জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত এই অর্থায়নের মধ্যে সরকারি খাত থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্প ঋণ হিসেবে মিলবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করবে। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি একেবারে নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প হিসেবে স্থান পেয়েছে।বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এসব প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতেই এই বৃহৎ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সচিবালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভায় মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জনাব আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং ভূমি মন্ত্রী জনাব মো. মিজানুর রহমান মিনু অংশ নেন।এছাড়াও শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী জনাব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী জনাব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য মন্ত্রী জনাব সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জনাব শেখ রবিউল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।আজকের একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে একক মন্ত্রণালয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প পেয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অন্তর্ভুক্ত নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সর্বাত্মক উন্নয়ন প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং রসিকের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী স্বাবলম্বিতা অর্জনে সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন প্রকল্প পাস করা হয়েছে। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় ও দ্বিতীয় সংশোধনীর সম্মতি দেওয়া হয়েছে।পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গতি বাড়াতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিআইডব্লিউটিসি’র জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ সম্পর্কিত ৩য় সংশোধিত প্রস্তাব পাস করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় পঞ্চগড়ের ভজনপুর-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়। এছাড়া পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগে গতি আনতে থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদিত হয়।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবনকে ব্যবহারের উপযোগী করা এবং এর সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য পৃথক একটি প্রকল্প পাস করা হয়। সভা শেষে সহকারী সচিব মোহাম্মদ আলীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
কোনটা নাগরিকের অধিকার, কোনটা রক্ষার ব্যাপার আর কোনটা নাগরিকের দাবি, সেটা বুঝতে অপারগ হয়েছে বিধায় জন্মের পর এই প্রথম বিরোধীদল হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সরকার তো পরের কথা। জামায়াতে ইসলামীর প্রথম বিরোধীদল হওয়ার সুযোগ হয়েছে ৮৫ বছর বয়সে। কারণ, তারা বুঝতে চাননি মানুষ কী চায়।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমন্ডির ৩/এ-তে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।শেখ রবিউল আলম বলেন, তারা স্বাধীনতার সময় বুঝতে চাননি, স্বাধীনতার পরেও বুঝতে চাননি, এরশাদের সময়ও বুঝতে চাননি কাকে সমর্থন দিতে হবে। আবার ওয়ান-ইলেভেন সরকারের পরও বুঝতে পারেননি। ২০২৪ সালে এসে কিছু বুঝতে পেরেছিলেন, আবার খেই হারিয়ে ফেলেছেন। এটি হচ্ছে তাদের রাজনৈতিক বদান্যতা।অটো রিকশা প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে অটো রিকশার প্রসার হয়েছে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা হচ্ছে। এই নীতিমালার আলোকে প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলাচল অননুমোদিত হবে। যারা কিছুদিন ধরে এই পেশায় যুক্ত হয়ে গিয়েছেন, ডেফিনেটলি তাদের কষ্ট হবে। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একমত হয়ে এই অব্যবস্থাপনার উত্তরণ ঘটাতে হবে। কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। তবে কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢাকা সিটিকে অকার্যকর হতে দেওয়া হবে না।
এখনো মায়ের ভোগ ও কাপড় আসে সীমান্তের কাঁটাতারের ওপরের বাংলাদেশ থেকে,ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে তাঁতিদের দূর্গা এখন ভারতের পাঁচটি গ্রামের এক মাত্র দূর্গাপূজো। পূর্ববঙ্গের কাঁটাতারের ওপারে তাঁতিদের দূর্গাপূজো এখন ভারতের সীমান্ত এলাকার একমাত্র পূজো। এক সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম মিষ্টি দমমিশ্রি চমচম ও ভালো তসরের শাড়ি আসতো। বর্তমানে লুচি বুঁদিয়া ও খিচুড়ী ভোগ দেওয়া হয়। এই উমার আরাধনা হয় পাচটি গ্রাম নিয়ে। সীমান্ত এলাকায় এই দূর্গাপূজতে অংশগ্রহন করেন বি এস এফ কর্তারা। মালদহের কালিয়াচকের তিন নম্বর ব্লকের ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ষষানি গ্রামে হয়ে আসছে এই প্রাচীন পুজো।জানা গিয়েছে,সীমান্ত এলাকায় এই পূজো এপার বাংলা ওপার বাংলার পুজো। অবিভক্ত ভারতের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা পেশায় তাতি ভোলানাথ চৌধুরী দেশ স্বাধীন হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জমি বিনিময়ের মাধ্যমে চলে আসেন ভারতের এই গ্রামে। তার আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনি এই পুজো একাই করতেন। এদেশে আসার পর স্থানীয় সুধীর জামাদার ও সুবোধ সরকারের মিলিত প্রয়াসে এই দূর্গাপূজো হয়।মন্দির থেকে প্রায় একশো মিটারের মধ্যেই ভারত- বাংলাদেশ সীমান্ত।দেশের একেবারেই শেষ সীমানা,আর এখানেই হয় শতাব্দীর প্রাচীন দূর্গাপুজো।হয়তো অনান্য পুজোর পুজোর মত জাঁকজমক আরম্ভর নেই। তবে এই পুজোকে আঁকড়ে ধরে রয়েছে সীমান্তবর্তী পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা। মালদহের কালিয়াচকের ষষানি গ্রামে হয়ে আসছে এই প্রাচীন পুজো। আশেপাশের পাঁচটি গ্রাম মিলে হয় এই একটি মাত্র পুজো। আর এই পুজোকে ঘিরেই আনন্দে মেতে ওঠেন সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দারা। অন্যান্য পুজার থেকে কোন অংশে কম নেই এই পুজোর প্রস্তুতি। পুজোয় শামিল হয়ে থাকেন বিএসএফ কর্মীরাও। কারণ পাশেই রয়েছে বিএসএফ ক্যাম্প। প্রতিবছর সীমান্তের এই পুজোয় চাঁদা দেওয়া থেকে পুজোয় অংশগ্রহণ করে আসছেন স্থানীয় বিএসএফ কর্মীরা।গ্রামের পাশ দিয়েই গিয়েছে সীমান্তের তাঁর বেড়া। গ্রাম জুড়ে প্রায় নিয়মিত চলে বিএসএফ টহলদারি। একসময় যখন তার বেড়াচ্ছিল না,বাংলাদেশের নাগরিকেরাও এই পুজোয় এসে সামিল হতেন। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এই গ্রামে বসত বিশাল মেলা। সময়ের সঙ্গে তা যেন কোথায় বিলীন হয়েছে। এখন দুই দেশের সীমান্তের তার বেড়া বাঁধা সৃষ্টি হয়েছে। ইচ্ছা থাকলেও বাংলাদেশের বাসিন্দারা আর এই পুজোয় সামিল হতে পারছেন না। তবে এই পুজোয় একটুকু খামতি রাখেননি বর্তমান উদ্যোক্তারা। পুজোকে ঘিরে পাঁচ দিনব্যাপী চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।ষষানি সার্বজনীন দুর্গাপুজো এই বছর ১২১ তম বর্ষ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠন জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি হয়েছেন সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মুস্তাইন বিল্লাহ হাবিবী।সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। আগামী এক বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে।এনসিপির পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতাকে নিয়ে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কমিটি গঠনের আট দিন পর দল থেকে পদত্যাগ করেছেন আহ্বায়ক শাহিদ আলম।রোববার (৪ অক্টোবর) বিকালে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে এনসিপির গোপালগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবরে এ পদত্যাগপত্র পাঠান। পদত্যাগ পত্রে তিনি লিখেছেন, আমি শাহিদ আলম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গোপালগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আহ্বায়ক পদে আছি। আমার শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার কারণে আমার সব পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। সঙ্গে সঙ্গে আর কখনো রাজনীতির সঙ্গে জড়াবো না বলে অঙ্গীকার করিলাম। এতএব বিষয়টি সবার কবিশেষ বিবেচনায় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে নেবেন। শাহিদ আলম বলেন, শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কারণে পদত্যাগ করেছি। এছাড়া আমার নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। রাজনীতিতে জড়িয়ে ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই রাজনীতি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।জেলা এনসিপির সদস্য সচিব ফেরদৌস আমিনা বলেন, উনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কিন্তু আমরা এখনো গ্রহণ করিনি। উনি চেয়েছিল কমিটি যেন প্রকাশ না হয়। সে এনসিপি করবে তা কেউ জানবে না, আবার তার অপকর্মের দায় দলের উপর পড়বে সেটা মেনে নেওয়া হবে না। উর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা শাখা এনসিপির ১১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। জেলা এনসিপির আহ্বায়ক বাঁধন মিয়া, সদস্য সচিব ফেরদৌস আমিনা ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল মোল্লা শুভ যৌথভাবে এ কমিটির অনুমোদন দেন।
২০২৪-এর ৫ আগস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনা দীনেশ ত্রিবেদী।তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা যখন ভারত যান তিনি তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের কাছে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না।’শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে এক সেশনে প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার এ কথা বলেন। শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘এটা বলতে গেলে আমাদের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ভারত সরকার তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে বারবার এর উত্তর দিয়েছে যে, এর একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আইনি বৈধতা জড়িত ও এটি বেশ সুগঠিত।’ তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বলতে গেলে প্রক্রিয়াটি চলছে এবং এটি আদালতের সঙ্গে জড়িত। তাই কেউ আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারবে না।’দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে শেখ হাসিনাকে আমাদের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সেসময় বাংলাদেশের মর্মান্তিক পরিস্থিতির কারণেই এমনটা হয়েছিল এবং আমরা আশা করি, প্রার্থনা করি যে, এমনটা যেন আর কখনো না ঘটে, যেখানে নির্দোষ মানুষ নিহত হয়। সেটা পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন।তিনি বলেন, ‘সামরিক বিমানটি ভারতে এসেছিল, যার জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল না। আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম এবং স্ক্রলে লেখা আসছিল যে তিনি অন্য কোথাও, অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। তাই সেই সময়ে, শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল।’ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় পরিস্থিতি এমন হয় যেখানে আপনি এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। আমাদের কাছে আর কী বিকল্প ছিল? আমরা যদি বলতাম যে, না আমরা তাকে গ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেব না, তবে পরিস্থিতি যে কী দাঁড়াতো তা আমার জানা নেই। সুতরাং এটিই হলো ঐতিহাসিক কারণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাকিটা আমার জানা নেই। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, সে বিষয়ে আপনি পুরোপুরি নিশ্চিত থাকতে পারেন। বাংলাদেশের মতো ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং আপনিও আইনি ব্যবস্থাকে সম্মান করবেন বলে আশা করি। আর আইনি ব্যবস্থা তার কাজ করছে।’
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে শরিফ ওসমান হাদি বলেন, বিএনপি অসহযোগিতা করলে তাদের জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জামায়াত অসহযোগিতা করলে জবাবদিহি করতে হবে তাদেরও। এই সরকারের মেয়াদ হবে ১০ মাস থেকে এক বছর। যদি জাতীয় সরকার না করতে পারেন তাহলে জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল গড়ে তোলেন। জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল প্রধান হবেন ড. ইউনূস। সব রাজনৈতিক দল থেকে সেখানে প্রতিনিধি থাকবে সদস্য হিসাবে। তাদের সাংবিধানিক মর্যাদা হবে ক্যাবিনেট মন্ত্রী পরিষদের মতো। তারা মন্ত্রী হবেন না, উপদেষ্টা হবেন না কিন্তু ওয়াচডগ হিসাবে কাজ করবেন।জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্রের কার্যক্রম না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে কোনো লাভ নেই। যদি জুলাই ঘোষণাপত্র না আসে, যারা জুলাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দিল্লির সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ তাদের কচুকাটা করবে। জুলাই ঘোষণাপত্র সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলেই আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে।