হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের মহাধ্যক্ষ শ্রীসদ্ধম্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ পরামর্শ দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে। এ ক্ষেত্রে সম্প্রদায়ের শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সব সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা গেলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া যথাযথভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা সহজ হবে।সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় তারা আগামী নভেম্বরে কমলাপুরের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে অনুষ্ঠেয় কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়া, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পার্থ প্রতিম বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ-সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সচিব রণজিৎ কুমার বড়ুয়া, জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরামের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য দিলীপ কুমার বড়ুয়া, বাসাবো ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ সুমিত্তানন্দ ভিক্ষু (অনুপম বড়ুয়া) ও রীটন কান্তি বড়ুয়া (স্বরূপানন্দ ভিক্ষু)-সহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা।এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে প্রতিদিন দুপুরের খাবারে সাড়ে ১০ লাখ টাকা এবং বছরে ৩৫ কোটি টাকা খরচ করতেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাত্র ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার সারেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিছুদিন আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের একটি পয়সাও নষ্ট হতে দেবেন না।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে আট দিনের সফরে বরগুনায় এসে সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কেয়ামতের ময়দানে মহান আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক রূপ—কে মোটা, শুকনা, কালো, ফর্সা, লম্বা নাকি খাটো ছিলেন, তা দেখে বিচার করবেন না; দেখবেন অন্তরের অবস্থা ও ইমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। গত পরশু দুপুরেও তার সঙ্গে ঢ্যাঁড়শ ভাজি, মিষ্টি কুমড়া ভর্তা আর ডাল দিয়ে খাবার খেয়ে এসেছি।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের বড় প্রাপ্তি যে তারেক রহমানের মতো একজন মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন সুযোগ হেলায় নষ্ট করা ঠিক হবে না।সংসদীয় দলের সভার প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্লামেন্টের বিশেষ একটি সভায় সংসদ সদস্যদের স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন—আপনারা এমপি হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন; কিন্তু আপনারা যদি কর্মীবান্ধব না হন, কর্মীদের মূল্যায়ন না করেন, তবে দল চলবে কিভাবে? তৃণমূলের কর্মীরা ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করে আমাদের আজকের এই অবস্থানে এনেছেন। এখন তাদের দেখভালের দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।তিনি আরও জানান, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, দল থেকে মিষ্টির বহিষ্কার হওয়াই শেষ কথা নয়; পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সমাজের জনপ্রিয় ব্যক্তিরাই অংশ নেবেন। সেখানে দলীয় প্রতীকের লড়াই থাকবে না; ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো প্রতীক ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মূলত দলীয় প্রতীকের কারণে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হয়। তাই উৎসবমুখর পরিবেশে সর্বস্তরের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক সম্পর্ক অটুট রাখতেই প্রতীক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে কোনো ব্যক্তি বিএনপি না করেও যদি জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নির্বাচিত হতে চান, তবে কোনো বাধা থাকবে না। এটিই একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা।চিফ হুইপ আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন দেশে দুর্ভিক্ষের মর্মান্তিক চিত্র আমরা দেখেছি। সেই পরিস্থিতি থেকে মাত্র তিন বছরের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে সেনেগালেও খাদ্য ও চাল রপ্তানি করার নজির তৈরি করেছিলেন তিনি। আর বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকেই দায়িত্ব নিয়ে দেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সারের ডিলার নিয়োগে দলীয় বিবেচনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রকৃত সার ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে দলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের আত্মীয়-স্বজনদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।সবার আগে বাংলাদেশে বিএনপির এ স্লোগান নিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, বরং সবার আগে বিএনপি এই নীতিতে দেশ পরিচালনা করছে সরকার।’তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘সারের ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা ও নীতিমালার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। এমনকি টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে।’দলীয় চাপের মুখে নিয়ম ভেঙে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে এ ঘটনায় দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।এছাড়া জামায়াতের ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন তিনি। দাবির মধ্যে রয়েছে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দেওয়া; নিয়োগের যোগ্যতা ও লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি প্রকাশ; অর্থ আদায়ের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; সারসংকট নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির অসংগতি যাচাই; দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত ব্যাখ্যা এবং তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ; পাশাপাশি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক যাচাই নিশ্চিত করা।
রাড্ডা সেন্টারের ঘটনাসহ নানা ইস্যুতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। একই দিন বিলুপ্ত করা হয় মহানগর উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও। এসব কমিটি বিলুপ্তির পর উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে আলোচনা জোরালো হয়েছে।নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক বা সভাপতি এবং সদস্যসচিব বা সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসতে পারেন, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় পুরোনো কমিটির পরিচিত নেতাদের পাশাপাশি উঠে আসছে বেশ কয়েকজন নতুন মুখের নামও। কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে এরই মধ্যে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তদবির শুরু করেছেন কেউ কেউ।ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সম্ভাব্য নতুন কমিটির শীর্ষ পদে পুরোনো মুখ নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। সভাপতি কিংবা আহ্বায়ক পদে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক। ফলে পুরোনো নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে। গত ৫ অক্টোবর গুলশানে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে সভাপতি করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ এবং ১ নম্বর সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারও আমিনুল হকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দলের কঠিন সময়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন আমিনুল হক। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগও রয়েছে। সভাপতি পদের আলোচনায় আরও রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ-সদস্য ও সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান, মহানগর উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনের নামও।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক বা সদস্যসচিব পদের আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান। তার সঙ্গে যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিনের নামও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া সাবেক কমিশনার ও বিলুপ্ত কমিটির ১ নম্বর সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজি ইউসুফ ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এবং যুবদল মহানগর উত্তরের সাবেক আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েলের নামও আলোচনায় রয়েছে। এর বাইরে আরও অনেকে নতুন কমিটিতে জায়গা পেতে লবিং করছেন বলে জানা গেছে।এস এম জাহাঙ্গীর যুগান্তরকে বলেন, দলের নীতিনির্ধারকরাই সাংগঠনিক দক্ষতা ও অতীতের ভূমিকা মূল্যায়ন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আমি সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ আছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে ফোন ফেরত দেন হামলাকারীরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, দুপুরে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গড়াই নদের ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান। এর আগে তিনি রায়ডাঙ্গা আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী তার গাড়িতে উঠতে গেলে সেখানে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সময় হাতাহাতি বেধে যায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে। এ সময় স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে সেই ভিডিও ধারণ করলে জেলা ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে তার ফোন ছিনিয়ে নেন। তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিলেও ভিডিও করার কারণে তাকে অস্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন। অন্য আরেকজন ছাত্রদল কর্মী স্টার নিউজের প্রতিনিধিকে ধরে নিয়ে যান। এই ভিডিও ধারণ করছিলেন মোহনা টেলিভিশনের কুমারখালী প্রতিনিধির ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম। ছাত্রদল কর্মীরা তাকে কিল-ঘুসি মেরে তার ফোনও ছিনিয়ে নেযন। পরে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে মোবাইল দুটি ফেরত দেন হামলাকারীরা।স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে ওঠার পরপরই ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় আমি ভিডিও করলে তারা আমার ওপরে চড়াও হন। পরে আমার ফোন কেড়ে নেন এবং আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মোহনা টেলিভিশনের কুমারখালী প্রতিনিধির ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম সেই ঘটনা ভিডিও করতে গেলে তাকেও কিল-ঘুসি মারেন ছাত্রদলের কর্মীরা। পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমানের হস্তক্ষেপে আমরা মোবাইল ফেরত পাই।মোহনা টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম জানান, স্টার নিউজের জহুরুল ভাইয়ের ওপর যখন হামলার ঘটনা ঘটে এ সময় আমি ভিডিও ধারণ করছিলাম। ছাত্রদলের কর্মীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাকে মারধর করেন। তারা আমার মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারেন। এ সময় সমকাল পত্রিকার কুমারখালি উপজেলা প্রতিনিধি নয়ন ভাইকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তারা।এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমানকে একাধিকবার ফোন দিল তিনি রিসিভ করেননি।এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকারকে একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস জানান, কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর প্রোগ্রামে সংবাদ কভারেজ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। আমরা চাই অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।এই ঘটনায় জেলায় কর্মরত সংবাদ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোবের সৃষ্টি হয়েছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ কথা জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার।তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য ও বঞ্চনার কথা শুনেছেন জামায়াত আমীর এবং এসব সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যত সংগঠন আছে, জাতীয় ভাবে তার প্রায় সব সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী নেতারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টসহ আরও অনেক সংগঠন ও সংস্থার নেতৃবৃন্দ এখানে উপস্থিত ছিলেন।তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে শুধু নয়, লিডার অব দ্য অপজিশন হিসেবে একটি সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে কথা বলা সরকারের যেমন দায়িত্ব, তেমনি বিরোধীদলীয় নেতারও সাংবিধানিক কর্তব্য। তিনি সেটি স্মরণ করেছেন এবং এ ব্যাপারে তার ভূমিকা যতটুকু তিনি পালন করেন, সেটিও ব্রিফ করেছেন।জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা ও মন্দির রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সাহসী এবং দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকার প্রশংসা করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ।তিনি বলেন, এই মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন জায়গায় কিছু বৈষম্য, বঞ্চনা, অসুবিধা, দুঃখ-কষ্ট ও ডিসক্রিমিনেশনের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা সহযোগিতা চেয়েছেন। সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পাশে থেকে এসব সমস্যার সমাধান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের নেতা। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আরও মতবিনিময় করব, আরও কথা শুনব এবং আমাদের এই কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে আপনাদের পাশে আমরা সব সময় থাকব।বিফ্রিংয়ে সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সনাতন সমাজের নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আজ যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এজন্য সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।তিনি বলেন, যে শুভ সূচনার শুরু হলো, আগামী দিনে বাংলাদেশের সব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা যেন দলমতনির্বিশেষে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারি। সবাই মিলেমিশে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারি এবং একে অপরের সহমর্মিতায় পাশে থাকতে পারি, সেটিই আজ আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধেয় আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা।সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে তার এই গ্রহণযোগ্যতা ও বক্তব্যে সন্তুষ্ট। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও বলেন, তবে আমি একটি কথা বলতে চাই, যখনই আমাদের কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান হয়, তখন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং পৃথিবীর বুকে আমরা খুব উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। আমি বলতে চাই, এই কথাটা আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা-নেত্রীরা যদি মসজিদে খুতবার মাধ্যমে এই সম্প্রীতির আহ্বান জানান, তাহলে বাংলাদেশ সত্যি সত্যি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হয়ে উঠবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ায় সারজিস আলমকে বহিষ্কার এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম, এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। পোস্টে রাশেদ খান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।রাশেদ খান তার পোস্টে লেখেন, ১৯ জুলাই, যেদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি মানুষ শহীদ হন, সেদিন আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তারা। একই সময়ে আব্দুল কাদেরের ঘোষিত ৯ দফা দাবি বানচাল করতে ৮ দফা কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরও লেখেন, লীগ-চাটা হাসনাত-সারজিস আজকে জামায়াতি জাতির আব্বা হয়ে গেছে! আর ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছে আব্দুল কাদেররা।পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ সেদিন হাসিব আল ইসলামকে ফোন করে মেস থেকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে যান। আরও কয়েকজনকে ওই বৈঠকে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে চাননি বলে তারা বৈঠকে যাননি, এমন বক্তব্যও তুলে ধরেন রাশেদ খান।তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলেও অন্তত গণঅভ্যুত্থানের সময় তাদের সঠিক ভূমিকা ছিলো। সে সময় কিন্তু প্রকাশ্যে জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে ৯ দফাকে বানচাল করার ষড়যন্ত্রে নামে জুলাই গাদ্দার হাসনাত-সারজিস। নেত্র নিউজে আজও সেই বহিষ্কারের তথ্য রয়েছে।