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত জরিপগুলোকে ‘ভুয়া’ ও ‘অবাস্তব’ বলে দাবি করেন তিনি।বিশেষকরে, নিজের জনপ্রিয়তার হার ৪২ শতাংশ দেখানো জরিপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, এসব জরিপে প্রকৃত জনসমর্থনের প্রতিফলন ঘটছে না।তবে কোন জরিপের কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। অন্যদিকে, সিএনএনের পোল অব পোলসের গড় হিসাবে সে সময় ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ছিল ৩৪ শতাংশ।জরিপের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘ সময় সমালোচনা করার পর সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের কাছেই প্রশ্ন করেন ট্রাম্প। জানতে চান, তাদের মধ্যে কতজনকে কখনো জনমত জরিপে অংশ নিতে বলা হয়েছে। সাংবাদিকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত অল্প কয়েকজন হাত তুলেছিলেন।২৮ দিনের টানা প্রচারে ক্লান্ত ট্রাম্প, তবু থামছেন নানির্বাচনের আগের শুক্রবার ফ্লোরিডার এক সমাবেশে ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, তার সমাবেশের চেয়ে ভালো কিছু আছে কি না। এর আগে একপর্যায়ে মনে হয়েছিল, এটিই হয়তো তার শেষ নির্বাচনী সমাবেশ। কারণ, কানসাস ও আইওয়ায় সপ্তাহান্তের নির্ধারিত দুটি সমাবেশ বাতিল করা হয়েছিল। পরে আবার সেগুলো তার কর্মসূচিতে যুক্ত হয়।ট্রাম্প সমর্থকদের জানান, তিনি ভেবেছিলেন এবার কিছুটা বিশ্রাম নিতে পারবেন। গত ২৮ দিন টানা প্রচার চালানোর ক্লান্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি।তার কণ্ঠ তখন বেশ কর্কশ শোনাচ্ছিল। নিজের কণ্ঠের সক্ষমতা নিয়ে রসিকতা করে বলেন, সেটি এখন মাত্র ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ কার্যকর রয়েছে।পরবর্তী সময়ে সরাসরি সমাবেশের পরিবর্তে টেলির‍্যালির মাধ্যমে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার প্রচারশিবির। তবে সমাবেশ বাতিল নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।তার দাবি, সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর রিপাবলিকান নেতারাই তাকে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য ছিল, জয় নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের উপস্থিতি প্রয়োজন।ফ্লোরিডায় আরও একটি দেড় ঘণ্টার সমাবেশের পর অবশ্য আবারও প্রচারে ফেরার আগ্রহ দেখান তিনি।সমর্থকদের জানান, রোববার তারা যখন টেলিভিশনে ফুটবল দেখবেন, তখন তিনি নিজের বিমানে করে আইওয়া ও কানসাসের উদ্দেশে রওনা হবেন।সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের প্রচার কেবল দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, বিতর্কিত মন্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ এবং নিজের নানা প্রকল্পের প্রচার, সবকিছু মিলিয়ে তার সমাবেশগুলো পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।একদিকে, উচ্ছ্বসিত মাগা সমর্থকদের উপস্থিতি, অন্যদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ, এই দুই বাস্তবতার মাঝেই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ভাগ্য নির্ধারণের শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

৩১ মিনিট আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশের স্থান পরিবর্তন

গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশের স্থান পরিবর্তন

আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড।গ্রাম পুলিশকে নির্ধারিত পোষাক পরিধানপূর্বক ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টার মধ্যে মহাসমাবেশ স্থলে উপস্থিত থাকার জন্য নিদেশ দেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখার এক পত্রে এ নির্দেশনা দেশের সকল জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সকল উপ-পরিচালককে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশ ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে শের-ই-বাংলা নগরস্থ সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠের পরিবর্তে ‘জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড’ তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫ তে অনুষ্ঠিত হবে।

২০ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যেসব বিষয়ে সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে। কিন্তু বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের পথে না গিয়ে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সংসদে ডাকা হয়েছে। আপনারা আসুন, আমরা একসঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি। কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সংশোধনের মাধ্যমেই তা করতে হবে।তিনি বলেন, সংবিধান স্বাধীনতার পর প্রণীত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধন হয়েছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। আর যেসব বিষয়ে সাধারণ আইন প্রণয়ন করলেই হবে, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানোর পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হাতে মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছালে তারা হাঁস-মুরগি পালনসহ ছোট ছোট আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে। এতে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়েছে।রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি বিএনপি সরকার দায়ী? এর জন্য কি তারেক রহমান দায়ী? বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা যায়। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবদান বিএনপি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেন।

সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী

সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী

যৌক্তিক কারণ না থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতেই লংমার্চ করছে বিরোধীদল। সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তারা, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জামায়াত ইসলাম লংমার্চ করছে, এটার যৌক্তিকতা জনগণ জানে না। জ্বালানি সংকট বিএনপি তৈরি করেনি, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হয়েছে।রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের কোনো কর্মসূচি যখন কাজ করছে না, তখন জনপ্রিয় মন্ত্রীদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে।

মিরপুর ১০-এর উচ্ছেদ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছেন জামায়াত আমির, ক্ষমা চাওয়া উচিত: মীর শাহে আলম

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমালোচনা করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ১০ নম্বরের উচ্ছেদ অভিযানের পর সস্তা রাজনীতি করতে এসেছেন জামায়াত আমির। লজ্জা থাকলে জনগণের সামনে ক্ষমা চাওয়া উচিত।শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।এ সময় বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য। জনগণ যাতে খুশি থাকে, সরকার সেই কাজই করে যাচ্ছে। বিএনপি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের জবাবদিহির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাত মাসের মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই প্রমাণ করে, প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দেবেন না।মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করা ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র নিয়ে ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাটি ইতিবাচক ছিল। ইশরাক জায়গা দখল করতে যাননি, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েছিলেন। তবে তার লড়াইয়ের পদ্ধতি ভুল ছিল।জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, ১১ দলীয় জোট লোক দেখানোর জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে, কিন্তু সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেনি। জামায়াত আমিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছোটখাটো ঘটনায়ও ব্যবস্থা নিচ্ছেন। অথচ বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ভোট নেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগের পরও গাজী নজরুলকে সংসদ থেকে বিদায় করা হয়নি। তাঁকে সংসদ থেকে সরানো হলে জনগণের আস্থা বাড়ত বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।মীর শাহে আলমের দাবি, এ কারণেই গতকালের (ঠাকুরগাও-১ আসনের উপনির্বাচন) নির্বাচনে জামায়াত ৪০ হাজার ভোট কম পেয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একের পর এক জামায়াতের প্রার্থীরা পরাজিত হলে দলটি প্রচারণার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোডশেডিংয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সমস্যা সমাধানে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। তবে বিরোধী দল এ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।একই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত বলেন, একটি বিরোধী দল এখনো জনসভার রাজনীতিতে আটকে আছে, যেখানে মানুষের উপস্থিতি থাকে না। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী জনসেবার রাজনীতি করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় তিনি বলেন, ১৫০০ মানুষ নিয়ে বিলাসবহুল জনসভা না করে এলাকার ময়লা পরিষ্কার করুন। আসুন, শুধু এলাকার ময়লা নয়, ফ্যাসিবাদ ও দেশের যে জঞ্জাল আছে, একসঙ্গে পরিষ্কার করি।

মিরপুর ১০-এর উচ্ছেদ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছেন জামায়াত আমির, ক্ষমা চাওয়া উচিত: মীর শাহে আলম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন অমানুষদের জায়গা: ফজলুর রহমান

বিএনপির সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীসের লেখাপড়া? এখানে তো কারও ভর্তি হওয়া উচিত না। এটাতো মাদ্রাসা একটা, সিনিয়র মাদ্রাসা। অমানুষদের একটা জায়গা হয়েছে এটা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে?শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন এই রাজনীতিক।ফজলুর রহমান মূলত একজন সিনিয়র আইনজীবী। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। তিনি এক সময় বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। এক সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়— এটা কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান? কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে পাকিস্তানের। আজকে যাই হোক সেই দিনের আন্দোলনের কথাই আমি বলছি।‘যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে শিক্ষায় মুক্তি— সেই ১৯২৭ সন, ১৯২৮ সন, ১৯২৯ সন, ১৯৩০ সন, আব্দুল ওহাব, আবুল হোসেনসহ সমস্ত কবি-সাহিত্যিক যারা ছিল। তাদের জন্ম দিয়েছে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের জন্ম দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে সেই মুজাফর আহমদ চৌধুরীদের মত লোক। নীলিমা ইব্রাহিমদের মত লোক, ড. নাজমা চৌধুরীর মত লোক। যত আছে সেই আহমদ শরীফদের মত লোক হুমায়ুন আজাদদের মত লোক, হুমায়ুন আহমদদের মত লোক।’’তিনি বলেন, ‘সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধী অমানুষদের একটা কারখানা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করার? যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আজম, নিজামীর ছবি টাঙানো হয়, এরাই নাকি জাতির নেতা। সেই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তো চিন্তাই করি না আমি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন অমানুষদের জায়গা: ফজলুর রহমান

আ.লীগের সঙ্গে ‘আঁতাত’, বিএনপি-জামায়াতের পারস্পরিক সন্দেহের নেপথ্যে কী

রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের নতুন মাত্রা তৈরি হচ্ছে আওয়ামী লীগকে ঘিরে।কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগ তুলছে বিএনপি। কিন্তু সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মতবিরোধের মধ্যেই এমন অভিযোগ কেন সামনে এলো?এটি কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে, নাকি জামায়াতকে সমঝোতায় আনার পরোক্ষ কোনো রাজনৈতিক চাপ এটি?একসময় বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রাজনীতি করেছে। কখনো চারদলীয় জোট, কখনো বিশ দলীয় জোট; দুই দলের সম্পর্ক ছিলো দীর্ঘদিনের। খবর বিবিসির।এখন বিএনপি ক্ষমতায়, আর জামায়াত বিরোধী দলে।এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি অভিযোগ করছে, সরকারকে অস্থিতিশীল করতে জামায়াত আর আওয়ামী লীগ একসঙ্গে হয়েছে। জামায়াত অভিযোগ অস্বীকার করছে।তাহলে এ অভিযোগের পেছনে কী আছে, আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিতর্কই বা কেন আবার সামনে আসছে?আঁতাত নিয়ে পালটাপালটি বক্তব্যে বিএনপি-জামায়াতরাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করেছিল জামায়াতের সমর্থন নিয়ে।পরে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াত ছিলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পান জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতা।এছাড়া বিএনপি যখন ক্ষমতার বাইরে সেই সময়ও বছরের পর বছর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপি-জামায়াতকে একসঙ্গে দেখা গেছে।কিন্তু এখন বিএনপি অভিযোগ করছে, জামায়াত-আওয়ামী লীগ একসঙ্গে হচ্ছে।সম্প্রতি রাজশাহীতে এক জনসভায় জামায়াতকে ইঙ্গিত করে খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিষ্কার গোয়েন্দাদের তথ্য আছে- যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বিএনপির শীর্ষ নেতারাও এ ধরনের অভিযোগ তুলতে থাকেন। জামায়াতের নাম উল্লেখ করে সরকারি দলের বক্তব্যের পর অবশ্য জামায়াতও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার অভিযোগ নাকচ করে।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামাত আঁতাত করবে, এটা কোনো পাগল কি বিশ্বাস করে? যারা জামায়াতের পাঁচজন শীর্ষ নেতার ফাঁসি দিল! যে আওয়ামী লীগ আমাদের অফিস বন্ধ রাখল! তাদের সঙ্গে কি আঁতাত হতে পারে?একইসঙ্গে তিনি পালটা আওয়ামী লীগের সঙ্গেই বিএনপির আঁতাতের অভিযোগ আনেন।আযাদ বলেন, আমাদের অফিস আওয়ামী লীগ সরকার দিনের পর দিন বন্ধ রেখেছিল। সারা দেশে কোথাও কোনো অফিস খুলতে পারি নাই। কই বিএনপির অফিস তো বন্ধ ছিল না। আওয়ামী লীগ আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে দিল না। কিন্তু তারা (বিএনপি) বছরের পর বছর দলীয় কার্যালয়ে বসে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করল, অনুমতি নিয়ে মিছিল করল, মিটিং করল। এই ইতিহাস তো আমাদের নাই। আঁতাত তো তারা সরকার যাওয়ার আগেই করে বসে আছে।বিএনপির সন্দেহ কী কারণে?এখানে কয়েকটি কারণ পাওয়া যাচ্ছে।এক. গোয়েন্দা তথ্য যেটার কথা খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন।দুই. জামায়াতের সরকারবিরোধী আন্দোলন, বিএনপি যেটাকে সরকার পতনের চেষ্টা হিসেবে দেখছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারা (জামায়াত) প্রথমেই বলেছে যে, আমরা তাদের (আওয়ামী লীগকে) মাফ করে দেব। ...৫ আগস্টের পর দুই তিন মাসের মধ্যেই তারা বলেছে। তো এগুলোতেই একটা সন্দেহ জনমনে আছে যে, এরা যেকোনো সময় মানে এই কাজগুলো করতে পারে বা তারা করছে ভেতরে ভেতরে। এটা তো আপনারা জানেন যে প্রাইম মিনিস্টার নিজে বলেছেন।তার দাবি, জামায়াত এখন যে আন্দোলন করছে, সেখানেও আওয়ামী লীগের যোগ থাকতে পারে। জামায়াত এখন চেষ্টা করছে গোপনে অমুকের সঙ্গে মিলে কীভাবে সরকারকে ঘায়েল করা যায়, তাকে কীভাবে দ্রুত ফেলে দেওয়া যায়। কিন্তু এটা করতে গিয়ে যে মহাবিপদ চলে আসতে পারে এবং তাতে যে তাদেরও লাভ হবে না, সেই সেন্সটা কাজ করছে কিনা এটা আমার যথেষ্ট সন্দেহ।তবে শুধু গোয়েন্দা তথ্য কিংবা সরকার পতনের চেষ্টা নয়, তৃতীয় আরেকটি কারণেও জামায়াত-আওয়ামী লীগ আঁতাতের ষড়যন্ত্র দেখছে বিএনপি। সেটা হচ্ছে, জুলাই সনদ এবং সংবিধান নিয়ে ‘অচলাবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা’।জামায়াতের ওপর বিএনপির পরোক্ষ চাপ তৈরির কৌশল?বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বর্তমান যে দূরত্ব, সেটার সূত্রপাত সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে।জামায়াতসহ এগার দল চায় গণভোটে পাশ হওয়া জুলাই সনদ হুবহু বাস্তবায়ন করতে। কিন্তু বিএনপি তাতে আগ্রহী নয়। তারা চায় যেসব বিষয়ে আপত্তি বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো না রাখতে।আরেকটি বড় বিরোধ হচ্ছে, সংবিধান নিয়ে। এগার দল চায়, সংবিধানের আমূল সংস্কার। আর বিএনপি চায়, সংবিধান সংশোধন।সংবিধান এবং জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি বিরোধী দলের দাবি না মানায় দলগুলো এখন রাজপথে গিয়েছে বলে বলছে তারা।বিএনপি চায় জুলাই সনদের সুরাহা করতে, এর আইনি ভিত্তি দিতে। কিন্তু বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় সেটায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অথচ বিএনপি এর দ্রুত সুরাহা চায়।তবে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, সংবিধান নিয়ে।জামায়াত সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। যেটাকে তারা বলছে সংস্কার। অন্যদিকে বিএনপি সংবিধান পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং প্রস্তাবিত সংস্কারের বৈধতা নিয়ে এর বিপরীত অবস্থানে আছে বলে বলছেন জামায়াত নেতারা।ফলে সরকার সংসদে যে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, বিরোধী দলগুলো সেটা বয়কট করেছে।বিরোধী দলগুলো অনড় থাকায় সেটা এখন বিএনপির জন্য উদ্বেগের কারণ। বিএনপির আশঙ্কা, রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া সরকার যদি একতরফা সংবিধান সংশোধনের দিকে যায়, তাহলে সেটা নৈতিক বৈধতার সংকট তৈরি করতে পারে।ফলে তারা জোর দিচ্ছে, যেন একটা সমঝোতা হয়। কিন্তু বিরোধী দলগুলো অনড়। আর অনড় অবস্থানকেই সন্দেহ করছে বিএনপি।কিন্তু এরসঙ্গে জামায়াত-আওয়ামী লীগ আঁতাতের যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার সম্পর্ক কী?রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই যে পয়েন্ট অফ নো রিটার্নের অবস্থায় যদি এভাবে চলে আসে যে, আমরা যেটা বলেছি ওটাই মানতে হবে। আমূল পরিবর্তন করে দিতে হবে সংবিধানের। তো এটা তো হতে পারে না। তারা বলছে যে, একেবারে সংবিধান সংস্কার করতে হবে, কোনো সংশোধন-টংশোধন বুঝি না। এখন আপনি যদি একটা গণতান্ত্রিক শক্তিকে এভাবে দুর্বল করেন, এটা যদি বিভাজন করেন তাতে তো পরাজিত শক্তি, তার আগমনের একটা পথ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।তাহলে বিএনপি কি জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে জামায়াতকে আপসে আনতেই আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ সামনে আনছে?বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল নয়; বরং তাদের কাছে ‘জামায়াত-আওয়ামী লীগ আঁতাতের’ গোয়েন্দা তথ্য আছে।তবে জামায়াত এসব দাবিকে স্পষ্টতই উড়িয়ে দিচ্ছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তারা (বিএনপি) তো স্বৈরাচারের সঙ্গে আঁতাত করেই ক্ষমতায় এসেছে। সেই আঁতাত হয়েছে নির্বাচনের আগেই। এর একটা অংশ আওয়ামী লীগ। আরেকটা অংশে আছে, আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র।জামায়াতের এই নেতার দাবি, সরকার দেশ চালাতে পারছে না বলেই ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করার’ চেষ্টা করছে। তারা আসলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তারা দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা এখন জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জুলাইকে এড়িয়ে যাচ্ছে। জুলাই সনদকেও এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, গণভোটকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে কনফিউশন তৈরি করা এবং একটা রাজনৈতিক প্রতারণা করে ফায়দা লোটার চেষ্টা ছাড়া আমি আর কিছু দেখছি না।আওয়ামী লীগ কী বলছে?ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনাসহ দলটির শীর্ষ নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। দলটির কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।কিন্তু যে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, যার শীর্ষ নেতারা পলাতক এবং অনেকেই আবার মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, তারা আওয়ামী লীগকে নিয়ে জামায়াত-বিএনপির যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সেটা নিয়ে কী বলছে?জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম বলেন, তারা কোনো দলের সঙ্গেই সমঝোতা করে কাজ করছেন না। এখানে বিএনপি, জামায়াত আর এনসিপির তো কোন পার্থক্য নাই। আদর্শগতভাবে এদের ভিতরে কোন পার্থক্য নাই। তারা সবাই আসলে একই। ফলে আওয়ামী লীগ এদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না, রাখার প্রয়োজন বোধ করে না। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে, জনগনের জন্যে কাজ করে।আওয়ামী লীগ বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের কথা নাকচ করছে। ফলে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাত বা ভারতীয় গোয়েন্দাদের বৈঠকের যে অভিযোগ সামনে আনছে বিএনপি, সেটি বাস্তব, নাকি নিছক রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।

আ.লীগের সঙ্গে ‘আঁতাত’, বিএনপি-জামায়াতের পারস্পরিক সন্দেহের নেপথ্যে কী

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রাপ্ত কেন্দ্র ৭৬, ধানের শীষ-৮৯২০৫, দাঁড়িপাল্লা-৩৬৪১৯

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ৬৬টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। এতে ধানের শীষ পেয়েছে ৮৯ হাজার ২০৫ ভোট, দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৩৬ হাজার ৪১৯ ভোট।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।প্রার্থীরা হলেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফয়সল আমিন, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকে মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকে হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন  প্রাপ্ত কেন্দ্র ৭৬, ধানের শীষ-৮৯২০৫, দাঁড়িপাল্লা-৩৬৪১৯
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠন ও কার্যক্রম রোববার থেকে শুরু: শ্রমমন্ত্রী

শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠন ও কার্যক্রম রোববার থেকে শুরু: শ্রমমন্ত্রী

গার্মেন্টস শিল্প খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আগামী রোববার (১ নভেম্বর) থেকে মজুরি বোর্ড গঠন ও এর কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে নিজ বাসায় শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।শিল্পাঞ্চলে বাড়িভাড়া না বাড়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শিল্পাঞ্চলে বাড়িভাড়া যেন না বাড়ে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও সরকার কাজ করবে।শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, শুক্রবার শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিনিধির নাম পাওয়া গেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) তারা চূড়ান্ত প্রতিনিধি নির্বাচন করে জানাবেন।মজুরি বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে শনিবার (৩১ অক্টোবর) শ্রম ভবনে গার্মেন্টস শিল্পমালিকদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বৈঠক করবেন বলেও জানান শ্রমসচিব।