বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

রিজিক আটকে গেছে, টেনশন পিছু ছাড়ছে না? কী করবেন

জীবনে হঠাৎ চারপাশ থেকে অন্ধকার নেমে এসেছে? রিজিকের পথটা যেন থমকে গেছে, দুশ্চিন্তার ভারে ঘুম হারাম, কিংবা শত চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো কাজের সন্ধান পাচ্ছেন না? অনেক খেটেখাটুনি করেও সংসারের টানাটানি ঘুচছে না, কাজে মিলছে না কোনো বরকত? এমন জটিল মুহূর্তে কী করবেন?এমন একলা ও একাকী মুহূর্তে হতাশা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। মনে হয়, বুঝি সব পথ বন্ধ হয়ে গেল! কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের জন্য কখনোই সব পথ বন্ধ হয় না। অন্ধকার রাতের পরেই যেমন ভোরের আলোর ঝলকানি দেখা যায়, ঠিক তেমনি প্রতিটি কষ্টের পরপরই রয়েছে স্বস্তির বার্তা। জীবন যখন আপনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে, তখন ভেঙে না পড়ে ফিরে আসুন আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে। মনের গভীর থেকে করুন— ইস্তিগফার।সব জটিলতা কাটিয়ে জীবনকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করার জন্য এটি একটি মহৌষধ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন—তা হলো ‘ইস্তিগফার’ বা আল্লাহর কাছে মনেপ্রাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।ইস্তিগফার— এটি রিজিক ও রহমতের বন্ধ দুয়ার খোলার জাদুকরী চাবিকাঠি।ইস্তিগফার কেবল অতীতের গুনাহ ও ভুলত্রুটি মুছে ফেলার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবনে আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার এক জাদুকরী আমল। যখন মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে হাত বাড়ায়, তখন আসমানের রহমতের বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। কুরআন মজিদে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত নূহ (আ.)-এর মুখ দিয়ে উম্মতকে ইস্তিগফারের অপার মহিমা শিক্ষা দিয়েছেন—فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০-১২)এই আয়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ক্ষমা চাওয়ার এই সুবাসিত অভ্যাসের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ধন-সম্পদের বৃদ্ধি, সন্তানের মাধ্যমে সুখ লাভ এবং সার্বিক জীবনের অভাব দূর হওয়ার মূল রহস্য।সংকট মুক্তির আমল: যা বলছেন প্রিয়নবী (সা.)হতাশার সাগরে ডুবে থাকা মনকে সান্ত্বনা দিতে এবং কর্মজীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তার কঠিন সংকটগুলোকে সহজ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (অর্থাৎ ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে রাখবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি ও সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন, তার যাবতীয় চিন্তা-দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)আজ থেকেই শুরু হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যখনই মন খারাপ হবে, কাজের অভাব বা কোনো জটিলতায় হতাশ লাগবে— তখনই জিভে জপতে থাকুন—أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’অথবা পড়ুন সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, কিংবা মন থেকে নিজের ভাষায় আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন। হেঁটে-চলে, কাজের ফাঁকে, কিংবা নিরিবিলি রাতে দু'ফোটা চোখের জল ফেলে রবের কাছে নিজের মনের সব কষ্ট ও অভাবের কথা খুলে বলুন।জীবন আমাদের সবসময় আমাদের মনের মতো চলে না, মাঝেমধ্যে পথগুলো কেমন যেন আটকে যায়। কিন্তু সেই থমকে যাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং তা হতে পারে আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার এক সুন্দর উসিলা। তাই হতাশাকে বিদায় জানান, দুশ্চিন্তার পাহাড় সরিয়ে রেখে জিকিরে মুখরিত রাখুন আপনার দুটো ঠোঁট। প্রিয় রবের দরবারে হাত তুলে বলুন—‘হে আমার রব! আমি অনুতপ্ত, আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার রিজিক ও জীবনে বরকত দাও।’মনে রাখবেন, যে হাত আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা নিয়ে প্রসারিত হয়, দয়াময় আল্লাহ তাকে কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। কেননা তিনি বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। আপনার ইস্তিগফারই হোক আল্লাহর রহমত ও রিজিকে বরকত লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সব সংকট কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার  কার্যকরী হাতিয়ার।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

যে কারণে ইকবাল সোবহানকে আটক করা হলো

২

মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের, কেন মুখ পুড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের? ভারতে এর কী প্রভাব পড়তে চলেছে জানেন!

৩

এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৪

সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় এসআরবির অভিযান; বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

৫

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু

৬

আমেরিকার ইতিহাসে প্রথমবার! গভর্নর হলেন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা

৭

প্রমিলা জয়পাল থেকে রো খান্না, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা কে কেমন ফল করলেন?

৮

সংবিধান গৃহীত হওয়ার ৫৪ বছর আজ

৯

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

১০

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান

সর্বশেষ সব খবর
১

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

২

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

৩

পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

৪

আজকের স্বর্ণের দাম: ৮ অক্টোবর ২০২৬

৫

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ

৬

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বার্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

৭

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৮

শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৯

বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

১০

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে কিছু ব্যক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এই আন্দোলন শ্রমিকদের আন্দোলন নয়।বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।এ সময় শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই বোর্ড এ বিষয়ে সুপারিশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা নতুন মজুরি পাবেন। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবিধান গৃহীত হওয়ার ৫৪ বছর আজ

সংবিধান গৃহীত হওয়ার ৫৪ বছর আজ

আজ ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান দিবস। ১৯৭২ সালের আজকের দিনে গণপরিষদে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়েছিলো। ফলে চলতি বছর সংবিধান গৃহীত হওয়ার ৫৪ বছর পূর্ণ হয়েছে।সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ক্ষমতার বিভাজন ও দায়িত্ব, নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এই সংবিধানের মাধ্যমে নির্ধারিত ও চূড়ান্ত হয়েছে।ইতিহাস থেকে জানাযায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ১০ মাসের মাথায় ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। এরপর কয়েক দফা আলোচনা ও সংশোধনীর পর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর প্রায় ৭৩ ঘণ্টা আলোচনা ও বিতর্কের পর গণপরিষদ এই খসড়া সংবিধান অনুমোদন করে। এরপর একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর এটি কার্যকর করা হয়।বাংলাদেশর মূল সংবিধানে ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ ও সাতটি তফসিল রাখা হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি হিসেবে এতে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। 

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।বুধবার (৪ নভেম্বর) এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং চীন-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানান।রাষ্ট্রপতি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।কুনমিং ও চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করার প্রস্তাবিত করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা সফরে আসছেন। সফরকালে তিনি বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।একদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে গোটা খুলনা শহর নতুন সাজে সেজেছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরা সদস্যরা রয়েছেন মাঠে।প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে স্টেডিয়াম পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ জড়ো হবেন বলে জানা গেছে। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত খুলনাবাসী।এছাড়া নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং সমৃদ্ধ মোংলা বন্দরের নান্দনিক দৃশ্য। সেই সঙ্গে এ অঞ্চলের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী, গুণী শিল্পী এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাহারি গ্রাফিতি সামহানগরীর বিভিন্ন দেয়ালে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে।এদিকে বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস (সিজন-২)-এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে কথা বলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন কুঁড়ির এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে তরুণদের ক্রীড়াক্ষেত্রকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের যুবসমাজকে যদি সঠিক পথে পরিচালিত করা যায়, তবে তারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে নতুন করে তুলে ধরতে পারবে।রকিবুল ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম খুলনা সফরকে ঘিরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে এক অভাবনীয় উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। আশা করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সারা দেশের মতো খুলনায়ও উন্নয়নের নতুন জোয়ার শুরু হবে। তিনি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা করে দিয়েছেন।একই সঙ্গে খুলনাঞ্চলে শিল্পায়নের প্রসার এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক উন্নয়নে তিনি কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন। মোংলা বন্দরের অগ্রগতির সঙ্গে খুলনা অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন গভীরভাবে জড়িত উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্দরটির আধুনিকায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অতীতে খুলনা যেভাবে ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত ছিল, সেই পুরোনো গৌরব ও ঐতিহ্য আমাদের আবারও ফিরিয়ে আনতে হবে।প্রেস ব্রিফিংয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান জানান, ‘নতুন কুঁড়ি’র দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে প্রথম আসরে রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ছিলো মাত্র এক লাখ ৬৮ হাজার। এবারের আসরে ১০টি ইভেন্ট থাকছে।তিনি আরও জানান, সরকার স্কুল-কলেজের মাঠ ছাড়াও দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এবছরই এক হাজার ইউনিয়নে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ চলমান অর্থবছরে শুরুর বিষয়ে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। এছাড়া খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের অবশিষ্ট অংশে গ্যালারি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে।প্রেসব্রিফিং এ খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো.আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, কেডিএ’র চেয়ারম্যান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে খুলনার মানুষের প্রত্যাশা অনেক। নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশ ও নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে-এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের, কেন মুখ পুড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের? ভারতে এর কী প্রভাব পড়তে চলেছে জানেন!

মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের, কেন মুখ পুড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের? ভারতে এর কী প্রভাব পড়তে চলেছে জানেন!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী ইতিহাসে অন্যতম অনিশ্চিত ও বিশৃঙ্খল মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদের দু'বছর পার হওয়ার পর, বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সিনেট ও হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ- উভয় কক্ষেই রিপাবলিকান পার্টি পরাজয়ের সম্মুখীন।ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবে বিবেচিত এই মিডটার্ম নির্বাচন তাঁর করা বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি জোরালো বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক, অভিবাসন নীতি-সহ একাধিত পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ ভারত-সহ পুরো বিশ্বকেই প্রভাবিত করেছিল।যদিও ভোট গণনা এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে, তবে এটা বলাই যায় যে- ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের পর আমেরিকা এখন তার যাত্রাপথে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের শুরুতে 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-কে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, "আমি এই ফলাফল মেনে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।" কিন্তু পরবর্তীতে, তিনি তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে একটি লাল টুপির ছবি পোস্ট করেন, যাতে বড় করে লেখা ছিল "ভেটো"। এমনকি ফক্স নিউজকে তিনি জানান যে, অভিবাসনের মতো বিষয়গুলোতে তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে রাজি আছেন, তবে তাদের পাস করা যেকোনও "অযৌক্তিক" বিলের ক্ষেত্রে তিনি ভেটো প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন।অবশ্য, এটি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির পরিস্থিতির চেয়ে অনেকটাই আলাদা। সেই সময়ে, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তিনি তাঁর সমর্থকদের মার্কিন ক্যাপিটলে হামলা চালানোর জন্য উসকে দিয়েছিলেন।মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল বিষয়গুলো নীচে তুলে ধরা হল:প্রথমত, ২০২০ সালের পর ট্রাম্প এবারই সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। সেবার তিনি নির্বাচনে হেরে গেলেও আমেরিকার একটি বড় অংশ তাঁকে এমন একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখেছিল, যিনি তাঁর সমর্থকদের কথা ভাবেন। এবার তিনি এমন সব অঙ্গরাজ্যে হেরেছেন, যেগুলো সাধারণত 'রেড স্টেট' বা রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এর অর্থ হল, ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতেও তিনি তাঁর সমর্থকদের বড় অংশকে হারিয়েছেন।দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালে ট্রাম্প এমন কিছু এলাকায় সমর্থন পেয়েছেন, যেখানে সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কার থাকে। এর মধ্যে রয়েছে আফ্রিকান আমেরিকান, হিস্পানিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান সম্প্রদায়। এদের প্রধান ক্ষোভ ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে। বিশেষ করে ডিমের দাম বৃদ্ধি ট্রাম্পের জনসমর্থনের ভিত অনেকটাই নড়িয়ে দিয়েছে।তৃতীয়ত, রিপাবলিকানদের দুর্গ বলে পরিচিত আসনগুলো এবং ভোটারদের সমর্থন হারানোর মূল কারণ হল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব। আম মার্কিনি (তিনি রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট বা কোনও পক্ষেরই না) সবাই পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় (মিডওয়েস্টার্ন) গ্রামীণ রাজ্যগুলোতে এই সংকট ছিল তীব্র। সেখানকার মানুষ সাধারণত বেশি জ্বালানি খরচ করা গাড়ি ব্যবহার করেন এবং বাজার, হাসপাতাল, স্কুল বা অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। তারা এই আর্থিক চাপের তীব্রতা অনুভব করেছেন। এর কারণ ছিল পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্যে) ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানকে নিশানা করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ। কারণ এই যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা আম মার্কিনির পকেটে প্রভাব ফেলেছে।চতুর্থত, পশ্চিম এশিয়ায়- যাকে আমেরিকানরা ‘মধ্যপ্রাচ্য’ বলে অভিহিত করে- এই যুদ্ধ ‘মাগা’ (MAGA - ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’) সমর্থক রিপাবলিকানদের হতবাক ও বিস্মিত করেছে। কারণ, প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি এই “অন্তহীন যুদ্ধ”-এর অবসান ঘটাবেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর, তিনি কোনও রকম ভালোমন্দ বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই এই সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে আট মাস ধরে যুদ্ধ চলল, হরমুজ প্রণালী একটি সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে পরিণত হল এবং জ্বালানির দাম বেড়ে গেল। এটি ছিল তাঁর কল্পনার সম্পূর্ণ বিপরীত এক পরিস্থিতি। আর এই অভিজ্ঞতায় তাঁর ভোটাররা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।পঞ্চমত, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একজন দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখা গিয়েছে, যিনি নিজের, পরিবারের সদস্যদের এবং বন্ধুদের ব্যবসায়িক স্বার্থ কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনে আগ্রহী ছিলেন। ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত চুক্তি হোক, উপসাগরীয় অঞ্চলে কোনও ব্যবসায়িক লেনদেন হোক, পাকিস্তানে খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি হোক, কিংবা বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হয়ে প্রভাব বিস্তার ও লবিং করা- সবকিছুই প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে। কেবল প্রথম বছরেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়েছে, যা প্রতিদিন গড়ে ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। কোনও ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে এমন নজিরবিহীন। এর জেরে ভোটাররা তাঁকে ক্ষমা করেননি।ষষ্ঠত, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ আমেরিকান সমাজের মূল কাঠামোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমেরিকান সমাজ মূলত হিস্পানিক, আফ্রিকান-আমেরিকান, এশীয় এবং অবশ্যই ভারতীয়স-হ বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের এক সমন্বিত রূপ। তার এই নীতি রিপাবলিকানদের মূল সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যেও ভালভাবে গৃহীত হয়নি। আইসিই বিরোধী অভিযান (যাকে তিনি নতুন নাম দিয়েছিলেন ‘নাইস’ অভিযান) উল্টো ফল বয়ে আনে। কারণ এর আওতায় বাড়িঘর ও স্কুল থেকে নারী ও শিশুদের তুলে নিয়ে এমন সব দেশে নির্বাসিত করা হয়, যেগুলোর সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্কই ছিল না।সপ্তমত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেন, তা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছিল। কারণ এই শুল্ক কার্যত তাঁর নিজের দেশের নাগরিকদের ওপরই এক ধরনের কর হিসেবে কাজ করেছিল। এটি ছিল তাঁর নিজের নেওয়া আরেকটি ভুল পদক্ষেপ, যার ফলে চীন থেকে কানাডা, ভারত থেকে মেক্সিকো- এমন দূর-দূরান্তের দেশগুলো থেকে আমেরিকার আমদানিকৃত সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছে।অষ্টমত, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে মার্কিন কংগ্রেস পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর ট্রাম্পের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টাকে আমেরিকানরা ভালভাবে নেয়নি। মার্কিন শাসনব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখার ভিত্তি করে টিকে আছে। এই সুরক্ষাকবচগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় তা সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায়।নবমত, জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট-এর সম্পর্ক অনেককে ক্ষুব্ধ করেছিল। যদিও অতীতেও তাঁকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে এবং তিনি আগেও অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছেন, তবুও এপস্টেইন নথিপত্রে থাকা ছবিগুলো যে নৈতিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়, তা মধ্যবিত্ত আমেরিকানদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।দশমত, বিপুল সংখ্যক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যের জয় দলের ভেতরে নতুন নেতাদের উঠে আসার পথ প্রশস্ত করবে। উল্লেখ্য, এবারের প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সহায়তা নিতে হয়েছিল। এখন দলটিতে নতুন এক প্রজন্মের নেতা তৈরি হবে, যারা ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে শামিল হতে পারেন।তাহলে, মিডটার্ম নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প, বিশ্ব এবং ভারতের জন্য কী অর্থ বহন করে?এখানে অনেক কিছু নজরে রাখার মতো রয়েছে।বিদেশনীতিতে মোড়ঐতিহ্যগতভাবে, কংগ্রেসের বিরোধী দলের চাপে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টরা প্রায়শই বিদেশনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। এটি ট্রাম্পের এমন এক রূপকে সামনে নিয়ে আসতে পারে, যিনি পশ্চিম এশিয়ায় তাঁর দুঃসাহসী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বেপরোয়া মনোভাব দেখিয়েছেন।মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ- (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেট) যদি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করার মাধ্যমে ট্রাম্পের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের হাতে এমন নির্বাহী ক্ষমতা থাকে, যার বলে তিনি আগে থেকেই বরাদ্দকৃত বাজেট ব্যবহার করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন।অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে তদন্তযদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং জ্বালানির দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকে বা আরও বেড়ে যায়, তবে ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এটি ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে বাধা দেবে।অনেক ডেমোক্র্যাটের কাছে, মার্কিন কংগ্রেসে ক্ষমতার পটপরিবর্তন মানেই হল ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ পুঁজিপতি বন্ধু ও পরিবারের বিরুদ্ধে আরও বেশি তদন্ত ও শুনানির সূচনা হওয়া। এর ফলে গত কয়েক বছরের ক্রিপ্টো লেনদেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত চুক্তি, হোটেল ব্যবসা এবং ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে তদন্তের পথ প্রশস্ত হতে পারে।এই তদন্তের জালে যেমন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জড়িয়ে পড়তে পারে, তেমনি ভারতের যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প পরিবার ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে লেনদেন করেছে এবং যাদের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিল সেগুলোও এই তদন্তের আওতায় চলে আসতে পারে।শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ও তার ফলাফলট্রাম্প যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করেছেন (যা মার্কিন কংগ্রেস গত কয়েক মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অর্পণ করেছিল) তা ভারত, চীন-সহ পুরো বিশ্বেরই গভীর পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকবে। যেহেতু শুল্ক ও বাণিজ্য যুদ্ধের এই যুগ বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও পূর্বাভাসের পরিবেশকে ব্যাহত করেছে, তাই দিল্লি এবং বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজধানীগুলো এই পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখবে।ভারত সরকার মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করে চলেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, কারণ এর ফলে ওয়াশিংটনকে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে দেখা যেতে পারে।অভিবাসন-বিরোধী কঠোর পদক্ষেপ, এইচ-১বি ভিসাগত দুই বছরে অভিবাসী-বিরোধী বর্ণবাদ ও বিধিনিষেধের প্রবণতা বেড়েছে। অভিবাসন-বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে, তা মার্কিন প্রশাসনকে মনে করিয়ে দেবে যে, অভিবাসী সম্প্রদায় এবং বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হাতে যথেষ্ট প্রভাব বা ‘ভেটো ক্ষমতা’ রয়েছে।এইচ-১বি ভিসা, শিক্ষার্থী ভিসা ও ওপিটি-এর ওপর বিধিনিষেধ এবং মানুষের চলাচলের ওপর আরোপিত অন্যান্য কড়াকড়ি- এসব বিষয় ভারত-সহ পুরো বিশ্বের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন কংগ্রেস এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে আফ্রিকান-আমেরিকান ও ভারতীয়-আমেরিকানদের জয়লাভের প্রেক্ষাপটে, এই বিষয়গুলো আগামী দিনে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।চীন ও রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিপশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ আলোচনার মূল মনোযোগ কেড়ে নিলেও, ভারত-সহ বিশ্বের অনেক দেশের কাছে আগামী দুই বছরে চীন ও রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিই হবে ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার প্রধান বিষয়। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক, কৌশল এবং দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্ব ও ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কোনও ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হলে, তা ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অংশীদার ও মিত্র দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর গুরুত্বকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ক্ষেত্র, যেখানে মার্কিন নীতি কেমন হয়, তা পুরো বিশ্ব পর্যবেক্ষণ করবে। ট্রাম্প প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ এবং ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলো। যেসব এলাকায় এই ডেটা সেন্টারগুলোর ঘাঁটি করা হচ্ছে, সেখান থেকে কিছু আপত্তি বা বিরোধিতা উঠে এসেছে। মার্কিন প্রশাসন এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ করে, তা দেখার বিষয়। এছাড়া, চীনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সবার নজর কাড়বে। কারণ বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আধিপত্যকে অনেকেই মেনে নিতে চাইবেন না।ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার মুখেমার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ থাকায়, ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি (যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা, ভোটার নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ) নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ভারতের ওপর কঠোর নজরদারি থাকবে। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের জন্য একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্যরা- যাঁরা ইতিমধ্যে শিক্ষার্থী, বিরোধী দল এবং সুশীল সমাজের প্রতি সরকারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন- তাদের সঙ্গে মোদি সরকারকে বোঝাপড়া করতে হবে।পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের খোঁজার সময়২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর, রিপাবলিকান শিবিরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর দিকে সবার নজর থাকবে। আগামী দু'বছরে তাঁদের- ট্রাম্পের প্রভাব থেকে নিজেদের কিছুটা দূরে সরিয়ে নিতে হবে, যাতে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত বিতর্ক বা ‘বোঝা’ ছাড়াই তাঁরা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে পারেন।অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট শিবিরে প্রথাগত বা প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীদের পাশাপাশি অনেক নতুন নাম উঠে আসবে, যা সবার মনোযোগ আকর্ষণ করবে।ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা আটটি কনস্যুলেটে কর্মরত ভারতীয় প্রতিনিধি দলের জন্য আগামী দুই বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাঁদের সামনে এখন বড় ধরনের দায়িত্ব রয়েছে।

৯ মিনিট আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

লালমনিরহাটের সেই ক্লিনিক সিলগালা

লালমনিরহাটের সেই ক্লিনিক সিলগালা

লালমনিরহাট সদরের সাপটানা এলাকার নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে সিজার অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে প্রসূতির মৃত্যুর তথ্য পেয়ে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম সেই ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করেন।এসময় ক্লিনিকের মালিক পক্ষের কাউকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না পেয়ে ফোন ও বিভিন্ন মাধ্যমে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তবে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে সিভিল সার্জনের নির্দেশে সদর লালমনিরহাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নওশাদ আলম ও সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলামের উপস্থিতিতে নিউ অতিথি ক্লিনিক সিলগালা করে দেওয়া হয়।এর আগে সোমবার সকালে শহরের সাপটানা এলাকার ওই ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যুর পর তাকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলা হয় বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে অস্ত্রপাচার করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলেনি।নিহত আদরী বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাসুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরী বেগমকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৪টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রংপুর অথবা অন্য কোনো ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয়। এ সময় বিজলী নামের এক নারী তাকে শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ওই ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করা হয়।

৪ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জামায়াত আমিরের

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জামায়াত আমিরের

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াত আমির বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে আন্দোলন করছেন। ইতোমধ্যে এ আন্দোলনের কারণে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।তিনি বলেন, পোশাকশিল্প দেশের প্রধান রফতানি খাত। এ খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার এ পর্যন্ত এই পদক্ষেপটি নিয়ে উঠতে পারেননি।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এটাও ঠিক যে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে যত বিলম্ব হবে, ক্ষতির পরিমাণ তত বাড়বে।তিনি বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগ সন্ধানে অনেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগের সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করে। এই ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে।এসময়, গাজীপুরের শ্রমিক হত্যার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি বিরোধীদলীয় নেতা।

টিআইবির বিবৃতিতে জামায়াতকে জড়ানো ‘দুরভিসন্ধিমূলক’: পরওয়ার

টিআইবির বিবৃতিতে জামায়াতকে জড়ানো ‘দুরভিসন্ধিমূলক’: পরওয়ার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিবৃতি দেওয়ায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সমালোচনা করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।টিআইবির বিবৃতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত’ মন্তব্য করে তিনি এর নিন্দা জানিয়েছেন বলে সোমবার রাতে জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে।বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে স্পষ্ট। তারপরও দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে টিআইবির মিথ্যা বর্ণনামূলক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানো অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুরভিসন্ধিমূলক।‘ঘটনার সঙ্গে ন্যূনতম সম্পৃক্ততা না থাকলেও জামায়াতকে জড়িয়ে এই ধরনের বিবৃতি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে গত রোববার রাতে ছাত্রদলের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে টিআইবি বিকালে বিবৃতি দিয়েছে।বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কর্তৃত্বের সহিংস লড়াই বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গ সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মূল রাজনৈতিক দায় কি ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এড়িয়ে যেতে পারে? তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে লোকদেখানো দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’টিআইবির বিবৃতি সম্পর্কে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সাংবাদিকদের পেশাদার যে কোনো কাজকে নির্বিঘ্নে সম্পাদনের পরিবেশ প্রত্যাশা করে। একইসঙ্গে কোনো গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী কর্তৃক তা বাধাগ্রস্ত হোক, কিংবা সত্য প্রকাশে বাধা অথবা হুমকির সম্মুখীন হবে- তা সমর্থন করে না, বরং প্রতিবাদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।’‘সুতরাং জামায়াতকে নিয়ে টিআইবির মনগড়া তথ্যনির্ভর বিবৃতি দেওয়া থেকে ভবিষ্যতে বিরত থাকা এবং সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন এনসিপির ৪ নেতা

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক সম্মেলন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের (আইক্যাপ) ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই অধিবেশন।প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন— এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন।এবারের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন ৩৯টি দেশের ৯২টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল—ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কোরিয়া এবং পিপল পাওয়ার পার্টি সম্মেলনটির সহ-আয়োজক। সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, গণতন্ত্র, সুশাসন ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।উল্লেখ্য, আইক্যাপ ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা জোরদার করাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা সরকার ও বিরোধী দলে অবস্থানের পার্থক্য নির্বিশেষে দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে আসছে সংস্থাটি।

দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন এনসিপির ৪ নেতা

নতুন দায়িত্ব পেলেন ইশরাক

বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাহফুজ হাসান। আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খানের সই করা এক আদেশে নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা আদেশের তারিখ থেকেই কমিটির কার্যক্রম কার্যকর হবে।আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্যে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় আগের অ্যাডহক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীসহ ২১ ধারা এবং ২(৪) ও ২(৮) ধারায় পরিষদের চেয়ারম্যানের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে একই আইনের ১৪(৩) ধারা অনুসরণে।নতুন কমিটির সহসভাপতি হয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক মো. মনিরুল ইসলাম, মল্লিক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম, ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ তারিকুল আলম, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়া সংগঠক মো. শহীদুল ইসলাম এবং ক্রীড়া সংগঠক শাহেদ ওয়াহেদ আলী।সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ হাসান জাতীয় স্যান্ডো ও কোরাস প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়, বিচারক ও সংগঠক। যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন ক্রীড়া সংগঠক মো. শাহাদাত হোসেন খান ও সাঈদ মো. আলভী। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন আরবিএফসি ফাইট প্রমোশনের চেয়ারম্যান ও চ্যাম্পিয়ন এজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুল্লাহ পারভেজ।কমিটির সদস্যরা হলেন অ্যাডভোকেট মো. তাইফুর রহমান (সুমন), মো. বাবুল আহমেদ রুবেল, মো. মহিউদ্দিন, তাসলিমা চৌধুরী রিতা, পারভীন আক্তার, আমিরুল ইসলাম, হাসনা হেনা হ্যাপি, মো. আরিফ হোসেন, মো. সেলিম মাহমুদ, মো. নাজমুস সাকিব, নাদিম মাহমুদ, মঞ্জুর হোসেন বাদল, জুয়েল রক্ষিত, মো. খাইরুল হাসান, মো. আছরার আহমেদ, আরমানুল করিম আবীর, হোসেন অংকুর আন্দালিব ও মো. পলাশ।জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আদেশ অনুযায়ী, নতুন অ্যাডহক কমিটিকে আদেশ জারির পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

নতুন দায়িত্ব পেলেন ইশরাক

আন্দোলনে ফ্যাসিস্টরা অনুপ্রবেশ করলে দায় সরকারের: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন যৌক্তিক। সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই আন্দোলনের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সরকার পার পেতে পারে না। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পাবনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাবনা জেলা শাখার আয়োজনে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে যদি ফ্যাসিস্টরা অনুপ্রবেশ করে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে, তার দায়ও সরকারকেই নিতে হবে। কারণ, এটি সরকারের গোয়েন্দা তৎপরতার ব্যর্থতা। সরকার বিরোধী দল দমনে গোয়েন্দা সংস্থার শক্তি ব্যবহার করছে। অথচ যারা দেশের শত্রু, যারা জনগণকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে রয়েছে, তাদের বিষয়ে সরকারপ্রধানকে এখন পর্যন্ত কোনো গোয়েন্দা তথ্য জাতির সামনে প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ৫০০টি আন্দোলন মোকাবিলা করেছে। জনগণের আস্থা থাকলেই কেবল আন্দোলন থামবে। কিন্তু এই সরকারের ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই। কারণ, সরকার ৭০ শতাংশ জনগণের রায়ের সঙ্গে বেইমানি করেছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলোও সরকার ভঙ্গ করেছে।এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গতকাল আবারও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে খোলা বাজারে ১ হাজার ৮০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে রাজপথে নামতে হবে। রাজপথেই এই সরকারকে জবাব দিতে হবে।

আন্দোলনে ফ্যাসিস্টরা অনুপ্রবেশ করলে দায় সরকারের: নাহিদ ইসলাম

বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাঠে বিএনপি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবারও (৩ নভেম্বর) বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে। সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।এদিন সকাল ৯টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল শ্রমিক। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ছাড়া চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, কোনাবাড়ী, ভোগড়া ও সফিপুর এলাকাতেও শ্রমিকদের বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।একপর্যায়ে কোনাবাড়ী বিসিক এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে মহাসড়কে মহড়া দেন। এ সময় শ্রমিকদের একটি অংশ লাঠি হাতে তাদের সঙ্গে অবস্থান নেয়। তবে মহাসড়কের আশপাশে ও উড়ালসেতুর নিচে তাদের উপস্থিতি থাকলেও যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। দুপুর আড়াইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নতুন করে কোনো সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। তবে শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এসব কারখানার অধিকাংশ শ্রমিক নিরাপদে বাড়ি ফিরে যান।আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তবে তারা ভাঙচুর বা সহিংসতা চান না। আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান চান বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, শ্রমিক নামধারী দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা ঠেকাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ধরনের অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠে রয়েছে ১০ প্লাটুন বিজিবি এবং জেলা প্রশাসনের ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে যান। এ সময় কয়েকটি এলাকার শ্রমিকরা নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন স্থানে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে।গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া বহিরাগতদের আশ্রয় না দিতে বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকদের প্রতি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাঠে বিএনপি
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৯১ মিলিয়ন ঘনফুট

সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৯১ মিলিয়ন ঘনফুট

রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৯১ মিলিয়ন ঘনফুট। বুধবার সকাল ৮টা থেকে এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হয়েছে, যা ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে বলে এর আগে জানিয়েছিল পেট্রোবাংলা।দেশে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে দেশীয় ক্ষেত্র থেকে তোলা গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল এতদিন।পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামতে পারে। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।কিন্তু বুধবার সকাল ৮টায় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরুর পর সকাল ১০টায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১ হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ৫১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল।অর্থাৎ, ওই সময় মোট সরবরাহ করা গ্যাসের পরিমাণ ছিল পেট্রোবাংলার পূর্বাভাসের চেয়েও ১৭১ মিলিয়ন ঘনফুট কম। চারদিন সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে মঙ্গলবার গুজব আখ্যা দেয় পেট্রোবাংলা।সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড ব্যবহার করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।পেট্রোবাংলা ওই বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করে, রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তবে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি।দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি পরিচালনা করে সামিট গ্রুপ, অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি।সামিটের টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর আগেও মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও সামিটের টার্মিনালে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়েছিল।