শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে কিছু সবজির দাম কমেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে সবজির বাজারে স্বস্তি পুরোপুরি নেই। টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের মতো কয়েকটি পণ্যের দাম এখনো বেশ চড়া। অন্যদিকে মাছ-মাংসের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ পণ্য। ফলে সবজি কিনতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ-মাংসের পেছনে ক্রেতাদের আগের মতোই বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও কিছু সবজি এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারভেদে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বেগুনের দাম জাত ও আকারভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুনের কেজি ১২০ টাকা।অন্যদিকে টমেটো ও কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা করে। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। শসার ক্ষেত্রেও রয়েছে দামের পার্থক্য। প্রতি কেজি দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে।আরেক বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, শীতের সবজি আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় দাম কমেছে। এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি পুরোপুরি বাজারে আসেনি। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখন আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি হিসেবে এসব সবজির দাম ৬০ টাকা।সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইলিশের দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। কোনো কোনো বাজারে বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।মাংসের বাজারেও দামের তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকা। এ ছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সংস্থাটির ৫ নভেম্বরের খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে। অন্যদিকে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম অয়েল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে নিজেই এ কথা জানান তিনি।ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনও ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।’গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। সে ক্ষেত্রে এই নেত্রীর পদাবনতি হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়। এ নিয়ে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন সামান্তা।তিনি লেখেন, গত ১১ মাস ধরে আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি, তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক- বিতর্ক বা আলাপ- আলোচনা করেছি। যেহেতু সংগঠনে নানা চড়াই-উৎরাই থাকে, সেখানে দল যদি ভুল পথে যায় সেই পথ থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করা আমার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল। সেই কর্তব্য পালন করতে এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ দলের গৃহীত নীতিগুলোকে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ব্যতীত দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ভিন্ন কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না। আজ প্রায় এক বছরের এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করলাম, কারণ এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব বলে মনে করি না।সামান্তা লেখেন, পদত্যাগ করার জন্য আমি হয়তো আরও উপযোগী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম, যখন দলের কোনও একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডেরে প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার পদত্যাগকে মূল্যায়ন করা সহজ হতো, কিন্তু আমি মনে করি এই অপেক্ষা অর্থহীন। এনসিপি কখনও কখনও নানান ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতেই পারে (এমনকি জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত) কিন্তু তবুও পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না।তিনি আরও লেখেন, দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না; বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এখন সময় এসেছে যখন দলের সঙ্গে আমার এতদিন যেসব মতপার্থক্য হয়েছে, আলাপ আলোচনা হয়েছে সেসব বিষয় দলের সবার এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের জানানো দরকার।
বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেই সাথে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণেও ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করলেন তিনি।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে দিনাজপুরে দলের সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ে আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় অংশ নেন তিনি। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অভিযোগ করে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি সারাদেশে দমন-পীড়ন চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরবেন—এমন ঘোষণা কয়েক দফায় দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেত্রী নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন।তবে তার এই ঘোষণাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মাথায় নিয়ে তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনার ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বাধা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি প্রকাশ্যে সাংগঠনিক শক্তি দেখাতে পারছে না। বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনীতির মাঠে দলটির অবস্থান দুর্বল।গণমাধ্যমটি বলছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থানে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনি জটিলতা।মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে শত শত মামলা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এটা নিশ্চিত।শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় একাধিকবার আবেদন করেছে বাংলাদেশ। তবে ভারত এখনো সাড়া দেয়নি। চুক্তিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগসহ কয়েকটি কারণে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। সাবেক কূটনীতিকদের কারও কারও ধারণা, ভারত হাসিনাকে ফেরত দিতে আগ্রহী নয়।অন্য পথ হতে পারে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাশ নেওয়া। কিন্তু এ ধরনের আবেদন করা হলে সরকার তা অনুমোদন করবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে পর্যালোচনার কথা বলছেন।তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবার ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দলের নেতাদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন। তার ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ মনে করেন, ফেরার প্রক্রিয়া ও বিকল্প পরিকল্পনাও তিনি ঠিক করে রেখেছেন।আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাতও জানিয়েছেন, ঝুঁকি থাকলেও ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগ গোপন তৎপরতায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। তারা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত হতে পারে। সেজন্য তারা সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলছেন।সব মিলিয়ে তার ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়া, বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ভারতের অবস্থানের ওপর। ডিসেম্বর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাই শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্য প্রত্যাহারে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান এনসিপির আহ্বায়ক বরাবর এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম তার দেওয়া ‘চাঁদাবাজি ও লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন, দেশ পরিচালনায় তার কোনো পরিকল্পনা নাই’—এই বক্তব্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নোটিশে নাহিদ ইসলামকে বলা হয়, গত ৩০ অক্টোবর চ্যানেল ওয়ান ও চ্যানেল আই-এ সন্ধ্যার পর প্রকাশিত আপনার বক্তব্য ‘চাঁদাবাজি, লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন। দেশ পরিচালনায় তার কোনো পরিকল্পনা নাই’—এ বক্তব্য আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ায় আমি বিব্রত, ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়ে জানাচ্ছি যে, এ বক্তব্য অমার্জনীয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঈর্ষান্বিত করে অবাস্তব, কাল্পনিক মন্তব্য দিয়ে নিজেকে ছোট ও অপরিপক্ব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞাহীন ব্যক্তি বলে আখ্যায়িত হয়েছেন।নোটিশে বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের মতো পদধারী ব্যক্তির কাছ থেকে এমন অগ্রহণযোগ্য, কাল্পনিক, অজ্ঞ, জ্ঞানহীন, রাজনৈতিক অপ্রজ্ঞার বক্তব্য জাতি কখনো আশা করেনি। এমন বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন।নোটিশ পাওয়ার দশ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নোটিশে বলা হয়েছে।
চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে ইস্যু বানিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে; বাইরের শক্তি অশুভ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনে দলীয়করণ করেছে সরকার, যা পুরোপুরি অনুচিত। শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আবার শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শিল্প মালিক ও শ্রমিকদের যেকোনো সমস্যার ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।আন্দোলন দমনে শ্রমিকদের ওপর পুলিশ অমানবিক আচরণ করেছে অভিযোগ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আহ্বান করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনার।সেই সাথে কোনোভাবেই যেন সাধারণ শ্রমিকরা হয়রানির শিকার না হয় এবং শিল্পের ক্ষতি করে, অর্থনীতির চাকাকে থামিয়ে দেয় এমন আন্দোলন না করতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হোসেনের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে তিনি ফোন দেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি জানান।পোস্টে তিনি লেখেন, সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হোসেনের পরিবার তথা তার স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হলো। উভয়ই কান্নায় ভেঙে পড়ল। দুটি এতিম ভাই বড় কষ্টে-সৃষ্টে বড় হয়েছিল, নিতান্তই কষ্টের সংসারে তাদের বেড়ে ওঠা। একই গার্মেন্টসে একইসঙ্গে দুই ভাই চাকরি করত। কিন্তু দেখতে দেখতে চোখের সামনে ভাইটিকে হারিয়ে ফেলল। হাসপাতালে গিয়েও ভাইটি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিল, শেষ কথাটাও ভাইয়ের সঙ্গে বলতে পারল না বলেই বড় ভাই কান্নায় ভেঙে পড়ল।তিনি আরও লেখেন, তৌফিকের সদ্য বিধবা স্ত্রী, সেও একইসঙ্গে অভাবের তাড়নায় গার্মেন্টসে চাকরি করত। তবে তাদের একমাত্র সন্তানের জন্মের পর তার লালন-পালনের জন্য সে চাকরিটি ছেড়ে দেয়। তাদের বাবু সিয়ামের বয়স এখন মাত্র ১১ মাস। এ কথা বলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ল।‘মাথা গোঁজার জন্য গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় এক ইঞ্চি জায়গাও তাদের নিজস্ব নেই। বর্তমানে স্বামীর চাচার ছোট্ট একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছে তারা। পরিবারটির এহেন পরিণতি দেখে খুবই খারাপ লাগছে।’‘আমরা তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই। এ দেশে গরিবের বিচার পাওয়ার সুযোগ কতটা আছে তা জানি না, তবুও আমরা বিচার চাইব। সেই ন্যায্য বিচারটুকু পেলেও অন্তত এই বিধ্বস্ত স্ত্রী ও পরিবারটি কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবে। আমরা ইনশাআল্লাহ এই পরিবারের পাশে থাকব। আল্লাহ তাআলা এই অসহায় পরিবারের সহায় হোন।’ফোনালাপের সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার আমির আব্দুল করিম, সাবেক আমির ও বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং গোবিন্দগঞ্জ আসনের বিগত সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকারসহ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আমির ও অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।