দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই-আকৃতিতে নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পাশাপাশি দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।সভা শেষে ব্রিফিং করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, এরমধ্যেই এই তিন প্রকল্পের সমীক্ষা শুরু হয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে এ সমীক্ষা শেষ হবে। এরপর অবস্থান এবং প্রকল্প ব্যয় নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, ২০৩৩ সালে দ্বিতীয় যমুনা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের।মূলত, সরকার গঠনের আগে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণ। সরকার গঠনের পর পরই রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরমধ্যেই নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে একনেক সভায়। ব্যারেজের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত আসে দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু নির্মাণেও।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবারও (৩ নভেম্বর) বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে। সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।এদিন সকাল ৯টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল শ্রমিক। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ছাড়া চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, কোনাবাড়ী, ভোগড়া ও সফিপুর এলাকাতেও শ্রমিকদের বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।একপর্যায়ে কোনাবাড়ী বিসিক এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে মহাসড়কে মহড়া দেন। এ সময় শ্রমিকদের একটি অংশ লাঠি হাতে তাদের সঙ্গে অবস্থান নেয়। তবে মহাসড়কের আশপাশে ও উড়ালসেতুর নিচে তাদের উপস্থিতি থাকলেও যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। দুপুর আড়াইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নতুন করে কোনো সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। তবে শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এসব কারখানার অধিকাংশ শ্রমিক নিরাপদে বাড়ি ফিরে যান।আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তবে তারা ভাঙচুর বা সহিংসতা চান না। আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান চান বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, শ্রমিক নামধারী দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা ঠেকাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ধরনের অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠে রয়েছে ১০ প্লাটুন বিজিবি এবং জেলা প্রশাসনের ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে যান। এ সময় কয়েকটি এলাকার শ্রমিকরা নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন স্থানে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে।গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া বহিরাগতদের আশ্রয় না দিতে বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকদের প্রতি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে; এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন। পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে।তিনি বলেন, কোনো মালিক কিংবা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিকই এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না।জামায়াত আমির আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা ধ্বংস করার জন্য গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকসহ সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন ক্রীড়া সংগঠন ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হবে।দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে কাজ করবে নতুন এই সংগঠন।অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও অর্থ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম।এনসিপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন সংগঠনে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদেরও যুক্ত করা হচ্ছে। শুরুতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।এম নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এনসিপির ক্রীড়া উইংয়ের হয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। যেখানে ফাহিম ভাই আহ্বায়ক ও আমি সদস্য সচিব আছি। এছাড়া সাবেক খেলোয়াড় ও অন্য সংগঠকদের রাখা হচ্ছে। ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়বে।’সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলব। পরামর্শ দেব। শুধু ক্রিকেট নয়, সারা দেশের সব খেলা নিয়ে আমাদের কাজ হবে। ভুলত্রুটি থাকলে বলব। যারা দায়িত্বে থাকবেন, তাদের সঙ্গে প্রয়োজনে সংলাপে বসব।’ভবিষ্যতে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হলে সরাসরি ক্রীড়া উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘পরবর্তীতে ফান্ড পেলে আমরা নিজেরাও ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করব।’
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সবশেষ বড় কার্যক্রম ছিল লংমার্চ। তবে সেখানে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। তার আগে পরের নানা ঘটনাপ্রবাহে জামায়াতের সঙ্গে দূরত্বের স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল। ফলে এনসিপির জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জনও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত ২১ অক্টোবর। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের উপস্থিতিতে হওয়া ওই বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই বৈঠকে জোটের কর্মসূচি কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মূলত নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী ইতোমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে এনসিপি। ঢাকা দক্ষিণে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে গাড়িবহর রওনা দেয়। উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমিরের পরপরই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের জন্য একটি চেয়ার খালি রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি উপস্থিত হননি।তার পরিবর্তে কর্মসূচিতে অংশ নেন যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সার্জিস আলম। তবে উদ্বোধনী সমাবেশে তাদের কেউ বক্তব্য দেননি। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এনসিপির নেতাদের বক্তব্যের কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ কর্মসূচি ঘিরে তেমন স্বতঃস্ফূর্ততাও দেখা যায়নি।ঢাকা, খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় আয়োজিত এই লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেননি, অথচ এর আগের দুটি লংমার্চে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ঢাকা থেকে শীর্ষ নেতারা যোগ না দিলেও লংমার্চের মাঝপথে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ অংশ নেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানান, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাহিদ ইসলাম। তাদের পক্ষে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তিনি। এ কারণেই লংমার্চে যাননি বলে ওই নেতা জানান।তবে এনসিপির আরেক শীর্ষ নেতার দাবি, বিষয়টি শুধু ব্যস্ততার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, সিটি নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে মতবিরোধ চলছে। এর বাইরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর অনিয়মের অভিযোগে জামায়াত জোরালো অবস্থান না নেওয়ায় দলটির প্রতি ক্ষুব্ধ এনসিপি। অভিমান থেকেই নাহিদ লংমার্চে যোগ দেননি বলে মনে করেন ওই নেতা।এনসিপি ও জামায়াতের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুই দলের দূরত্বের শুরু গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে আসন সমঝোতার আলোচনায় এনসিপি কমপক্ষে তিনটি সিটিতে ছাড় চেয়েছিল। ঢাকার দুই সিটির অন্তত একটিতে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে অনড় ছিল দলটি।জামায়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ঢাকার কোনো সিটিতেই শরিকদের ছাড় দিতে তারা রাজি নয়। বিনিময়ে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেয় তারা। এনসিপি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি এবং একপর্যায়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়। নেতারা জানান, এরপর থেকেই দুই দলের সম্পর্কে শিথিলতা তৈরি হয় এবং গত এক মাসে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেননি নাহিদ ইসলাম।পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে। সেখানে জামায়াত প্রার্থীর পরাজয়ের পর অনিয়মের অভিযোগে দলটির জোরালো প্রতিবাদ না করাকে ভালোভাবে নেয়নি এনসিপি। বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীর কাছ থেকে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর হাসিমুখে মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাও এনসিপি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এ নিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে তীব্র প্রতিবাদ জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।তবে সার্বিকভাবে সম্পর্ক ‘খারাপ’ তা মানতে নারাজ এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি সম্প্রতি একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে, এটা কে বলল? না, সম্পর্ক খারাপ এমন কিছু না। বিষয়টি হলো- একটা দলের সঙ্গে আরেকটা দলের সম্পর্ক, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো বা খারাপ হওয়ার মতো নয়। আমাদের প্রত্যেকটা দলের কিছু কিছু এজেন্ডা আছে, যেখানে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়। সেটার কারণেই মূলত একটা জোট হয়।’তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট ‘আদর্শিক’ নয়। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির কোনো আদর্শিক জোট নেই। নির্বাচনী ঐক্যের ভিত্তিতে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। ফলে জোটের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের কর্মসূচিও পালন করছে।’
সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যেসব বিষয়ে সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে। কিন্তু বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের পথে না গিয়ে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সংসদে ডাকা হয়েছে। আপনারা আসুন, আমরা একসঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি। কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সংশোধনের মাধ্যমেই তা করতে হবে।তিনি বলেন, সংবিধান স্বাধীনতার পর প্রণীত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধন হয়েছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। আর যেসব বিষয়ে সাধারণ আইন প্রণয়ন করলেই হবে, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানোর পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হাতে মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছালে তারা হাঁস-মুরগি পালনসহ ছোট ছোট আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে। এতে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়েছে।রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি বিএনপি সরকার দায়ী? এর জন্য কি তারেক রহমান দায়ী? বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা যায়। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবদান বিএনপি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেন।
যৌক্তিক কারণ না থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতেই লংমার্চ করছে বিরোধীদল। সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তারা, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জামায়াত ইসলাম লংমার্চ করছে, এটার যৌক্তিকতা জনগণ জানে না। জ্বালানি সংকট বিএনপি তৈরি করেনি, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হয়েছে।রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের কোনো কর্মসূচি যখন কাজ করছে না, তখন জনপ্রিয় মন্ত্রীদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে।