বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

স্বস্তি! ১১ অক্টোবর থেকে নিয়ম মেনেই চলবে দিল্লির সমস্ত ট্রেন, বড় ঘোষণা রেলের

২

‘মোদি ভারতের জন্য লজ্জার’ মুক্তি পেয়ে অভিজিতের বার্তা

৩

আটক ৩ হাজার বিক্ষোভকারী মুক্ত হলেও হেফাজতে অভিজিৎ ও ধ্রুব রাঠীসহ চারজন

৪

বলিউড নয়, হাজারো কৃষকের ভালোবাসায় বিদায় নিলেন নানা পাটেকর

৫

ট্রাম্পের গায়ে বাংলাদেশি স্যুট, মার্কিন বাজারে বাড়ছে সম্ভাবনা

৬

হুথিদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে, হুমকি সৌদি জোটের

৭

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৮

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

৯

সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি করছে সরকার-নৌপরিবহনমন্ত্রী

১০

ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় ‘বড় পরিবর্তন’

সর্বশেষ সব খবর
১

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

২

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ

৩

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৪

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বার্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

৫

‘শিক্ষাঝুঁকিতে’ দেড় লাখ রোহিঙ্গা শিশু, অন্ধকারেও আলো ছড়াচ্ছে অদম্যরা

৬

আজকের স্বর্ণের দাম: ৮ অক্টোবর ২০২৬

৭

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

৮

শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৯

পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

১০

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক আজ

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এ সময় বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং দ্বিতীয় কাফকো স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।রোববার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোটোর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি এই সাক্ষাৎ করে।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।এ সময় তিনি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের জন্য মারুবেনি করপোরেশনকে স্বাগত জানান।বাংলাদেশের সঙ্গে মারুবেনির দীর্ঘদিনের পাটজাত পণ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।জবাবে মারুবেনি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা জানান, তারা বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন।বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা এবং এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।বিশেষ করে প্রকৌশলে স্নাতকদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় আরও দক্ষ করে তুলতে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে আসে। এ সময় জানানো হয়, দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সেবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র (সার্ভিস হাব) হয়ে উঠতে পারে।আগামী ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টার চালুর পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ খাতে মারুবেনি করপোরেশন গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্প্রসারণে মারুবেনির বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও উভয় পক্ষ আলোচনা করে।বৈঠকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) মারুবেনি করপোরেশনের বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দেশে দ্বিতীয় একটি কাফকো স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে মারুবেনি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।এ ছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।মারুবেনি করপোরেশনের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু ওয়াকামোরি এবং বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড মানাবু সুগাওয়াড়া।

সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি করছে সরকার-নৌপরিবহনমন্ত্রী

সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি করছে সরকার-নৌপরিবহনমন্ত্রী

দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারে জাতীয় বন্দর কৌশল (ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি) প্রণয়ন করছে সরকার। এ কৌশলে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থার স্বার্থের চেয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।তাই বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা প্রয়োজন ছিল।অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষ ও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। দীর্ঘদিনের এ প্রয়োজন পূরণে সরকার জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরির ক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সরকারি সংস্থার আইনগত দায়িত্ব ও কর্তৃত্বকে উপেক্ষা করা যাবে না। বরং বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে এ কৌশল তৈরি করতে হবে।দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জড়িত। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া জরুরি।শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো একটি পক্ষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কৌশলপত্র তৈরি করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে। বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বিশেষজ্ঞদের কার্যকর সুপারিশ প্রয়োজন।জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও মতামত কাজে লাগিয়ে দেশের উপযোগী একটি কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে।বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পেতে হলে বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বন্দরের উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে আমদানি-রপ্তানি সহজ হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরির সময় উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজন এবং স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল কেবল একটি মন্ত্রণালয় বা নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের বিষয় নয়। দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, বাংলাদেশের বন্দরগুলোর দীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। বহু বছর ধরে এসব বন্দরকে কেন্দ্র করে নৌযান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে দেশের বন্দর অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। এখন সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও কার্যকর করতে হবে।তিনি বলেন, দেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।সেমিনারে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে জাইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ফেরানোর আহ্বান শফিকুর রহমানের

আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ফেরানোর আহ্বান শফিকুর রহমানের

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। হামলা-পাল্টা হামলায় বিশ্ব অনিরাপদ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুরস্কে সরকারি সফর শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গতকালকে রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। এ হামলার জন্য সৌদি আরব হুতিদের দায়ী করেছে। সৌদি আরব হচ্ছে হারামাইন শরীফাইনের দেশ। যেখানে আল্লাহর ঘর কাবা এবং রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের মসজিদ এবং রওজা। আর কালামে হাকিমও নাযিল হয়েছে।তিনি বলেন, সৌদি আরবে যে কেউ হামলা করুক, এটা কোনো শুভ কাজ নয়। এটা একটা অশুভ কাজ। এজন্য এই ধরনের হামলার আমরা নিন্দা করি। যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা যাই থাকুক সেটা সমাধান হওয়া উচিত। এই হামলায় এ পর্যন্ত আমাদের জানামতে ১২ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। জামায়াত আমির আরও বলেন, রিয়াদের আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দর থেকে কমপ্লিট শাট ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেরও দুইটি ফ্লাইট আমাদের এখানকার অথরিটি এটাকে স্থগিত করেছে। কিং খালিদ এয়ারপোর্টটি অতি বড় মাপের একটা আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট। ধারণা করা হচ্ছে, হাজার হাজার ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লাখ লাখ প্যাসেঞ্জার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা এই ক্ষেত্রে হামলা পাল্টা হামলায় যারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদের সবার প্রতি আহ্বান জানাবো। গোটা বিশ্ব এখন অস্থির এবং অশান্তিতে পড়ে গেছে। জায়গায় জায়গায় মানুষের জীবন তুচ্ছ হয়ে উঠেছে। রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই না যে এটা আর হোক। এইজন্য আমরা দাবি করছি সবাই যেন শান্তির পথে ফিরে আসেন। আলাপ আলোচনায় বসেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন এখানে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।তিনি বলেন, তুরস্ক বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, এটা দশকের নয় শতাব্দীর। তুরস্ক বাংলাদেশের পরীক্ষিত নিখাত বন্ধু। ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ছিল তার পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি লেভেলে অনেকগুলো বৈঠক ছিল। তুরস্ক পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আরও উচ্চ পর্যায়ের অনেক সরকারি পর্যায়ের মিটিং হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ের অনেকগুলো মিটিং হয়েছে।তিনি বলেন, আমরা ইন্টারন্যাশনাল যে কনফারেন্সে যোগদান করেছিলাম তার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা। এখানে তুরস্কের পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা ছিলেন। তুরস্ক পার্লামেন্টের তুরস্ক বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান সহ অন্যান্যরা ছিলেন। এমপিরা ছিলেন। সরকারি দপ্তরের অনেক কর্মকর্তা ছিলেন।তুরস্ক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে আমরা বলেছি অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্বার্থ নিয়ে আমাদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে ব্যাপকভাবে। আমাদের এডুকেশন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, তাদের বিনিয়োগ, ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি সম্প্রসারণ করা। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মক্কা প্যাক্টের ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক আজ

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক আজ

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের তথ্যে জানা যায় সভায় দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠক ডেকেছেন।সাধারণত জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর এক বা দুই দিন আগে কিংবা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই এ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

স্বস্তি! ১১ অক্টোবর থেকে নিয়ম মেনেই চলবে দিল্লির সমস্ত ট্রেন, বড় ঘোষণা রেলের

স্বস্তি! ১১ অক্টোবর থেকে নিয়ম মেনেই চলবে দিল্লির সমস্ত ট্রেন, বড় ঘোষণা রেলের

গত দু'দিন ধরে দিল্লিতে বিক্ষোভ। টালমাটাল পরিস্থিতি। এর জেরে গত দু'দিন ধরেই ট্রেন চলাচলে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা এবার কাটছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১১ অক্টোবর থেকে সমস্ত ট্রেন আগের মতো স্বাভাবিক সময়ই চলাচল করবে।দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে 'কাকরোচ জনতা পার্টি'-র (সিজেপি) বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এর পরেই গত ৯ ও ১০ অক্টোবর একাধিক ট্রেন বাতিল বা তার সময় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল ভারতীয় রেল।একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা আছে, এমন সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল রাখা হয়েছিল।এদিকে, রতলম ডিভিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুকেশ কুমার জানান, অপারেশনাল বা কাজের সুবিধার কারণেই ইন্দোর ও দিল্লির মধ্যে চলা বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়। এছাড়া মুম্বই থেকে ছাড়া রাজবধানী ও অগাস্ট ক্রান্তি এক্সপ্রেস পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে চলেছে।কোন কোন ট্রেন বাতিল বা পরিবর্তিত হয়েছিল?ইন্দোর ও ড. আম্বেদকর নগর থেকে চলা বেশ কিছু ট্রেন (যেমন— ২০১৫৫, ০৯৩০৯ ও ১২৪১৫ নম্বর ট্রেন) বাতিল করা হয়।দিল্লির যুব এক্সপ্রেসও বাতিল করা হয়েছিল। মুম্বই সেন্ট্রাল থেকে ছাড়া ১২৯৫১ রাজধানী এক্সপ্রেস এবং ১২৯৫৩ অগাস্ট ক্রান্তি এক্সপ্রেস পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে যাঁদের টিকিট কনফার্ম করা ছিল, তাঁরা পুরো টাকা ফেরত পাবেন বলে জানানো হয়েছে।এছাড়া পশ্চিম মধ্য রেলওয়ের ভোপাল ডিভিশনও ৯ অক্টোবর মুম্বই-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস (২২২২১) বাতিল করেছিল।যাত্রীদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে ১১ অক্টোবর থেকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় স্বস্তিতে যাত্রীরা।

১৩ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

সারের ডিলার পেলেন জেলা বিএনপি সভাপতির ভাই, শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রী

সারের ডিলার পেলেন জেলা বিএনপি সভাপতির ভাই, শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রী

সরকার নির্ধারিত নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগের তালিকায় জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের ভাই, চাচাতো শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রীর নাম স্থান পেয়েছে। এক্ষেত্রে মানা হয়নি সরকার নির্ধারিত নিয়মনীতি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ডিলারদের তালিকা প্রকাশের পরপরই বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।জানা গেছে, শুক্রবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার ডিলারের তালিকা প্রকাশ হয়। এতে ৫নং শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের চাচাতো শ্যালক নাজমুল হক মিশুর মেসার্স নাজমুল ট্রেডার্স ও ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে এমএ মজিদের বড় শ্যালক মাহমুদ হাসান লিটনের স্ত্রী সুরমা হাসানের সাদ ট্রেডার্স ডিলারের তালিকায় স্থান পেয়েছে। নাজমুল হক মিশু শহরের বিহারী মোড় এলাকায় রড-সিমেন্টের ব্যবসা করে ও সুরমা হাসান গৃহিণী বলে জানা গেছে। তাদের নাম জেলা কমিটির সুপারিশে স্থান পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তালিকায়। এছাড়াও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নে সারের ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের ভাই আব্দুল লতিফ। উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেও ৮নং ওয়ার্ড থেকে ডিলার নিয়োগ দিয়ে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আব্দুল লতিফ এই ইউনিয়নে মেসার্স একতা ট্রেডার্স নামে সারের ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন।নীতিমালার প্রধান শর্ত অনুযায়ী, কোনো ইউনিয়নের সারের ডিলার হতে হলে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং সেখানে তার নিজস্ব দোকান বা গোডাউনসহ ব্যবসায়িক অবকাঠামো থাকতে হবে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা উপজেলার শিমলা-রোকনপুর ও ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বিসিআইসি অনুমোদিত সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন।শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নাজমুল হক মিসু পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সুরমা হাসান পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। এর আগে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ এর আলোকে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ডিলার ইউনিটের বিপরীতে সার ডিলার নিয়োগের জন্য শর্তসাপেক্ষে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। সেখানে শর্তাবলীর গ/এর ১ এ উল্লেখ করা আছে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে হবে। এবং ২ এ উল্লেখ করা আছে নিজ মালিকানায় অথবা ভাড়ায় চালিত ৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদামঘর থাকতে হবে। উক্ত সার ডিলারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যার একটিও মানা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা জানান, জেলা বিএনপির সভাপতির আত্মীয় হিসেবে যদি ডিলার নিয়োগ হবে তাহলে আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিলেই হয়। নেতাকর্মীরা যারা টাকা খরচ করে আবেদন করেছে তাদের এভাবে আর্থিক ক্ষতি না করলেও হতো। ওই দুই ইউনিয়নে যাদের দেওয়া হয়েছে তারা কখনো সারের ব্যবসা করেননি। এছাড়া তারা কেউ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা না।শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নাজমুল হক মিসু জানান, তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের আত্মীয়। তিনি এর আগে সারের কোনো ব্যবসা করেননি। এছাড়া ওই ইউনিয়নে কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। গত ৪ মাস আগে তিনি আবেদন করেছিলেন। এরপর বিস্তারিত কথা বলার জন্য তিনি শহরের বিহারী মোড়ের প্রতিষ্ঠানে যেতে বলেন।কালীগঞ্জ উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, জেলা কমিটির সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তারা সারের ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন। জেলা কমিটি তাদের ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন।এ বিষয়ে কথা বলতে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের মোবাইলে শনিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।এ ব্যাপারে জানতে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি নোমান হোসেনের মোবাইলে শনিবার দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তায় তিনি জানান, সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে প্রাপ্ত হয়নি। ফলে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে যাচাই-বাছাইপূর্বক তিনজনের নাম প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয় বা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো নীতিমালার ব্যত্যয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

১৪ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ফেরানোর আহ্বান শফিকুর রহমানের

আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ফেরানোর আহ্বান শফিকুর রহমানের

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। হামলা-পাল্টা হামলায় বিশ্ব অনিরাপদ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুরস্কে সরকারি সফর শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গতকালকে রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। এ হামলার জন্য সৌদি আরব হুতিদের দায়ী করেছে। সৌদি আরব হচ্ছে হারামাইন শরীফাইনের দেশ। যেখানে আল্লাহর ঘর কাবা এবং রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের মসজিদ এবং রওজা। আর কালামে হাকিমও নাযিল হয়েছে।তিনি বলেন, সৌদি আরবে যে কেউ হামলা করুক, এটা কোনো শুভ কাজ নয়। এটা একটা অশুভ কাজ। এজন্য এই ধরনের হামলার আমরা নিন্দা করি। যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা যাই থাকুক সেটা সমাধান হওয়া উচিত। এই হামলায় এ পর্যন্ত আমাদের জানামতে ১২ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। জামায়াত আমির আরও বলেন, রিয়াদের আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দর থেকে কমপ্লিট শাট ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেরও দুইটি ফ্লাইট আমাদের এখানকার অথরিটি এটাকে স্থগিত করেছে। কিং খালিদ এয়ারপোর্টটি অতি বড় মাপের একটা আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট। ধারণা করা হচ্ছে, হাজার হাজার ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লাখ লাখ প্যাসেঞ্জার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা এই ক্ষেত্রে হামলা পাল্টা হামলায় যারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদের সবার প্রতি আহ্বান জানাবো। গোটা বিশ্ব এখন অস্থির এবং অশান্তিতে পড়ে গেছে। জায়গায় জায়গায় মানুষের জীবন তুচ্ছ হয়ে উঠেছে। রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই না যে এটা আর হোক। এইজন্য আমরা দাবি করছি সবাই যেন শান্তির পথে ফিরে আসেন। আলাপ আলোচনায় বসেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন এখানে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।তিনি বলেন, তুরস্ক বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, এটা দশকের নয় শতাব্দীর। তুরস্ক বাংলাদেশের পরীক্ষিত নিখাত বন্ধু। ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ছিল তার পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি লেভেলে অনেকগুলো বৈঠক ছিল। তুরস্ক পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আরও উচ্চ পর্যায়ের অনেক সরকারি পর্যায়ের মিটিং হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ের অনেকগুলো মিটিং হয়েছে।তিনি বলেন, আমরা ইন্টারন্যাশনাল যে কনফারেন্সে যোগদান করেছিলাম তার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা। এখানে তুরস্কের পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা ছিলেন। তুরস্ক পার্লামেন্টের তুরস্ক বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান সহ অন্যান্যরা ছিলেন। এমপিরা ছিলেন। সরকারি দপ্তরের অনেক কর্মকর্তা ছিলেন।তুরস্ক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে আমরা বলেছি অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্বার্থ নিয়ে আমাদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে ব্যাপকভাবে। আমাদের এডুকেশন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, তাদের বিনিয়োগ, ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি সম্প্রসারণ করা। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মক্কা প্যাক্টের ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক আজ

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক আজ

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের তথ্যে জানা যায় সভায় দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠক ডেকেছেন।সাধারণত জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর এক বা দুই দিন আগে কিংবা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই এ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

নাগরিকের অধিকার বুঝে না বলেই জামায়াত জন্মের পর এই প্রথম বিরোধীদল হয়েছে

কোনটা নাগরিকের অধিকার, কোনটা রক্ষার ব্যাপার আর কোনটা নাগরিকের দাবি, সেটা বুঝতে অপারগ হয়েছে বিধায় জন্মের পর এই প্রথম বিরোধীদল হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সরকার তো পরের কথা। জামায়াতে ইসলামীর প্রথম বিরোধীদল হওয়ার সুযোগ হয়েছে ৮৫ বছর বয়সে। কারণ, তারা বুঝতে চাননি মানুষ কী চায়।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমন্ডির ৩/এ-তে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।শেখ রবিউল আলম বলেন, তারা স্বাধীনতার সময় বুঝতে চাননি, স্বাধীনতার পরেও বুঝতে চাননি, এরশাদের সময়ও বুঝতে চাননি কাকে সমর্থন দিতে হবে। আবার ওয়ান-ইলেভেন সরকারের পরও বুঝতে পারেননি। ২০২৪ সালে এসে কিছু বুঝতে পেরেছিলেন, আবার খেই হারিয়ে ফেলেছেন। এটি হচ্ছে তাদের রাজনৈতিক বদান্যতা।অটো রিকশা প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে অটো রিকশার প্রসার হয়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা হচ্ছে। এই নীতিমালার আলোকে প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলাচল অননুমোদিত হবে। যারা কিছুদিন ধরে এই পেশায় যুক্ত হয়ে গিয়েছেন, ডেফিনেটলি তাদের কষ্ট হবে। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একমত হয়ে এই অব্যবস্থাপনার উত্তরণ ঘটাতে হবে। কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। তবে কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢাকা সিটিকে অকার্যকর হতে দেওয়া হবে না।

নাগরিকের অধিকার বুঝে না বলেই জামায়াত জন্মের পর এই প্রথম বিরোধীদল হয়েছে

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শেষ প্রান্তে তাঁতিদের পুজো: পাঁচ গ্রামের মেলবন্ধন কালিয়াচকের ষষানিতে

এখনো মায়ের ভোগ ও কাপড় আসে সীমান্তের কাঁটাতারের ওপরের বাংলাদেশ থেকে,ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে তাঁতিদের দূর্গা এখন ভারতের পাঁচটি গ্রামের এক মাত্র দূর্গাপূজো। পূর্ববঙ্গের কাঁটাতারের ওপারে তাঁতিদের দূর্গাপূজো এখন ভারতের সীমান্ত এলাকার একমাত্র পূজো। এক সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম মিষ্টি দমমিশ্রি চমচম ও ভালো তসরের শাড়ি আসতো। বর্তমানে লুচি বুঁদিয়া ও খিচুড়ী ভোগ দেওয়া হয়। এই উমার আরাধনা হয় পাচটি গ্রাম নিয়ে। সীমান্ত এলাকায় এই দূর্গাপূজতে অংশগ্রহন করেন বি এস এফ কর্তারা। মালদহের কালিয়াচকের তিন নম্বর ব্লকের ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ষষানি গ্রামে হয়ে আসছে এই প্রাচীন পুজো।জানা গিয়েছে,সীমান্ত এলাকায় এই পূজো এপার বাংলা ওপার বাংলার পুজো। অবিভক্ত ভারতের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা পেশায় তাতি ভোলানাথ চৌধুরী দেশ স্বাধীন হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জমি বিনিময়ের মাধ্যমে চলে আসেন ভারতের এই গ্রামে। তার আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনি এই পুজো একাই করতেন। এদেশে আসার পর স্থানীয় সুধীর জামাদার ও সুবোধ সরকারের মিলিত প্রয়াসে এই দূর্গাপূজো হয়।মন্দির থেকে প্রায় একশো মিটারের মধ্যেই ভারত- বাংলাদেশ সীমান্ত।দেশের একেবারেই শেষ সীমানা,আর এখানেই হয় শতাব্দীর প্রাচীন দূর্গাপুজো।হয়তো অনান্য পুজোর পুজোর মত জাঁকজমক আরম্ভর নেই। তবে এই পুজোকে আঁকড়ে ধরে রয়েছে সীমান্তবর্তী পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা। মালদহের কালিয়াচকের ষষানি গ্রামে হয়ে আসছে এই প্রাচীন পুজো। আশেপাশের পাঁচটি গ্রাম মিলে হয় এই একটি মাত্র পুজো। আর এই পুজোকে ঘিরেই আনন্দে মেতে ওঠেন সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দারা। অন্যান্য পুজার থেকে কোন অংশে কম নেই এই পুজোর প্রস্তুতি। পুজোয় শামিল হয়ে থাকেন বিএসএফ কর্মীরাও। কারণ পাশেই রয়েছে বিএসএফ ক্যাম্প। প্রতিবছর সীমান্তের এই পুজোয় চাঁদা দেওয়া থেকে পুজোয় অংশগ্রহণ করে আসছেন স্থানীয় বিএসএফ কর্মীরা।গ্রামের পাশ দিয়েই গিয়েছে সীমান্তের তাঁর বেড়া। গ্রাম জুড়ে প্রায় নিয়মিত চলে বিএসএফ টহলদারি। একসময় যখন তার বেড়াচ্ছিল না,বাংলাদেশের নাগরিকেরাও এই পুজোয় এসে সামিল হতেন। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এই গ্রামে বসত বিশাল মেলা। সময়ের সঙ্গে তা যেন কোথায় বিলীন হয়েছে। এখন দুই দেশের সীমান্তের তার বেড়া বাঁধা সৃষ্টি হয়েছে। ইচ্ছা থাকলেও বাংলাদেশের বাসিন্দারা আর এই পুজোয় সামিল হতে পারছেন না। তবে এই পুজোয় একটুকু খামতি রাখেননি বর্তমান উদ্যোক্তারা। পুজোকে ঘিরে পাঁচ দিনব্যাপী চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।ষষানি সার্বজনীন দুর্গাপুজো এই বছর ১২১ তম বর্ষ।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শেষ প্রান্তে তাঁতিদের পুজো: পাঁচ গ্রামের মেলবন্ধন কালিয়াচকের ষষানিতে

নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ সারজিস ও মিতু

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠন জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি হয়েছেন সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মুস্তাইন বিল্লাহ হাবিবী।সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। আগামী এক বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে।এনসিপির পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতাকে নিয়ে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ সারজিস ও মিতু

এনসিপি নেতার পদত্যাগ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কমিটি গঠনের আট দিন পর দল থেকে পদত্যাগ করেছেন আহ্বায়ক শাহিদ আলম।রোববার (৪ অক্টোবর) বিকালে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে এনসিপির  গোপালগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবরে এ পদত্যাগপত্র পাঠান। পদত্যাগ পত্রে তিনি লিখেছেন, আমি শাহিদ আলম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গোপালগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আহ্বায়ক পদে আছি। আমার শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার কারণে আমার সব পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। সঙ্গে সঙ্গে আর কখনো রাজনীতির সঙ্গে জড়াবো না বলে অঙ্গীকার করিলাম। এতএব বিষয়টি সবার কবিশেষ বিবেচনায় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে নেবেন। শাহিদ আলম বলেন, শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কারণে পদত্যাগ করেছি। এছাড়া আমার নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। রাজনীতিতে জড়িয়ে ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই রাজনীতি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।জেলা এনসিপির সদস্য সচিব ফেরদৌস আমিনা বলেন, উনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কিন্তু আমরা এখনো গ্রহণ করিনি। উনি চেয়েছিল কমিটি যেন প্রকাশ না হয়। সে এনসিপি করবে তা কেউ জানবে না, আবার তার অপকর্মের দায় দলের উপর পড়বে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। উর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা শাখা এনসিপির ১১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। জেলা এনসিপির আহ্বায়ক বাঁধন মিয়া, সদস্য সচিব ফেরদৌস আমিনা ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল মোল্লা শুভ যৌথভাবে এ কমিটির অনুমোদন দেন।

এনসিপি নেতার পদত্যাগ
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি করছে সরকার-নৌপরিবহনমন্ত্রী

সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি করছে সরকার-নৌপরিবহনমন্ত্রী

দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারে জাতীয় বন্দর কৌশল (ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি) প্রণয়ন করছে সরকার। এ কৌশলে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থার স্বার্থের চেয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।তাই বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা প্রয়োজন ছিল।অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষ ও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। দীর্ঘদিনের এ প্রয়োজন পূরণে সরকার জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরির ক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সরকারি সংস্থার আইনগত দায়িত্ব ও কর্তৃত্বকে উপেক্ষা করা যাবে না। বরং বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে এ কৌশল তৈরি করতে হবে।দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জড়িত। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া জরুরি।শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো একটি পক্ষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কৌশলপত্র তৈরি করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে। বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বিশেষজ্ঞদের কার্যকর সুপারিশ প্রয়োজন।জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও মতামত কাজে লাগিয়ে দেশের উপযোগী একটি কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে।বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পেতে হলে বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বন্দরের উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে আমদানি-রপ্তানি সহজ হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরির সময় উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজন এবং স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল কেবল একটি মন্ত্রণালয় বা নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের বিষয় নয়। দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, বাংলাদেশের বন্দরগুলোর দীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। বহু বছর ধরে এসব বন্দরকে কেন্দ্র করে নৌযান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে দেশের বন্দর অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। এখন সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও কার্যকর করতে হবে।তিনি বলেন, দেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।সেমিনারে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে জাইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।