লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষ প্রায় সাত বছর ধরে ত্রিপোলিভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তুরস্কের করা সামুদ্রিক চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিল। অথচ গত সপ্তাহে আইনসভার এক বৈঠকেই সেই চুক্তি অনুমোদন করেছে তারা। গত ২০ অক্টোবর বেনগাজিতে লিবিয়ার প্রতিনিধি পরিষদ চুক্তিটি অনুমোদন করে।তবে এই অনুমোদনকে তুরস্কের কূটনৈতিক বিজয় বলার চেয়ে খলিফা হাফতারের ছেলে সাদ্দাম হাফতারের পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পূর্ব লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের ছেলে সাদ্দামের চূড়ান্ত লক্ষ্য দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়া।যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ত্রিপোলি ও বেনগাজির মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাসাদ বুলোসের উদ্যোগে নেওয়া এই সমঝোতার মাধ্যমে সাদ্দামকে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট করা হতে পারে।তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সাদ্দামের আঙ্কারার সমর্থন প্রয়োজন। পশ্চিম লিবিয়ায় তুরস্কের উল্লেখযোগ্য প্রভাব থাকায় দেশটির রাজনৈতিক সমঝোতায় আঙ্কারার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সামুদ্রিক চুক্তির অনুমোদনকে তুরস্কের সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।কে এই সাদ্দাম রাফতার১৯৯১ সালে বেনগাজিতে আল-ফুরজানি গোত্রে জন্ম নেওয়া সাদ্দাম হাফতার ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। বড় ভাইদের পেছনে ফেলে কীভাবে তিনি বাবার পছন্দের উত্তরসূরি হয়ে উঠেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে তার দুই ভাই উকবা ও আল-মুনতাসির যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ফলে বাবার উত্তরসূরি হওয়ার প্রতিযোগিতায় তাদের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হয়। আরেক ভাই বেলকাসিম খলিফা হাফতারের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।সাদ্দামের বেপরোয়া আচরণও তার অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। এর একটি উদাহরণ ২০১১ সালে ত্রিপোলিতে একটি ব্যাংকে গোলাগুলির ঘটনা। ওই ঘটনায় সাদ্দাম আহত হয়েছিলেন।এ ছাড়া বাবার শাসনব্যবস্থার অর্থায়নেও সাদ্দামের ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয়। ফলে সাদ্দাম ও তার আরেক ভাই খালেদ বাবার সবচেয়ে প্রভাবশালী সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। দুজনই সেনা কর্মকর্তা এবং লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসের (এলএএএফ) বিভিন্ন বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন। এই বাহিনীকে প্রায়ই খলিফা হাফতারের নিজের দেওয়া ‘লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ নামেও উল্লেখ করা হয়।সাদ্দাম বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদায় রয়েছেন। লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসে দ্রুত পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে ক্যাপ্টেন এবং পাঁচ বছর পর কর্নেল পদে উন্নীত হন সাদ্দাম। অথচ সামরিক প্রতিষ্ঠান বা একাডেমিতে তার পূর্ববর্তী প্রশিক্ষণ ছিল না। তিনি বেসামরিক ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এমনকি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সনদও তিনি অর্জন করেননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ২০১৬ সালে সাদ্দাম ‘১০৬তম ব্যাটালিয়ন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী এবং তার বাবার একধরনের ব্যক্তিগত রক্ষীবাহিনী।এই ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিহাদি যোদ্ধাদের কাছ থেকে তীব্র লড়াইয়ের পর বেনগাজি পুনর্দখল করেন সাদ্দাম। তবে একই মাসে বেনগাজির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবন থেকে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ব্যাটালিয়নটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। অর্থের বড় অংশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয়, ওই অর্থের কিছু অংশ ব্যবহার করে ২০১৮ সালে ১০৬তম ব্যাটালিয়নকে ব্রিগেডে সম্প্রসারণ করা হয়েছিল।পরবর্তী সময়ে বাহিনীটিকে এলএএএফের সবচেয়ে পেশাদার ব্রিগেডগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিপুল পরিমাণ আধুনিক বিদেশি অস্ত্র পাওয়ায় এর সক্ষমতাও বেড়েছে। দ্বিতীয় লিবীয় গৃহযুদ্ধের সময় রাশিয়া ও আমিরাতের সমর্থনের ফলে এসব অস্ত্রের অনেকগুলো তাদের হাতে আসে।২০১৬ সালে সাদ্দাম আরও একটি বাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন—তারিক বেন জায়েদ (টিবিজেড) ব্রিগেড। অষ্টম শতাব্দীতে আইবেরীয় উপদ্বীপ বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদের নামে বাহিনীটির নামকরণ করা হয়েছে।টিবিজেডে মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাহিনীর সাবেক সেনাসদস্য এবং খলিফা হাফতারের মিত্র গোত্রগুলোর যোদ্ধারা রয়েছেন। এটিকেও এলএএএফের অন্যতম সক্ষম সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।তবে বাহিনীটির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে টিবিজেডের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের জন্য এর কমান্ডারদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানায়। এ ছাড়া বেনগাজিতে মানুষকে উচ্ছেদ ও তাদের বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনায় জাতিসংঘও বাহিনীটির নিন্দা জানিয়েছে।সাদ্দামের ভাই খালেদও লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে সাদ্দাম সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবারের কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন।খালেদ প্রথমে খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ ব্রিগেডের (কেডব্লিউবি) কমান্ডার ছিলেন। পরে ১০৬তম ব্রিগেড ও কেডব্লিউবিকে একীভূত করে গঠিত নতুন ‘সিকিউরিটি ইউনিটস’-এর প্রধান নিযুক্ত হন।২০১৬ সালে জর্ডানের সামরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সাদ্দামকে নিজের দূত হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তার বাবা বলে খবর প্রকাশিত হয়। ২০১৯ সালের আগে কোনো এক সময়ে তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গেও সাদ্দামের সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।২০২১ সালের মার্চে আমিরাত ও তেল আবিব সফর করে সামরিক সহায়তার বিনিময়ে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সাদ্দাম—এমন অভিযোগও রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র, আমিরাত ও জর্ডানে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সম্পদের কারণে হাফতার পরিবারকে ‘সামরিক-বাণিজ্যিক’ পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের স্বার্থ দেখাশোনা করেন উকবা হাফতার।অন্যদিকে, সাদ্দামের বিরুদ্ধে আরও অস্পষ্ট ও বিতর্কিত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে সোনার বিনিময়ে নগদ অর্থের লেনদেন এবং তুরস্কের কাছে স্ক্র্যাপ ধাতু ও তেল বিক্রি।এ ছাড়া ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মানবপাচার ও মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া অর্থ পূর্ব লিবিয়ায় হাফতার পরিবারের রাজনৈতিক-সামরিক কাঠামো টিকিয়ে রাখতে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। লিবিয়া থেকে ইউরোপে অভিবাসী ও মাদকের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করেন সাদ্দাম—এমন দাবিও করা হয়েছে।তার বাবার মতো সাদ্দাম হাফতারও পুরো লিবিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয় নন। এর একটি কারণ হতে পারে ২০২০ সালে তার জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে তার বাবা অতিথিদের মধ্যে ১ কোটি ডলারের নগদ অর্থ ও উপহার বিতরণ করেছিলেন।অনুষ্ঠানে কবিরা সাদ্দামের প্রশংসা করে গান ও কবিতা পরিবেশন করেন। পূর্ব লিবিয়ার ৪০ জন কবিকে হাফতার পরিবারের গুণকীর্তন করার জন্য ৪০টি টয়োটা হাইলাক্স গাড়ি দেওয়া হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। এ ধরনের গাড়ি সশস্ত্র সংঘাতে যোদ্ধা ও অস্ত্র বহনে বহুল ব্যবহৃত হওয়ায় পরিচিত। তথ্যসূত্র: জেমসটাউন
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে রাজনৈতিক ও চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন কাজ আরো গতিশীল হবে বলেও আশাবাদ জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত।এছাড়া বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও স্হানীয় নির্বাচন এবং এলডিসি গ্রাজুয়েশনের মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক কর্মকর্তা মিস কামিলা পার্টিকা।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ-সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছেন। আর এসব নিয়ে কথা বললেই নিজ দলের নেতাকর্মীদের মামলা, বহিষ্কারসহ নানা হয়রানি করছেন। সোমবার রাজশাহী মহানগরীর অলোকার মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসব অভিযোগ করেছেন। রাজশাহী-৫ আসনের ভুক্তভোগী বিএনপি নেতাকর্মীর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলামের প্রত্যাহারও দাবি করেছেন। তাদের দাবি, এমপির কথায় তাদের বিরুদ্ধে ওসি মিথ্যা মামলা রেকর্ড করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার সরকার আল-আমীন, বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী ও সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব প্রমুখ।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এমপি নজরুল সম্প্রতি পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পল্লব সেনগুপ্ত ও আওয়ামী লীগকর্মী মাজহারুল ইসলাম মিন্টুকে সংসদে নিয়ে যান। তার এই কাজ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ ছিল। তাছাড়া বেশির ভাগ সরকারি পুকুর আওয়ামী লীগের একজন অর্থদাতাকে দিয়ে চাষ করাচ্ছেন এমপি। টাকার বিনিময়ে তিনি ‘ফ্যাসিবাদ ও রাজাকার ঘরানার লোকদের’ ডিলার নিয়োগ দিতে সহায়তা দিচ্ছেন। পুঠিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রিশাদ হোসেন কেতাব ডিলারশিপ পেয়েছেন। পুঠিয়া পৌরসভা এলাকায় ডিলারশিপ পেয়েছেন শাহেদ হাসান। তার বাড়ি ময়মনসিংহ। তিনি এমপির নাতিজামাই। এমপির সুপারিশে ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন শফিউল ইসলাম। তিনি জামায়াতের রাজনীতি করেন।সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ, এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে এমপির পরিবারের সদস্য, ফ্যাসিবাদের দোসর কিংবা জামায়াতের কাউকে সভাপতি ও সদস্য মনোনীত করেছেন। যুবদল নেতা দেলোয়ার সরকার আল-আমীন বলেন, ‘এমপির নানা অনিয়ম ও আওয়ামীপ্রীতির ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীদের কেউ ফেসবুকে মন্তব্য করলে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গত ১৩ আগস্ট বিড়ালদহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের একটি পারিবারিক ঘটনায় আমাকেসহ বিএনপির ৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হয়রানি করতেই এ মামলা।’ অন্যদিকে গত ১১ অক্টোবর চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলার পেছনে সংসদ-সদস্যের চাপ রয়েছে বলে দাবি দেলোয়ারের। তার অভিযোগ, মামলার বাদী খন্দকার সোহেল মাহমুদ ফ্যাসিবাদের দোসর।সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব বলেন, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিব খান এমপি নজরুলের ভাতিজা আজাদ মন্ডলের জামাতা। হাবিব খান শ্বশুরবাড়িতে বসে সরকার পতনের হুঙ্কার দিচ্ছেন। বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনে যারা এমপির পক্ষে ছিলেন না, তাদেরই হয়রানি করা হচ্ছে।সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব অভিযোগের তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে এমপি নজরুলের মোবাইল ফোনে কল দিলে তার ভাতিজা তানজিম আরিন রিসিভ করে জানান, এমপি বিশ্রামে আছেন। তাকে পাওয়া যাবে না।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতের উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে ‘গোপন বৈঠক’ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে, এই জামায়াত নেতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেছেন– বৈঠকের তথ্য যদি মিথ্যা হয়, তবে মিয়া গোলাম পরওয়ার যেন তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভ্যারিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এ কথা বলেন।পোস্টে তিনি লেখেন, ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের তথ্য যদি মিথ্যা হয়, তবে মিয়া গোলাম পরওয়ার যেন আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে কয়েকবার গাড়ি পরিবর্তন করেছেন। একটি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা কেন চোরের মতো পালিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন?রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এটিএম মা’ছুমের বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সবার কাছে তথ্য রয়েছে। একটি ইসলামিক দলের নেতা হিসেবে তার উচিত হবে, বিষয়টি স্বীকার করে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জাতিকে খোলাসা করা।পোস্টের শেষে তিনি যোগ করেন, নাকি জামায়াত এখন ‘বাঁচার জন্য মিথ্যা বলা জায়েজ’ এই থিউরি অবলম্বন করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করবে?এর আগে, সোমবার দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে জামায়াত নেতাদের ওই বৈঠক হয়।বিষয়টি অস্বীকার করে গোলাম পরওয়ার এ দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে বলেছেন। বিবিসিকে তিনি বলেছেন– এটা পুরোপুরিভাব অসত্য ও আজগুবি একটা দাবি। এ ধরনের বৈঠক করার প্রশ্নই আসে না।এরপর রাশেদ খাঁন তার দেওয়া তথ্য ‘শতভাগ সত্য’ বলে অন্য এক পোস্টে দাবি করেন।
রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে দলটি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে ঘটিত এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিপিবির শীর্ষ নেতারা।ঘটনার পর মধ্যরাতে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফী অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় নেতাকর্মী পরিচয়ে পল্টনে একটি ‘মব’ বা সংঘবদ্ধ দল তৈরি করে এই হামলা চালানো হয়। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।জানা যায়, সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সংস্কৃতিকর্মীদের ব্যানারে সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে একটি মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়। সেই কর্মসূচি থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।দীপক শীল মুক্তি পাওয়ার পর পল্টনে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে ও সংহতি জানিয়ে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অজুহাত তুলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় মব সৃষ্টি করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুব ইউনিয়নের সভাপতি ইরান মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল ফকিরকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে মধ্যরাতে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফী বলেন, মিছিলে স্লোগান দেওয়ার অজুহাতে নেতাকর্মীদের ওপর এভাবে হামলা চালানো এবং মব তৈরি করে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি অবিলম্বে এ ধরনের দমনপীড়ন ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠাতব্য ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক চলছে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন ২৯ মিন্টো রোডে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর জেনারেল সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থী হয়েছেন এলিজা জামান।বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।এছাড়া সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এলিজা জামান বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। পাশাপাশি তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ অক্টোবর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।এরপর আসনটিতে উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১২ অক্টোবর ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সেরে আগামী ১২ নভেম্বর ভোটের তারিখ রাখা হয়েছে তফসিলে।তবে বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।সংরক্ষিত নারী আসনের এই উপ-নির্বাচনকে ঘিরে গত ১৬ অক্টোবর দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে বিএনপি। ৭০ জন নারী দলটির ফরম সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে ৬৮ জন আবেদন জমা দেন।এলিজা জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি) আসনে ধানের শীর্ষ প্রতীকে ভোট করতে চেয়েছিলেন। তবে ১২ জানুয়ারির ভোটে শেষ পর্যন্ত তিনি দলের মনোনয়ন পাননি।তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার পিতা সরদার সুলতান মাহমুদ সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।