বাঙালির বাংলাদেশ

জাতীয়

মতামতমতামত

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
সর্বশেষ সব খবর
১

শেখ হা‌সিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না : দীনেশ ত্রিবেদী

২

অক্টোবরের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়াসহ বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

৩

সরকারের বার্তায় তাদের মধ্যে ঢুকে গেছে ভয়

৪

হাসিনাকে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন-শামা ওবায়েদ

৫

বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৬

পঞ্চগড়-কক্সবাজার: ১০৭৭ কিমি রেলে জুড়ছে দেশের দুই প্রান্ত

৭

অতীতে অস্ট্রেলিয়ায় এ কী করেছেন ফ্লাইদুবাইয়ের অভিযুক্ত সেই পাইলট! সামনে আসতেই ফের শোরগোল বিশ্বজুড়ে

৮

বেগম রোকেয়া পদকের জন্য মনোনয়ন আহ্বান

৯

প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন ভারতীয় পাইলট, এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

১০

শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

সিইসিকে স্থানীয় নির্বাচন পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছে তাবলীগ জামাত

সিইসিকে স্থানীয় নির্বাচন পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছে তাবলীগ জামাত

টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭-এর ঘোষিত তারিখ বিবেচনায় রেখে গাজীপুর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে সংগঠনটি।মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন থেকে এ তথ্য জানা যায়। তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের আহলে শুরা সদস্য ও কাকরাইল তাবলীগ মার্কাজ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়েরের সই করা আবেদনটি সিইসিকে জমা দেন।আবেদনে বলা হয়, বিশ্ব ইজতেমা মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্মেলন। বাংলাদেশ যে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও দ্বীনি পরিবেশ। আগামী ২০২৭ সালের ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ইজতেমার প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি গাজীপুরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় সূচি করার ক্ষেত্রে ইজতেমার ভাবগাম্ভীর্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সুবিশাল জনসমাগমের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জোর দাবি জানানো হয় আবেদনপত্রে।চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ইজতেমার মতো বিশাল আয়োজনের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাই দুই পর্বের ইজতেমা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনের সময়সীমা সেভাবেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা বা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।আবেদনপত্রে কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্বীনি কাজে সহায়তামূলক ভূমিকার প্রশংসা করে দেশ ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করা হয়। বিশ্ব ইজতেমার মতো আন্তর্জাতিক ধর্মীয় আয়োজন সফল করতে নির্বাচন কমিশন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

ট্র্যাকে কুকুর, কিছু সময় বন্ধ ছিল মেট্রোরেল চলাচল

ট্র্যাকে কুকুর, কিছু সময় বন্ধ ছিল মেট্রোরেল চলাচল

রাজধানীর কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল স্টেশনে রেললাইনে একটি কুকুর ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় পাঁচ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় কুকুরটি উদ্ধার করা হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৫২ মিনিটে কারওয়ান বাজার স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) মো. মহসীন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এমআরটি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৫২ মিনিটের দিকে কারওয়ান বাজার স্টেশনের ট্র্যাক লাইনে একটি কুকুর ঢুকে পড়ে। এতে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে কুকুরটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেন।কুকুরটি সরিয়ে নেওয়ার পর সকাল ১১টা ৫৭ মিনিট থেকে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।

সাড়ে ১৩ হাজার অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগে বাধা কাটল

সাড়ে ১৩ হাজার অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগে বাধা কাটল

এমপিওভুক্ত হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের সাড়ে ১৩ হাজার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে শিক্ষা সচিবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।পরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২৫ মার্চের সংশোধনীর মাধ্যমে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়েছিল।এর আগে ২০২১ সালের জনবল কাঠামোয় সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিন বছরসহ মোট ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান ছিল।তিনি জানান, ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে ৪৬ জন শিক্ষক রিট করেন।হাইকোর্ট ২৫ মার্চের সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসির পক্ষে আপিল করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন।অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ৫৫৯টি পদের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত হওয়ায় ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ভাইভায় অংশ নিতে পারবেন।তবে রিট আবেদনকারী ৪৬ জনের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি। ফলে এই ৪৬টি পদ বাদে বাকি পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারের কোনো আইনগত বাধা থাকবে না।

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে অর্থনীতির এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের হিসাবের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। একইভাবে ২০২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাসও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক।বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগ কার্যক্রম দুর্বল হয়েছে, রপ্তানির গতি কমেছে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে ব্যবসার খরচও বেড়েছে।বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতির কারণে দেশের বৈদেশিক খাত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং নারীরা কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।এদিকে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণ ৮ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।বিশ্বব্যাংক বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। তবে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।অন্যদিকে চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

ভারতীয় ভিসা আবেদন নিয়ে নতুন নির্দেশনা

ভারতীয় ভিসা আবেদন নিয়ে নতুন নির্দেশনা

ভারতীয় ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে একটি নতুন গাইডলাইন দিয়েছে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আইভ্যাকের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।সেখানে বলা হয়, পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বৃহস্পতিবার অথবা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে খোলা হয়, যা সংশ্লিষ্ট মিশন এবং ভিসা বিভাগের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে। আইভ্যাক বলছে, স্লটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে রবি থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা এবং শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা স্লট খোলা থাকে। গাইডলাইনে বলা হয়, একই দিনের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না। আবেদনকারীরা শুধুমাত্র পরবর্তী দুই-সপ্তাহের অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখগুলোর জন্য বুক করতে পারবেন।

১২ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী পসরা যে বাজারে

গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী পসরা যে বাজারে

রোববার এলেই বদলে যায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজারের চেহারা। সাপ্তাহিক হাটের দিনে চারপাশজুড়ে জমে ওঠে মানুষের আনাগোনা।কোথাও সারি সারি গরু-ছাগল, কোথাও হাঁস-মুরগি ও কবুতরের হাট। আবার কোথাও বাঁশ-বেতের তৈরি নানান সামগ্রীর পসরা।সব মিলিয়ে যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে চেনা গ্রামীণ বাংলার পুরোনো এক ছবি।আধুনিকতার ছোঁয়ায় দেশের অনেক গ্রামীণ বাজারের চেহারা বদলে গেলেও টেংরা বাজার এখনো ধরে রেখেছে তার পুরোনো বৈশিষ্ট্য।প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো এই বাজার শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, স্থানীয় মানুষের কাছে এটি গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রয়োজন মেটানোর অন্যতম নির্ভরতার জায়গা।হাটের এক পাশে সাজানো থাকে বাঁশ-বেতের তৈরি গৃহস্থালির নানা সামগ্রী।টুকরি, খলই, দুছইন, হুপা, ঝাঁকা, কুলা, চালুন, বেতের মাথাল, সেঁউতি থেকে শুরু করে শীতলপাটি ও কেয়াপাতার পাটি, কী নেই সেখানে! গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত এসব সামগ্রী দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি টেকসই হওয়ায় এখনো রয়েছে এর চাহিদা।বাজারে ঢুকলেই চোখে পড়ে নানা ধরনের ভ্রাম্যমাণ দোকান। কোথাও দা, কোদাল, খুন্তি ও অন্যান্য লোহার সামগ্রী, কোথাও মৌসুমি সবজির স্তূপ। খাসিয়া পান, বাংলা পান ও সুপারির জন্যও রয়েছে আলাদা জায়গা। গবাদিপশুর খাবার থেকে শুরু করে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রীও মেলে এই হাটে।রোববারের হাটে পশুর আনাগোনাও কম নয়। বাজারের এক পাশে সারি সারি গরু খুঁটিতে বাঁধা। পাশেই ছাগলের ভিড়। রাস্তার পূর্ব পাশে বসে হাঁস-মুরগি ও কবুতরের হাট। ক্রেতারা এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে দেখছেন, করছেন দরদাম। পছন্দ হলে কিনে নিচ্ছেন প্রয়োজনের জিনিস।স্থানীয় টেংরা বাজার নামে পরিচিত হলেও হাটের ভেতরে ভটের বাজার ও বাগিচা বাজার নামেও দুটি অংশ রয়েছে। প্রতিদিনই এখানে স্থায়ী দোকানগুলোতে বেচাকেনা চলে। তবে রোববারের সাপ্তাহিক হাটে সেই স্বাভাবিক চিত্র বদলে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগমনে জমে ওঠে পুরো এলাকা। সকাল থেকে শুরু হওয়া বেচাকেনা অনেক সময় গড়ায় গভীর রাত পর্যন্ত।প্রবীণ ব্যবসায়ী সুদর্শন মালাকারের কাছে টেংরা বাজার শুধু একটি ব্যবসাকেন্দ্র নয়, দীর্ঘদিনের স্মৃতিও। তিনি বলেন, প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই বাজার একসময় পুরো রাজনগর এলাকার অন্যতম বড় হাট ছিল। প্রতি রোববার সকাল থেকে শুরু হয়ে অনেক সময় মধ্যরাত পর্যন্ত এখানে বেচাকেনা চলত।বাঁশ-বেতের সামগ্রী বিক্রেতা বীরেন্দ্র মালাকারও দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি এখানে পণ্য বিক্রি করছেন। তার ভাষায়, গেরস্তালির প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই এই বাজারে পাওয়া যায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি শহর থেকেও অনেকে এসব পণ্য কিনতে আসেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা পণ্য নিয়ে এসে এখানে খুচরা দরে বিক্রি করেন।টেংরা বাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় কারিগরদের শ্রম ও দক্ষতার গল্পও। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি করে আসছেন গ্রামীণ জীবনের প্রয়োজনীয় নানা উপকরণ। এসব পণ্য শুধু বাজারে কেনাবেচাই হয় না, এগুলোর সঙ্গে টিকে আছে বাংলার গ্রামীণ কারুশিল্পের একটি পুরোনো ধারাও।তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে বাজারের কিছু চিত্র। একসময় হাওর ও নদীর তাজা মাছের প্রাচুর্যে জমজমাট থাকত মাছের বাজার। এখন সেখানে খামারের মাছই বেশি। কদাচিৎ কুশিয়ারা নদী কিংবা হাকালুকি হাওরের মাছের দেখা মেলে। তবু পুরোনো দিনের সেই স্বাদ যেন পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।টেংরা বাজারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হয়তো এখানেই, সময় বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে, বদলেছে কেনাকাটার ধরন; কিন্তু বাজারটি এখনো ধরে রেখেছে তার নিজস্ব প্রাণ। রোববারের হাটে মানুষের কোলাহল, গবাদিপশুর ডাক, বাঁশ-বেতের সামগ্রীর সারি আর দরদামের ব্যস্ততা মিলিয়ে তৈরি হয় গ্রামীণ জীবনের এক জীবন্ত ছবি।স্থানীয়দের কাছে তাই টেংরা বাজার নিছক একটি বাজার নয়। এটি তাদের শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক ঐতিহ্য। শতবর্ষ পেরিয়েও যে বাজারে আজও গ্রামীণ জীবনের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পশরা সাজে, মানুষের ভিড় জমে, আর ফিরে আসে বাংলার চিরচেনা হাটের সেই পুরোনো আবহ।

১১ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

নাগরিকের অধিকার বুঝে না বলেই জামায়াত জন্মের পর এই প্রথম বিরোধীদল হয়েছে

নাগরিকের অধিকার বুঝে না বলেই জামায়াত জন্মের পর এই প্রথম বিরোধীদল হয়েছে

কোনটা নাগরিকের অধিকার, কোনটা রক্ষার ব্যাপার আর কোনটা নাগরিকের দাবি, সেটা বুঝতে অপারগ হয়েছে বিধায় জন্মের পর এই প্রথম বিরোধীদল হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সরকার তো পরের কথা। জামায়াতে ইসলামীর প্রথম বিরোধীদল হওয়ার সুযোগ হয়েছে ৮৫ বছর বয়সে। কারণ, তারা বুঝতে চাননি মানুষ কী চায়।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমন্ডির ৩/এ-তে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।শেখ রবিউল আলম বলেন, তারা স্বাধীনতার সময় বুঝতে চাননি, স্বাধীনতার পরেও বুঝতে চাননি, এরশাদের সময়ও বুঝতে চাননি কাকে সমর্থন দিতে হবে। আবার ওয়ান-ইলেভেন সরকারের পরও বুঝতে পারেননি। ২০২৪ সালে এসে কিছু বুঝতে পেরেছিলেন, আবার খেই হারিয়ে ফেলেছেন। এটি হচ্ছে তাদের রাজনৈতিক বদান্যতা।অটো রিকশা প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে অটো রিকশার প্রসার হয়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা হচ্ছে। এই নীতিমালার আলোকে প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলাচল অননুমোদিত হবে। যারা কিছুদিন ধরে এই পেশায় যুক্ত হয়ে গিয়েছেন, ডেফিনেটলি তাদের কষ্ট হবে। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একমত হয়ে এই অব্যবস্থাপনার উত্তরণ ঘটাতে হবে। কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। তবে কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢাকা সিটিকে অকার্যকর হতে দেওয়া হবে না।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শেষ প্রান্তে তাঁতিদের পুজো: পাঁচ গ্রামের মেলবন্ধন কালিয়াচকের ষষানিতে

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শেষ প্রান্তে তাঁতিদের পুজো: পাঁচ গ্রামের মেলবন্ধন কালিয়াচকের ষষানিতে

এখনো মায়ের ভোগ ও কাপড় আসে সীমান্তের কাঁটাতারের ওপরের বাংলাদেশ থেকে,ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে তাঁতিদের দূর্গা এখন ভারতের পাঁচটি গ্রামের এক মাত্র দূর্গাপূজো। পূর্ববঙ্গের কাঁটাতারের ওপারে তাঁতিদের দূর্গাপূজো এখন ভারতের সীমান্ত এলাকার একমাত্র পূজো। এক সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম মিষ্টি দমমিশ্রি চমচম ও ভালো তসরের শাড়ি আসতো। বর্তমানে লুচি বুঁদিয়া ও খিচুড়ী ভোগ দেওয়া হয়। এই উমার আরাধনা হয় পাচটি গ্রাম নিয়ে। সীমান্ত এলাকায় এই দূর্গাপূজতে অংশগ্রহন করেন বি এস এফ কর্তারা। মালদহের কালিয়াচকের তিন নম্বর ব্লকের ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ষষানি গ্রামে হয়ে আসছে এই প্রাচীন পুজো।জানা গিয়েছে,সীমান্ত এলাকায় এই পূজো এপার বাংলা ওপার বাংলার পুজো। অবিভক্ত ভারতের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা পেশায় তাতি ভোলানাথ চৌধুরী দেশ স্বাধীন হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জমি বিনিময়ের মাধ্যমে চলে আসেন ভারতের এই গ্রামে। তার আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনি এই পুজো একাই করতেন। এদেশে আসার পর স্থানীয় সুধীর জামাদার ও সুবোধ সরকারের মিলিত প্রয়াসে এই দূর্গাপূজো হয়।মন্দির থেকে প্রায় একশো মিটারের মধ্যেই ভারত- বাংলাদেশ সীমান্ত।দেশের একেবারেই শেষ সীমানা,আর এখানেই হয় শতাব্দীর প্রাচীন দূর্গাপুজো।হয়তো অনান্য পুজোর পুজোর মত জাঁকজমক আরম্ভর নেই। তবে এই পুজোকে আঁকড়ে ধরে রয়েছে সীমান্তবর্তী পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা। মালদহের কালিয়াচকের ষষানি গ্রামে হয়ে আসছে এই প্রাচীন পুজো। আশেপাশের পাঁচটি গ্রাম মিলে হয় এই একটি মাত্র পুজো। আর এই পুজোকে ঘিরেই আনন্দে মেতে ওঠেন সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দারা। অন্যান্য পুজার থেকে কোন অংশে কম নেই এই পুজোর প্রস্তুতি। পুজোয় শামিল হয়ে থাকেন বিএসএফ কর্মীরাও। কারণ পাশেই রয়েছে বিএসএফ ক্যাম্প। প্রতিবছর সীমান্তের এই পুজোয় চাঁদা দেওয়া থেকে পুজোয় অংশগ্রহণ করে আসছেন স্থানীয় বিএসএফ কর্মীরা।গ্রামের পাশ দিয়েই গিয়েছে সীমান্তের তাঁর বেড়া। গ্রাম জুড়ে প্রায় নিয়মিত চলে বিএসএফ টহলদারি। একসময় যখন তার বেড়াচ্ছিল না,বাংলাদেশের নাগরিকেরাও এই পুজোয় এসে সামিল হতেন। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এই গ্রামে বসত বিশাল মেলা। সময়ের সঙ্গে তা যেন কোথায় বিলীন হয়েছে। এখন দুই দেশের সীমান্তের তার বেড়া বাঁধা সৃষ্টি হয়েছে। ইচ্ছা থাকলেও বাংলাদেশের বাসিন্দারা আর এই পুজোয় সামিল হতে পারছেন না। তবে এই পুজোয় একটুকু খামতি রাখেননি বর্তমান উদ্যোক্তারা। পুজোকে ঘিরে পাঁচ দিনব্যাপী চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।ষষানি সার্বজনীন দুর্গাপুজো এই বছর ১২১ তম বর্ষ।

নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ সারজিস ও মিতু

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠন জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি হয়েছেন সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মুস্তাইন বিল্লাহ হাবিবী।সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। আগামী এক বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে।এনসিপির পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতাকে নিয়ে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ সারজিস ও মিতু

এনসিপি নেতার পদত্যাগ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কমিটি গঠনের আট দিন পর দল থেকে পদত্যাগ করেছেন আহ্বায়ক শাহিদ আলম।রোববার (৪ অক্টোবর) বিকালে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে এনসিপির  গোপালগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবরে এ পদত্যাগপত্র পাঠান। পদত্যাগ পত্রে তিনি লিখেছেন, আমি শাহিদ আলম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গোপালগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আহ্বায়ক পদে আছি। আমার শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার কারণে আমার সব পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। সঙ্গে সঙ্গে আর কখনো রাজনীতির সঙ্গে জড়াবো না বলে অঙ্গীকার করিলাম। এতএব বিষয়টি সবার কবিশেষ বিবেচনায় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে নেবেন। শাহিদ আলম বলেন, শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কারণে পদত্যাগ করেছি। এছাড়া আমার নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। রাজনীতিতে জড়িয়ে ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই রাজনীতি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।জেলা এনসিপির সদস্য সচিব ফেরদৌস আমিনা বলেন, উনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কিন্তু আমরা এখনো গ্রহণ করিনি। উনি চেয়েছিল কমিটি যেন প্রকাশ না হয়। সে এনসিপি করবে তা কেউ জানবে না, আবার তার অপকর্মের দায় দলের উপর পড়বে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। উর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা শাখা এনসিপির ১১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। জেলা এনসিপির আহ্বায়ক বাঁধন মিয়া, সদস্য সচিব ফেরদৌস আমিনা ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল মোল্লা শুভ যৌথভাবে এ কমিটির অনুমোদন দেন।

এনসিপি নেতার পদত্যাগ

শেখ হা‌সিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না : দীনেশ ত্রিবেদী

২০২৪-এর ৫ আগস্টে বাংলা‌দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনা দীনেশ ত্রিবেদী।তি‌নি বলে‌ন, ‘শেখ হাসিনা যখন ভারত যান তিনি তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তা‌কে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভার‌তের কাছে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না।’শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে এক সেশনে প্রশ্নের জবা‌বে ভারতীয় হাইক‌মিশনার এ কথা ব‌লেন। শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণ নি‌য়ে এক প্রশ্নের জবা‌বে দী‌নেশ ত্রিবেদী ব‌লেন, ‘এটা বলতে গেলে আমাদের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ভারত সরকার তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে বারবার এর উত্তর দিয়েছে যে, এর একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আইনি বৈধতা জড়িত ও এটি বেশ সুগঠিত।’ তি‌নি ব‌লেন, ‘এ বিষয়ে বলতে গেলে প্রক্রিয়াটি চলছে এবং এটি আদালতের সঙ্গে জড়িত। তাই কেউ আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারবে না।’দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে শেখ হাসিনাকে আমাদের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সেসময় বাংলাদেশের মর্মান্তিক পরিস্থিতির কারণেই এমনটা হয়েছিল এবং আমরা আশা করি, প্রার্থনা করি যে, এমনটা যেন আর কখনো না ঘটে, যেখানে নির্দোষ মানুষ নিহত হয়। সেটা পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন।তি‌নি ব‌লেন, ‘সামরিক বিমানটি ভারতে এসেছিল, যার জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল না। আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম এবং স্ক্রলে লেখা আসছিল যে তিনি অন্য কোথাও, অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। তাই সেই সময়ে, শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল।’ভারতীয় হাইক‌মিশনার ব‌লেন, ‘অনেক সময় পরিস্থিতি এমন হয় যেখানে আপনি এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। আমাদের কাছে আর কী বিকল্প ছিল? আমরা যদি বলতাম যে, না আমরা তাকে গ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেব না, তবে পরিস্থিতি যে কী দাঁড়াতো তা আমার জানা নেই। সুতরাং এটিই হলো ঐতিহাসিক কারণ।’ তি‌নি আরও ব‌লেন, ‘বাকিটা আমার জানা নেই। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, সে বিষয়ে আপনি পুরোপুরি নিশ্চিত থাকতে পারেন। বাংলাদেশের মতো ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং আপনিও আইনি ব্যবস্থাকে সম্মান করবেন বলে আশা করি। আর আইনি ব্যবস্থা তার কাজ করছে।’ 

 শেখ হা‌সিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না : দীনেশ ত্রিবেদী

জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে শরিফ ওসমান হাদি বলেন, বিএনপি অসহযোগিতা করলে তাদের জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জামায়াত অসহযোগিতা করলে জবাবদিহি করতে হবে তাদেরও। এই সরকারের মেয়াদ হবে ১০ মাস থেকে এক বছর। যদি জাতীয় সরকার না করতে পারেন তাহলে জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল গড়ে তোলেন। জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল প্রধান হবেন ড. ইউনূস। সব রাজনৈতিক দল থেকে সেখানে প্রতিনিধি থাকবে সদস্য হিসাবে। তাদের সাংবিধানিক মর্যাদা হবে ক্যাবিনেট মন্ত্রী পরিষদের মতো। তারা মন্ত্রী হবেন না, উপদেষ্টা হবেন না কিন্তু ওয়াচডগ হিসাবে কাজ করবেন।জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্রের কার্যক্রম না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে কোনো লাভ নেই। যদি জুলাই ঘোষণাপত্র না আসে, যারা জুলাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দিল্লির সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ তাদের কচুকাটা করবে। জুলাই ঘোষণাপত্র সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলেই আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে।

জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ

৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা আরও জোরদারের লক্ষ্যে সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এ কারণে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাধীন এসব ব্যাংকের এটিএম, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম), পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) এবং কিছু কার্ড ও লেনদেনসেবা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে এসব সেবা সীমিত করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেবাগুলো সীমিত থাকতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সেবাগুলো স্বাভাবিকভাবে চালু হয়ে যেতে পারে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে সাময়িক এ বিঘ্ন ঘটছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেনের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে ৩০টি ব্যাংকের কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে; কিন্তু ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে অবহিত করেনি।তবে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সেবা সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।এ সময়ে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত এটিএম, সিআরএম ও পিওএস ব্যবহার করে লেনদেনে সমস্যা হতে পারে। তবে সব ব্যাংকের সব সেবা একসঙ্গে বন্ধ থাকবে না। ব্যাংকভেদে কোন সেবা কতক্ষণ বন্ধ থাকবে, তা আলাদা।৩০ ব্যাংকের সেবা বন্ধ: সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে সাময়িকভাবে বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সীমিত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ বাংলাদেশ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে গ্রাহকদের এসএমএসের মাধ্যমে সাময়িক সেবা বন্ধ থাকার তথ্য জানানো হয়েছে। জরুরি লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।তবে ডেবিট কার্ডের কিছু লেনদেন স্বাভাবিক থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। একই সঙ্গে অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম ও পিওএস, বাংলা কিউআর এবং মোবাইল আর্থিক সেবা- বিকাশ, নগদ ও উপায়ের মাধ্যমে লেনদেন চালু থাকার কথা বলা হয়েছে।ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে সিস্টেম আপগ্রেড বা মাইগ্রেশনের সময় সাময়িকভাবে কিছু সেবা বন্ধ রাখা অস্বাভাবিক নয়। তবে একসঙ্গে অনেক ব্যাংকের সেবা সীমিত থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বিশেষ করে জরুরি সময়ে এটিএম থেকে টাকা তোলা, দোকানে কার্ড দিয়ে কেনাকাটা, অনলাইন পেমেন্ট কিংবা কিউআর লেনদেনের প্রয়োজন হলে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাদের জরুরি লেনদেনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের আগেই বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ শেষ হলেই সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।