প্রায় আট ঘণ্টার বাগেরহাট ও খুলনা সফর শেষ করে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনব্যাপী সফরে সরকারপ্রধান মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোনসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেশ কিছু নির্দেশনা দেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে খুলনার দাকোপে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে নৌপথে মোংলা জেটিতে পৌঁছান। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ঘুরে দেখেন প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন। এ ছাড়া সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল এলাকাও হেলিকপ্টার থেকে পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এ সময় সর্বসাধারণের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কুশল বিনিময় করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা—অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ, ড্রেজিংসহ যেসব প্রকল্প থমকে আছে, দ্রুততম সময়ে তা সম্পন্ন হবে। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে এই অঞ্চলে বিনিয়োগের গতি বাড়বে। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে কাজ হারানো বিশাল জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থান হবে।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ বিতর্ক আবারও আলোচনায়। কে কোন দলের হয়ে রাজনীতি করছেন, কার আনুগত্য কোথায়, কে অনুপ্রবেশকারী আর কে প্রক্সি -এমন নানা বিতর্ক রাজনীতিতে। এসব নিয়ে পালটাপালটি অভিযোগও করছেন বিভিন্ন দলের নেতারা।সম্প্রতি এটা নতুন করে আলোচনায় এসেছে কারণ খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও অভিযোগ করেছেন গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। খবর বিবিসির।গত ১ অক্টোবর ঢাকার বাইরে ফেনীতে এক জনসভায় তিনি বলেন, তাদেরকে কখনো রাজপথে দেখেছেন? তারা রাজপথে ছিল না। এই তারা এবং ওরা, ঐযে যারা পালিয়ে গেছে, স্বৈরাচার এবং গুপ্ত -তারা আবার একসঙ্গে হয়েছে।তিনি আরও বলেন, বরাবরই তো তারা একসঙ্গে ছিল। ১৯৯১ সালেও তারা একসঙ্গে ছিল, ১৯৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল। গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল, তলে তলে কাজ করেছিল। এজন্য তাদেরকে গুপ্ত বলা হয়।জামায়াতকে ইঙ্গিত করে দেওয়া তারেক রহমানের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া আসে এর দুই দিন পরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে।ঢাকায় বাইতুল মোকাররমের সামনে এক সমাবেশে তিনি বলেন, বিশাল বিশাল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। বিএনপি আসার কথা আসে নাই, জামায়াত-শিবির লড়াই করে জীবন দিয়েছে। আপনি সেই জামায়াত-শিবিরকে আজ গুপ্ত বলেন। আপনার লজ্জা পাওয়া উচিত।তবে গুপ্ত রাজনীতি প্রসঙ্গ দুই দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বক্তব্যেই পরে আর সীমাবদ্ধ থাকেনি। অন্য অনেক নেতা এবং বিশেষত দলের কর্মীরাও এই বিতর্কে যোগ দেন।সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, জামায়াত বিভিন্ন প্রক্সি সংগঠন তৈরি করে রাজনীতিতে ব্যবহার করছে।এ জুলাইয়ের নামে বিভিন্ন দোকান খোলা, সাইনবোর্ড খোলা -এগুলোর আশি শতাংশই জামায়াত-শিবিরের।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এ যে বেনামি রাজনীতি যেটাকে বলা হচ্ছে গুপ্ত, রাজনীতিতে এ শব্দটি আসল কীভাবে?আর রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দেওয়ার এই প্রবণতা কি দলগুলোর মধ্যে বিভাজন আর অবিশ্বাস-সন্দেহ বাড়াচ্ছে?কেউ যখন পরিচয় গোপন করে তার ভিন্ন আদর্শের বা ভিন্ন চিন্তার কোনো দলে অনুপ্রবেশ করে রাজনীতিতে তৎপর থাকেন, পরে নিজের সুবিধাজনক সময়ে ওই দল থেকে বেরিয়ে নিজের পছন্দের আদর্শের দলের জন্য প্রকাশ্যে আসেন-সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের কিছু উদাহরণ আলোচনায় এসেছে, বিতর্ক হয়েছে।আর এ আলোচনায় প্রশ্ন উঠছে গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে।‘গুপ্ত রাজনীতির’ প্রসঙ্গ যেভাবে সামনে এলো?বাংলাদেশে গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে প্রথম জোরালো আলোচনা শুরু হয় মূলত: ২০২৪ সালে। তখন ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক প্রকাশ্যে আসতে থাকেন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতারা।আর তখনই একটা অভিযোগ ওঠে যে এইসব নেতাদের কেউ কেউ এর আগে গোপনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।সেই সময় গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তোলা হয় মূলত: বিএনপির ছাত্রদলের পক্ষ থেকে।ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, তাদেরকে তো চেনাই যাচ্ছে না। তাদের পলিটিক্সে কারা, কী করছে সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। তাদের কমিটিগুলোও তারা প্রকাশ করে না। এছাড়া গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ছাত্রশিবির কৌশলে ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য তৈরির চেষ্টা করেছে এমন দাবিও করেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব।তিনি বলেন, তারা তো প্রকাশ্যে নেই। তাদের কাউকে তারা ডিবেটিং সোসাইটিতে পাঠায়, কাউকে তারা সাংবাদিক সমিতিতে পাঠায়। এভাবে তারা সামজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতে আধিপত্য বা দখল তৈরি করে। এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় পদ-পদবি থাকলে নেতৃত্বে আসা যায় না। ফলে ছাত্রদলের নেতারা সেখানে যেতে না পারলেও শিবির পারে। কারণ তারা তো গুপ্ত আছে। এই গুপ্ত থেকে তারা ক্যাম্পাসে যে কোন ধরনের মব ক্রিয়েট করে ফেলতে পারে।বাংলাদেশে বিশেষত: আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সেভাবে প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি ছাত্রদল।একইসময়ে ছাত্রশিবিরও ছিল একরকম নিষিদ্ধ।তবে অভিযোগ হচ্ছে, ছাত্রদলের প্রকাশ্য কমিটি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবির প্রকাশ্যে কমিটি দেয়নি। এমনকি ৫ আগস্ট পরবর্তী উন্মুক্ত রাজনীতিতেও দলটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ্যে আনছে না।যদিও শিবির অবশ্য এসব অভিযোগ নাকচ করছে। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ছাত্রদল তো তিন-চার বছরে মনে হয় ত্রিশ থেকে চল্লিশটা কমিটি দিতে পেরেছে সারা দেশে। এটাকে তারা মনে করে যে বিশাল ব্যাপার। অথচ আমরা প্রতি বছর জানুয়ারিতে আমরা আমাদের একশত বত্রিশটি শাখায় কমিটি করি। প্রতিটা কমিটি আপনি শিবিরের ওয়েবসাইটে পাবেন। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিও আপনি পাবেন। কিন্তু এরপরও ছাত্রদল বলবে যে গুপ্ত।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রশিবিরের সবগুলো ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন ঘোষণা হয় না -এমন প্রশ্নে এস এম ফরহাদ বলেন, সবখানেই কমিটি দেওয়া হয়।তিনি আরও বলেন, এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তো হলে রাজনীতি থাকবে কি-না সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে। ফলে এই বিতর্কের সুরাহা আগে হতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি প্রশাসনকে মতামত জানায় এর পক্ষে তাহলে আমরা হলগুলোতেও কমিটি দেব। আর যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সমস্যা নেই, সেখানে আমরা হল পর্যায়েও কমিটি দিয়েছি।এছাড়া ছাত্রশিবির দাবি করছে, তাদের কমিটি ছোট হয়। ঢালাও দুই/তিনশত সদস্য বা তার বেশি লোক নিয়ে তারা কমিটি করেন না।কিন্তু ছাত্রদল বলছে, শিবিরের এই ছোট কমিটির বাইরে যারা থাকেন, তাদের অনেকেই পরিচয় লুকিয়ে গোপন রাজনীতি করেন। এমনকি অতীতে ছাত্রলীগে ছিলেন এমন ব্যক্তিরাও পরে ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, যারা আগে ছাত্রলীগের পতাকাতলে বিতর্কিত ভূমিকায় ছিল, ৫ আগস্টের পরে আমরা দেখেছি ইসলামী ছাত্রশিবিরের পতাকাতলে তারা আশ্রয় নিয়েছে। তবে শিবিরের প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ অবশ্য ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন।তিনি বলেন, এগুলোর জবাব অনেক দিয়েছি। ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে আমার যে ছবি প্রচার করা হয়, সেগুলো দলীয় কোন প্রোগ্রাম নয়। আমি বহুবার বলেছি, এই ছবিগুলো ডিবেটিং ক্লাবের অনুষ্ঠানের। এখন আর এগুলোর কোনো জবাব দেই না। একটা গ্রুপ তো ডাকসু নির্বাচনের আগে আমার প্রার্থীতা চ্যালেঞ্জ করে কোর্টে রিটও করেছিল। তারা ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু কোর্টে তো প্রমাণ করতে পারেনি। আমার প্রার্থীতা বৈধ হয়েছে।গুপ্ত রাজনীতি কি আগেও ছিল?বাংলাদেশে কিংবা বিশ্বেই গুপ্ত বা গোপন রাজনীতি নতুন কিছু নয়। গুপ্ত রাজনীতির নানা ধরণ, নানা নামও দেখা যায়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরিন বলেন, অতীতে বাংলাদেশে গুপ্ত রাজনীতি যেটা হয়েছে, সেটা মূলত নিষিদ্ধ দলগুলো করেছে। বাংলাদেশে বা উপমহাদেশে এই গুপ্ত রাজনীতির ধরন অনেক আগে থেকেই ছিল। যেমন পাকিস্তান আমলে আন্ডারগ্রাউন্ড দলগুলো বিশেষ করে বিভিন্ন সময় যেসব দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যেমন কমিউনিস্ট পার্টির মতো বিভিন্ন বাম দল। যখন কোনো দল নিষিদ্ধ হয়, তখন তারা গুপ্তভাবে বা হিডেন হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করত। তখন এটাকে বলা হতো আন্ডারগ্রাউন্ড।তবে গত বিশ বছরে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির ধরন পরিবর্তিত হয়ে গেছে বলে মনে করেন জোবাইদা নাসরিন।তিনি বলেন, গত বিশ বছরে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি বা গুপ্ত রাজনীতির সংজ্ঞায় পরিবর্তন হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, দল নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু তারা কৌশলে নানা ধরনের হিডেন পলিটিক্স করেছে। এবং সেটা কখনো অন্য দলের সঙ্গে মিশে, কখনো অন্য দলের তথ্য কালেক্ট করে রাজনীতি করেছে।বাংলাদেশে এই গুপ্ত রাজনীতির জন্য বিভিন্ন সময় মূল অভিযোগটা এসেছে প্রধানত জামায়াতের বিরুদ্ধে। এখন যেসব অভিযোগ বেশি করে সামনে আনছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াত তা নাকচ করে পালটা বিএনপির বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলছে।তবে জোবাইদা নাসরীন বলছেন, বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে এখন গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে যে পালটা পালটি বক্তব্য তার প্রধান কারণ দলগুলোর মধ্যে অপ্রকাশ্য রাজনীতি নিয়ে একে অপরকে সন্দেহ। এবং এটা এখন সব দলের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে এমনকি দলগুলোর ভেতরেও প্রভাব ফেলছে।তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে তাদের ভেতরে গুপ্ত আছে। কখনো আওয়ামী লীগ আবার কখনো জামায়াতের দিকে সন্দেহের আঙ্গুল। আবার আওয়ামী লীগ মনে করে তাদের সময়ে যারা সুবিধা নিয়েছে তাদের অনেকেই এখন বিএনপির সুবিধাভোগী। এদেরকে আওয়ামী লীগ বলছে যে, এরা বিএনপির গুপ্ত। এমনকি এখন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সিক্রেট গ্রুপগুলোর তথ্য বাইরে প্রকাশ হওয়ার পর আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের মধ্যেও গুপ্ত ঢুকেছে।এ অবিশ্বাস এখন এমন পর্যায়ে গেছে যেখানে অতীতে কারো ভিন্ন দলে থাকার ইতিহাস কিংবা নিরপেক্ষ কারো হঠাৎ রাজনৈতিক দল বা সরকারে যোগ দেয়ার ঘটনাকেও ব্যাখ্যা করা হচ্ছে গুপ্ত-সুপ্ত রাজনীতি হিসেবে।আবার কখনো কখনো নিজ দলের ভেতরে একে অপরের বিপক্ষে ব্যবহার হচ্ছে এই ট্যাগ।জোবাইদা নাসরিন বলেন, একে অন্যকে অবিশ্বাসের ধারা তৈরি হচ্ছে যে, সে তো গুপ্ত। তাকে বিশ্বাস করা যাবে না। অমুকের কর্মকাণ্ডে সন্দেহ হচ্ছে, সে হয়তো আরেকটি দলের সঙ্গে যুক্ত এবং আমাদের তথ্য সেখানে দিচ্ছে। এই যে একটা নিজের দলের মধ্যেই নানা রকম অবিশ্বাস, সেটা এই গুপ্ত-সুপ্ত রাজনীতির কারণেই। ‘গুপ্ত’ রাজনীতি নিয়ে বিএনপি কেন এতো সরব?এটা ঠিক রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কৌশল সবসময় প্রকাশ্যে আনে না। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর গোপন ভূমিকায় সেটা স্পষ্ট।আবার দলগুলো অনেকসময় রাজনৈতিক কারণে অন্যান্য দলের সঙ্গেও গোপন সংযোগ গড়ে তোলে।কিন্তু এরসঙ্গে যখন কৌশল হিসেবে অন্য দলে অনুপ্রবেশের অভিযোগ সামনে আসছে, তখনই এটা রাজনীতিতে তৈরি করছে বড় ধরনের সন্দেহ, অবিশ্বাস।এমনকি নিজ দলের ভেতরেই ট্যাগ হিসেবে গুপ্ত শব্দের ব্যবহার পরিস্থিতিকে করেছে আরও জটিল।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, গুপ্ত রাজনীতি যেখানে নতুন নয়, সেখানে বিএনপি কেন এই ইস্যুকে এতো প্রবল করে তুলে ধরছে?এখানেই আসছে বিএনপির ভাষায়, সরকার পতনে ‘গুপ্ত ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ। যেখানে অভিযোগের আঙ্গুল জামায়াতের দিকে। বিশেষকরে সংস্কার, জুলাই সনদ ইত্যাদি ইস্যুতে জামায়াতের আন্দোলনের দিকে।বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, তারা সংস্কার নিয়ে কথা বলে। আমরা তো সংস্কারের বিরুদ্ধে না। কিন্তু তারা গুপ্তভাবে কিছুটা ষড়যন্ত্র করছে, এই সংস্কার নিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে যে, আমরা সংস্কার করব না। আপনারা (জামায়াত) আগে দেখেন আমরা কী করি! না দেখেই ফেলে দেওয়ার কথা বলছেন, গুপ্তভাবে ষড়যন্ত্র করছেন, লং মার্চ করছেন। আমরা যদি অন্যায় করি আমাদের সাজা দেবেন জনগণ। কিন্তু কোন মুভমেন্ট করে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করে এটা পারবেন না। তবে জামায়াত কোনোরকম গোপন ষড়যন্ত্র বা গুপ্ত রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ নাকচ করছে। জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে তারেক রহমান এবং বিএনপির যে বক্তব্য তার সমালোচনা করেন।তিনি বলেন, এখন বিএনপিতে যাদের নাম আপনারা শুনেন, কিছু মন্ত্রী আছেন, আমার চল্লিশ বছরের রাজনীতিতে যাদেরকে দেখিনি। তো এখন তাদেরকে গুপ্ত বলবো কিনা। এদের তো নাম-ডাক কিছু নেই। তাদের ক্যাবিনেটে এধরনের দশ/পনেরজন আছেন, তাদেরকে কে চেনে, কে তাদেরকে অতীতে দেখেছে? তো এগুলো ট্যাগ দিতে গেলে তো ট্যাগ দেওয়াই যায়।তার মতে, বিরোধী দলের আন্দোলন থেকে নজর সরাতেই এসব বিষয় সামনে আনছে সরকার এবং সরকারি দল বিএনপি।এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এখন আমাদের মূল দাবি হচ্ছে এ দেশের জনগণের জুলাই জাতীয় সনদ এবং এর আলোকে যে গণভোট হয়েছে, সেই রায়টা বাস্তবায়ন করা। এটা থেকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার জন্য এখন এসমস্ত অভিযোগগুলো করা হচ্ছে।
হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে ‘সমমনা ইসলামি দল’ নামে কওমিভিত্তিক সাতটি দলের নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলূম মাদ্রাসায় দলগুলোর বৈঠক শেষে এ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।জোটে থাকা ৭টি দল হলো- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখন থেকে এই ৭টি ইসলামি দল একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।অন্য জোটে থাকা দলগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে যেসব দল অন্য জোটে আছে, তারা সেই জোট ছেড়ে ‘সমমনা ইসলামী দল’ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে আসার ব্যাপারে একমত হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর সাত দলের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান হেফাজতে ইসলামের এই মহাসচিব।
রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের চলমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে এ আহ্বান জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়িয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।উল্লেখ্য, পাহাড়ের দুই সশস্ত্র সংগঠনের গোলাগুলির ঘটনায় এক ত্রিপুরা শিশু শিক্ষার্থীর আহত হয়। ঘটনার পর উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর একের পর এক অবরোধে সাজেক ছাড়েন পর্যটকেরা। এই উত্তেজনা এখনো চলমান।
মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আলোচিত সমালোচিত হন সদ্য পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি। এই ঘটনায় হইচই শুরু হলে ১২ ঘণ্টা পার না হতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান। সেখানে দুজনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয় বলে জানান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।প্রধানমন্ত্রী কখন, কোথায় ডেকেছিলেন আর কী বলেছিলেন এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ইশরাক হোসেন।গণমাধ্যমকে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে দুপুরে সময় দিয়েছিলেন। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি উঠে সেখানে চলে যান। আমি আর তার সঙ্গে যাইনি। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি। পরে প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবার ক্যাবিনেটে ডেকে নিয়ে যান এবং আমার নির্ধারিত আসনে বসতে বলেন। আমি সেখানে বসে ক্যাবিনেট মিটিংয়ে অংশ নিই এবং আমরা মিটিংটি সম্পন্ন করি। মিটিং শেষ হওয়ার পর আমরা আবার তার অফিসে যাই এবং সেখানে কথা বলি। আলোচনা শেষে পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ করব, সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই।’পদত্যাগের সিদ্ধান্তে দলের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দল কখনোই চাইবে না যে তাদের মন্ত্রিসভার কোনো এক সদস্য পদত্যাগ করুক। তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তারা যে কোনো উপায়ে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে আমার নেতা, প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়।’বিরোধী দলের নেতাদের যোগাযোগের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আমাকে সরাসরি ফোন করে বলেছেন, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আপনার যে কোনো কর্মকাণ্ডে আমরা পাশে থাকব। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। এ ধরনের কথা অনেকে বলেছেন।’আগামী নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমার যেসব মূল নেতাকর্মী ২০২০ সাল থেকে আমার সঙ্গে কাজ করছেন, তারা সব সময় আমাকে ওই জায়গাটিতে দেখতে চেয়েছেন এবং এখনো চান।’প্রসঙ্গত, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ইশরাক হোসেন অস্ত্র হাতে মাদকাসক্ত ও বিক্রেতাদের তাড়া করছেন।পরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে তার পক্ষ দেওয়া বিবৃতিতে তিনি ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।ইশরাক বলেন, শনিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে ইশরাক হোসেনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে, এমন আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। কিন্তু ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেন বলে খবর প্রকাশ হয়। তবে তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে ইরশাক দাবি করেছিলেন, এ ধরনের সংবাদ সর্বৈব মিথ্যা। তবে সোমবার সকালে ইশরাক জানান যে, তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শপথ নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় সেদিনই তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা ছাড়লেন ইশরাক।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ১০ বছরেও দেশে ফেরার সম্ভবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল, যেখানে ভালো ও নিরপেক্ষ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব ছিল না। নির্বাচনীব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। বিত্তবান নয়, জনপ্রিয়তা ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতা আছে, এমন মানুষদের নির্বাচন করার মতো সুযোগ তৈরি করে দেওয়া উচিত।আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলেও প্রত্যাশা জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ইশরাক হোসেন।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন। ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শটি আমি একবাক্য মেনে নিয়েছিলাম। প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে।তিনি বলেন, ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একের পর এক নেতিবাচক প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে তার চরিত্র হনন এবং তাকে জনগণের তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলার চেষ্টা করা হতো। পাশাপাশি শুভাকাঙ্ক্ষী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি করে তাকে একঘরে করার পরিকল্পনাও ছিল। এছাড়া, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। পোস্টে ইশরাক আরও বলেন, একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।।তিনি বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি ।তিনি আরও বলেন, আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।