আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার— এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে কনটেইনার জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, রফতানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে মোংলা বন্দরের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। বন্দরটি জ্বালানি, খাদ্য ও কাঁচামাল আমদানির পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা ও নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।এসময় তিনি দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বিনিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান। বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনার একটি ধাপ। তাই বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল, প্রতিযোগিতামূলক বন্দর সেবা নিশ্চিত করা অবশ্যই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।তিনি জানান, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা, উপযুক্ত বাণিজ্যিক এবং পরিচালনাগত শর্তে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।এদিন সকালে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তার উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই হয়।এসময় উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরবেন—এমন ঘোষণা কয়েক দফায় দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেত্রী নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন।তবে তার এই ঘোষণাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মাথায় নিয়ে তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনার ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বাধা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি প্রকাশ্যে সাংগঠনিক শক্তি দেখাতে পারছে না। বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনীতির মাঠে দলটির অবস্থান দুর্বল।গণমাধ্যমটি বলছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থানে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনি জটিলতা।মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে শত শত মামলা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এটা নিশ্চিত।শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় একাধিকবার আবেদন করেছে বাংলাদেশ। তবে ভারত এখনো সাড়া দেয়নি। চুক্তিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগসহ কয়েকটি কারণে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। সাবেক কূটনীতিকদের কারও কারও ধারণা, ভারত হাসিনাকে ফেরত দিতে আগ্রহী নয়।অন্য পথ হতে পারে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাশ নেওয়া। কিন্তু এ ধরনের আবেদন করা হলে সরকার তা অনুমোদন করবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে পর্যালোচনার কথা বলছেন।তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবার ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দলের নেতাদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন। তার ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ মনে করেন, ফেরার প্রক্রিয়া ও বিকল্প পরিকল্পনাও তিনি ঠিক করে রেখেছেন।আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাতও জানিয়েছেন, ঝুঁকি থাকলেও ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগ গোপন তৎপরতায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। তারা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত হতে পারে। সেজন্য তারা সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলছেন।সব মিলিয়ে তার ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়া, বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ভারতের অবস্থানের ওপর। ডিসেম্বর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাই শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্য প্রত্যাহারে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান এনসিপির আহ্বায়ক বরাবর এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম তার দেওয়া ‘চাঁদাবাজি ও লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন, দেশ পরিচালনায় তার কোনো পরিকল্পনা নাই’—এই বক্তব্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নোটিশে নাহিদ ইসলামকে বলা হয়, গত ৩০ অক্টোবর চ্যানেল ওয়ান ও চ্যানেল আই-এ সন্ধ্যার পর প্রকাশিত আপনার বক্তব্য ‘চাঁদাবাজি, লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন। দেশ পরিচালনায় তার কোনো পরিকল্পনা নাই’—এ বক্তব্য আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ায় আমি বিব্রত, ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়ে জানাচ্ছি যে, এ বক্তব্য অমার্জনীয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঈর্ষান্বিত করে অবাস্তব, কাল্পনিক মন্তব্য দিয়ে নিজেকে ছোট ও অপরিপক্ব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞাহীন ব্যক্তি বলে আখ্যায়িত হয়েছেন।নোটিশে বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের মতো পদধারী ব্যক্তির কাছ থেকে এমন অগ্রহণযোগ্য, কাল্পনিক, অজ্ঞ, জ্ঞানহীন, রাজনৈতিক অপ্রজ্ঞার বক্তব্য জাতি কখনো আশা করেনি। এমন বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন।নোটিশ পাওয়ার দশ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নোটিশে বলা হয়েছে।
চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে ইস্যু বানিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে; বাইরের শক্তি অশুভ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনে দলীয়করণ করেছে সরকার, যা পুরোপুরি অনুচিত। শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আবার শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের যেকোনো সমস্যার ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।আন্দোলন দমনে শ্রমিকদের ওপর পুলিশ অমানবিক আচরণ করেছে অভিযোগ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আহ্বান করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনার।সেই সাথে কোনোভাবেই যেন সাধারণ শ্রমিকরা হয়রানির শিকার না হয় এবং শিল্পের ক্ষতি করে, অর্থনীতির চাকাকে থামিয়ে দেয় এমন আন্দোলন না করতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হোসেনের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে তিনি ফোন দেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি জানান।পোস্টে তিনি লেখেন, সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হোসেনের পরিবার তথা তার স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হলো। উভয়ই কান্নায় ভেঙে পড়ল। দুটি এতিম ভাই বড় কষ্টে-সৃষ্টে বড় হয়েছিল, নিতান্তই কষ্টের সংসারে তাদের বেড়ে ওঠা। একই গার্মেন্টসে একইসঙ্গে দুই ভাই চাকরি করত। কিন্তু দেখতে দেখতে চোখের সামনে ভাইটিকে হারিয়ে ফেলল। হাসপাতালে গিয়েও ভাইটি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিল, শেষ কথাটাও ভাইয়ের সঙ্গে বলতে পারল না বলেই বড় ভাই কান্নায় ভেঙে পড়ল।তিনি আরও লেখেন, তৌফিকের সদ্য বিধবা স্ত্রী, সেও একইসঙ্গে অভাবের তাড়নায় গার্মেন্টসে চাকরি করত। তবে তাদের একমাত্র সন্তানের জন্মের পর তার লালন-পালনের জন্য সে চাকরিটি ছেড়ে দেয়। তাদের বাবু সিয়ামের বয়স এখন মাত্র ১১ মাস। এ কথা বলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ল।‘মাথা গোঁজার জন্য গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় এক ইঞ্চি জায়গাও তাদের নিজস্ব নেই। বর্তমানে স্বামীর চাচার ছোট্ট একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছে তারা। পরিবারটির এহেন পরিণতি দেখে খুবই খারাপ লাগছে।’‘আমরা তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই। এ দেশে গরিবের বিচার পাওয়ার সুযোগ কতটা আছে তা জানি না, তবুও আমরা বিচার চাইব। সেই ন্যায্য বিচারটুকু পেলেও অন্তত এই বিধ্বস্ত স্ত্রী ও পরিবারটি কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবে। আমরা ইনশাআল্লাহ এই পরিবারের পাশে থাকব। আল্লাহ তাআলা এই অসহায় পরিবারের সহায় হোন।’ফোনালাপের সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার আমির আব্দুল করিম, সাবেক আমির ও বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং গোবিন্দগঞ্জ আসনের বিগত সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকারসহ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আমির ও অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর কুর্মিটোলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল মিছিল থেকে পুলিশের একটি টহল গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এ হামলা চালানো হয়।এতে মো. এনামুল নামে পুলিশের এক কনস্টেবল (গাড়িচালক) আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মোটরসাইকেল মিছিল থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। আর্মি গলফ ক্লাবের সামনে থাকা একটি টহল গাড়িকে লক্ষ করে এ ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়িতে থাকা চালক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিষয় যাচাই-বাছাই চলছে। আহত পুলিশ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িত মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বনানীর দিক থেকে ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেলের একটি বহর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কুড়িল বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিল। বহরটি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে তারা ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের ‘গলফ ক্লাব-৮৩’ টিউটিরত টহল গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেন। এতে বিস্ফোরণ ঘটলে গাড়ির চালক কনস্টেবল মো. এনামুলের বাম চোখে সামান্য আঘাত লাগে।পরে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদের নির্দেশে এই ঝটিকা মিছিলটি বের করা হয়। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মুখে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর শাখার আমিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের রুকনদের (সদস্য) গোপন ব্যালটে নির্বাচিত এসব আমিরের নাম বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।দলটির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর শাখাগুলোর আমির নির্বাচিত হয়েছেন।ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির হয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণের আমির নির্বাচিত হয়েছেন নূরুল ইসলাম বুলবুল।মহানগর শাখাগুলোর মধ্যে রংপুরে এটিএম আজম খান, বগুড়ায় আবদুল মালেক, রাজশাহীতে ডা. মো. জাহাঙ্গীর, খুলনায় অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, বরিশালে অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, সিলেটে মো. ফখরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রামে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আমির নির্বাচিত হয়েছেন।জেলা পর্যায়ে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে পঞ্চগড়ে অধ্যাপক মো. ইকবাল হোসাইন, ঠাকুরগাঁওয়ে মোহাম্মদ আলমগীর, দিনাজপুরে ড. মুহাদ্দিস এনামুল হক, নীলফামারীতে অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুস সাত্তার এমপি, লালমনিরহাটে অ্যাডভোকেট আবু তাহের, রংপুরে মাওলানা এনামুল হক, কুড়িগ্রামে অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার এবং গাইবান্ধায় মো. আবদুল করিম সরকার এমপি আমির হয়েছেন।রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলার মধ্যে জয়পুরহাটে মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, বগুড়ায় মাওলানা আবদুল হক সরকার, সিরাজগঞ্জে মাওলানা মো. শাহিনুর আলম, পাবনায় অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাওলানা মো. আবুজর গিফারী, নওগাঁয় মাওলানা মাহফুজুর রহমান, রাজশাহীতে অধ্যাপক আবদুল খালেক এবং নাটোরে ড. মীর নুরুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে মেহেরপুরে মাওলানা মো. তাজউদ্দীন খান এমপি, কুষ্টিয়ায় অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন, চুয়াডাঙ্গায় অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন এমপি, ঝিনাইদহে মাওলানা আবদুল আউয়াল, যশোরে অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল এমপি, মাগুরায় অধ্যাপক সাঈদ আহমদ, নড়াইলে অ্যাডভোকেট মো. আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, বাগেরহাটে মাওলানা রেজাউল করিম, খুলনায় অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম এবং সাতক্ষীরায় অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম আমির নির্বাচিত হয়েছেন।বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনায় মাওলানা মো. মহিবুল্লাহ, পটুয়াখালীতে অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, ভোলায় মাস্টার মু. জাকির হোসেন, বরিশালে ড. মাহফুজুর রহমান, ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান এবং পিরোজপুরে আব্দুর রবকে আমির ঘোষণা করা হয়েছে।ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে শেরপুরে মাওলানা হাফিজুর রহমান, ময়মনসিংহে মো. আবদুল করিম এবং নেত্রকোণায় ছাদেক আহমাদ হারিছ নির্বাচিত হয়েছেন।ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জে মাওলানা আজিজুল হক, টাঙ্গাইলে আহসান হাবিব মাসুদ, মানিকগঞ্জে হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম, গাজীপুরে মাওলানা সেফাউল হক, মুন্সীগঞ্জে মাওলানা আ. জ. ম. রুহুল কুদ্দুস, ঢাকায় মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, নারায়ণগঞ্জে মাসুদুর রহমান গিয়াস, নরসিংদীতে ইব্রাহিম ভূঁইয়া, রাজবাড়ীতে হাসমত আলী, ফরিদপুরে ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমদ, গোপালগঞ্জে অধ্যাপক রেজাউল করিম, মাদারীপুরে মাওলানা মোখলিসুর রহমান এবং শরীয়তপুরে মাওলানা আবদুর রব হাশেমী আমির নির্বাচিত হয়েছেন।সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জে অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন, সিলেটে মাওলানা হাবিবুর রহমান, মৌলভীবাজারে ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী এবং হবিগঞ্জে কাজী মোখলিছুর রহমানকে আমির ঘোষণা করা হয়েছে।চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুহা. মোবারক হোসাইন, কুমিল্লা উত্তরে অধ্যাপক মো. আবদুল মতিন, কুমিল্লা দক্ষিণে অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, চাঁদপুরে বিলাল হোসেন মিয়াজী, ফেনীতে মুফতি আবদুল হান্নান, নোয়াখালীতে মো. ইসহাক খন্দকার এবং লক্ষ্মীপুরে এ আর হাফিজুল্লাহ আমির নির্বাচিত হয়েছেন।এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তরে আলাউদ্দিন শিকদার, চট্টগ্রাম দক্ষিণে আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, কক্সবাজারে অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, খাগড়াছড়িতে মিনহাজুর রহমান, রাঙামাটিতে অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আলীম এবং বান্দরবানে এসএম আবদুছ ছালাম আজাদ আমির পদে নির্বাচিত হয়েছেন।দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনে এসব জেলা ও মহানগর শাখার দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত আমিররা।