প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং এবং জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।সভায় তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।বিশেষ করে যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি এবং জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।সভায় সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রীও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের তথ্যে জানা যায় সভায় দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।সাধারণত জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর এক বা দুই দিন আগে কিংবা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই এ সভা আহ্বান করা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি দলের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিহত করতে না পারেন, তাহলে আপনাদেরও আওয়ামী লীগের পরিণতি ভোগ করতে হবে।মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শরীয়তপুর জেলা শাখার উদ্যোগে পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসে নতুন স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছে।তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের মানুষ আশা করেছিল একটি বৈষম্যহীন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ পাবে। এ কারণেই জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছিল; কিন্তু গণমানুষের সেই আশা আজ পূরণ হচ্ছে না।শরীয়তপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে নাগরিক সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম, এনসিপি নেত্রী শামসুন নাহার, ইমরান আল নাজির, জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্য সচিব রিয়াজ মুর্শেদ প্রমুখ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। দলটির শীর্ষ কয়েকটি পদের নাম ও নেতা পরিবর্তন হচ্ছে। দলটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব আগের মতো থাকলেও দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চলের) ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চলে) পদগুলো বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্র ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে।জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে দলটিতে প্রায় ২০০ শতাধিক নেতাকর্মী স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কমিটির আকার বাড়াতে গিয়ে বিভিন্ন পদও সৃষ্টি করেছিল দলটি। সবশেষ দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলে মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেছিল সারজিস আলম। এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’-এর সভায় চারটি পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি পদ পরিবর্তন করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দুটি ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব দুটি পদ তৈরি করা হয়েছে। আর অনেকগুলো উপ কমিটির প্রধান ঘোষণা করা হবে।সূত্র মতে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন আজ রাতে ঘোষণা করা হবে। বর্তমান মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পুনর্গঠিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হতে যাচ্ছেন। একই পদে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহও দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পদে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বর্তমান মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও উত্তরাঞ্চলে মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।সূত্রে আরও জানা গেছে, দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হয়ে সারজিস আলম সাংগঠনিক বিষয় দেখভাল করবেন। এছাড়া আরিফুল ইসলাম আদীব ও আলী আহসান জুনায়েদ সহপ্রধান হিসেবে কাজ করবেন।সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন নাহিদ ইসলাম। এতে দলের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেবেন।এদিকে, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করবেন এনসিপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা। দলের শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী আসনের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।গত রোববার অনুষ্ঠিত সভায় আরও জানানো হয়, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের কাজ চূড়ান্ত হয়েছে। ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হবে।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুম। এ ছাড়া দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহউদ্দিন সিফাতও সভায় অংশ নেন।
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সাবেক এমপি শাহরিয়ার আলম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট খুব ভোরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আঁচ করতে পারেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি রাজশাহী ছেড়ে সড়কপথে গেদে সীমান্তে পৌঁছান। এরপর ভারতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে থাইল্যান্ড হয়ে রাশিয়ায় চলে যান। শাহরিয়ার বর্তমানে ভারতের কলকাতার নিউটাউনে সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফুটের আলিশান একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া পারভীন লেনিকে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। সেখানে গড়েছেন স্থায়ী নিবাস। তার জন্য হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাঠানো হচ্ছে। তার বিশাল ফ্ল্যাটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, কেন্দ্র এবং রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাসিত নেতারা নিয়মিত যাতায়াত করছেন। দেশকে অস্থিতিশীল করতে নেওয়া হচ্ছে নানা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে শাহরিয়ার চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল সফর করছেন। রাজশাহীতে শাহরিয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই রাজশাহীর তিনটি থানায় শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। এছাড়া শাহরিয়ারের ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শাহরিয়ার বাঘার পার্শ্ববর্তী নাটোরের লালপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মর্ত্তুজা বাবুর মেয়ে সিলভিয়া পারভীন লেনিকে ২০১৯ সালের দিকে বিয়ে করেন। এটি ছিল তার দ্বিতীয় বিয়ে। মন্ত্রিত্বের দাপট, দলীয় ক্ষমতা আর প্রভাব খাটিয়ে লেনির মা রোকসানা মর্ত্তুজাকে ২০২১ সালে লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার মেয়র বানান শাহরিয়ার। লেনিকে লালপুরে কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি করে দেন। এছাড়া ঢাকার গুলশানে তাকে ৩৬০০ স্কয়ার ফুটের রাজকীয় একটি ফ্ল্যাট উপহার দেন। দেশে বর্তমানে শাহরিয়ারের ব্যবসার বিশাল সাম্রাজ্য এবং আর্থিক বিষয়টি সামলাচ্ছেন তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, ব্যবসায়িক পার্টনার বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী, মুহাম্মদ সাঈদ, রাজশাহীর ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি শক্তিশালী চক্র। অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।২০০৮ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শাহরিয়ারকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কৌশলী শাহরিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার শুরু করেন। ঘটতে থাকে তার অর্থনৈতিক উত্থান। দ্রুত তার গার্মেন্ট ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে। প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান রেনেসাঁ গ্রুপ। তবে বর্তমানে গ্রুপটির মূল পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে (মালিকানায়) কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। গ্রুপটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী। আর পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম মুহাম্মদ সাঈদ। এ প্রতিষ্ঠানটিতে শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখভাল করছেন এমডি বাশার এবং পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ।ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড দেশের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক হলেন চারজন। এ প্রতিষ্ঠানটির এমডি শাহরিয়ার আলম। এই প্রতিষ্ঠানটিতেও শাহরিয়ারের অনুপস্থিতিতে তার প্রতিনিধিত্ব করছেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী।ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট টেক্সটাইলস লিমিটেড। এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারের রয়েছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। এখানেও তার পক্ষে আর্থিক বিষয় দেখভাল করেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী। এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য তার (নাঈমুল) দুটি নম্বরে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। তবে রেনেসাঁ গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘শাহরিয়ার আলম শেয়ারহোল্ডার। উনি এখন নেই। ব্যবসা চলছে। লোকজন কাজ করছেন।’ শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি ব্যবসাতে অনেকদিন থেকেই নেই। ব্যবসা আমরা চালাচ্ছি। এখন মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলব।’আওয়ামী লীগ শাসনমালে অংশীদারত্বে ব্যবসা ছাড়াও শাহরিয়ার ব্যক্তিগতভাবে গড়ে তোলেন নানা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান দেখভাল করছেন শাহরিয়ারের বাবা মো. শামসুদ্দিন, তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও রাজশাহী জেলার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি শক্তিশালী চক্র।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে রাজশাহী মহানগরীর অভিজাত এলাকায় দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহরিয়ার গড়ে তোলেন বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের এমডি শাহরিয়ারের বাবা হলেও এখন বিএনপিপন্থি সংগঠন ড্যাবের চিকিৎসকরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। চাউর রয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীতে শীর্ষ দুটি রাজনৈতিক দলের ফান্ডে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো ঝামেলা ছাড়া নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন শাহরিয়ার।রাজশাহীর বাঘার ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ২০২০ সালে গোলাম হোসেনের শতকোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৪০ বিঘা জমি ক্ষমতা আর প্রতারণার মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে জোরপূর্বক নিয়ে নেন শাহরিয়ার। এরপর সেখানে গড়ে তোলেন বরেন্দ্র এগ্রো ফার্ম। গোলাম হোসেন সে সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও জমি উদ্ধার করতে পারেননি।শাহরিয়ার এছাড়া কিনেছেন শতাধিক বিঘা জমি। রাজশাহী এবং ঢাকায় রয়েছে তার কয়েকটি প্লট ও ফ্ল্যাট। বাঘা ও চারঘাট উপজেলা সদরে শতকোটি টাকার মূল্যবান জমি কিনেছেন তিনি। পার্শ্ববর্তী লালপুর ও ঈশ্বরদীতে নামে-বেনামে শাহরিয়ারের জমি কেনার আরও তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার গুলশানে নিজের নামে দুটি এবং ছেলের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি।শাহরিয়ারের বাবা শামসুদ্দিন এবং ভাই সাইফুল ইসলাম বাদলসহ তার রাজনৈতিক সহযোগীরা ঢাকা ও রাজশাহীতে এসব সম্পদ দেখভাল করছেন। এ ব্যাপারে শামসুদ্দিন ও তার ছেলে বাদলকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা সাড়া দেননি।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আরও সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সহযোগিতা চান।একই সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিককেন্দ্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও সরকারি সেবা সহজীকরণে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।বৈঠকে ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন।বিশেষ করে সরকারি খাতের সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) সঙ্গে অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইউএনডিপির অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান উপদেষ্টা।অন্যদিকে, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত ও সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউএনডিপি।বৈঠকে ইউএনডিপির উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দায়ারত্নে, সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, সিনিয়র গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ এবং সংস্থাটির ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিসিস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ (এসআইপিএস) প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) মহাপরিচালক ড. দেলোয়ার হোসেনও বৈঠকে অংশ নেন।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য আসনে আগামী ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।সোমবার (১২ অক্টোবর) ইসি সচিব আখতার আহমদের সই করা তফসিল থেকে বিষয়টি জানা গেছে।তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৭ অক্টোবর। বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল ২৮ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি ২৯ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ নভেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ হবে ২ নভেম্বর। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হব ১২ নভেম্বর।রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির নাম আসায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপর তিনি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। এখন ভোটের তফসিল দিল ইসি।