বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

রিজিক আটকে গেছে, টেনশন পিছু ছাড়ছে না? কী করবেন

জীবনে হঠাৎ চারপাশ থেকে অন্ধকার নেমে এসেছে? রিজিকের পথটা যেন থমকে গেছে, দুশ্চিন্তার ভারে ঘুম হারাম, কিংবা শত চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো কাজের সন্ধান পাচ্ছেন না? অনেক খেটেখাটুনি করেও সংসারের টানাটানি ঘুচছে না, কাজে মিলছে না কোনো বরকত? এমন জটিল মুহূর্তে কী করবেন?এমন একলা ও একাকী মুহূর্তে হতাশা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। মনে হয়, বুঝি সব পথ বন্ধ হয়ে গেল! কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের জন্য কখনোই সব পথ বন্ধ হয় না। অন্ধকার রাতের পরেই যেমন ভোরের আলোর ঝলকানি দেখা যায়, ঠিক তেমনি প্রতিটি কষ্টের পরপরই রয়েছে স্বস্তির বার্তা। জীবন যখন আপনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে, তখন ভেঙে না পড়ে ফিরে আসুন আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে। মনের গভীর থেকে করুন— ইস্তিগফার।সব জটিলতা কাটিয়ে জীবনকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করার জন্য এটি একটি মহৌষধ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন—তা হলো ‘ইস্তিগফার’ বা আল্লাহর কাছে মনেপ্রাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।ইস্তিগফার— এটি রিজিক ও রহমতের বন্ধ দুয়ার খোলার জাদুকরী চাবিকাঠি।ইস্তিগফার কেবল অতীতের গুনাহ ও ভুলত্রুটি মুছে ফেলার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবনে আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার এক জাদুকরী আমল। যখন মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে হাত বাড়ায়, তখন আসমানের রহমতের বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। কুরআন মজিদে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত নূহ (আ.)-এর মুখ দিয়ে উম্মতকে ইস্তিগফারের অপার মহিমা শিক্ষা দিয়েছেন—فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০-১২)এই আয়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ক্ষমা চাওয়ার এই সুবাসিত অভ্যাসের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ধন-সম্পদের বৃদ্ধি, সন্তানের মাধ্যমে সুখ লাভ এবং সার্বিক জীবনের অভাব দূর হওয়ার মূল রহস্য।সংকট মুক্তির আমল: যা বলছেন প্রিয়নবী (সা.)হতাশার সাগরে ডুবে থাকা মনকে সান্ত্বনা দিতে এবং কর্মজীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তার কঠিন সংকটগুলোকে সহজ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (অর্থাৎ ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে রাখবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি ও সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন, তার যাবতীয় চিন্তা-দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)আজ থেকেই শুরু হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যখনই মন খারাপ হবে, কাজের অভাব বা কোনো জটিলতায় হতাশ লাগবে— তখনই জিভে জপতে থাকুন—أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’অথবা পড়ুন সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, কিংবা মন থেকে নিজের ভাষায় আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন। হেঁটে-চলে, কাজের ফাঁকে, কিংবা নিরিবিলি রাতে দু'ফোটা চোখের জল ফেলে রবের কাছে নিজের মনের সব কষ্ট ও অভাবের কথা খুলে বলুন।জীবন আমাদের সবসময় আমাদের মনের মতো চলে না, মাঝেমধ্যে পথগুলো কেমন যেন আটকে যায়। কিন্তু সেই থমকে যাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং তা হতে পারে আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার এক সুন্দর উসিলা। তাই হতাশাকে বিদায় জানান, দুশ্চিন্তার পাহাড় সরিয়ে রেখে জিকিরে মুখরিত রাখুন আপনার দুটো ঠোঁট। প্রিয় রবের দরবারে হাত তুলে বলুন—‘হে আমার রব! আমি অনুতপ্ত, আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার রিজিক ও জীবনে বরকত দাও।’মনে রাখবেন, যে হাত আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা নিয়ে প্রসারিত হয়, দয়াময় আল্লাহ তাকে কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। কেননা তিনি বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। আপনার ইস্তিগফারই হোক আল্লাহর রহমত ও রিজিকে বরকত লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সব সংকট কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার  কার্যকরী হাতিয়ার।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ জন

২

পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

৩

সাগর-রুনি হত্যা-টাস্কফোর্সের তদন্ত নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ আজ

৪

সাগর-রুনি হত্যা-টাস্কফোর্সের তদন্ত নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ আজ

৫

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা সানায়ে তাকাইচির

৬

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক

৭

অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর

৮

আর প্রয়োজন নেই টিন সার্টিফিকেট? যেভাবে বাতিলের আবেদন করবেন

৯

ইতিহাস গড়ে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন

১০

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে যেসব বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে আজ

সর্বশেষ সব খবর
১

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

২

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

৩

পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

৪

আজকের স্বর্ণের দাম: ৮ অক্টোবর ২০২৬

৫

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ

৬

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বার্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

৭

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৮

শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৯

বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

১০

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা সানায়ে তাকাইচির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা সানায়ে তাকাইচির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এসে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার দেন। এ সময় জাপান ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন। গার্ড অব অনার দেওয়ার সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়ান।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। একইভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।পরিচয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভবনের মূল কক্ষে প্রবেশ পথে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।আলোচনার ফলাফল নিয়ে দুই নেতা দুপুরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুপুরে কানতেইতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন। মধ্যাহ্নভোজের শুরুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত স্বাগত বক্তব্য দেবেন এবং শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন এবং পাল্টা শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন।শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জাপানের টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর ভবন অভিমুখের লম্বা সড়কের দুই পাশে টানানো হয় বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা।চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাদের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আসোর অবদানের স্বীকৃতি জানান এবং তাকে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান।মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ইপিএ বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।এ সময় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা, চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।এ ছাড়া একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে।কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।

অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর

অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতি দুই প্রধানমন্ত্রীর

বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য জাপান-বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে, জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গার্ড অব অনার শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন।প্রধানমন্ত্রী তরেক রহমান বলেন, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।তিনি বলেন, ​গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে, জাপান আমাদের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।তিনি আরও বলেন, ​আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে, আমরা শক্তি (এনার্জি), আইসিটি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছি।বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, ​এ সফরের সময় আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি এবং মূল ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছি। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।​বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আজ আমাদের এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।তিনি আরও বলেন, ​আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের উভয় দেশের জন্য একটি আরও স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। ​আমাদের উচ্চাশা স্পষ্ট—আমাদের দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।ওদিকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চস্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ দেশ দুটির শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার যৌথ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।জাপানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আর প্রয়োজন নেই টিন সার্টিফিকেট? যেভাবে বাতিলের আবেদন করবেন

আর প্রয়োজন নেই টিন সার্টিফিকেট? যেভাবে বাতিলের আবেদন করবেন

বিভিন্ন প্রয়োজনে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট করলেও পরবর্তী সময়ে অনেকের আর সেটির প্রয়োজন হয় না। তবে টিআইএন সক্রিয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে পারেন অনেকে। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে আইনগত জটিলতার আশঙ্কাও থাকে।তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য জানতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে আবেদন করা যায়, কীভাবে আবেদন করতে হয় এবং বাতিলের পর করদাতার কী দায়িত্ব থাকতে পারে।টিআইএন কী এবং কেন প্রয়োজন?ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন হলো করদাতার জন্য নির্ধারিত স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর। বাংলাদেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে এই নম্বর ব্যবহৃত হয়। আয়কর নথি শনাক্ত করা, রিটার্ন দাখিল এবং বিভিন্ন আর্থিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে টিআইএন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে অনেকে টিআইএন নিবন্ধন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেও টিআইএন সক্রিয় থাকায় কর-সংক্রান্ত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।তবে টিআইএন থাকলেই সবাইকে একই পরিমাণ কর দিতে হয় না। আয়, সম্পদ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী করদাতার দায়িত্ব নির্ধারিত হয়। তাই টিআইএন আর প্রয়োজন নেই মনে করে রিটার্ন দাখিল বন্ধ না করে আগে নিজের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।কোন পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়?নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এবং আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। যেমন—১. ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।২. একাধিক টিআইএন তৈরি হলে: ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় নম্বরটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।৩. টিআইএন ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে: নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না হলে এবং আইনগত শর্ত পূরণ হলে বাতিলের আবেদন বিবেচিত হতে পারে।৪. করযোগ্য আয় না থাকলে: কোনো ব্যক্তির আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে নির্দিষ্ট শর্তে টিআইএন বাতিলের সুযোগ থাকতে পারে। তবে আয় কমে যাওয়া বা করযোগ্য আয় না থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন বাতিল হয় না।৫. দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে: কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে, দেশে করযোগ্য আয় না থাকলে এবং টিআইএন রাখার আইনগত প্রয়োজন না থাকলে তার আবেদন বিবেচিত হতে পারে।৬. করদাতার মৃত্যু হলে: কোনো করদাতার মৃত্যু হলে তার টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম চলমান থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর ও আইনগত বিষয় যাচাই করা জরুরি।যেভাবে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেনটিআইএন বাতিলের আবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় করতে হয়। আবেদনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করদাতার পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।অনলাইনে আবেদন করতে চাইলেপ্রথমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন-সংক্রান্ত অনলাইন সেবা ও বাতিলের আবেদনের বর্তমান নিয়ম যাচাই করতে হবে। ওয়েবসাইট: https://nbr.gov.bd/অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনে সাধারণত টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, বর্তমান অবস্থা এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থনকারী কাগজপত্রও জমা দিতে হতে পারে।আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চাওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।সরাসরি আবেদন করতে চাইলেঅনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনপদ্ধতি জেনে নেওয়া যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো হলো—টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণ;জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়;টিআইএন বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি;সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র।কিছু ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরগুলোর আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণও চাওয়া হতে পারে। তবে সবার জন্য একই সংখ্যক বছরের শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।টিআইএন বাতিল হলে কী হবে?টিআইএন বাতিলের আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বাতিলের প্রমাণপত্রও সংগ্রহ করতে হবে।তবে টিআইএন বাতিল হলেই আগের সব কর-সংক্রান্ত দায় বা বকেয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। বাতিলের আগের সময়ের কোনো বকেয়া কর, রিটার্ন দাখিলের দায় বা আইনগত জটিলতা থাকলে সেগুলো নিষ্পত্তি করতে হতে পারে।ভবিষ্যতে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকবে কি না, তা প্রযোজ্য আইন ও করদাতার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। একইভাবে, ভবিষ্যতে আবার টিআইএন প্রয়োজন হলে পুরোনো নম্বর ব্যবহার বা নতুন নম্বর নেওয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।তাই শুধু আয়কর রিটার্ন দাখিলের ঝামেলা এড়াতে তাড়াহুড়ো করে টিআইএন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নিজের বর্তমান আয়, সম্পদ, ব্যবসা ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে যেসব বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে আজ

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে যেসব বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে আজ

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত ও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে দেশের তিন বিভাগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য বলা হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।এছাড়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।ঢাকায় উত্তরর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬-১২ কিমি গতিতে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ২৩ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ২ মিনিটে।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ জন

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ জন

লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে অনেকে দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ফেরত আসা এসব বাংলাদেশির অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এসব বাংলাদেশিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে।মঙ্গলবার সকালে দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা। দেশে ফিরে আসা এসব নাগরিকের লিবিয়ায় অবস্থানকালীন অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে বিদেশযাত্রা এবং সেখানে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অনেকেই সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় মানবপাচারকারীদের সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবর্তে তাদের অনেকে সেখানে নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়েন। কারও কারও ক্ষেত্রে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। তাদের এই অভিজ্ঞতা অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি এবং মানবপাচারকারীদের প্রতারণা সম্পর্কে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি, মানবপাচারকারীদের প্রলোভন এবং বিদেশে গিয়ে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তাদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এদিকে দেশে ফেরত আসা প্রত্যেক বাংলাদেশির প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাদের যাতায়াতের খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে দেশে ফেরার পর তারা জরুরি সহায়তা পেতে পারেন।লিবিয়ায় এখনো বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে কাজ করছে।

১ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

পিরোজপুরে সবজি নাগালের বাইরে, স্বস্তি নেই ডিম-মাছে

পিরোজপুরে সবজি নাগালের বাইরে, স্বস্তি নেই ডিম-মাছে

মাছ শিকারে চলমান নিষেধাজ্ঞায় পিরোজপুরের বাজারগুলোতে কমেছে মাছের সরবরাহ। চাহিদার তুলনায় বাজারে শীতকালীন সবজিও কম উঠছে। এ ছাড়া চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস এবং ডিমসহ বেড়েছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। ফলে বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে স্থানীয় ক্রেতাদের। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষদের। বাজার পরিস্থিতির এমন ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমানে পিরোজপুরের অধিকাংশ ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে বেড়েছে ব্যয়। ফলে সংসারের অন্যান্য খরচ কমিয়ে খাবারের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে অনেককে। মাছের বদলে সবজি অথবা সবজির বদলে ডিম কিনে খরচ কমানোর বিকল্প খুঁজেও স্বস্তি মিলছে না তাদের। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাজার মনিটরিং জোরদার করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। আর ব্যবসায়ীদের দাবি, কোনো কোনো সবজির দাম কিছুটা কমলেও শীতকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় বাজারে এখনো দাম তুলনামূলক বেশি। সরবরাহ বাড়লে ধীরে ধীরে কমবে সবজির দাম। রোববার (২৫ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চালের দাম বাড়তি রয়েছে। এ ছাড়া গত তিন মাসে তেল, ডিম ও রসুনের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া নদীতে মাছ ধরার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে বলে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। আর এ কারণেই ঘেরের মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে ফুলকপি, শিম, টমেটো এবং কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির দামও তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০৪ টাকায়। যা তিন মাস আগে দাম ছিল ১৯৯ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা। আর ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চালের দামে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। তবে গত কয়েক দিন ধরে দাম অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।বর্তমানে পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা। আর সাধারণ ভাতের চালের দাম প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়।  স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক মাসের তুলনায় বর্তমানে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। এ ছাড়া গত তিন মাস আগে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। হাঁসের ডিমের হালি ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫ টাকা। ফলে তুলনামূলক কম খরচে খাবারের চাহিদা মেটাতে ডিম কিনতেও বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।পেঁয়াজের দাম কোজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৪৫ টাকা। রসুনের দাম তিন মাস আগে ৬৫ টাকা থাকলেও এখন বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। মসুর ডালের ক্ষেত্রেও দেশি ও আমদানি করা ডালের দামে পার্থক্য রয়েছে। আমদানি করা মসুর ডাল পাইকারিতে ৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে দাম ৯০ টাকা। দেশি মসুর ডাল পাইকারিতে ১৪৮ থেকে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।ব্যবসায়ীদের দাবি, মাছের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে আসা ঘেরের মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এসব মাছের মধ্যে আকারভেদে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৩০ টাকায়, কোরাল ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা, চিংড়ি এক হাজার থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা, কই ২২০ টাকা। পিরোজপুর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. আলম শেখ বলেন, নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাজারে মাছ কম। ঘেরের মাছ যা আছে, সেগুলোর দাম বেশি। এসব মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।তবে মাছের সরবরাহ কম থাকলেও স্বস্তি রয়েছে মুরগির বাজারে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা, লাল মুরগি ৩৭০ টাকা, এবং দেশি মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন মাস আগে এসব মুরগির দাম বর্তমানে নির্ধারিত দামের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি ছিল।গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, এ দুই ধরনের মাংসের দাম আগের তুলনায় খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। তবে মাছ-মাংসের দাম বেশি থাকায় সাধারণ ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবে বাধ্য হয়ে শাকসবজি বেশি ক্রয় করেন। কিন্তু সেখানেও মিলছে না স্বস্তি।বর্তমানে পিরোজপুরে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা, ফুলকপি ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, শালগম ১২০ টাকা, লেবু ৩৫ টাকা, করলা ৬০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, শিম ১৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, পাতাকপি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা এবং শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা।স্থানীয় ক্রেতাদের দাবি পিরোজপুরে গত কয়েক মাস ধরেই সবজির দাম কিছুটা বেশি রয়েছে। এর আগে গত ২ অক্টোবর বাজারে বেগুনের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের ব্যবধানে তখন অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। তবে বেশি পরিমাণ শীতের সবজি বাজারে আসলে সবজির দাম কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। সবজি ব্যবসায়ী রাতুল বলেন, শীতের সবজি পুরোদমে বাজারে উঠলে দাম কমে যাবে। এখন কিছু সবজির দাম বেড়েছে, আবার কিছু সবজির দাম কমেছে। সরবরাহ কম থাকায় শীতের কিছু সবজির দাম এখন তুলনামূলক বেশি। বাজার করতে আসা ফাহিম ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, সবকিছুর দাম দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। আমরা চাকরিজীবী, আমাদের তো বেতন বাড়ছে না। কিন্তু বাজার করতে এলে যেটাই কিনতে যাই, সেটারই দাম বেশি।আজিজুল নামে আরেক ক্রেতা বলেন, বর্তমানে বাজারের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। সাধারণ মানুষ খুব সমস্যায় আছে। প্রতিটি জিনিসের দাম বেশি। সবজি কিনতে গেলেও ৬০-৭০ টাকার নিচে ভালোভাবে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। চালের দাম, তেলের দাম সবকিছুতেই বাড়তি চাপ। এতে সাধারণ মানুষ খুব সমস্যায় আছে।বর্তমান বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে পিরোজপুর কাঁচা বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জালিস মাহমুদ বলেন, চালের দাম তুলনামূলক কিছুটা বেড়েছে। সবজির দাম গত সপ্তাহের চেয়ে তুলনামূলক কম। মরিচ, বেগুন, পটল, লাউ এসবের দাম কিছুটা কমেছে। শীতকালীন কিছু সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। যার কারণে সবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে।পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, ক্রেতারা যাতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারেন, সে জন্য উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সামনে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।

২১ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে দলটি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে ঘটিত এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিপিবির শীর্ষ নেতারা।ঘটনার পর মধ্যরাতে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফী অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় নেতাকর্মী পরিচয়ে পল্টনে একটি ‘মব’ বা সংঘবদ্ধ দল তৈরি করে এই হামলা চালানো হয়। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।জানা যায়, সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সংস্কৃতিকর্মীদের ব্যানারে সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে একটি মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়। সেই কর্মসূচি থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।দীপক শীল মুক্তি পাওয়ার পর পল্টনে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে ও সংহতি জানিয়ে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অজুহাত তুলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় মব সৃষ্টি করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুব ইউনিয়নের সভাপতি ইরান মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল ফকিরকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে মধ্যরাতে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফী বলেন, মিছিলে স্লোগান দেওয়ার অজুহাতে নেতাকর্মীদের ওপর এভাবে হামলা চালানো এবং মব তৈরি করে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি অবিলম্বে এ ধরনের দমনপীড়ন ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠাতব্য ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক চলছে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন ২৯ মিন্টো রোডে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর জেনারেল সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।  

মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থী হয়েছেন এলিজা জামান।বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।এছাড়া সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এলিজা জামান বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। পাশাপাশি তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ অক্টোবর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।এরপর আসনটিতে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১২ অক্টোবর ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সেরে আগামী ১২ নভেম্বর ভোটের তারিখ রাখা হয়েছে তফসিলে।তবে বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।সংরক্ষিত নারী আসনের এই উপ-নির্বাচনকে ঘিরে গত ১৬ অক্টোবর দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে বিএনপি। ৭০ জন নারী দলটির ফরম সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে ৬৮ জন আবেদন জমা দেন।এলিজা জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি) আসনে ধানের শীর্ষ প্রতীকে ভোট করতে চেয়েছিলেন। তবে ১২ জানুয়ারির ভোটে শেষ পর্যন্ত তিনি দলের মনোনয়ন পাননি।তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার পিতা সরদার সুলতান মাহমুদ সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।

মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সারাদেশে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা।জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের যৌথসভা শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা জুলাইকে প্রভাবিত করেছে। আবারও অগণতান্ত্রিক শাসন চেপে বসলে মানুষ জেগে উঠবে বলেও হুঁশিয়ারি করেন তিনি।কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন রুহুল কবির রিজভী।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে এলিজা জামানের মনোনয়ন পত্র জমা

সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিজা জামান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তিনি এই মনোনয়ন ফরম জমা দেন।নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, নির্ধারিত দিনেই প্রার্থী হিসেবে এলিজা জামান তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।দলীয় সূত্রে জানা যায়, এলিজা জামান বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মহিলা দলের বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন। এর আগে গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় শূন্য হওয়া আসনটিতে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল আজ (সোমবার)। এরপর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ২৮ অক্টোবর আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নিষ্পত্তি করা হবে ২৯ অক্টোবর। এছাড়া আগামী ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২ নভেম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ নভেম্বর এই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই আসনে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলে একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাবেন এলিজা জামান।

বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে এলিজা জামানের মনোনয়ন পত্র জমা

সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সংযুক্ত করার দাবি জামায়াত আমিরের

দেশের সব মাদরাসার মানোন্নয়ন ও সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থাতেও ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ১৪তম হিফজুল কোরআন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এ দাবি জানান।এ সময় ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, কৌশলে মাদরাসাগুলোকে স্কুলে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। সরকারি আলিয়া মদরাসাগুলোতে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে, সংকুচিত করা হয়েছে সিলেবাস।পুরুষদের পাশাপাশি এখন নারী শিক্ষার্থীরাও কুরআনে হাফেজ হওয়া ইতিবাচক বলে মন্তব্যও করেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে ১৭৫৭ জন কুরআনে হাফেজ ও তাদের বাবা-মাকে পুরস্কৃত করা হয়। একই সাথে কুরআনের আলোকে জীবনযাপন ও নিয়মিত চর্চা করার শপথ বাক্যও পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা।

সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সংযুক্ত করার দাবি জামায়াত আমিরের
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

আসছে গ্রিন বন্ড: পরিবেশ ও জলবায়ু প্রকল্পে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ

আসছে গ্রিন বন্ড: পরিবেশ ও জলবায়ু প্রকল্পে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ

বিশ্বে প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে বন্ড মার্কেটের আকার। যা মূলত এক ধরনের ঋণপত্র বা চুক্তি। যদি কোনো সরকার বা কোম্পানি কোনো প্রকল্পের জন্য ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ ধার করতে চায়, তখন ঋণপত্র বা বন্ড ইস্যু করে। এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায়। মেয়াদ শেষে হলে মিলে আসল টাকাও। এ মুহূর্তে বিশ্বের বন্ড বাজারের আকার প্রায় দেড়শ ট্রিলিয়ন ডলার।সেই ধারণাকেই ইদানিং পরিবেশ রক্ষায় কাজে লাগাচ্ছে উন্নত বিশ্ব। যার নাম গ্রিন বন্ড। মূলত পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক এমন প্রকল্পে এই ঋণপত্র ইস্যু করা হয়। তাই সোলার সিস্টেম, বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ সবুজ অবকাঠামো, রিসাইক্লিং, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও চার্জিং স্টেশনের মতো প্রকল্পে গ্রিন বন্ডের ব্যবহার বাড়ছে। বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানি।এবার সে সুযোগ নিতে চায় বাংলাদেশ। কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বিকল্প অর্থায়ন এখন বেশ জরুরি। এরই মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রিন বন্ড চালু করতে আলাদা নীতিমালা তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অনুমোদন পেয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব।এর বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গ্লোবাল গ্রিন বন্ড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরোর বেসরকারি পুঁজি সচল ও ১ বিলিয়ন ডলারের সভেরিন বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বললেন, কনসেশনাল ঋণ তো দিন দিন হ্রাস পাবে। আমরা নতুন রকমের ফাইনান্সিং ফর ডেভলপমেন্টও চিন্তা করছি। সেক্ষেত্রে আমরা অনেক রকমের আরও অনেকগুলো চিন্তা করছি, সরকারের সাথে যে ফাউন্ডেশনগুলো আছে, সেগুলোরও লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হচ্ছে। তারপরে সরকারি মালিকানাধীন যে ব্যাংকগুলো আছে, তাদেরও কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ধরছে।বিশেষায়িত বন্ড ইস্যুতে স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে আলাদা বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সেক্ষেত্রে চালু হতে পারে আলাদা প্ল্যাটফর্ম। তৈরি হচ্ছে নতুন ‘ইএসজি ট্যাক্সোনমি’ বা পরিবেশ সামাজিক নীতিমালাও।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ মার্কেটে এই বন্ড গ্রীন বন্ড ইস্যুর জন্য কাজ করবে। উনারা যখন কোনো একটা বন্ডে ইনভেস্ট করে, উনারা দেখেই নেয়; সেখানে সব ক্রাইটেরিয়া গ্রীন বন্ডের পারপাস ফুলফিল করেছে কি না। তো উনারা বিনিয়োগ করলে এটি সার্টিফিকেটের মতো, তখন অন্য বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়।নলেজ হাব ইন্সটিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, মধ্য আয়ের মানুষ বা কিছুটা সেভিংস করছে এই মানুষ বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই বন্ড মার্কেটগুলোকে শুধু অর্থ সংযোগের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে যে পারপাসে এগুলো নিয়ে কাজ করার কথা সেদিকে আসলে থাকে না। গ্রীন বন্ড একটা ইতিবাচক দিক, যেখানে হয়তো ইনস্টিটিউশনাল ফান্ড আসতে পারে। এমনকি ব্যক্তি ফান্ডও আসার সুযোগ রয়েছে। গ্রিন বন্ডের জন্য ন্যূনতম ইস্যু ফি নির্ধারণের পাশাপাশি করছাড়ে একাধিক প্রণোদনা দিতে চায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।