বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

রিজিক আটকে গেছে, টেনশন পিছু ছাড়ছে না? কী করবেন

জীবনে হঠাৎ চারপাশ থেকে অন্ধকার নেমে এসেছে? রিজিকের পথটা যেন থমকে গেছে, দুশ্চিন্তার ভারে ঘুম হারাম, কিংবা শত চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো কাজের সন্ধান পাচ্ছেন না? অনেক খেটেখাটুনি করেও সংসারের টানাটানি ঘুচছে না, কাজে মিলছে না কোনো বরকত? এমন জটিল মুহূর্তে কী করবেন?এমন একলা ও একাকী মুহূর্তে হতাশা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। মনে হয়, বুঝি সব পথ বন্ধ হয়ে গেল! কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের জন্য কখনোই সব পথ বন্ধ হয় না। অন্ধকার রাতের পরেই যেমন ভোরের আলোর ঝলকানি দেখা যায়, ঠিক তেমনি প্রতিটি কষ্টের পরপরই রয়েছে স্বস্তির বার্তা। জীবন যখন আপনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে, তখন ভেঙে না পড়ে ফিরে আসুন আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে। মনের গভীর থেকে করুন— ইস্তিগফার।সব জটিলতা কাটিয়ে জীবনকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করার জন্য এটি একটি মহৌষধ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন—তা হলো ‘ইস্তিগফার’ বা আল্লাহর কাছে মনেপ্রাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।ইস্তিগফার— এটি রিজিক ও রহমতের বন্ধ দুয়ার খোলার জাদুকরী চাবিকাঠি।ইস্তিগফার কেবল অতীতের গুনাহ ও ভুলত্রুটি মুছে ফেলার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবনে আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার এক জাদুকরী আমল। যখন মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে হাত বাড়ায়, তখন আসমানের রহমতের বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। কুরআন মজিদে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত নূহ (আ.)-এর মুখ দিয়ে উম্মতকে ইস্তিগফারের অপার মহিমা শিক্ষা দিয়েছেন—فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০-১২)এই আয়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ক্ষমা চাওয়ার এই সুবাসিত অভ্যাসের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ধন-সম্পদের বৃদ্ধি, সন্তানের মাধ্যমে সুখ লাভ এবং সার্বিক জীবনের অভাব দূর হওয়ার মূল রহস্য।সংকট মুক্তির আমল: যা বলছেন প্রিয়নবী (সা.)হতাশার সাগরে ডুবে থাকা মনকে সান্ত্বনা দিতে এবং কর্মজীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তার কঠিন সংকটগুলোকে সহজ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (অর্থাৎ ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে রাখবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি ও সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন, তার যাবতীয় চিন্তা-দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)আজ থেকেই শুরু হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যখনই মন খারাপ হবে, কাজের অভাব বা কোনো জটিলতায় হতাশ লাগবে— তখনই জিভে জপতে থাকুন—أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’অথবা পড়ুন সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, কিংবা মন থেকে নিজের ভাষায় আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন। হেঁটে-চলে, কাজের ফাঁকে, কিংবা নিরিবিলি রাতে দু'ফোটা চোখের জল ফেলে রবের কাছে নিজের মনের সব কষ্ট ও অভাবের কথা খুলে বলুন।জীবন আমাদের সবসময় আমাদের মনের মতো চলে না, মাঝেমধ্যে পথগুলো কেমন যেন আটকে যায়। কিন্তু সেই থমকে যাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং তা হতে পারে আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার এক সুন্দর উসিলা। তাই হতাশাকে বিদায় জানান, দুশ্চিন্তার পাহাড় সরিয়ে রেখে জিকিরে মুখরিত রাখুন আপনার দুটো ঠোঁট। প্রিয় রবের দরবারে হাত তুলে বলুন—‘হে আমার রব! আমি অনুতপ্ত, আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার রিজিক ও জীবনে বরকত দাও।’মনে রাখবেন, যে হাত আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা নিয়ে প্রসারিত হয়, দয়াময় আল্লাহ তাকে কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। কেননা তিনি বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। আপনার ইস্তিগফারই হোক আল্লাহর রহমত ও রিজিকে বরকত লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সব সংকট কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার  কার্যকরী হাতিয়ার।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

২

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

৩

শপথ নিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান

৪

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৫

পর্যাপ্ত বিচারপতি নিয়োগ ও বেঞ্চ গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

৬

নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

৭

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

৮

পুলিশের আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যার অধিকার আছে-প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

৯

বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাঠে বিএনপি

১০

মজুরি বোর্ড গঠনের তিন দিন পার হচ্ছে, সভা ডাকার কোনো উদ্যোগ নেই

সর্বশেষ সব খবর
১

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

২

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

৩

পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

৪

আজকের স্বর্ণের দাম: ৮ অক্টোবর ২০২৬

৫

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ

৬

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বার্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

৭

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৮

শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৯

বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

১০

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রবীণদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এজন্য তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি আলাদা ‘প্রবীণ সেল’ গঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সভাপতি ফেরদৌস আরা বেগমের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিনিধিদল প্রবীণদের জন্য বয়স্ক ভাতা, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব নাগরিকদের মেট্রোরেল, ট্রেন ও গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ ছাড়, প্রবীণবান্ধব চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া, সর্বজনীন সিনিয়র সিটিজেন কার্ড প্রভৃতি দাবি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি দাবিগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. খবির উদ্দিনসহ প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা।

শপথ নিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান

শপথ নিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। তারা হলেন মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফয়সল আমীন জানান, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করাই তার অগ্রাধিকার। তার এলাকায় কৃষকদের সমস্যা সমাধানে প্রথমেই কাজ শুরু করবেন তিনি।তিনি আরও জানান, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সচেতনতার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।এ সময় এলিজা জামান বলেন, তিনি নারী ও শিশুদের জন্য কাজ করতে চান এবং সংসদে তাদের কথা তুলে ধরতে চান।তিনি আরও বলেন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার যেনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকবেন।

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই-আকৃতিতে নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পাশাপাশি দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।সভা শেষে ব্রিফিং করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, এরমধ্যেই এই তিন প্রকল্পের সমীক্ষা শুরু হয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে এ সমীক্ষা শেষ হবে। এরপর অবস্থান এবং প্রকল্প ব্যয় নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, ২০৩৩ সালে দ্বিতীয় যমুনা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের।মূলত, সরকার গঠনের আগে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণ। সরকার গঠনের পর পরই রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরমধ্যেই নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে একনেক সভায়। ব্যারেজের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত আসে দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু নির্মাণেও।

পুলিশের আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যার অধিকার আছে-প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

পুলিশের আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যার অধিকার আছে-প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

পুলিশের আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকার আছে, যদি সে ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে এ ধরনের বলপ্রয়োগ অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং আনুপাতিক হতে হবে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশের বলপ্রয়োগ করার আইনি অধিকার আছে। পুলিশ আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকার আছে, যদি সেই ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, আইনি অধিকারের মধ্যে। কিন্তু যে কথাটা বারবার বলছি, সেটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং প্রপোশনেট বল প্রয়োগের মাধ্যমে।প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, আমি আগে একদিন বলেছিলাম বাংলাদেশের পুলিশ শেখ হাসিনার পুলিশের মতো আর হবে এটা আমি আশা করি না। আমি একজন নাগরিক হিসেবে বলছি, সরকারি মানুষ হিসেবে বলছি না। একটা জিনিস একটু আমরা মাথায় রাখব, সেটা হচ্ছে কোনো একটা অস্থিরতা বা আনরেস্ট সরকার কীভাবে হ্যান্ডেল করবে? কীভাবে সেটাকে ডিল করবে?আরেক প্রশ্নের উত্তরে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের ঘটনা স্বীকার করে তিনি বলেন, কিন্তু এই ধরনের একটা ঘটনায় আওয়ামী লীগ যেভাবে ঢোকে আমরা না ফার বেটার করেছি, আমি মনে করি, তারপরও দুয়েকটা জায়গায় ভুলভ্রান্তি হতে পারে, হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, দীর্ঘদিন যখন কেউ একটা প্রসেসে কাজ করেন, সেই প্রসেসে কাজ করতে গিয়ে যেটা হয়, যে কোথাও কোথাও একই চর্চা চলে আসতে পারে, এটি একটু সময় দিতে হবে।পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দায়িত্বের পার্থক্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কিন্তু আমি আপনাদের সরকারের অবস্থান জানাচ্ছি যে, এই পুলিশ জনগণকে মানে সেনাবাহিনীর সাথে পুলিশের ডিফারেন্সটা কী?সেনাবাহিনী যখন ডিল করে, সেনাবাহিনীর বন্দুকও যদি তাঁক করে, সে বন্দুক টাক করে শত্রুর দিকে ও চায় একটা গুলিতে যেন একজন শত্রু মারা যায়, এই তো? আর পুলিশ যখনই এনগেজ করে পিপলের সাথে, এমনকি মাঝে মাঝে বন্দুক তাঁক করে, কিন্তু তার বন্দুক তাঁক করে সে তার নিজের জনগণের দিকে, সুতরাং পুলিশকে এটা মাথায় রাখতে হবে, এমনকি প্রাণঘাতী অস্ত্র, পুলিশ ক্যাসেটের কাছে লেথাল ওয়েপন থাকে, তো সেই গুলিটাও কোথায় করব? কোথায় করে তাকে লিস্ট ক্যাজুয়ালটিতে নিবৃত্ত করা যাবে, এ চর্চাগুলো আমরা এ সরকারের অধীনে পুলিশ করবে, এটা আপনাদের নিশ্চিত করছি, আর একটু সময় দেন, যতটুকু দেখছেন এগুলো অনেক বেশি কমে যাবে।পুলিশের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের আইনি সীমা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই আইনের, আইনের মধ্যে, মানে আপনি মানে লেখা আছে পুলিশ কোনো পরিস্থিতিতে কাউকে হত্যা করার জন্য গুলি করতে পারবে, যদি ওই আইনি পরিস্থিতি হয় তখন।এ প্রসঙ্গে জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদের মৃত্যুর উদাহরণ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, যেমন ধরুন আমি একটা সহজ উদাহরণ দেই, আবু সাঈদ, আবু সাঈদ কী কোনো থ্রেট তৈরি করছিল? আমি জুলাইয়ের আবু সাঈদের কথা বলছি ও দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছিল, ওর আশপাশে অন্যকোনো আন্দোলনকারী ছিল কি না? কেউ পুলিশকে ইট পাটকেল, মানে গুলি দূরে থাক, ইট পাটকেল মারছিল? তো আপনাকে গুলি করেছেন কেন?সো দিজ আর দ্যা কোয়েশ্চেনস, কখনো যদি এরকম হয়, ওই যে আবার বলছি, পুলিশের কাছে তো লেথাল ওয়েপন থাকে।পুলিশের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বলছি পুলিশের কাছে ওয়ার গ্রেড ওয়েপন থাকতে হবে না কিন্তু ইভেন যে রিভলভার, এটা একটা লেথাল ওয়েপন, শর্টগান না রিভলভার একটা লেথাল ওয়েপন, থাকে তো, তার মানে হচ্ছে পুলিশের কোনো একটা পরিস্থিতি কখনো হতে পারে যে সে তার লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে।কিন্তু আমরা এই কথাটাই বলার চেষ্টা করছি, সেটা আইনি প্রক্রিয়ায়, আইনি নিয়মের মধ্যে এবং অবধানিত ছিল কি না, সেই প্রেক্ষাপটে, বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।হাসিনা সরকারের সময় পুলিশের বল প্রয়োগের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, হাসিনার সময় আমরা দেখি যে ট্রিগার হ্যাপি বলি, আপনি ট্রিগার হ্যাপি পুলিশ, যেখানে একটু বলপ্রয়োগ করলে, একটু লাঠিচার্জ করলে, একটু কাঁদানে গ্যাস দিলেই একটা কাউকে ডিসপেক্ট করবে, মানে আপনি গুলি করে দিতেন, যেখানে শর্টগান দিয়ে গুলি করা যায়, সেখানে আপনি লেথাল ওয়েপনের গুলি করে মানুষ মেরে ফেলেছেন, এই জায়গাগুলো থেকে সরে আসতে হবে, আমার বক্তব্য ছিল সেটা।সাম্প্রতিক বলপ্রয়োগ ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এখনই, এখনই কোনো কথা এভাবে না বলি, অনেকে অনেক রকম অভিযোগ করছেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচুর কথাবার্তা হচ্ছে, কিন্তু একটা রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের মতো চলবে, এটা নিয়ে নিশ্চিতভাবেই তদন্ত হবে, রাষ্ট্রের যে কোনো নাগরিক যখন এ রকম মৃত্যুর শিকার হন, তার ব্যাপারে জেনুইন তদন্ত হবে এবং সেটার ব্যাপারে যে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রচুর ফ্রেমিং আছে, নানান রকম ফ্রেমিং আছে সোশ্যাল মিডিয়াতে, আমরা যেন সেটার দিকে খুব বেশি দৃষ্টি না দিই।পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।তিনি আরও বলেন, আমরা যদি গার্মেন্টস যে মজুরি কমিশন তৈরি হওয়া, টেকনিক্যালি একই তৈরি হওয়ার কথা ছিল না। এই মজুরির রিভিশন হয়েছে পাঁচ বছর পরপর। ২০২৩ সালে কিন্তু একবার মজুরি রিভিশন হয়েছিল, ২৩ সালে। ২৩ সালের পর ২৬ এ এসে এই কমিশন মজুরির জন্য হওয়ার কথা ছিল না।মজুরি পুনর্নির্ধারণের আগের বছরগুলোর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮, ২০২৩ এর পরে আবার ২০২৬-এ হলো।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেটের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর ৫টায় সবার আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভার্মন্টে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ভার্মন্টে স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা) সবার আগে কেন্দ্র খুলে দিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।এরপর নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট, কেনটাকি ও মেইনসহ দেশের পূর্ব উপকূলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোর ৬টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও নিজস্ব স্থানীয় সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হবে।ডাকযোগে পাঠানো মেইল-ইন ব্যালট ও আগাম ভোটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নিবন্ধিত ভোটার ইতোমধ্যে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।চলমান এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের প্রতিটিতেই ভোটগ্রহণ চলছে। এর পাশাপাশি উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন এবং দেশের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত হবে আজকের এই ভোটাভুটিতে।বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী দুই বছরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক নীতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা।যে কারণে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান; উভয় দলের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত সংবেদনশীল পরীক্ষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্রগুলোতে আনুষ্ঠানিক গণনা প্রক্রিয়া শুরু হবে।

৫ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

বাসের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ

বাসের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় মাইশা মুসফিয়াত (২১) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় লেন ও রেললাইন অবরোধ করেছেন।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তারা এ অবরোধ শুরু করেন। এর আগে সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত মাইশা মুসফিয়াত বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া এলাকার সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তারের মেয়ে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ঢাকামুখী লেনে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় ঢাকামুখী একটি দ্রুতগতির লরি সামনে চলতে থাকা স্থানীয় রুটের একটি ৮ নম্বর বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় তিনজন আহত হন।আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক। তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী মাইশা গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ কাসেম পিএসসি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গলবারের সব ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (দুপুর দেড়টা) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় লেন ও রেললাইন অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

৯ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাঠে বিএনপি

বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাঠে বিএনপি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবারও (৩ নভেম্বর) বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে। সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।এদিন সকাল ৯টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল শ্রমিক। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ছাড়া চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, কোনাবাড়ী, ভোগড়া ও সফিপুর এলাকাতেও শ্রমিকদের বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।একপর্যায়ে কোনাবাড়ী বিসিক এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে মহাসড়কে মহড়া দেন। এ সময় শ্রমিকদের একটি অংশ লাঠি হাতে তাদের সঙ্গে অবস্থান নেয়। তবে মহাসড়কের আশপাশে ও উড়ালসেতুর নিচে তাদের উপস্থিতি থাকলেও যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। দুপুর আড়াইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নতুন করে কোনো সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। তবে শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এসব কারখানার অধিকাংশ শ্রমিক নিরাপদে বাড়ি ফিরে যান।আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তবে তারা ভাঙচুর বা সহিংসতা চান না। আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান চান বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, শ্রমিক নামধারী দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা ঠেকাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ধরনের অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠে রয়েছে ১০ প্লাটুন বিজিবি এবং জেলা প্রশাসনের ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে যান। এ সময় কয়েকটি এলাকার শ্রমিকরা নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন স্থানে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে।গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া বহিরাগতদের আশ্রয় না দিতে বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকদের প্রতি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

ষড়যন্ত্রকারী-ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে

ষড়যন্ত্রকারী-ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে

ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে; এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন। পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে।তিনি বলেন, কোনো মালিক কিংবা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিকই এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না।জামায়াত আমির আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা ধ্বংস করার জন্য গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকসহ সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির নতুন উইংয়ের আত্মপ্রকাশ আজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন ক্রীড়া সংগঠন ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হবে।দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে কাজ করবে নতুন এই সংগঠন।অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও অর্থ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম।এনসিপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন সংগঠনে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদেরও যুক্ত করা হচ্ছে। শুরুতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।এম নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এনসিপির ক্রীড়া উইংয়ের হয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। যেখানে ফাহিম ভাই আহ্বায়ক ও আমি সদস্য সচিব আছি। এছাড়া সাবেক খেলোয়াড় ও অন্য সংগঠকদের রাখা হচ্ছে। ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়বে।’সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলব। পরামর্শ দেব। শুধু ক্রিকেট নয়, সারা দেশের সব খেলা নিয়ে আমাদের কাজ হবে। ভুলত্রুটি থাকলে বলব। যারা দায়িত্বে থাকবেন, তাদের সঙ্গে প্রয়োজনে সংলাপে বসব।’ভবিষ্যতে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হলে সরাসরি ক্রীড়া উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘পরবর্তীতে ফান্ড পেলে আমরা নিজেরাও ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করব।’

এনসিপির নতুন উইংয়ের আত্মপ্রকাশ আজ

এনসিপির জামায়াত জোট ছাড়ার বিষয়ে যা জানা গেল

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সবশেষ বড় কার্যক্রম ছিল লংমার্চ। তবে সেখানে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। তার আগে পরের নানা ঘটনাপ্রবাহে জামায়াতের সঙ্গে দূরত্বের স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল। ফলে এনসিপির জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জনও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত ২১ অক্টোবর। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের উপস্থিতিতে হওয়া ওই বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই বৈঠকে জোটের কর্মসূচি কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মূলত নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী ইতোমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে এনসিপি। ঢাকা দক্ষিণে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে গাড়িবহর রওনা দেয়। উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমিরের পরপরই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের জন্য একটি চেয়ার খালি রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি উপস্থিত হননি।তার পরিবর্তে কর্মসূচিতে অংশ নেন যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সার্জিস আলম। তবে উদ্বোধনী সমাবেশে তাদের কেউ বক্তব্য দেননি। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এনসিপির নেতাদের বক্তব্যের কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ কর্মসূচি ঘিরে তেমন স্বতঃস্ফূর্ততাও দেখা যায়নি।ঢাকা, খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় আয়োজিত এই লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেননি, অথচ এর আগের দুটি লংমার্চে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ঢাকা থেকে শীর্ষ নেতারা যোগ না দিলেও লংমার্চের মাঝপথে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ অংশ নেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানান, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাহিদ ইসলাম। তাদের পক্ষে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তিনি। এ কারণেই লংমার্চে যাননি বলে ওই নেতা জানান।তবে এনসিপির আরেক শীর্ষ নেতার দাবি, বিষয়টি শুধু ব্যস্ততার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, সিটি নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে মতবিরোধ চলছে। এর বাইরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর অনিয়মের অভিযোগে জামায়াত জোরালো অবস্থান না নেওয়ায় দলটির প্রতি ক্ষুব্ধ এনসিপি। অভিমান থেকেই নাহিদ লংমার্চে যোগ দেননি বলে মনে করেন ওই নেতা।এনসিপি ও জামায়াতের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুই দলের দূরত্বের শুরু গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে আসন সমঝোতার আলোচনায় এনসিপি কমপক্ষে তিনটি সিটিতে ছাড় চেয়েছিল। ঢাকার দুই সিটির অন্তত একটিতে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে অনড় ছিল দলটি।জামায়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ঢাকার কোনো সিটিতেই শরিকদের ছাড় দিতে তারা রাজি নয়। বিনিময়ে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেয় তারা। এনসিপি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি এবং একপর্যায়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়। নেতারা জানান, এরপর থেকেই দুই দলের সম্পর্কে শিথিলতা তৈরি হয় এবং গত এক মাসে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেননি নাহিদ ইসলাম।পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে। সেখানে জামায়াত প্রার্থীর পরাজয়ের পর অনিয়মের অভিযোগে দলটির জোরালো প্রতিবাদ না করাকে ভালোভাবে নেয়নি এনসিপি। বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীর কাছ থেকে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর হাসিমুখে মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাও এনসিপি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এ নিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে তীব্র প্রতিবাদ জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।তবে সার্বিকভাবে সম্পর্ক ‘খারাপ’ তা মানতে নারাজ এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি সম্প্রতি একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে, এটা কে বলল? না, সম্পর্ক খারাপ এমন কিছু না। বিষয়টি হলো- একটা দলের সঙ্গে আরেকটা দলের সম্পর্ক, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো বা খারাপ হওয়ার মতো নয়। আমাদের প্রত্যেকটা দলের কিছু কিছু এজেন্ডা আছে, যেখানে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়। সেটার কারণেই মূলত একটা জোট হয়।’তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট ‘আদর্শিক’ নয়। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির কোনো আদর্শিক জোট নেই। নির্বাচনী ঐক্যের ভিত্তিতে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। ফলে জোটের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের কর্মসূচিও পালন করছে।’

এনসিপির জামায়াত জোট ছাড়ার বিষয়ে যা জানা গেল

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যেসব বিষয়ে সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে। কিন্তু বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের পথে না গিয়ে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সংসদে ডাকা হয়েছে। আপনারা আসুন, আমরা একসঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি। কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সংশোধনের মাধ্যমেই তা করতে হবে।তিনি বলেন, সংবিধান স্বাধীনতার পর প্রণীত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধন হয়েছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। আর যেসব বিষয়ে সাধারণ আইন প্রণয়ন করলেই হবে, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানোর পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হাতে মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছালে তারা হাঁস-মুরগি পালনসহ ছোট ছোট আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে। এতে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়েছে।রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি বিএনপি সরকার দায়ী? এর জন্য কি তারেক রহমান দায়ী? বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা যায়। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবদান বিএনপি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেন।

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী

যৌক্তিক কারণ না থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতেই লংমার্চ করছে বিরোধীদল। সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তারা, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জামায়াত ইসলাম লংমার্চ করছে, এটার যৌক্তিকতা জনগণ জানে না। জ্বালানি সংকট বিএনপি তৈরি করেনি, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হয়েছে।রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের কোনো কর্মসূচি যখন কাজ করছে না, তখন জনপ্রিয় মন্ত্রীদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে।

সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

 বিনোদন বিনোদন

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

মজুরি বোর্ড গঠনের তিন দিন পার হচ্ছে, সভা ডাকার কোনো উদ্যোগ নেই

মজুরি বোর্ড গঠনের তিন দিন পার হচ্ছে, সভা ডাকার কোনো উদ্যোগ নেই

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে গত রোববার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। দুই দিন পার হলেও মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আয়োজনের কোনো উদ্যোগ নেই। এদিকে আজ মঙ্গলবারও গাজীপুর, সাভার–আশুলিয়া ও মিরপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে।শ্রম মন্ত্রণালয় রোববার এক প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে। বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং মালিক ও শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হিসেবে যথাক্রমে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ করা হয়।ওই দিনই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ করা হয়।তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড কাজ করবে। বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।বোর্ডের প্রথম সভা কবে হবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শিগগিরই মজুরি বোর্ডের সভা করব। আমরা সভা করার জন্য প্রস্তুত।’শেখ আশফাকুর রহমান জানান, সর্বশেষ মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপনের ৪৫ দিন পর প্রথম সভা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়েছিল ছয় থেকে সাত মাসে। এবার তেমনটি হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শেষ করতে সরকার আন্তরিক।মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের দুই প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন ও বাবুল আখতার গতকাল সোমবার শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ডের সভা ডাকার অনুরোধ করেন। এ জন্য তাঁরা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেবেন বলে জানান।সংবাদ সম্মেলনে বাবুল আখতার বলেন, ‘সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিম্নতম মজুরি কাঠামো কার্যকর হয়েছিল। সেই হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কাঠামো হবে। শ্রমিকেরা যেন জানুয়ারিতে মজুরি হাতে পান, সেভাবে আমরা কাজ করব। আমাদের বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজনে আমরা মজুরি বোর্ডে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করব। রাতভর বৈঠক করতেও আমাদের আপত্তি নেই। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ে আমরা কোনো ছাড় দেব না।’তৈরি পোশাকশিল্পে সর্বশেষ নিম্নতম মজুরি বোর্ড হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর মজুরি কাঠামো কার্যকর করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। শ্রম মন্ত্রণালয় ৯ এপ্রিল মজুরি বোর্ডের জন্য মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়োগ করে। সেই বোর্ড ছয়টি সভা করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি করার সুপারিশ করেছিল। ডিসেম্বরে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রথমবার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। সেই বোর্ড ৯৩০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে। ২০০৬ সালে সেটি বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। ২০১০ সালের মজুরি বোর্ডে শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি তিন হাজার টাকা করা হয়। ২০১৩ সালের মজুরি বোর্ড ৫ হাজার ৩০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের জন্য আট হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি চূড়ান্ত করে।