সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য বর্তমান সময়টিকে তার শাসনকালের অন্যতম কঠিন বা সবচেয়ে বাজে সময় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর একটি বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজের মূল নীতি ও কৌশলগুলো একসঙ্গে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যা তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রধান কয়েকটি কৌশলগত লক্ষ্য বর্তমানে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট সংকট তৈরি হয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে কেন্দ্র করে। ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যে ফল পাওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা অর্জিত হয়নি। উল্টো চলমান উত্তেজনার কারণে সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি বা অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক সংহতি থাকলেও সামরিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সীমিত সহায়তাই পাওয়া গেছে।অন্যদিকে, সৌদি আরবকে অর্থনৈতিকভাবে বদলে দেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ‘ভিশন ৩০৩০’ বা অর্থনৈতিক রূপান্তর এজেন্ডাও গুরুতর চাপের মুখে রয়েছে। তহবিলের সংকট, বড় বড় প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হওয়া এবং নিরাপত্তার জন্য বাজেট পুনঃবণ্টনের প্রয়োজনীয়তা এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে মারাত্মক পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি অব্যাহত থাকলে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ উভয় ফ্রন্টেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এক জটিল সময় পার করতে হচ্ছে। সামরিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনার এই যুগপৎ প্রচেষ্টায় বিঘ্ন ঘটায় তার নীতিগুলোর ভবিষ্যৎ সাফল্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা ও পর্যালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
আওয়ামী লীগকে দেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তোপখোলা রোডে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।এ সময় তিনি বলেন, দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় শ্রমিকদের অবস্থা ভালো না অথচ চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিরোধী দলকে দায় চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।এদিকে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা যে আন্দোলন করছে, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের তা মেনে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে ১ লাখ টাকা ও তিনটি খাসি নেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার দায়ে তাকে আরেকবার বহিষ্কার করা হয়েছিল।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসেম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে রমিজ উদ্দিনের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের জন্য উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুল অদুদ মুন্সিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে, ২০২৪ সালে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় রমিজ উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ক্ষমা চেয়ে আবেদন এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার পর তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।এদিকে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার খবর ফেসবুকে প্রকাশিত হলে মেঘনা উপজেলা বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাসেমকে ধন্যবাদ জানান।তারা যুগান্তরকে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত একজন নেতাকে দায়িত্বশীল পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন আবুল হাসেম। পাশাপাশি আব্দুল অদুদ মুন্সিকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ায় মেঘনা উপজেলা বিএনপি আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।এ বিষয়ে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুল অদুদ মুন্সি বলেন, দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে দলকে আরও শক্তিশালী করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।এর আগে দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী এক লাখ টাকা ও তিনটি খাসি নেন বলে অভিযোগ করেন ভাওরখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. মোসলেম মোল্লা। এ অভিযোগ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ ঘটনায় কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোসলেম।লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া তাকে তিনটি খাসি উপহার দেন। এ-সংক্রান্ত প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন মোসলেম মোল্লা।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিতমানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি সবসময় অন্তরে ধারণ করতে হবেমাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, “আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ায় কাউকে ভয় করা যাবে না। জীবনের প্রতিটি কাজ আখিরাতে জবাবদিহির অনুভূতি নিয়ে পরিচালনা করতে হবে। দুনিয়াতে বিশ্রাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বিশ্রাম হবে পরকালে।”তিনি বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। মাদকের কারণে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। আমরা মাদকমুক্ত সমাজ চাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকার এখনো মাদক নির্মূলে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। মাদকের বিস্তার রোধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে।২০ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আয়োজিত দিনব্যাপী পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলা উদ্দীন সিকদারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য জনাব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ আমীরুজ্জামান এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা জামায়াতের আমীর এস এন আবদুচ ছালাম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এমপি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে—এই অনুভূতি সব সময় অন্তরে ধারণ করতে হবে।তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো অন্যায়, অনিয়ম কিংবা অসত্যের কাছে মাথা নত করা যাবে না। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে হবে। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীলতার অর্থ শুধু কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকা নয়; বরং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি এবং সমাজের অসংগতি দূর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন, আচার-আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে মানুষের সামনে উত্তম আদর্শ উপস্থাপন করতে হবে।মাদক সমস্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে জামায়াতের আমীর বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকেও বিপর্যস্ত করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্মিলিতভাবে মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি একটি নৈতিকতাভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীল ও কর্মীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং সাংগঠনিক যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়ে এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়।তিনি দায়িত্বশীলদের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।শিক্ষা শিবিরে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, বায়তুলমাল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. আবদুল হামিদ চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নুরুন্নবী, জনাব রফিকুল ইসলাম, মাস্টার নুরুছ ছালাম, ইউসুফ বিন আবু বক্কর, ইঞ্জিনিয়ার বোরহান উদ্দিন, জসিম উদ্দিন আজাদ, মাওলানা মুহিউদ্দীন, মাওলানা বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। পরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।’মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।চট্টগ্রামে জামায়াতের প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলনএর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নগরের খুলশী থানার জিইসি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলন-২০২৬ শুরু হয়। সম্মেলন চলে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনসহ আনুমানিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সাথী-সদস্যদের আমৃত্যু সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।গত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান জামায়াত আমির। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।জান্নাতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ নাকচ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেন।সম্মেলন শেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে নগরের চকবাজার এলাকার হোটেল পেনিনসুলায় যান জামায়াত আমির। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে চাকসু নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে তার চট্টগ্রাম ছাড়ার কথা রয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদক সমাজকে শেষ করে ফেলতেছে। ইশরাক হোসেনের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো, এতটুকু। তার কাজকে নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশন হলে দলের মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলনে অংশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।জামায়াত আমির বলেন, জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করা ঠিক নয়। ইশরাকের উদ্দেশ্য ভালো হলেও, অন্যরা এর অপব্যবহার করতে পারে। তবে তার কাজের সমালোচনা করার কিছু নেই।মাদক নিয়ে জামায়াত আমিরের বার্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মাদক তো আমরা নির্মূল চাই। আমাদের সংসদে আইন পাস হয়েছে ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ’। আমরা তো নিয়ন্ত্রণ চাই না, আমরা নির্মূল চাই।জামায়াত আমির বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ মানুষ। অথচ সেটা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ না নিয়ে সরকার বিরোধী দলকে ঘায়েল করতে ব্যস্ত।
পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিন শীর্ষ নেতাকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুর রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ইকবাল রোডে প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতাররা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন এবং ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু।মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের বরাতে ওসি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া থেকে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন এ তিন নেতা। এ সময় তারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মোবাইলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি ঢাকায় অবস্থান করে নিজ নিজ এলাকায় দলীয় কার্যক্রম জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।ওসি আসাদুর রহমান আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আত্মগোপনে ছিলেন। অন্যদিকে, মকলেছুর রহমান মিন্টু ও শহিদুল ইসলাম রতন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই পলাতক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে।