বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী

২

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৩৬ শিক্ষার্থী

৩

পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে দুই বছরে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, আসামি ৫৫৮

৪

বাংলাদেশে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের ‘হাব’ গড়তে চায় ইতালি

৫

ঢাকায় মিশন খুলবে কেনিয়া

৬

চট্টগ্রাম-থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের আলোচনা

৭

মধ্যরাতে বিদ্যুৎ চাহিদা ৩ হাজার মেগাওয়াট, যাচ্ছে কোথায়?

৮

উত্তরায় পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

৯

হুথি হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি, বিমানবন্দর-তেল স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

১০

সরকারি-বিরোধী দল নয়, বিটিভিতে গুরুত্ব পাবে প্রাসঙ্গিকতা

সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তাদের মধ্যে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা।বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বার্তায় জানায়, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্স বিকল্প বিমানবন্দরের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে এ সুবিধা মিলছে। ফলে টিকিট পরিবর্তন করেও অনেকে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না।সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি রয়েছে।ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট চলাচল করে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে অনেক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তবে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপ্তাহের শুরুতে ফ্লাইট চলাচল কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ চলছে।       সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে। এতে বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হলেও নতুন রুটে আসনসংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে, তাদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিমানের কোনো ফ্লাইটে আসন খালি না রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে কখনো কখনো ওভারবুকিংয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।ওই কর্মকর্তা জানান, ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরও কয়েকজন যাত্রীকে ফিরিয়ে আনার ঘটনা ঘটেছে। তবে পরবর্তী ফ্লাইটে তাদের আবার সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছে।এয়ারলাইন্স-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকিট পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করছে। কারণ, এসব রুটে আগে থেকেই যাত্রীদের বুকিং রয়েছে। ফলে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের নতুন করে আসন দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসা কর্মীদের জন্য দ্রুত বিকল্প ফ্লাইট নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের ‘হাব’ গড়তে চায় ইতালি

বাংলাদেশে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের ‘হাব’ গড়তে চায় ইতালি

বাংলাদেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) হাব গড়ে তুলতে আগ্রহী ইতালি।বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।এ সময় দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেল্লিও উপস্থিত ছিলেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে ঢাকা-রোম রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে ইতালি সরকার আগ্রহী বলে জানান রাষ্ট্রদূত।জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইউরোপে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের পর ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।বৈঠকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ইতালির বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়েও আলোচনা হয়। উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) হাব গড়ে তোলার সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ইতালির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এজ কোম্পানি, এয়ারটেক এসপিএ ও জিলারডোনির অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও উন্নত পর্যটন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘রেড জোন’ গঠনের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে।

ঢাকায় মিশন খুলবে কেনিয়া

ঢাকায় মিশন খুলবে কেনিয়া

বাংলাদেশ ও কেনিয়ার মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের তৃতীয় দফার বৈঠক বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক) ড. নজরুল ইসলাম এবং কেনিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কেনিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ক মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত জোসফাত মাইকারা।বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর থেকে অর্জিত অগ্রগতির পর্যালোচনা করা হয়। উভয়পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ ও স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, ব্লু-ইকোনমি (নীল অর্থনীতি), সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে।উভয়পক্ষ দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগের প্রসার ও সুরক্ষা, ব্লু-ইকোনমি ও চুক্তিভিত্তিক কৃষিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে ঝুলে থাকা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর (এমওইউ) প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়। বাংলাদেশ ওষুধ, তৈরি পোশাক, হালকা প্রকৌশল পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষি খাতে নিজেদের সক্ষমতা ও শক্তির কথা তুলে ধরে।কেনিয়া পক্ষ সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ এবং কেনিয়ায় আরও বেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করেছে। তারা বাংলাদেশে উন্নতমানের কফি, শিম (বিন), তুলা ও প্রক্রিয়াজাত মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দেয়।তারা জানায়, শিগগিরই ঢাকায় কেনিয়ার আবাসিক মিশন স্থাপন করা হবে। এছাড়া তারা জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর আওতায় সহযোগিতা জোরদার এবং উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ে উৎসাহিত করতে সম্মত হয়।চতুর্থ দফার আলোচনা ২০২৮ সালের অক্টোবরে নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের আলোচনা

চট্টগ্রাম-থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের আলোচনা

চট্টগ্রাম বন্দর ও থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। এ ধরনের যোগাযোগ চালু হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি।এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হবে।রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এ উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াবে না, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানো এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ। একই সঙ্গে বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় ট্রাম্পের ‘ভয়ের রাজনীতি’

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় ট্রাম্পের ‘ভয়ের রাজনীতি’

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা যত ক্ষীণ হচ্ছে, দলটির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য ততই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের কখনো অদ্ভুত আখ্যা দিচ্ছেন রিপাবলিকানরা। এ ছাড়া তারা দেখতে আমেরিকান নয় বলেও কটাক্ষ করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ধর্ম, বর্ণ, ব্যক্তিগত পরিচয় ও জীবনযাপন নিয়ে বিদ্বেষমূলক আক্রমণের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।ট্রাম্প মূলত নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে ‘পলিটিকস অব ফিয়ার’ বা ভয়ের রাজনীতি শুরু করেছেন। এটি এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে নেতারা ভোটারদের প্রভাবিত করতে, দলীয় আনুগত্য গড়ে তুলতে এবং প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে উদ্বেগ, হুমকি কিংবা কোনো পরিস্থিতিকে সংকট হিসেবে তুলে ধরার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করেন।এরই অংশ হিসেবে মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের নাম বিকৃত করে তাকে ‘জিহাদি’  আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, মঙ্গলবার টেক্সাসে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকোকে ‘অদ্ভুত’ বা ‘বিকৃত’ হিসেবে উপস্থাপন করেন ভ্যান্স। টালারিকো সমকামী—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ কৌতুকও করেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করছেন, টালারিকো নিরামিষভোজী, যা তার ভাষায় মাংসপ্রিয় টেক্সাসের সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে টালারিকোকে এখন প্রায়ই মাংসের প্লেট হাতে ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে।এদিকে, ওহাইওর মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্যে হাইতি ও আফ্রিকার মানুষদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তুলে ধরে বর্ণবিদ্বেষী বক্তব্যও নতুন করে সামনে এনেছেন ট্রাম্প।সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া মিনেসোটার কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে সোমবার কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা তল্লাশি চালানোর পর ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ওমরের সাংবিধানিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ট্রাম্প তাঁকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ দেশগুলোর একটি’ থেকে আসা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা অবশ্য নতুন নয়। তবে প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক মঞ্চ থেকে প্রকাশ্যে বর্ণবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কখনো হাসতে হাসতে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প ও ভ্যান্স। এতে তারা বক্তব্যগুলোকে নির্বাচনী প্রচারের স্বাভাবিক বাগ্যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ পান। কিন্তু তাতে কারও বর্ণ, ধর্ম, চেহারা কিংবা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। বরং এ ধরনের রাজনীতি রাজনৈতিক বিতর্কের মানকে আরও নিচে নামিয়ে আনে।বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মস্থান নিয়ে তার উসকানিমূলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং মিথ্যা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এ বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ট্রাম্প প্রায়ই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের আমেরিকার প্রচলিত সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে অসংগত হিসেবে তুলে ধরেছেন।অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের পেছনেও তার রক্ষণশীল সমর্থকদের সন্তুষ্ট রাখার লক্ষ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে রিপাবলিকানদের বিপুলসংখ্যক সমর্থকের ভোট নিশ্চিত করা জরুরি।তবে নির্বাচনী প্রচারে এমন অশুভ প্রবণতা বাড়ার সবচেয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা হতে পারে, রিপাবলিকানদের সামনে ভোটারদের কাছে তুলে ধরার মতো শক্তিশালী বিকল্প বক্তব্যের অভাব রয়েছে।সিএনএনের বিভিন্ন জরিপের সমন্বিত হিসাবে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জন্য এটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। জরিপে দেখা যাচ্ছে, খাদ্য, বাসস্থান, পেট্রল ও ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার সংকট আরও বাড়ার জন্য অধিকাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলোকে দায়ী করছেন।নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প ও ভ্যান্সের এমন সব অঙ্গরাজ্যে ছুটে যাওয়া, যেখানে রিপাবলিকানরা আগে নিজেদের জয় নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন ছিলেন না, সেটিও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।মঙ্গলবার টেক্সাসে টালারিকোকে ‘অদ্ভুত’ বা ‘বিকৃত’ বলে আখ্যা দেন ভ্যান্স। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ট্রাম্পের পছন্দের সিনেট প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে থাকা নানা অভিযোগ ও কেলেঙ্কারি থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের নীতিগত প্রশ্নে মোকাবিলা করতে না পারলে তাদের অযোগ্য প্রমাণের চেষ্টা নতুন কিছু নয়। ট্রাম্পের কাছে মুসলিম প্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করার কৌশলেরই অংশ। আবদুল আল-সাইয়েদ ও জেমস টালারিকোকে আক্রমণ করে তিনি নিজের দলকে নির্বাচনী সুবিধা দিতে চাইছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে দুই প্রার্থীরই লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। শনিবার টেনেসিতে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে মোহাম্মদ বলে ডাকি।’ এরপর তিনি বলেন, কেউ একজন তাকে জানিয়েছে, ওই প্রার্থীর নাম মোহাম্মদ নয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট। আমি তাকে যা খুশি, তা ডাকতে পারি।’ইসরাইলের বিষয়ে আল-সাইয়েদের অবস্থান নিয়ে রিপাবলিকানদের সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। অনেক মার্কিন ইহুদি, এমনকি ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকদেরও একাংশ এ বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে ২০২৩ সালের হামলায় নিহত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং পরবর্তী ইসরাইল-হামাস যুদ্ধে নিহত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির প্রাণহানির বিষয়টিও তাদের শোক ও উদ্বেগের কারণ।কিন্তু আল-সাইয়েদকে ‘জিহাদি’ বলা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। শব্দটি সাধারণত উগ্রপন্থি সন্ত্রাসী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে তাকে গণতন্ত্রবিরোধী এবং আল-কায়েদা বা আইএসের মতো সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে তুলে ধরার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য ভোটারদের মনে ওই প্রার্থীকে সন্ত্রাসী ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে ভয় সৃষ্টি করা—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।আল-সাইয়েদকে ‘মোহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করাও তার ব্যক্তিসত্তাকে অবজ্ঞা করার পাশাপাশি মুসলমানদের স্বতন্ত্র পরিচয়কে অপমান করার শামিল।বৃহত্তর অর্থে, ট্রাম্প মিশিগানে জন্ম নেওয়া এই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী এবং তার ধর্মাবলম্বীদের আমেরিকান পরিচয়ের সঙ্গে অসংগত হিসেবে তুলে ধরছেন। এতে তাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের এ কৌশল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যনাম ‘হুসেইন’ বারবার ব্যবহার করে তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টার কথা মনে করিয়ে দেয়।ট্রাম্পের ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বিকৃত করার জবাবে আল-সাইয়েদ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ভোটারদের বুদ্ধিমত্তাকে অবজ্ঞা করছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘তিনি জানেন আমার নাম আবদুল। তিনি প্রতিদিনই তা বলেন। কিন্তু তিনি শুধু আমাকে আক্রমণ করছেন না, তিনি আমাদের সবাইকে আক্রমণ করছেন। তিনি আমাদের এতটাই তুচ্ছ মনে করেন যে, আমার নাম ও ধর্ম ব্যবহার করে জ্বালানি পাম্প, মুদি দোকান ও চিকিৎসকের কাছে তার নীতির কারণে মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, তা থেকে আমাদের মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারবেন বলে ভাবছেন।’ইলহান ওমরের প্রতি ট্রাম্পের বক্তব্যেও একই ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বহু বছর ধরেই এই কংগ্রেস সদস্যের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ চলছে। এবার তিনি এমনভাবে ওমরকে উপস্থাপন করছেন, যেন সোমালিয়ার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মিনেসোটায় নিয়ে আসছেন ওই প্রতিনিধি।সোমবার ওহাইওতে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি একটি বিপর্যয়। তিনি এমন একটি দেশ থেকে এসেছেন, যেখানে আইন নেই, পুলিশ নেই, সেনাবাহিনী নেই। সেখানে সবাই শুধু একে অপরকে গুলি করে।’এরপর তিনি বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে আমাদের শেখাতে চায়, কীভাবে দেশ চালাতে হবে। আমরা এটা মেনে নেব না। তারা কর বাড়ায়, স্বাস্থ্যসেবা, বিমা ও শিশুযত্নের খরচ বাড়ায়।’১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে সোমালিয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে কয়েক হাজার নয়, বরং আরও বেশি সোমালীয় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংস অপরাধী অনেক। তবে সোমালীয় নেতাদের বক্তব্য, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা এই সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র। ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা অযৌক্তিকভাবে পুরো সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করছেন।যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া ওমরের বাড়িতে তারা আইন প্রয়োগসংক্রান্ত অভিযান চালিয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা সেগুলোর পক্ষে থাকা প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। ওমর বলেছেন, ট্রাম্প বহু বছর ধরে তাকে অপমান করে আসছেন এবং এখন রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে তাকে লক্ষ্যবস্তু করছেন।ট্রাম্পের সহযোগীরা বারবার তার বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের যুক্তি, ট্রাম্প কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাসের মাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ উদ্যাপনের আয়োজন করেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন বেড়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগ করেন, ‘বছরের পর বছর ধরে উগ্র ডেমোক্রেটরা এই প্রেসিডেন্টকে মিথ্যাভাবে বর্ণবাদী বলে অভিযুক্ত করেছেন।’অনেক রিপাবলিকান ভোটারও এ ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ডেমোক্রেটরাও রক্ষণশীল ও ট্রাম্পের সমর্থকদের অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ‘ডিপ্লোরেবলস’ বা নিন্দনীয় মানুষ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার কথাও তারা উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের কিছু সমর্থক ওই অপমানজনক শব্দকেই যেন গর্বের প্রতীকে পরিণত করেছেন। আবার ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যেই ট্রাম্পকে ফ্যাসিবাদী বলে আখ্যা দিয়েছেন।তবে ট্রাম্প ও ভ্যান্স এমন একটি প্রবণতাকে আরও জোরালো করছেন, যা নতুন জনতুষ্টিবাদী রিপাবলিকান রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। আর তা হলো, কে প্রকৃত আমেরিকান হিসেবে বিবেচিত হবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড চাপিয়ে দেওয়া।২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারে রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সারাহ পলিন বলেছিলেন, ছোট শহরের দেশপ্রেমিক ও পরিশ্রমী মানুষেরাই ‘প্রকৃত আমেরিকা’র প্রতিনিধিত্ব করেন। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলোর বাইরের মানুষদের দেশপ্রেম ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।ট্রাম্পের রাজনীতিতে যে তীব্র বিদ্বেষের প্রকাশ ঘটেছে, তার তুলনায় পলিনের সেই বক্তব্য এখন অনেকটাই নিরীহ মনে হয়। ওই বক্তব্যের জন্য তার পরবর্তী সময়ে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাও এখন ইতিহাসের এক কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায় হয়ে আছে।

১০ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

রাস্তায় ফেলে যাওয়া দুই শিশুর পাশে স্বপ্ন

রাস্তায় ফেলে যাওয়া দুই শিশুর পাশে স্বপ্ন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়া দুই কন্যাশিশু ইসরাত ও রোজা মনির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশের বৃহত্তম রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন। শিশু দুটির পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করতে তাদের একটি গাভী উপহার দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু দুটির পরিবার যেন ভবিষ্যতে আয়ের একটি টেকসই উৎস গড়ে তুলতে পারে, সেই প্রচেষ্টা চালাবে স্বপ্ন।গত ১১ অক্টোবর দুপুরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দক্ষিণ বাজার এলাকায় রোজ গার্ডেন মডেল স্কুলসংলগ্ন সড়কের পাশে পাঁচ বছর বয়সী ইসরাত ও তার দেড় বছর বয়সী ছোট বোন রোজা মনিকে একা কাঁদতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা।ইসরাতের ভাষ্য অনুযায়ী, চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে তাদের সেখানে নিয়ে আসেন মা। এরপর তাদের একা রেখে চলে যান তিনি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও মাকে ফিরে না পেয়ে অসহায় অবস্থায় পড়ে দুই শিশু।পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে শিশু দুটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে তাদের এক চাচি ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয়দের সহায়তায় শিশু দুটিকে নিজের জিম্মায় নেন।শিশু দুটির এমন পরিস্থিতির খবর জানার পর তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বপ্ন। এর ফলে পরিবারটি গাভী পালন ও দুধ বিক্রির মাধ্যমে নিয়মিত আয় করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু দুটির লালন-পালন ও ভবিষ্যৎ গঠনে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা প্রতিষ্ঠানটির।স্বপ্ন মনে করে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করাও সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। ইসরাত ও রোজা মনির জন্য নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবারটির জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

৯ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের হাতাহাতি, সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ

প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের হাতাহাতি, সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে ফোন ফেরত দেন হামলাকারীরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, দুপুরে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গড়াই নদের ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান। এর আগে তিনি রায়ডাঙ্গা আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী তার গাড়িতে উঠতে গেলে সেখানে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সময় হাতাহাতি বেধে যায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে। এ সময় স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে সেই ভিডিও ধারণ করলে জেলা ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে তার ফোন ছিনিয়ে নেন। তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিলেও ভিডিও করার কারণে তাকে অস্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন। অন্য আরেকজন ছাত্রদল কর্মী স্টার নিউজের প্রতিনিধিকে ধরে নিয়ে যান। এই ভিডিও ধারণ করছিলেন মোহনা টেলিভিশনের কুমারখালী প্রতিনিধির ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম। ছাত্রদল কর্মীরা তাকে কিল-ঘুসি মেরে তার ফোনও ছিনিয়ে নেযন। পরে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে মোবাইল দুটি ফেরত দেন হামলাকারীরা।স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে ওঠার পরপরই ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় আমি ভিডিও করলে তারা আমার ওপরে চড়াও হন। পরে আমার ফোন কেড়ে নেন এবং আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মোহনা টেলিভিশনের কুমারখালী প্রতিনিধির ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম সেই ঘটনা ভিডিও করতে গেলে তাকেও কিল-ঘুসি মারেন ছাত্রদলের কর্মীরা। পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমানের হস্তক্ষেপে আমরা মোবাইল ফেরত পাই।মোহনা টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম জানান, স্টার নিউজের জহুরুল ভাইয়ের ওপর যখন হামলার ঘটনা ঘটে এ সময় আমি ভিডিও ধারণ করছিলাম। ছাত্রদলের কর্মীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাকে মারধর করেন। তারা আমার মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারেন। এ সময় সমকাল পত্রিকার কুমারখালি উপজেলা প্রতিনিধি নয়ন ভাইকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তারা।এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমানকে একাধিকবার ফোন দিল তিনি রিসিভ করেননি।এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকারকে একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস জানান, কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর প্রোগ্রামে সংবাদ কভারেজ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। আমরা চাই অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।এই ঘটনায় জেলায় কর্মরত সংবাদ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোবের সৃষ্টি হয়েছে।

হিন্দুদের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার আশ্বাস জামায়াত আমিরের

হিন্দুদের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার আশ্বাস জামায়াত আমিরের

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ কথা জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার।তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য ও বঞ্চনার কথা শুনেছেন জামায়াত আমীর এবং এসব সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যত সংগঠন আছে, জাতীয় ভাবে তার প্রায় সব সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী নেতারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টসহ আরও অনেক সংগঠন ও সংস্থার নেতৃবৃন্দ এখানে উপস্থিত ছিলেন।তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে শুধু নয়, লিডার অব দ্য অপজিশন হিসেবে একটি সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে কথা বলা সরকারের যেমন দায়িত্ব, তেমনি বিরোধীদলীয় নেতারও সাংবিধানিক কর্তব্য। তিনি সেটি স্মরণ করেছেন এবং এ ব্যাপারে তার ভূমিকা যতটুকু তিনি পালন করেন, সেটিও ব্রিফ করেছেন।জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা ও মন্দির রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সাহসী এবং দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকার প্রশংসা করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ।তিনি বলেন, এই মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন জায়গায় কিছু বৈষম্য, বঞ্চনা, অসুবিধা, দুঃখ-কষ্ট ও ডিসক্রিমিনেশনের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা সহযোগিতা চেয়েছেন। সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের পাশে থেকে এসব সমস্যার সমাধান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের নেতা। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আরও মতবিনিময় করব, আরও কথা শুনব এবং আমাদের এই কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে আপনাদের পাশে আমরা সব সময় থাকব।বিফ্রিংয়ে সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সনাতন সমাজের নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আজ যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এজন্য সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।তিনি বলেন, যে শুভ সূচনার শুরু হলো, আগামী দিনে বাংলাদেশের সব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা যেন দলমতনির্বিশেষে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারি। সবাই মিলেমিশে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারি এবং একে অপরের সহমর্মিতায় পাশে থাকতে পারি, সেটিই আজ আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধেয় আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা।সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে তার এই গ্রহণযোগ্যতা ও বক্তব্যে সন্তুষ্ট। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও বলেন, তবে আমি একটি কথা বলতে চাই, যখনই আমাদের কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান হয়, তখন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং পৃথিবীর বুকে আমরা খুব উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। আমি বলতে চাই, এই কথাটা আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা-নেত্রীরা যদি মসজিদে খুতবার মাধ্যমে এই সম্প্রীতির আহ্বান জানান, তাহলে বাংলাদেশ সত্যি সত্যি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হয়ে উঠবে।

আ.লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক সারজিসকে বহিষ্কার, হাসনাতকে শোকজ করেছিলেন নাহিদ: রাশেদ খান

আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ায় সারজিস আলমকে বহিষ্কার এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম, এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। পোস্টে রাশেদ খান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।রাশেদ খান তার পোস্টে লেখেন, ১৯ জুলাই, যেদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি মানুষ শহীদ হন, সেদিন আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তারা। একই সময়ে আব্দুল কাদেরের ঘোষিত ৯ দফা দাবি বানচাল করতে ৮ দফা কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরও লেখেন, লীগ-চাটা হাসনাত-সারজিস আজকে জামায়াতি জাতির আব্বা হয়ে গেছে! আর ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছে আব্দুল কাদেররা।পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ সেদিন হাসিব আল ইসলামকে ফোন করে মেস থেকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে যান। আরও কয়েকজনকে ওই বৈঠকে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে চাননি বলে তারা বৈঠকে যাননি, এমন বক্তব্যও তুলে ধরেন রাশেদ খান।তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলেও অন্তত গণঅভ্যুত্থানের সময় তাদের সঠিক ভূমিকা ছিলো। সে সময় কিন্তু প্রকাশ্যে জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে ৯ দফাকে বানচাল করার ষড়যন্ত্রে নামে জুলাই গাদ্দার হাসনাত-সারজিস। নেত্র নিউজে আজও সেই বহিষ্কারের তথ্য রয়েছে।

আ.লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক  সারজিসকে বহিষ্কার, হাসনাতকে শোকজ করেছিলেন নাহিদ: রাশেদ খান

ড. ইউনূসকে হেনস্তা আ.লীগের হিংসাত্মক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ : রিজভী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, জেএফকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অপচেষ্টা করেছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া কিছু পান্ডা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পান্ডাদের কর্তৃক ড. ইউনূসকে হেনস্তা, বাংলাদেশ থেকে পলায়ন করা, পতিত ফ্যাসিস্টদের অনুশোচনার অভাব ও দেশবিরোধী কার্যকলাপের ধারাবাহিকতারই অংশ। ড. ইউনূসের প্রতি এই অসম্মানজনক আচরণ পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোবৃত্তিরই বহিঃপ্রকাশ।তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিহিংসাপরায়ণ ও হিংসাত্মক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা—যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করেছে।রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার কারণেই জেএফকে বিমানবন্দরে প্রফেসর ইউনূসের ওপর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। ড. ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টাই ছিলেন না, তিনি নোবেল লরিয়েট ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূস সাহেবের প্রতি অসদাচরণই করা হয়নি, বরং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে হেয় করা হয়েছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনে দেশ ছিল গুম-খুন ও গুপ্তহত্যার এক অরাজক পরিস্থিতি। সেই অপশাসনের সহযোগী দুষ্কৃতকারীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারাই ড. ইউনূস এর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। বিদেশের মাটিতে সংঘটিত এই অপ্রীতিকর ঘটনা বাংলাদেশের জনগণের মনে এই ধারণাকে আরও বেশি পাকাপোক্ত করল যে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তপরায়ণ মনোভাব ও হিংসাশ্রয়ী আচরণের কোনো কমতি হয়নি।

ড. ইউনূসকে হেনস্তা আ.লীগের হিংসাত্মক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ : রিজভী

পুনর্গঠন হচ্ছে এনসিপি, শীর্ষ ৪ পদে আসছে পরিবর্তন

আত্মপ্রকাশের দুই বছরের মাথায় কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কাউন্সিলকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ কয়েকটি পদে পরিবর্তন এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এনসিপির একটি সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।সূত্র জানায়, দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদ বহাল থাকলেও মুখপাত্র, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং মুখ্য সমন্বয়ক—এই পদগুলো বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’-এর সভায় চারটি পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত হয়। পুনর্গঠনের পর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসংখ্যা হবে ১৫১।বর্তমানে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ ছাড়া দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন আসিফ মাহমুদ এবং মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হতে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। আর সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ।গত রোববার অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।ওই সভায় এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহউদ্দিন সিফাত সভায় অংশ নেন।এর আগে, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী স্থান পান।আত্মপ্রকাশের দুই বছর পূর্তিতে প্রথম কাউন্সিলের মাধ্যমে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠিত হতে যাচ্ছে। কাউন্সিল ঘিরে নেতৃত্বের পরিবর্তন ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টন দলটির সাংগঠনিক কাঠামোয় নতুন রূপ আনতে পারে।

পুনর্গঠন হচ্ছে এনসিপি, শীর্ষ ৪ পদে আসছে পরিবর্তন

বিএনপির সংসদীয় দলের সভা আজ

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রীও সংসদ নেতা  তারেক রহমান।  বিএনপির  দায়িত্বশীল নেতাদের তথ্যে জানা যায় সভায় দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।সাধারণত জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর এক বা দুই দিন আগে কিংবা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়।  তবে এবার পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই এ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

বিএনপির সংসদীয় দলের সভা আজ
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তাদের মধ্যে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা।বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বার্তায় জানায়, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্স বিকল্প বিমানবন্দরের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে এ সুবিধা মিলছে। ফলে টিকিট পরিবর্তন করেও অনেকে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না।সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি রয়েছে।ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট চলাচল করে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে অনেক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তবে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপ্তাহের শুরুতে ফ্লাইট চলাচল কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ চলছে।       সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে। এতে বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হলেও নতুন রুটে আসনসংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে, তাদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিমানের কোনো ফ্লাইটে আসন খালি না রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে কখনো কখনো ওভারবুকিংয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।ওই কর্মকর্তা জানান, ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরও কয়েকজন যাত্রীকে ফিরিয়ে আনার ঘটনা ঘটেছে। তবে পরবর্তী ফ্লাইটে তাদের আবার সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছে।এয়ারলাইন্স-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকিট পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করছে। কারণ, এসব রুটে আগে থেকেই যাত্রীদের বুকিং রয়েছে। ফলে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের নতুন করে আসন দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসা কর্মীদের জন্য দ্রুত বিকল্প ফ্লাইট নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।