বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

রিজিক আটকে গেছে, টেনশন পিছু ছাড়ছে না? কী করবেন

জীবনে হঠাৎ চারপাশ থেকে অন্ধকার নেমে এসেছে? রিজিকের পথটা যেন থমকে গেছে, দুশ্চিন্তার ভারে ঘুম হারাম, কিংবা শত চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো কাজের সন্ধান পাচ্ছেন না? অনেক খেটেখাটুনি করেও সংসারের টানাটানি ঘুচছে না, কাজে মিলছে না কোনো বরকত? এমন জটিল মুহূর্তে কী করবেন?এমন একলা ও একাকী মুহূর্তে হতাশা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। মনে হয়, বুঝি সব পথ বন্ধ হয়ে গেল! কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের জন্য কখনোই সব পথ বন্ধ হয় না। অন্ধকার রাতের পরেই যেমন ভোরের আলোর ঝলকানি দেখা যায়, ঠিক তেমনি প্রতিটি কষ্টের পরপরই রয়েছে স্বস্তির বার্তা। জীবন যখন আপনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে, তখন ভেঙে না পড়ে ফিরে আসুন আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে। মনের গভীর থেকে করুন— ইস্তিগফার।সব জটিলতা কাটিয়ে জীবনকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করার জন্য এটি একটি মহৌষধ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন—তা হলো ‘ইস্তিগফার’ বা আল্লাহর কাছে মনেপ্রাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।ইস্তিগফার— এটি রিজিক ও রহমতের বন্ধ দুয়ার খোলার জাদুকরী চাবিকাঠি।ইস্তিগফার কেবল অতীতের গুনাহ ও ভুলত্রুটি মুছে ফেলার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবনে আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার এক জাদুকরী আমল। যখন মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে হাত বাড়ায়, তখন আসমানের রহমতের বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। কুরআন মজিদে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত নূহ (আ.)-এর মুখ দিয়ে উম্মতকে ইস্তিগফারের অপার মহিমা শিক্ষা দিয়েছেন—فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০-১২)এই আয়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ক্ষমা চাওয়ার এই সুবাসিত অভ্যাসের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ধন-সম্পদের বৃদ্ধি, সন্তানের মাধ্যমে সুখ লাভ এবং সার্বিক জীবনের অভাব দূর হওয়ার মূল রহস্য।সংকট মুক্তির আমল: যা বলছেন প্রিয়নবী (সা.)হতাশার সাগরে ডুবে থাকা মনকে সান্ত্বনা দিতে এবং কর্মজীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তার কঠিন সংকটগুলোকে সহজ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (অর্থাৎ ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে রাখবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি ও সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন, তার যাবতীয় চিন্তা-দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)আজ থেকেই শুরু হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যখনই মন খারাপ হবে, কাজের অভাব বা কোনো জটিলতায় হতাশ লাগবে— তখনই জিভে জপতে থাকুন—أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’অথবা পড়ুন সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, কিংবা মন থেকে নিজের ভাষায় আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন। হেঁটে-চলে, কাজের ফাঁকে, কিংবা নিরিবিলি রাতে দু'ফোটা চোখের জল ফেলে রবের কাছে নিজের মনের সব কষ্ট ও অভাবের কথা খুলে বলুন।জীবন আমাদের সবসময় আমাদের মনের মতো চলে না, মাঝেমধ্যে পথগুলো কেমন যেন আটকে যায়। কিন্তু সেই থমকে যাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং তা হতে পারে আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার এক সুন্দর উসিলা। তাই হতাশাকে বিদায় জানান, দুশ্চিন্তার পাহাড় সরিয়ে রেখে জিকিরে মুখরিত রাখুন আপনার দুটো ঠোঁট। প্রিয় রবের দরবারে হাত তুলে বলুন—‘হে আমার রব! আমি অনুতপ্ত, আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার রিজিক ও জীবনে বরকত দাও।’মনে রাখবেন, যে হাত আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা নিয়ে প্রসারিত হয়, দয়াময় আল্লাহ তাকে কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। কেননা তিনি বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। আপনার ইস্তিগফারই হোক আল্লাহর রহমত ও রিজিকে বরকত লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সব সংকট কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার  কার্যকরী হাতিয়ার।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রপতির আহ্বান

২

ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেলের স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণ শুরু

৩

ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটি

৪

শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

৫

দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিদেশ পাঠাবো: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

৬

উন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৭

সৎ ও পেশাদারদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের দাবি

৮

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

৯

নিজের প্রতি জুলুম— যে ১২টি গুনাহে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করি

১০

জাতিসংঘে দুই দেশের মুখোমুখি অবস্থান, পরিস্থিতি সামলালেন খলিলুর রহমান

সর্বশেষ সব খবর
১

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

২

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

৩

পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

৪

আজকের স্বর্ণের দাম: ৮ অক্টোবর ২০২৬

৫

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ

৬

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বার্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

৭

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৮

শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৯

বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

১০

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রপতির আহ্বান

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রপতির আহ্বান

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নয় বরং দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।রাষ্ট্রপতি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।তিনি বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি যুগোপযোগী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায় প্রশিক্ষিত করে দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।তারা জানান, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সর্বশেষ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেলের স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণ শুরু

ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেলের স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণ শুরু

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ এবং হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)-এর স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চারটি প্যাকেজের আওতায় দুই প্রকল্পে আটটি উড়াল স্টেশন ও প্রায় ১১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে।মঙ্গলবার বিকেলে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনে চারটি প্যাকেজের জন্য আলাদা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটি বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে।দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ নির্মাণে ব্যয় হবে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫ নির্মাণে ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এমআরটি লাইন-১-এর দৈর্ঘ্য হবে ৩১ কিলোমিটার এবং এতে থাকবে ২১টি স্টেশন। আর ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫-এ থাকবে ১৪টি স্টেশন। প্রকল্প দুটির নির্মাণকাজ ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।চুক্তি অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১-এর ডিপো এলাকায় ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএল। পাশাপাশি পাঁচ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল স্টেশন নির্মাণে চুক্তি হয়েছে চীনের সিআরইসি ও এমবিইসি এবং জাপানের এমআইএলের সঙ্গে।অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫-এর ডিপোর প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করবে তাইওয়ানের সিপিসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার হানিল। হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং পাঁচটি স্টেশন নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে সিআরইসি–এমআইএল–এমবিইসি।ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, চারটি প্যাকেজের কাজ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেছেন, যানজট কমানো ও যাতায়াতের সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রট্রোরেলের স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণ শুরুরাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ এবং হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)-এর স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চারটি প্যাকেজের আওতায় দুই প্রকল্পে আটটি উড়াল স্টেশন ও প্রায় ১১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে।মঙ্গলবার বিকেলে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনে চারটি প্যাকেজের জন্য আলাদা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটি বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে।দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ নির্মাণে ব্যয় হবে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫ নির্মাণে ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এমআরটি লাইন-১-এর দৈর্ঘ্য হবে ৩১ কিলোমিটার এবং এতে থাকবে ২১টি স্টেশন। আর ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫-এ থাকবে ১৪টি স্টেশন। প্রকল্প দুটির নির্মাণকাজ ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।চুক্তি অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১-এর ডিপো এলাকায় ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএল। পাশাপাশি পাঁচ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল স্টেশন নির্মাণে চুক্তি হয়েছে চীনের সিআরইসি ও এমবিইসি এবং জাপানের এমআইএলের সঙ্গে।অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫-এর ডিপোর প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করবে তাইওয়ানের সিপিসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার হানিল। হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং পাঁচটি স্টেশন নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে সিআরইসি–এমআইএল–এমবিইসি।ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, চারটি প্যাকেজের কাজ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেছেন, যানজট কমানো ও যাতায়াতের সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দেশে এ পর্যন্ত ৩৯২টি আন্দোলন হয়েছে, যার লক্ষ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়।বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিও শিক্ষকদের ট্রান্সফার নিয়ে আমার মাথায় প্রচন্ড বোঝা! আমি এনটিআরসি করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবে, সেখানে তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেবে। লাস্ট গভর্নমেন্ট তাদেরকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, ঢালাও জায়গায় জায়গায় পোস্টিং দিয়েছে!’তিনি বলেন, ‘এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকলো যে আমাদের ট্রান্সফার করতে হবে। আমি দেখলাম অবভিয়াসলি কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি একটা অ্যাপস তৈরি করলাম ট্রান্সফারগুলি করার জন্য।’বদলির আবেদন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখন সবাই ট্রান্সফার চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মনিপুর, শাহিন স্কুল! বুঝলেন তো?’শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বদলি নিয়ে চাপ দেওয়ার প্রসঙ্গে ড. মিলন বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেয়—৩১শে অক্টোবরের মধ্যে যদি ট্রান্সফার না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিও শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!’দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘কোথায় দেশটা দাঁড়িয়েছে বুঝতে পেরেছেন? এই পর্যন্ত ৩৯২টি এজিটেশন (আন্দোলন) হয়েছে বাংলাদেশে! টার্গেট কে, বলেন তো? এডুকেশন মিনিস্ট্রি!’

দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিদেশ পাঠাবো: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিদেশ পাঠাবো: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

গাজীপুর: অদক্ষ শ্রমিক নয়, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, দক্ষতা অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্বে এক নম্বরে থাকবে-এ লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে প্রান্তিক শক্তি লিমিটেডকে রিক্রুটিং লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, অবৈধ পথে কিংবা সাগরপথে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ যাওয়া বন্ধ করতে হবে।অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া মানে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং পরিবারের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হওয়া। এতে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত আনসার ও ভিডিপি একাডেমি পরিদর্শন করেছেন। এখানকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেখে তারা অভিভূত হয়েছেন।প্রবাসে যেতে ইচ্ছুকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, যে দেশে যাবেন, সে দেশের আইন মেনে চলতে হবে। নিজেদের আচরণের মাধ্যমে বিদেশের শ্রমবাজার ধরে রাখতে হবে। কয়েকজনের ভুলের কারণে যেন পুরো দেশ ও সংশ্লিষ্ট পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে হয়রানি ও প্রতারণার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দেশে কিংবা বিদেশে অবস্থান করে যারা মানুষকে চাকরির কথা বলে হয়রানি করার চেষ্টা করবেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।আনসার ও ভিডিপির কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এ বাহিনীর শৃঙ্খলা, কার্যক্রম ও বিভিন্ন উদ্যোগ তাকে আশাবাদী করেছে। তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও বলেন, পিছিয়ে পড়া উপজেলাগুলো চিহ্নিত করে সেখানকার নারী-পুরুষদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।অনুষ্ঠানে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইনসহ আনসার ও ভিডিপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে দুই দেশের মুখোমুখি অবস্থান, পরিস্থিতি সামলালেন খলিলুর রহমান

জাতিসংঘে দুই দেশের মুখোমুখি অবস্থান, পরিস্থিতি সামলালেন খলিলুর রহমান

কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিতর্কের সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার প্রতিনিধিরা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় একপর্যায়ে অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে বার্ষিক বিতর্ক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতাসীনদের সম্পদ কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলে বক্তব্য শুরু করলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লাসহ দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চিৎকার করতে থাকেন। তারা টেবিলে আঘাত করে বক্তব্যের মধ্যে আপত্তি জানান। এ সময় খলিলুর রহমান বারবার হাতুড়ি ঠুকে প্রতিনিধিদলকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তবে তাতে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।ওয়াল্টজ তখন বলেন, ‘আমি আশা করি, জনাব সভাপতি, সবাই এখন প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শুনছেন।’ এরপর তিনি কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, হাভানায় কেউ এ ধরনের প্রশ্ন তুললে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা কল্পনা করে দেখা উচিত।এ সময় ওয়াল্টজ ও কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওয়াল্টজ বলেন, ‘এটি আমেরিকা, এটি জাতিসংঘ। এটি আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে কিংবা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।’একপর্যায়ে রদ্রিগেজ পারিল্লা সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে যান। তখন ওয়াল্টজ তাকে বক্তৃতামঞ্চ থেকে দূরে সরে যেতে বলেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেও উল্লেখ করেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন খলিলুর রহমান। পরে অধিবেশন পরিচালনার নিয়ম ব্যাখ্যা করে তিনি কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রক্রিয়াগত বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেন। তবে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা না করার শর্ত দেওয়া হয়।এরপর নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিল্লা ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অভিযোগকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেন।পরে বড় ধরনের আর কোনো বিঘ্ন ছাড়াই বক্তব্য শেষ করেন ওয়াল্টজ। তিনি জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোকে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের নিন্দা জানিয়ে আনা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রস্তাবটির ওপর বুধবার ভোট হওয়ার কথা ছিল।ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াল্টজের সমালোচনা করেন রদ্রিগেজ পারিল্লা। তিনি লেখেন, ঔদ্ধত্য ও অহংকারের কারণে ওয়াল্টজ ভুলে গেছেন যে তিনি জাতিসংঘে রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে নন। এমনকি তিনি গ্রিন বেরেটস নামে পরিচিত মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনীর কোনো ইউনিটে কিংবা সিগন্যালের কোনো গ্রুপেও নেই। এসব ক্ষেত্রে ওয়াল্টজ নিজের অযোগ্যতা ও অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী গ্রিন বেরেটসের সাবেক সদস্য। এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।গত বছর ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা নিয়ে আলোচনার জন্য তৈরি একটি সিগন্যাল গ্রুপে ভুলবশত এক সাংবাদিককে যুক্ত করার ঘটনা সামনে আসে। ওই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। একই সময়ে তিনি ঘোষণা করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করবেন।কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক অবরোধের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতিবছর একটি প্রস্তাব তোলা হয়। এবারের বিতর্কেও ওয়াশিংটনের অবরোধনীতির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

১০ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

রংপুরে থেমে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

রংপুরে থেমে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন।বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ওই এলাকার শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জের বড়দরগাহ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন।তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী খান পরিবহনের একটি বাস ওই এলাকায় পোঁছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে আইল্যান্ডে গিয়ে আবার ধাক্কা লেগে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আরও দুজন মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত ১০-১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাস ও ট্রাক আটক করা হয়েছে।

১২ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

জয়-পুতুলসহ সিআরআইয়ের ৮ জনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

জয়-পুতুলসহ সিআরআইয়ের ৮ জনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।২০২৫-২০২৬ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির আয়কর নথির স্থায়ী ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করতে এ আদেশ দেওয়া হয়।বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ বুধবার এ তথ্য জানান।দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, সিআরআইয়ের অনুকূলে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ, আয়কর সুবিধা প্রদান এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়াও সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক শাস্তি বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং কর আপিলের সদস্য রওশন আরা আক্তারকে আসামি করা হয়েছে।দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের হিসাবে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৩-২০১৪ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় দেখানো হয়েছে ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।আবেদনে আরও বলা হয়, সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগও আনা হয়েছে।দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সিআরআইকে আয়কর সুবিধা দিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধভাবে কর সুবিধা দেওয়া এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান আদায়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সিআরআইয়ের টিআইএন নম্বর ৫৭৫৯৪১৯১৬৩০৪-এর বিপরীতে কর অঞ্চল-৬, ঢাকার সার্কেল-১১৬-এ সংরক্ষিত আয়কর নথি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দের আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। আদালত ওই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে নথি জব্দের আদেশ দেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপ‌টে স্থানীয় সরকার নির্বাচ‌ন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না: না‌হিদ ইসলাম

বর্তমান প্রেক্ষাপ‌টে স্থানীয় সরকার নির্বাচ‌ন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না: না‌হিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার দলীয় অন্তর্কোন্দলে এখন পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে; নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন দলীয়করণ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না।বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে, রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, শেখ হাসিনার আমলের সব কিছু বর্তমানেও হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আরেকটা ফ‌্যাসিবাদ চাই না। ত‌বে এই সরকা‌রের ফ‌্যা‌সিবা‌দি সামর্থ নাই, ‌কিন্তু এই সরকার কর্তৃত্ববা‌দের দি‌কে যা‌চ্ছে। জ্বালা‌নি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ব‌্যার্থ হ‌লেও তা‌দের সরা‌নো হ‌চ্ছে না।তি‌নি আরও ব‌লেন, গনমাধ‌্যমের স্বাধীনতা বিশ্বাস ক‌রে না বতর্মান সরকার। সংস্কার প্রস্তা‌বের কোন প্রস্তাবনা এই সরকার বাস্তবায়ন ক‌রেনি। এছাড়া,‌ দে‌শের আইন শৃঙ্খলা প‌রি‌স্থিতি, সংস্কার, মুল‌্যস্ফী‌ত, মাদক, গঙ্গা চু‌ক্তিসহ নানা ইস‌্যু‌তে নি‌য়ে কথা ব‌লেন না‌হিদ ইসলাম।প‌রে তি‌নি রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জ ইউনিটের নেতাকর্মীদের সা‌থে সাংগঠনিক অগ্রগ‌তি পর্যা‌লোচনা ও স্থানীয় নির্বাচন কে‌ন্দ্রিক প‌রিকল্পনা প্রনয়‌নের ল‌ক্ষে এ মত‌বি‌নিময় সভায় প্রধান অ‌তি‌থি হি‌সে‌বে যোগদান ক‌রেন।

রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে রাজনৈতিক ও চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন কাজ আরো গতিশীল হবে বলেও আশাবাদ জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত।এছাড়া বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও স্হানীয় নির্বাচন এবং এলডিসি গ্রাজুয়েশনের মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক কর্মকর্তা মিস কামিলা পার্টিকা।

রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করছেন নজরুল ইসলাম এমপি

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ-সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছেন। আর এসব নিয়ে কথা বললেই নিজ দলের নেতাকর্মীদের মামলা, বহিষ্কারসহ নানা হয়রানি করছেন। সোমবার রাজশাহী মহানগরীর অলোকার মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসব অভিযোগ করেছেন। রাজশাহী-৫ আসনের ভুক্তভোগী বিএনপি নেতাকর্মীর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলামের প্রত্যাহারও দাবি করেছেন। তাদের দাবি, এমপির কথায় তাদের বিরুদ্ধে ওসি মিথ্যা মামলা রেকর্ড করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার সরকার আল-আমীন, বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী ও সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব প্রমুখ।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এমপি নজরুল সম্প্রতি পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পল্লব সেনগুপ্ত ও আওয়ামী লীগকর্মী মাজহারুল ইসলাম মিন্টুকে সংসদে নিয়ে যান। তার এই কাজ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ ছিল। তাছাড়া বেশির ভাগ সরকারি পুকুর আওয়ামী লীগের একজন অর্থদাতাকে দিয়ে চাষ করাচ্ছেন এমপি। টাকার বিনিময়ে তিনি ‘ফ্যাসিবাদ ও রাজাকার ঘরানার লোকদের’ ডিলার নিয়োগ দিতে সহায়তা দিচ্ছেন। পুঠিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রিশাদ হোসেন কেতাব ডিলারশিপ পেয়েছেন। পুঠিয়া পৌরসভা এলাকায় ডিলারশিপ পেয়েছেন শাহেদ হাসান। তার বাড়ি ময়মনসিংহ। তিনি এমপির নাতিজামাই। এমপির সুপারিশে ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন শফিউল ইসলাম। তিনি জামায়াতের রাজনীতি করেন।সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ, এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে এমপির পরিবারের সদস্য, ফ্যাসিবাদের দোসর কিংবা জামায়াতের কাউকে সভাপতি ও সদস্য মনোনীত করেছেন। যুবদল নেতা দেলোয়ার সরকার আল-আমীন বলেন, ‘এমপির নানা অনিয়ম ও আওয়ামীপ্রীতির ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীদের কেউ ফেসবুকে মন্তব্য করলে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গত ১৩ আগস্ট বিড়ালদহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের একটি পারিবারিক ঘটনায় আমাকেসহ বিএনপির ৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হয়রানি করতেই এ মামলা।’ অন্যদিকে গত ১১ অক্টোবর চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলার পেছনে সংসদ-সদস্যের চাপ রয়েছে বলে দাবি দেলোয়ারের। তার অভিযোগ, মামলার বাদী খন্দকার সোহেল মাহমুদ ফ্যাসিবাদের দোসর।সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব বলেন, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিব খান এমপি নজরুলের ভাতিজা আজাদ মন্ডলের জামাতা। হাবিব খান শ্বশুরবাড়িতে বসে সরকার পতনের হুঙ্কার দিচ্ছেন। বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনে যারা এমপির পক্ষে ছিলেন না, তাদেরই হয়রানি করা হচ্ছে।সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব অভিযোগের তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে এমপি নজরুলের মোবাইল ফোনে কল দিলে তার ভাতিজা তানজিম আরিন রিসিভ করে জানান, এমপি বিশ্রামে আছেন। তাকে পাওয়া যাবে না।

আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করছেন নজরুল ইসলাম এমপি

ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ তুললেন রাশেদ, 'আজগুবি' বললেন পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতের উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে ‘গোপন বৈঠক’ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে, এই জামায়াত নেতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেছেন– বৈঠকের তথ্য যদি মিথ্যা হয়, তবে মিয়া গোলাম পরওয়ার যেন তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভ্যারিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এ কথা বলেন।পোস্টে তিনি লেখেন, ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের তথ্য যদি মিথ্যা হয়, তবে মিয়া গোলাম পরওয়ার যেন আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে কয়েকবার গাড়ি পরিবর্তন করেছেন। একটি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা কেন চোরের মতো পালিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন?রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এটিএম মা’ছুমের বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সবার কাছে তথ্য রয়েছে। একটি ইসলামিক দলের নেতা হিসেবে তার উচিত হবে, বিষয়টি স্বীকার করে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জাতিকে খোলাসা করা।পোস্টের শেষে তিনি যোগ করেন, নাকি জামায়াত এখন ‘বাঁচার জন্য মিথ্যা বলা জায়েজ’ এই থিউরি অবলম্বন করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করবে?এর আগে, সোমবার দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে জামায়াত নেতাদের ওই বৈঠক হয়।বিষয়টি অস্বীকার করে গোলাম পরওয়ার এ দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে বলেছেন। বিবিসিকে তিনি বলেছেন– এটা পুরোপুরিভাব অসত্য ও আজগুবি একটা দাবি। এ ধরনের বৈঠক করার প্রশ্নই আসে না।এরপর রাশেদ খাঁন তার দেওয়া তথ্য ‘শতভাগ সত্য’ বলে অন্য এক পোস্টে দাবি করেন।

ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ তুললেন রাশেদ, 'আজগুবি' বললেন পরওয়ার

পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে দলটি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে ঘটিত এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিপিবির শীর্ষ নেতারা।ঘটনার পর মধ্যরাতে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফী অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় নেতাকর্মী পরিচয়ে পল্টনে একটি ‘মব’ বা সংঘবদ্ধ দল তৈরি করে এই হামলা চালানো হয়। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।জানা যায়, সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সংস্কৃতিকর্মীদের ব্যানারে সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে একটি মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়। সেই কর্মসূচি থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।দীপক শীল মুক্তি পাওয়ার পর পল্টনে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে ও সংহতি জানিয়ে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অজুহাত তুলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় মব সৃষ্টি করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুব ইউনিয়নের সভাপতি ইরান মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল ফকিরকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে মধ্যরাতে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফী বলেন, মিছিলে স্লোগান দেওয়ার অজুহাতে নেতাকর্মীদের ওপর এভাবে হামলা চালানো এবং মব তৈরি করে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি অবিলম্বে এ ধরনের দমনপীড়ন ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

সৎ ও পেশাদারদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের দাবি

সৎ ও পেশাদারদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের দাবি

সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জহির হোসেনের সাথে সাক্ষাত করতে আসে সংগঠনটির ৬ জনের প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুরন্নবী মানিক এমনটাই জানান।মূলত, চারমাস ধরে পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াই কার্যক্রম চলছে ইসলামি ব্যাংকের। ফলে গ্রাহকদের আস্থার জায়গা নষ্ট হচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির। এছাড়া, চুক্তিভিত্তিক ডিএমডিদের অবসরের বয়স পর্যন্ত চুক্তি বৃদ্ধি করার দাবি সংগঠনটির।এসময় ব্যাংক লুটেরাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানান ফোরামের সদস্যরা।