বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

রিজিক আটকে গেছে, টেনশন পিছু ছাড়ছে না? কী করবেন

জীবনে হঠাৎ চারপাশ থেকে অন্ধকার নেমে এসেছে? রিজিকের পথটা যেন থমকে গেছে, দুশ্চিন্তার ভারে ঘুম হারাম, কিংবা শত চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো কাজের সন্ধান পাচ্ছেন না? অনেক খেটেখাটুনি করেও সংসারের টানাটানি ঘুচছে না, কাজে মিলছে না কোনো বরকত? এমন জটিল মুহূর্তে কী করবেন?এমন একলা ও একাকী মুহূর্তে হতাশা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। মনে হয়, বুঝি সব পথ বন্ধ হয়ে গেল! কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের জন্য কখনোই সব পথ বন্ধ হয় না। অন্ধকার রাতের পরেই যেমন ভোরের আলোর ঝলকানি দেখা যায়, ঠিক তেমনি প্রতিটি কষ্টের পরপরই রয়েছে স্বস্তির বার্তা। জীবন যখন আপনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে, তখন ভেঙে না পড়ে ফিরে আসুন আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে। মনের গভীর থেকে করুন— ইস্তিগফার।সব জটিলতা কাটিয়ে জীবনকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করার জন্য এটি একটি মহৌষধ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন—তা হলো ‘ইস্তিগফার’ বা আল্লাহর কাছে মনেপ্রাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।ইস্তিগফার— এটি রিজিক ও রহমতের বন্ধ দুয়ার খোলার জাদুকরী চাবিকাঠি।ইস্তিগফার কেবল অতীতের গুনাহ ও ভুলত্রুটি মুছে ফেলার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবনে আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার এক জাদুকরী আমল। যখন মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে হাত বাড়ায়, তখন আসমানের রহমতের বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। কুরআন মজিদে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত নূহ (আ.)-এর মুখ দিয়ে উম্মতকে ইস্তিগফারের অপার মহিমা শিক্ষা দিয়েছেন—فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০-১২)এই আয়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ক্ষমা চাওয়ার এই সুবাসিত অভ্যাসের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ধন-সম্পদের বৃদ্ধি, সন্তানের মাধ্যমে সুখ লাভ এবং সার্বিক জীবনের অভাব দূর হওয়ার মূল রহস্য।সংকট মুক্তির আমল: যা বলছেন প্রিয়নবী (সা.)হতাশার সাগরে ডুবে থাকা মনকে সান্ত্বনা দিতে এবং কর্মজীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তার কঠিন সংকটগুলোকে সহজ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (অর্থাৎ ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে রাখবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি ও সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন, তার যাবতীয় চিন্তা-দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)আজ থেকেই শুরু হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যখনই মন খারাপ হবে, কাজের অভাব বা কোনো জটিলতায় হতাশ লাগবে— তখনই জিভে জপতে থাকুন—أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’অথবা পড়ুন সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, কিংবা মন থেকে নিজের ভাষায় আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন। হেঁটে-চলে, কাজের ফাঁকে, কিংবা নিরিবিলি রাতে দু'ফোটা চোখের জল ফেলে রবের কাছে নিজের মনের সব কষ্ট ও অভাবের কথা খুলে বলুন।জীবন আমাদের সবসময় আমাদের মনের মতো চলে না, মাঝেমধ্যে পথগুলো কেমন যেন আটকে যায়। কিন্তু সেই থমকে যাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং তা হতে পারে আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার এক সুন্দর উসিলা। তাই হতাশাকে বিদায় জানান, দুশ্চিন্তার পাহাড় সরিয়ে রেখে জিকিরে মুখরিত রাখুন আপনার দুটো ঠোঁট। প্রিয় রবের দরবারে হাত তুলে বলুন—‘হে আমার রব! আমি অনুতপ্ত, আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার রিজিক ও জীবনে বরকত দাও।’মনে রাখবেন, যে হাত আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা নিয়ে প্রসারিত হয়, দয়াময় আল্লাহ তাকে কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। কেননা তিনি বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। আপনার ইস্তিগফারই হোক আল্লাহর রহমত ও রিজিকে বরকত লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সব সংকট কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার  কার্যকরী হাতিয়ার।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

কঙ্গোগামী শান্তিরক্ষীদের পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান বিমান বাহিনী প্রধানের

২

পোশাক শ্রমিক আন্দোলন নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু

৩

ওএমএসে কোনো দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

৪

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি

৫

শ্রমিক অসন্তোষ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি বৈঠকে ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী

৬

সংক্ষুব্ধ হওয়ায় আমার দেশ পত্রিকার মিথ্যা বয়ান ছিঁড়ে ফেলেছি: রাশেদ খাঁন

৭

সারাদেশে ৪ থেকে ৭ নভেম্বর গ্যাসের চাপ কম থাকবে

৮

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টাঙ্গাইলে খেলার মাঠ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে, জমি কিনে দিচ্ছে সরকার

৯

তালাবদ্ধ-বিদ্যুৎহীন ‘শান্তি নিবাস’, মেলেনি অসহায় প্রবীণদের ঠাঁই

১০

ভারতের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ‘রইদ’

সর্বশেষ সব খবর
১

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

২

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

৩

পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

৪

আজকের স্বর্ণের দাম: ৮ অক্টোবর ২০২৬

৫

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ

৬

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বার্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

৭

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৮

শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৯

বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

১০

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

কঙ্গোগামী শান্তিরক্ষীদের পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান বিমান বাহিনী প্রধানের

কঙ্গোগামী শান্তিরক্ষীদের পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান বিমান বাহিনী প্রধানের

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কঙ্গোগামী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্ট সদস্যদের শৃঙ্খলা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনী সদর দফতরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি। এসময় মিশনের সাফল্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৪টি এমআই সিরিজ হেলিকপ্টার ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ১৩৪ সদস্যের কন্টিনজেন্ট ডিআর কঙ্গোতে নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট-২৩।এরইমধ্যে ২৩ সদস্য কঙ্গো পৌঁছেছেন। বাকিরা আগামী ৪ নভেম্বর দেশটির উদ্দেশে যাত্রা করবেন। এ দলের নেতৃত্বে থাকবেন এয়ার কমডোর এ টি এম ইরফানুর রহমান।

পোশাক শ্রমিক আন্দোলন নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু

পোশাক শ্রমিক আন্দোলন নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু

পোশাক শ্রমিক আন্দোলন নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকেছেন। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিমন্ত্রী শাহী আলম ও শিমুল বিশ্বাস।এদিন সকাল থেকেই রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিকালের দিকে এই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। গাজীপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন। সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।একই সময়ে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি পুলিশের গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া আশুলিয়াতেও শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা ও এর আশপাশের শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনার জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার।

ওএমএসে কোনো দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

ওএমএসে কোনো দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, 'খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা। এ নিয়ে কোন ধরনের দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কঠোর অবস্থানে।'রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির (ওএমএস) কার্যক্রম ট্টাকসেল-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, একটা মানুষও যেন অনাহারে না থাকে। এজন্য মানিকগঞ্জসহ সারাদেশে ওএমএস এর পয়েন্ট সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।'তিনি আরও বলেন, 'স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌছে দিতে হবে, এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সে লক্ষ্যেই নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। মাহে রমজানকে সামনে রেখে সরকার আগে থেকেই নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। যেগুলো সময়মতো জানানো হবে।'এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী, পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহরম আলী, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুস সাকিবসহ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শ্রমিক অসন্তোষ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি বৈঠকে ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী

শ্রমিক অসন্তোষ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি বৈঠকে ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান বিক্ষোভ ও অসন্তোষ মোকাবিলায় জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মূলত, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকেছেন। বৈঠকে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত থাকতে পারেন।এই বৈঠকের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এদিন সকাল থেকেই রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিকালের দিকে এই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। গাজীপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন। সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।একই সময়ে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি পুলিশের গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া আশুলিয়াতেও শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা ও এর আশপাশের শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনার জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে যে বার্তা দিল ইরান

পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে যে বার্তা দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের চাপের মুখেও এ বিষয়ে আলোচনায় বসবে না তেহরান।রোববার (১ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে আলী নিকজাদ বলেন, ইরান ও দেশটির সামরিক বাহিনীর ‘অদম্য শক্তি ও দৃঢ় মনোবল’ যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের বাস্তবতার কঠিন দেয়ালের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।তিনি বলেন, ‘ইরানের এই মহাকাব্যিক প্রতিরোধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মেনে নিতে হবে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরানি জাতি নয়, আত্মসমর্পণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।’নিকজাদ আরও বলেন, ‘চাপ যাই আসুক না কেন, পরমাণু ইস্যুতে আলোচনার কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়ার মতো নতুন কিছুই নেই।’ তার ভাষ্য, ‘এই মহান জাতি এরই মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য শত্রুদের যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাগুলোর কিছু অংশে অবৈধ বোমা হামলা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি।’

২৩ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

তালাবদ্ধ-বিদ্যুৎহীন ‘শান্তি নিবাস’, মেলেনি অসহায় প্রবীণদের ঠাঁই

তালাবদ্ধ-বিদ্যুৎহীন ‘শান্তি নিবাস’, মেলেনি অসহায় প্রবীণদের ঠাঁই

জীবনের শেষ বেলায় অসহায়, অবহেলিত ও আশ্রয়হীন প্রবীণ নারীদের নিরাপদ ঠিকানা হওয়ার কথা ছিল লালমনিরহাটের শান্তি নিবাস। ৬০ বছরের বেশি বয়সের ২৫ জন নারীর বাসস্থান, চিকিৎসা ও নিশ্চিত জীবনের প্রত্যাশা নিয়ে ৮ কোটি টাকারও বেশি ব্যায়ে নির্মিত হয়েছিল এই শান্তি নিবাস। কিন্তু এখনো তালাবদ্ধ ও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যেন স্বপ্নের আশ্রয় হয়েছে নিঃসঙ্গ এই ভবনে।কেন্দ্রটি ​হস্তান্তরের প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও এর দরজা খোলা হয়নি কোনো প্রবীণ মায়ের জন্য। জনবল সংকটের অজুহাতে তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে ভবনটি, এদিকে বকেয়া বিলের দায়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছে কোটি টাকার জিনিসপত্র। বর্তমানে ভবনটির আনুষ্ঠানিক দেখভালের জন্য নেই কারও দায়িত্ব। লালমনিরহাট সরকারি শিশু পরিবারের কর্তৃপক্ষ কেবল মানবিক কারণে এটি নজরে রাখছেন।লালমনিরহাট সরকারি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক মোসাম্মৎ হাওয়া খাতুন জানান, কবে নাগাদ এই ভবনটি চালু হবে, সেটি আমি বলতে পারব না। এটির আনুষ্ঠানিকভাবে দেখভালের দায়িত্বও আমাদের কাছে নেই। তবে যেহেতু আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই ভবনটি অবস্থিত, তাই আমি নিজ দায়িত্বে এটির দেখাশোনা করি মাত্র। ভেতরের জিনিসপত্র এখনো মোটামুটি ভালো আছে। তবে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন থাকায় রাতে ভবনটি ঘোর অন্ধকারে থাকে।লালমনিরহাটের বালাটারি এলাকায় সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) প্রাঙ্গণে ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট শুরু হয় এই শান্তি নিবাসের নির্মাণকাজ। প্রায় ৮ কোটি ১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই বহুতল ভবনটির কাজ শেষ হলে ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়।​৬০ বছরের ওপরে বয়স, এমন ২৫ জন প্রবীণ নারীর জন্য এখানে আছে ২৫টি আধুনিক শয়নকক্ষ, উন্নত ডাইনিং, লিফট, শরীরচর্চার জন্য জিমনেসিয়াম এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম। কিন্তু হস্তান্তরের তিন বছর পরও ভবনটি চালু না হওয়ায় এসব দামি জিনিসপত্র অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হতে বসেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে রাতে ঘোর অন্ধকারে ডুবে থাকে পুরো ভবনটি। এর পাশাপাশি লিফটের রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তির মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হওয়ার পথে। সরকারি অর্থে নির্মিত এমন একটি জনকল্যাণমূখী প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে রয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।শিক্ষক মাহফুজ রহমান বলেন, তিন বছর আগে শান্তি নিবাসের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রয়েছে সেখানে। যাদের জন্য এই আশ্রয়কেন্দ্র সেই প্রবীন নারীরাই সেখানে থাকার সুযোগ পাচ্ছে না এখনো। দ্রুত এর জনবল এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করে জেলার অবহেলিত বৃদ্ধা মায়েদের থাকার সুযোগ করে দেওয়া হোক।​সাংবাদিক খোরশেদ আলম সাগর বলেন, মহৎ উদ্দেশে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অথচ উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবদ্ধ। ঘরের আসবাবপত্র ব্যবহার না করায় এসব নষ্ট হচ্ছে। বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। এমন একটি প্রয়োজনীয় ভবনের এমন পরিণতি মেনে নেওয়া সত্যি কষ্টকর।লালমনিরহাট ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, লালমনিরহাটে শান্তি নিবাসটি চালু হওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ বর্তমান সময়ে পথেঘাটে অনেক বৃদ্ধাকে মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা যায়। শান্তি নিবাসটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করে পথেঘাটে পড়ে থাকা এসব বৃদ্ধার জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। আর এর উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। তা না হলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত শান্তি নিবাসটি কোনো কাজে আসবে না। এটি চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।লালমনিরহাটবাসীর একটাই চাওয়া, দ্রুতই খুলে দেওয়া হোক শান্তি নিবাসের বদ্ধ দরজা। এই নিঃশব্দ ভবনে জ্বলে উঠুক আলো। অসহায় অবহেলিত মায়েদের একাকীত্ব কেটে ফিরে পাক নিশ্চিত আশ্রয়, নিরাপত্তা ও শান্তির হাসি।লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে এমন আটটি শান্তিনিবাস নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে এটিও একটি।তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় এবং আমরা অবকাঠামো ও সরঞ্জামাদি বুঝে পাই। কিন্তু জনবলের পদ সৃষ্টি না হওয়ায় এর কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জনবল নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে এবং সেটির কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নিয়োগ সম্পন্ন হলেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি ক্রমে আমরা দ্রুত এটি চালু করতে পারবো।

২১ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যেসব বিষয়ে সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে। কিন্তু বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের পথে না গিয়ে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সংসদে ডাকা হয়েছে। আপনারা আসুন, আমরা একসঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি। কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সংশোধনের মাধ্যমেই তা করতে হবে।তিনি বলেন, সংবিধান স্বাধীনতার পর প্রণীত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধন হয়েছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। আর যেসব বিষয়ে সাধারণ আইন প্রণয়ন করলেই হবে, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানোর পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হাতে মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছালে তারা হাঁস-মুরগি পালনসহ ছোট ছোট আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে। এতে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়েছে।রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি বিএনপি সরকার দায়ী? এর জন্য কি তারেক রহমান দায়ী? বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা যায়। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবদান বিএনপি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেন।

সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী

সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী

যৌক্তিক কারণ না থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতেই লংমার্চ করছে বিরোধীদল। সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তারা, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জামায়াত ইসলাম লংমার্চ করছে, এটার যৌক্তিকতা জনগণ জানে না। জ্বালানি সংকট বিএনপি তৈরি করেনি, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হয়েছে।রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের কোনো কর্মসূচি যখন কাজ করছে না, তখন জনপ্রিয় মন্ত্রীদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে।

মিরপুর ১০-এর উচ্ছেদ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছেন জামায়াত আমির, ক্ষমা চাওয়া উচিত: মীর শাহে আলম

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমালোচনা করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ১০ নম্বরের উচ্ছেদ অভিযানের পর সস্তা রাজনীতি করতে এসেছেন জামায়াত আমির। লজ্জা থাকলে জনগণের সামনে ক্ষমা চাওয়া উচিত।শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।এ সময় বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য। জনগণ যাতে খুশি থাকে, সরকার সেই কাজই করে যাচ্ছে। বিএনপি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের জবাবদিহির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাত মাসের মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই প্রমাণ করে, প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দেবেন না।মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করা ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র নিয়ে ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাটি ইতিবাচক ছিল। ইশরাক জায়গা দখল করতে যাননি, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েছিলেন। তবে তার লড়াইয়ের পদ্ধতি ভুল ছিল।জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, ১১ দলীয় জোট লোক দেখানোর জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে, কিন্তু সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেনি। জামায়াত আমিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছোটখাটো ঘটনায়ও ব্যবস্থা নিচ্ছেন। অথচ বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ভোট নেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগের পরও গাজী নজরুলকে সংসদ থেকে বিদায় করা হয়নি। তাঁকে সংসদ থেকে সরানো হলে জনগণের আস্থা বাড়ত বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।মীর শাহে আলমের দাবি, এ কারণেই গতকালের (ঠাকুরগাও-১ আসনের উপনির্বাচন) নির্বাচনে জামায়াত ৪০ হাজার ভোট কম পেয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একের পর এক জামায়াতের প্রার্থীরা পরাজিত হলে দলটি প্রচারণার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোডশেডিংয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সমস্যা সমাধানে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। তবে বিরোধী দল এ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।একই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত বলেন, একটি বিরোধী দল এখনো জনসভার রাজনীতিতে আটকে আছে, যেখানে মানুষের উপস্থিতি থাকে না। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী জনসেবার রাজনীতি করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় তিনি বলেন, ১৫০০ মানুষ নিয়ে বিলাসবহুল জনসভা না করে এলাকার ময়লা পরিষ্কার করুন। আসুন, শুধু এলাকার ময়লা নয়, ফ্যাসিবাদ ও দেশের যে জঞ্জাল আছে, একসঙ্গে পরিষ্কার করি।

মিরপুর ১০-এর উচ্ছেদ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছেন জামায়াত আমির, ক্ষমা চাওয়া উচিত: মীর শাহে আলম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন অমানুষদের জায়গা: ফজলুর রহমান

বিএনপির সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীসের লেখাপড়া? এখানে তো কারও ভর্তি হওয়া উচিত না। এটাতো মাদ্রাসা একটা, সিনিয়র মাদ্রাসা। অমানুষদের একটা জায়গা হয়েছে এটা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে?শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন এই রাজনীতিক।ফজলুর রহমান মূলত একজন সিনিয়র আইনজীবী। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। তিনি এক সময় বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। এক সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়— এটা কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান? কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে পাকিস্তানের। আজকে যাই হোক সেই দিনের আন্দোলনের কথাই আমি বলছি।‘যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে শিক্ষায় মুক্তি— সেই ১৯২৭ সন, ১৯২৮ সন, ১৯২৯ সন, ১৯৩০ সন, আব্দুল ওহাব, আবুল হোসেনসহ সমস্ত কবি-সাহিত্যিক যারা ছিল। তাদের জন্ম দিয়েছে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের জন্ম দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে সেই মুজাফর আহমদ চৌধুরীদের মত লোক। নীলিমা ইব্রাহিমদের মত লোক, ড. নাজমা চৌধুরীর মত লোক। যত আছে সেই আহমদ শরীফদের মত লোক হুমায়ুন আজাদদের মত লোক, হুমায়ুন আহমদদের মত লোক।’’তিনি বলেন, ‘সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধী অমানুষদের একটা কারখানা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করার? যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আজম, নিজামীর ছবি টাঙানো হয়, এরাই নাকি জাতির নেতা। সেই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তো চিন্তাই করি না আমি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন অমানুষদের জায়গা: ফজলুর রহমান

আ.লীগের সঙ্গে ‘আঁতাত’, বিএনপি-জামায়াতের পারস্পরিক সন্দেহের নেপথ্যে কী

রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের নতুন মাত্রা তৈরি হচ্ছে আওয়ামী লীগকে ঘিরে।কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগ তুলছে বিএনপি। কিন্তু সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মতবিরোধের মধ্যেই এমন অভিযোগ কেন সামনে এলো?এটি কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে, নাকি জামায়াতকে সমঝোতায় আনার পরোক্ষ কোনো রাজনৈতিক চাপ এটি?একসময় বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রাজনীতি করেছে। কখনো চারদলীয় জোট, কখনো বিশ দলীয় জোট; দুই দলের সম্পর্ক ছিলো দীর্ঘদিনের। খবর বিবিসির।এখন বিএনপি ক্ষমতায়, আর জামায়াত বিরোধী দলে।এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি অভিযোগ করছে, সরকারকে অস্থিতিশীল করতে জামায়াত আর আওয়ামী লীগ একসঙ্গে হয়েছে। জামায়াত অভিযোগ অস্বীকার করছে।তাহলে এ অভিযোগের পেছনে কী আছে, আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিতর্কই বা কেন আবার সামনে আসছে?আঁতাত নিয়ে পালটাপালটি বক্তব্যে বিএনপি-জামায়াতরাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করেছিল জামায়াতের সমর্থন নিয়ে।পরে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াত ছিলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পান জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতা।এছাড়া বিএনপি যখন ক্ষমতার বাইরে সেই সময়ও বছরের পর বছর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপি-জামায়াতকে একসঙ্গে দেখা গেছে।কিন্তু এখন বিএনপি অভিযোগ করছে, জামায়াত-আওয়ামী লীগ একসঙ্গে হচ্ছে।সম্প্রতি রাজশাহীতে এক জনসভায় জামায়াতকে ইঙ্গিত করে খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিষ্কার গোয়েন্দাদের তথ্য আছে- যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বিএনপির শীর্ষ নেতারাও এ ধরনের অভিযোগ তুলতে থাকেন। জামায়াতের নাম উল্লেখ করে সরকারি দলের বক্তব্যের পর অবশ্য জামায়াতও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার অভিযোগ নাকচ করে।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামাত আঁতাত করবে, এটা কোনো পাগল কি বিশ্বাস করে? যারা জামায়াতের পাঁচজন শীর্ষ নেতার ফাঁসি দিল! যে আওয়ামী লীগ আমাদের অফিস বন্ধ রাখল! তাদের সঙ্গে কি আঁতাত হতে পারে?একইসঙ্গে তিনি পালটা আওয়ামী লীগের সঙ্গেই বিএনপির আঁতাতের অভিযোগ আনেন।আযাদ বলেন, আমাদের অফিস আওয়ামী লীগ সরকার দিনের পর দিন বন্ধ রেখেছিল। সারা দেশে কোথাও কোনো অফিস খুলতে পারি নাই। কই বিএনপির অফিস তো বন্ধ ছিল না। আওয়ামী লীগ আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে দিল না। কিন্তু তারা (বিএনপি) বছরের পর বছর দলীয় কার্যালয়ে বসে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করল, অনুমতি নিয়ে মিছিল করল, মিটিং করল। এই ইতিহাস তো আমাদের নাই। আঁতাত তো তারা সরকার যাওয়ার আগেই করে বসে আছে।বিএনপির সন্দেহ কী কারণে?এখানে কয়েকটি কারণ পাওয়া যাচ্ছে।এক. গোয়েন্দা তথ্য যেটার কথা খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন।দুই. জামায়াতের সরকারবিরোধী আন্দোলন, বিএনপি যেটাকে সরকার পতনের চেষ্টা হিসেবে দেখছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারা (জামায়াত) প্রথমেই বলেছে যে, আমরা তাদের (আওয়ামী লীগকে) মাফ করে দেব। ...৫ আগস্টের পর দুই তিন মাসের মধ্যেই তারা বলেছে। তো এগুলোতেই একটা সন্দেহ জনমনে আছে যে, এরা যেকোনো সময় মানে এই কাজগুলো করতে পারে বা তারা করছে ভেতরে ভেতরে। এটা তো আপনারা জানেন যে প্রাইম মিনিস্টার নিজে বলেছেন।তার দাবি, জামায়াত এখন যে আন্দোলন করছে, সেখানেও আওয়ামী লীগের যোগ থাকতে পারে। জামায়াত এখন চেষ্টা করছে গোপনে অমুকের সঙ্গে মিলে কীভাবে সরকারকে ঘায়েল করা যায়, তাকে কীভাবে দ্রুত ফেলে দেওয়া যায়। কিন্তু এটা করতে গিয়ে যে মহাবিপদ চলে আসতে পারে এবং তাতে যে তাদেরও লাভ হবে না, সেই সেন্সটা কাজ করছে কিনা এটা আমার যথেষ্ট সন্দেহ।তবে শুধু গোয়েন্দা তথ্য কিংবা সরকার পতনের চেষ্টা নয়, তৃতীয় আরেকটি কারণেও জামায়াত-আওয়ামী লীগ আঁতাতের ষড়যন্ত্র দেখছে বিএনপি। সেটা হচ্ছে, জুলাই সনদ এবং সংবিধান নিয়ে ‘অচলাবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা’।জামায়াতের ওপর বিএনপির পরোক্ষ চাপ তৈরির কৌশল?বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বর্তমান যে দূরত্ব, সেটার সূত্রপাত সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে।জামায়াতসহ এগার দল চায় গণভোটে পাশ হওয়া জুলাই সনদ হুবহু বাস্তবায়ন করতে। কিন্তু বিএনপি তাতে আগ্রহী নয়। তারা চায় যেসব বিষয়ে আপত্তি বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো না রাখতে।আরেকটি বড় বিরোধ হচ্ছে, সংবিধান নিয়ে। এগার দল চায়, সংবিধানের আমূল সংস্কার। আর বিএনপি চায়, সংবিধান সংশোধন।সংবিধান এবং জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি বিরোধী দলের দাবি না মানায় দলগুলো এখন রাজপথে গিয়েছে বলে বলছে তারা।বিএনপি চায় জুলাই সনদের সুরাহা করতে, এর আইনি ভিত্তি দিতে। কিন্তু বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় সেটায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অথচ বিএনপি এর দ্রুত সুরাহা চায়।তবে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, সংবিধান নিয়ে।জামায়াত সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। যেটাকে তারা বলছে সংস্কার। অন্যদিকে বিএনপি সংবিধান পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং প্রস্তাবিত সংস্কারের বৈধতা নিয়ে এর বিপরীত অবস্থানে আছে বলে বলছেন জামায়াত নেতারা।ফলে সরকার সংসদে যে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, বিরোধী দলগুলো সেটা বয়কট করেছে।বিরোধী দলগুলো অনড় থাকায় সেটা এখন বিএনপির জন্য উদ্বেগের কারণ। বিএনপির আশঙ্কা, রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া সরকার যদি একতরফা সংবিধান সংশোধনের দিকে যায়, তাহলে সেটা নৈতিক বৈধতার সংকট তৈরি করতে পারে।ফলে তারা জোর দিচ্ছে, যেন একটা সমঝোতা হয়। কিন্তু বিরোধী দলগুলো অনড়। আর অনড় অবস্থানকেই সন্দেহ করছে বিএনপি।কিন্তু এরসঙ্গে জামায়াত-আওয়ামী লীগ আঁতাতের যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার সম্পর্ক কী?রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই যে পয়েন্ট অফ নো রিটার্নের অবস্থায় যদি এভাবে চলে আসে যে, আমরা যেটা বলেছি ওটাই মানতে হবে। আমূল পরিবর্তন করে দিতে হবে সংবিধানের। তো এটা তো হতে পারে না। তারা বলছে যে, একেবারে সংবিধান সংস্কার করতে হবে, কোনো সংশোধন-টংশোধন বুঝি না। এখন আপনি যদি একটা গণতান্ত্রিক শক্তিকে এভাবে দুর্বল করেন, এটা যদি বিভাজন করেন তাতে তো পরাজিত শক্তি, তার আগমনের একটা পথ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।তাহলে বিএনপি কি জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে জামায়াতকে আপসে আনতেই আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ সামনে আনছে?বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল নয়; বরং তাদের কাছে ‘জামায়াত-আওয়ামী লীগ আঁতাতের’ গোয়েন্দা তথ্য আছে।তবে জামায়াত এসব দাবিকে স্পষ্টতই উড়িয়ে দিচ্ছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তারা (বিএনপি) তো স্বৈরাচারের সঙ্গে আঁতাত করেই ক্ষমতায় এসেছে। সেই আঁতাত হয়েছে নির্বাচনের আগেই। এর একটা অংশ আওয়ামী লীগ। আরেকটা অংশে আছে, আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র।জামায়াতের এই নেতার দাবি, সরকার দেশ চালাতে পারছে না বলেই ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করার’ চেষ্টা করছে। তারা আসলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তারা দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা এখন জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জুলাইকে এড়িয়ে যাচ্ছে। জুলাই সনদকেও এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, গণভোটকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে কনফিউশন তৈরি করা এবং একটা রাজনৈতিক প্রতারণা করে ফায়দা লোটার চেষ্টা ছাড়া আমি আর কিছু দেখছি না।আওয়ামী লীগ কী বলছে?ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনাসহ দলটির শীর্ষ নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। দলটির কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।কিন্তু যে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, যার শীর্ষ নেতারা পলাতক এবং অনেকেই আবার মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, তারা আওয়ামী লীগকে নিয়ে জামায়াত-বিএনপির যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সেটা নিয়ে কী বলছে?জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম বলেন, তারা কোনো দলের সঙ্গেই সমঝোতা করে কাজ করছেন না। এখানে বিএনপি, জামায়াত আর এনসিপির তো কোন পার্থক্য নাই। আদর্শগতভাবে এদের ভিতরে কোন পার্থক্য নাই। তারা সবাই আসলে একই। ফলে আওয়ামী লীগ এদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না, রাখার প্রয়োজন বোধ করে না। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে, জনগনের জন্যে কাজ করে।আওয়ামী লীগ বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের কথা নাকচ করছে। ফলে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাত বা ভারতীয় গোয়েন্দাদের বৈঠকের যে অভিযোগ সামনে আনছে বিএনপি, সেটি বাস্তব, নাকি নিছক রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।

আ.লীগের সঙ্গে ‘আঁতাত’, বিএনপি-জামায়াতের পারস্পরিক সন্দেহের নেপথ্যে কী

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রাপ্ত কেন্দ্র ৭৬, ধানের শীষ-৮৯২০৫, দাঁড়িপাল্লা-৩৬৪১৯

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ৬৬টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। এতে ধানের শীষ পেয়েছে ৮৯ হাজার ২০৫ ভোট, দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৩৬ হাজার ৪১৯ ভোট।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।প্রার্থীরা হলেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফয়সল আমিন, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকে মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকে হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন  প্রাপ্ত কেন্দ্র ৭৬, ধানের শীষ-৮৯২০৫, দাঁড়িপাল্লা-৩৬৪১৯
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

 বিনোদন বিনোদন

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি

শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত সাভার-আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে সাভার ও আশুলিয়ায় অন্তত ১৭৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করেছেন। তাদের আন্দোলনের মুখে ১৭৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।জানা যায়, রোববার সকাল থেকেই আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম পোশাক কারখানা ও টাউজার লাইন এবং নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে ওই তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অন্যান্য পোশাক কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন। দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের থামানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাস স্ট্যান্ডের শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ পোশাক শ্রমিকদের সড়ক থেকে সড়িয়ে দেন।আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করণ বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদের দাবি জানানো হয়েছে। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করে চাকরি থেকে ছাঁটাই ও বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের নিজেদের ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানান।কমফোর্ট কালেকশন নামে একটি পোশাক কারখানার অপারেটর রাজু আহমেদ বলেন, আমাদের এই পোশাক কারখানায় হেলপারদের বেতন ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা মাত্র। অন্যান্য পোশাক কারখানায় তাদের বেতন অনেক বেশি। অন্যান্য পোশাক কারখানায় হাজিরা বোনাস ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হলেও আমাদের কারখানাতে দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা। আমরা ন্যূনতম ন্যায্যমজুরি ও ভাতার দাবিতে রাস্তায় নেমেছি বলে জানান তিনি।বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকরা তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। তার মধ্যে প্রধান দাবি ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা। তবে এ নিয়ে মজুরি বোর্ড আজকে গঠন হয়েছে। শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এ দাবিতে আজও সড়কে নেমেছেন বলে জানান তিনি।