বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

রিজিক আটকে গেছে, টেনশন পিছু ছাড়ছে না? কী করবেন

জীবনে হঠাৎ চারপাশ থেকে অন্ধকার নেমে এসেছে? রিজিকের পথটা যেন থমকে গেছে, দুশ্চিন্তার ভারে ঘুম হারাম, কিংবা শত চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো কাজের সন্ধান পাচ্ছেন না? অনেক খেটেখাটুনি করেও সংসারের টানাটানি ঘুচছে না, কাজে মিলছে না কোনো বরকত? এমন জটিল মুহূর্তে কী করবেন?এমন একলা ও একাকী মুহূর্তে হতাশা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। মনে হয়, বুঝি সব পথ বন্ধ হয়ে গেল! কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের জন্য কখনোই সব পথ বন্ধ হয় না। অন্ধকার রাতের পরেই যেমন ভোরের আলোর ঝলকানি দেখা যায়, ঠিক তেমনি প্রতিটি কষ্টের পরপরই রয়েছে স্বস্তির বার্তা। জীবন যখন আপনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে, তখন ভেঙে না পড়ে ফিরে আসুন আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে। মনের গভীর থেকে করুন— ইস্তিগফার।সব জটিলতা কাটিয়ে জীবনকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করার জন্য এটি একটি মহৌষধ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন—তা হলো ‘ইস্তিগফার’ বা আল্লাহর কাছে মনেপ্রাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।ইস্তিগফার— এটি রিজিক ও রহমতের বন্ধ দুয়ার খোলার জাদুকরী চাবিকাঠি।ইস্তিগফার কেবল অতীতের গুনাহ ও ভুলত্রুটি মুছে ফেলার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবনে আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার এক জাদুকরী আমল। যখন মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে হাত বাড়ায়, তখন আসমানের রহমতের বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। কুরআন মজিদে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত নূহ (আ.)-এর মুখ দিয়ে উম্মতকে ইস্তিগফারের অপার মহিমা শিক্ষা দিয়েছেন—فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০-১২)এই আয়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ক্ষমা চাওয়ার এই সুবাসিত অভ্যাসের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ধন-সম্পদের বৃদ্ধি, সন্তানের মাধ্যমে সুখ লাভ এবং সার্বিক জীবনের অভাব দূর হওয়ার মূল রহস্য।সংকট মুক্তির আমল: যা বলছেন প্রিয়নবী (সা.)হতাশার সাগরে ডুবে থাকা মনকে সান্ত্বনা দিতে এবং কর্মজীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তার কঠিন সংকটগুলোকে সহজ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (অর্থাৎ ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে রাখবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি ও সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন, তার যাবতীয় চিন্তা-দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)আজ থেকেই শুরু হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যখনই মন খারাপ হবে, কাজের অভাব বা কোনো জটিলতায় হতাশ লাগবে— তখনই জিভে জপতে থাকুন—أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’অথবা পড়ুন সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, কিংবা মন থেকে নিজের ভাষায় আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন। হেঁটে-চলে, কাজের ফাঁকে, কিংবা নিরিবিলি রাতে দু'ফোটা চোখের জল ফেলে রবের কাছে নিজের মনের সব কষ্ট ও অভাবের কথা খুলে বলুন।জীবন আমাদের সবসময় আমাদের মনের মতো চলে না, মাঝেমধ্যে পথগুলো কেমন যেন আটকে যায়। কিন্তু সেই থমকে যাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং তা হতে পারে আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার এক সুন্দর উসিলা। তাই হতাশাকে বিদায় জানান, দুশ্চিন্তার পাহাড় সরিয়ে রেখে জিকিরে মুখরিত রাখুন আপনার দুটো ঠোঁট। প্রিয় রবের দরবারে হাত তুলে বলুন—‘হে আমার রব! আমি অনুতপ্ত, আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার রিজিক ও জীবনে বরকত দাও।’মনে রাখবেন, যে হাত আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা নিয়ে প্রসারিত হয়, দয়াময় আল্লাহ তাকে কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। কেননা তিনি বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। আপনার ইস্তিগফারই হোক আল্লাহর রহমত ও রিজিকে বরকত লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সব সংকট কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার  কার্যকরী হাতিয়ার।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

চট্টগ্রাম জামায়াতের পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

২

রংপুর-রাজশাহীর পর এবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

৩

প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন : জামায়াত আমির

৪

পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ তৈরি করব : প্রধানমন্ত্রী

৫

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার

৬

‘সুইটি এখনও জেলে আছে, ২ মাস পর বাড়ি ফিরবে’, আশা মায়ের

৭

পুলিশের এডিশনাল ডিআইজির বাসায় অভিযান, মাদকসহ আটক ৮৪

৮

একটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা করছে: প্রধানমন্ত্রী

৯

দিল্লিতে দশেরা উৎসবে মোদির উপস্থিতি ঘিরে ৩ স্তরের নিরাপত্তা

১০

ইশরাকের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো, কাজকে নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

সর্বশেষ সব খবর
১

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

২

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ

৩

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৪

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বার্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

৫

আজকের স্বর্ণের দাম: ৮ অক্টোবর ২০২৬

৬

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

৭

পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

৮

বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

৯

শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

১০

ব্যাংকে টাকা রেখে মাসিক মুনাফা গ্রহণ করে সংসার চালানো কি জায়েজ?

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

রংপুর-রাজশাহীর পর এবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

রংপুর-রাজশাহীর পর এবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে তিন নগরী সফরের অংশ হিসেবে রংপুর ও রাজশাহীর পর এবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।বন্দরনগরী পৌঁছে জেএম সেন হল ও রহমতগঞ্জের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে যাত্রাবিরতি শেষে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।এর আগে, মঙ্গলবার সকালে রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তারেক রহমান। পরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে রাজশাহী আসেন তিনি।

পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ তৈরি করব : প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ তৈরি করব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলছেন, রাজশাহীতে পদ্মা নদী আছে। আমরা দেখেছি কীভাবে পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত করেছি- বাংলাদেশের দুটি বড় নদীর একটি হচ্ছে তিস্তা, আরেকটি হচ্ছে রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারাজ তৈরি করব। যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি।  মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে তাদের সাথে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয় আমরা চেষ্টা করব। ততদূর যেতে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আমরা এই পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা ব্যারাজের কাজ শুরু করব এবং শেষও করব ইনশাআল্লাহ।তিনি বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি আখচাষি ভাইদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি। যাতে করে আগামী সিজনে আখ চাষিদের কিছুটা হলেও কষ্ট কম হয়। বিএনপি বিশ্বাস করে এই দেশের কৃষক বাঁচলে এই দেশের কৃষি বাঁচবে। বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হয়েছে। বিএনপির অনেকগুলোর পরিকল্পনা বা অনেকগুলো প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ছিল কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে সেই কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করবে। সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছিলাম। সমগ্র বাংলাদেশের ১৩ লাখ কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমরা মওকুফ করে দিয়েছিলাম সুদসহ।কৃষি কার্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষক ভাইদেরকে একটি কার্ড দিতে চাই- যেটির নাম হচ্ছে ফার্মারস কার্ড বা কৃষক কার্ড। এরই মধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষক, মাঝারি কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন কৃষক, বড় কৃষকের এই লিস্ট তৈরি করার কাজ  এগিয়ে চলেছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এটার কাজ শেষ হবে। তখন ধীরে ধীরে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে সেই কার্ডগুলো পৌঁছানোর চেষ্টা করব। এই বছর সমগ্র বাংলাদেশে আমরা ভূমিহীন প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক নারী-পুরুষ ৪০ লাখ কৃষক ভাইয়ের কাছে আমরা কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব।তিনি বলেন, এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কোনো কৃষক যদি বছরে দুইটি ফসল উৎপাদন করে, কোনো কৃষক যদি বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন করে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চেষ্টা করব অন্তত একটি ফসলের সার, বীজ, কীটনাশক যতটুকু সম্ভব পৌঁছে দেওয়া হবে। কিছুটা হলেও তার কষ্ট লাঘব হবে। শুধু তাই নয়, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আপনি যেরকম আপনার ক্ষেতের ফসলের বীমা করতে পারবেন। একইভাবে আপনি যদি ব্যাংক ঋণগ্রহণ করতে চান তাহলে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আপনি সহজেই সেই ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।তারেক রহমান বলেন, সমগ্র দেশে আমরা আবার খাল খনন এবং নদী সংস্কার বা নদী খনন কর্মসূচি শুরু করব। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছর আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল গত আট মাসে আমরা খনন কার্য সম্পন্ন করেছি। এই কাজ করার মাধ্যমে একদিকে যেরকম কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবে। সেচের সুবিধা পাবে। রাজশাহীর মানুষ জানে কিভাবে এখানকার ভূগর্ভস্থ পানি কত নিচে নেমে গিয়েছে। বহু মানুষের সেই জন্য পানির কষ্ট সেই পানিও ধীরে ধীরে আবার রিচার্জ হবে এখানে।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে ১৩০০ শয্যা রয়েছে। এটি ২৫০০ হবে।  বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলায় যে উপজেলা হাসপাতাল আছে এটির বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে ৫০ বেড। এবার যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপিকে বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত করেছে সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি প্রত্যেকটা উপজেলা হাসপাতাল ৫০ বেড থেকে আমরা ১৫০ বেডের হাসপাতালে তৈরি করব। যাতে করে গ্রামের মানুষ অল্পস্বল্প অসুখে কষ্ট করে দূরের সদর হাসপাতালে না যেতে হয়।একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে অনেক ব্যবসায়ী আছেন জনসভার মধ্যে। ছোটখাটো মাঝারি বড় অনেক ব্যবসায়ী আছেন। একটি নরমাল কথা- যদি আপনার একটি দোকান থাকে দোকানের সামনে যদি আপনার কোন রকমের সমস্যা হয়, কোনো রকমের হইচই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে যায় সেদিন কি আপনার বনি (ব্যবসা) ভালো হবে? বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে চেষ্টা করছে। দেশে নিরাপত্তা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার চাইছে বন্ধ মিল কারখানাগুলো চালু করতে। বিএনপি সরকার চাইছে কৃষকদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে। বিএনপি সরকার চাইছে শ্রমিক ভাইদেরকে দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশে হোক বিদেশে হোক কর্মসংস্থান তৈরি করার চেষ্টা করতে।তিনি বলেন, বিএনপি চাইছে বেকারত্বের যে অভিশাপ সেটি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে। কিন্তু আমরা দেখেছি কতগুলো মানুষ, একটি বিশেষ দল, কতগুলো দলকে সাথে নিয়ে তারা রাস্তায়-রাজপথের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা দেশি উদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে আনার চেষ্টা করছি, যে কীভাবে বন্ধ কল কারখানাগুলো চালু করা যায়। যাতে করে বাংলাদেশের বেকার শ্রমিকরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু এই সকল কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আমরা কতগুলো দল উঠে পড়ে লেগেছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

একটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা করছে: প্রধানমন্ত্রী

একটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন বিঘ্নিত করতে একটি বিশেষ দল কয়েকটি ছোট ছোট দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলা করছে।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা যখন বন্ধ কলকারখানা চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছি, মা বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছি, কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবছি তখন একটি দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।সরকার প্রধান বলেন, আমাদের নেওয়া এসব কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে যখনই তারা সুযোগ পেয়েছে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।দেশের উন্নয়ন ঠেকাতে ষড়যন্ত্র করেছে। তাদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার অনুরোধ রইলো।

রাজশাহীতে ৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীতে ৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) জনসভা থেকে আখচাষিদের প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে জনসভা থেকে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন সরকারপ্রধান। এ সময় ডিজিটাল বোতাম চেপে একযোগে এই প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এর আগে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান।জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে রংপুর যান প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুর যান তিনি। সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন এবং পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে দশেরা উৎসবে মোদির উপস্থিতি ঘিরে ৩ স্তরের নিরাপত্তা

দিল্লিতে দশেরা উৎসবে মোদির উপস্থিতি ঘিরে ৩ স্তরের নিরাপত্তা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে দশেরা উৎসবের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়, পূর্ব দিল্লির, আইপি এক্সটেনশনের উৎসব ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে রাবণের প্রতীকী মূর্তি পোড়ানোর ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেন তিনি। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক ঘুরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দিল্লি পুলিশের দুই কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থল এবং সেখানে যাতায়াতের পথগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষকরে, সম্ভাব্য হুমকি, বিক্ষোভ এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা বিবেচনায় রেখেই এ পরিকল্পনা করা হয়েছে।মূলত, এই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র আধাসামরিক বাহিনী এবং দিল্লি পুলিশের প্রায় আড়াই হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ বহরে থাকবেন বিশেষ অস্ত্র ও কৌশলগত অভিযানে প্রশিক্ষিত সোয়াট কমান্ডোরা। তারা দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অধীন সন্ত্রাসবিরোধী ও জিম্মি উদ্ধারকারী ইউনিটের সদস্য।এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তাঝুঁকি এবং অনুষ্ঠানস্থল কিংবা সেখানে যাওয়ার পথে ‘অসামাজিক ব্যক্তিদের’ মাধ্যমে বিক্ষোভ বা বিঘ্ন সৃষ্টির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সদস্য মোতায়েন ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তাব্যবস্থার সবচেয়ে ভেতরের স্তরের দায়িত্বে থাকবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্য ও কমান্ডোরা থাকবেন দ্বিতীয় স্তরে।নিরাপত্তাব্যবস্থার তৃতীয় বা বাইরের স্তরের দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় পুলিশ। এভাবে তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে দশেরা উদ্‌যাপনকে ঘিরে সম্ভাব্য যানজট এড়াতে আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বিকল্প পথে যানবাহন পরিচালনার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

১০ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার

রাজশাহীতে একটি পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে লাশটি পুকুরের পানিতে ভেসে ওঠে।পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। পুকুরটি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত।পুলিশের ধারণা, দুই থেকে তিন দিন আগে গোসল করতে পুকুরে নেমে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা গেছেন।রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তার পরনে হাফ প্যান্ট ছিল। পরনে শার্ট ছিল না। সকাল ৯টার দিকে অর্ধগলিত অবস্থায় লাশটি ভেসে ওঠে।তিনি জানান, লাশটি দেখার পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। লাশের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের শরীরে পচন ধরেছিল।গাজিউর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখনো তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্ত করার জন্য চেষ্টা চলছে বলেও জানান আরএমপির কর্মকর্তা।

৯ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

চট্টগ্রাম জামায়াতের পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম জামায়াতের পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিতমানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি সবসময় অন্তরে ধারণ করতে হবেমাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, “আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ায় কাউকে ভয় করা যাবে না। জীবনের প্রতিটি কাজ আখিরাতে জবাবদিহির অনুভূতি নিয়ে পরিচালনা করতে হবে। দুনিয়াতে বিশ্রাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বিশ্রাম হবে পরকালে।”তিনি বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। মাদকের কারণে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। আমরা মাদকমুক্ত সমাজ চাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকার এখনো মাদক নির্মূলে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। মাদকের বিস্তার রোধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে।২০ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আয়োজিত দিনব্যাপী পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলা উদ্দীন সিকদারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য জনাব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ আমীরুজ্জামান এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা জামায়াতের আমীর এস এন আবদুচ ছালাম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এমপি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে—এই অনুভূতি সব সময় অন্তরে ধারণ করতে হবে।তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো অন্যায়, অনিয়ম কিংবা অসত্যের কাছে মাথা নত করা যাবে না। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে হবে। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীলতার অর্থ শুধু কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকা নয়; বরং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি এবং সমাজের অসংগতি দূর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন, আচার-আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে মানুষের সামনে উত্তম আদর্শ উপস্থাপন করতে হবে।মাদক সমস্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে জামায়াতের আমীর বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকেও বিপর্যস্ত করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্মিলিতভাবে মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি একটি নৈতিকতাভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীল ও কর্মীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং সাংগঠনিক যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়ে এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়।তিনি দায়িত্বশীলদের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।শিক্ষা শিবিরে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, বায়তুলমাল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. আবদুল হামিদ চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নুরুন্নবী, জনাব রফিকুল ইসলাম, মাস্টার নুরুছ ছালাম, ইউসুফ বিন আবু বক্কর, ইঞ্জিনিয়ার বোরহান উদ্দিন, জসিম উদ্দিন আজাদ, মাওলানা মুহিউদ্দীন, মাওলানা বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন : জামায়াত আমির

প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন : জামায়াত আমির

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। পরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।’মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।চট্টগ্রামে জামায়াতের প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলনএর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নগরের খুলশী থানার জিইসি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলন-২০২৬ শুরু হয়। সম্মেলন চলে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনসহ আনুমানিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সাথী-সদস্যদের আমৃত্যু সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।গত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান জামায়াত আমির। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।জান্নাতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ নাকচ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেন।সম্মেলন শেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে নগরের চকবাজার এলাকার হোটেল পেনিনসুলায় যান জামায়াত আমির। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে চাকসু নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে তার চট্টগ্রাম ছাড়ার কথা রয়েছে।

ইশরাকের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো, কাজকে নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদক সমাজকে শেষ করে ফেলতেছে। ইশরাক হোসেনের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো, এতটুকু। তার কাজকে নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশন হলে দলের মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলনে অংশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।জামায়াত আমির বলেন, জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করা ঠিক নয়। ইশরাকের উদ্দেশ্য ভালো হলেও, অন্যরা এর অপব্যবহার করতে পারে। তবে তার কাজের সমালোচনা করার কিছু নেই।মাদক নিয়ে জামায়াত আমিরের বার্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মাদক তো আমরা নির্মূল চাই। আমাদের সংসদে আইন পাস হয়েছে ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ’। আমরা তো নিয়ন্ত্রণ চাই না, আমরা নির্মূল চাই।জামায়াত আমির বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ মানুষ। অথচ সেটা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ না নিয়ে সরকার বিরোধী দলকে ঘায়েল করতে ব্যস্ত।

ইশরাকের হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো, কাজকে নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার

পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিন শীর্ষ নেতাকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুর রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ইকবাল রোডে প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতাররা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন এবং ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু।মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের বরাতে ওসি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া থেকে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন এ তিন নেতা। এ সময় তারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মোবাইলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি ঢাকায় অবস্থান করে নিজ নিজ এলাকায় দলীয় কার্যক্রম জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।ওসি আসাদুর রহমান আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আত্মগোপনে ছিলেন। অন্যদিকে, মকলেছুর রহমান মিন্টু ও শহিদুল ইসলাম রতন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই পলাতক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার

নাহিদের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন ইশরাক

অস্ত্র নিয়ে মাদক প্রতিরোধ করতে গিয়ে বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। পদত্যাগের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ফেসবুকে ইশরাক লিখেছেন, ‘জনাব নাহিদ ইসলামকে একটু হলেও নতুন বন্দোবস্তের ধারক ভাবতাম। আমার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মাদকের মহামারি ও এর প্রতিকার সম্পর্কে শূন্য শতাংশ কথা বলে ১০০ শতাংশ আমার ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিলেন তিনি। তাহলে নাকি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে ইত্যাদি। আগে মাদকের ইস্যুটা অ্যাড্রেস করলে ভালো হতো না? এরপর আমারে ফাঁসিতে ঝুলাইতি। দুঃখিত জেন-জি, কোনো নতুন বন্দোবস্ত এদের মাধ্যমে পাচ্ছেন না।’নাম না জানিয়ে একজনের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, ‘নাম বললাম না। তবে আরেকটি ছেলে যার থেকে মানসিক সমস্যা ছাড়া কিছুই আশা করিনি। কোথা থেকে নম্বর নিয়ে ফোন করে বলল ভাই এরপর গেলে আমাকে নিয়েন। এই মাদক আমাদের ধ্বংস করে যাচ্ছে। আসলে এই পার্টির ভবিষ্যৎ শূন্য। মাদক নির্মূল করতে গিয়ে ফৌজদারি মামলা খেয়ে আসতে হবে, তাও বৈধ উপায়ে, আইন প্রণেতা হয়ে, পুলিশ সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর।’নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য তিনি আরও লেখেন, ‘নাহিদকে বলবো কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ বের করে একটা মামলা করে দেন আমার নামে। আমি নিজে গিয়ে সারেন্ডার করে জেলে চলে যাব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বলে কথা। এভাবে ঘোড়ার ডিম রাজনীতি এরা করে যাবে। কিছুই পরিবর্তন করবে পারবে না।’মাদক নির্মূলের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার। বিক্রেতারা অপেক্ষা কর।’এর আগে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন কেন পদত্যাগ করলেন, তার ব্যাখ্যা সরকারকে দিতে হবে।নাহিদের ভাষ্য, ‘ইশরাক হোসেনের অপরাধ কী, তাও পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কারও অপরাধ থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি; সেখানে পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়।’

নাহিদের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন ইশরাক

সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে ইশরাকদের: হাসনাত

এবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণা করার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে জনাব ইশরাক হোসেনদের।সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেয়া স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি।হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন,‘একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও কেন জনাব ইশরাক হোসেনকে নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো, সরকারের কাছে এই প্রশ্নের জবাব চাওয়া জরুরি।’তিনি লেখেন, ‘এর পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যেসব প্রতিষ্ঠানের, তারা যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করত, তাহলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন সরাসরি এভাবে মাঠে নামতে হবে? এই পরিস্থিতির দায় কি শুধু ইশরাক হোসেনের, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতারও দায় রয়েছে? যদি মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও বর্তায়।’তিনি আরও লেখেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়াই যদি সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে? রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর থাকলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হবে? একই ধরনের প্রশ্ন দেখা যায় যখন প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে টয়লেট পরিদর্শন করতে হয়। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি এসব বিষয় পরিদর্শনে যেতে হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এটি কেবল একটি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়; বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, তারও প্রশ্ন।’এনসিপির এই নেতা লেখেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি প্রধানমন্ত্রীকে নিজে তদারকি করতে হয়, প্রতিমন্ত্রীকে নিজে রাস্তায় নেমে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি এভাবেই পরিচালিত হতে থাকে এবং একসময় জনগণই যদি পরিস্থিতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে, তখন সরকার কী করবে? তখন কাকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবে? ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সংকট সামাল দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান হয় না।’তিনি লেখেন,‘রাষ্ট্রকে কার্যকর করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে, ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায়, একজনকে সরিয়ে দিয়ে সমস্যার মূল জায়গাটি আড়াল করা ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হবে না ।’পরিশেষে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘দিনশেষে ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে জনাব ইশরাক হোসেনদের।’

সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে ইশরাকদের: হাসনাত
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগ বাতিল

সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগ বাতিল

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংক সোনালী, জনতা ও রূপালীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। তারা হলেন- সোনালী ব্যাংকের মো. শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংকের মো. মজিবর রহমান এবং রূপালী ব্যাংকের কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জনতা ও রূপালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে সরকারের সম্মতির বিষয়টি জানানো হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে চুক্তির শর্ত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।মো. শওকত আলী খান ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দেন। তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।অন্যদিকে, কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম তিন বছরের চুক্তিতে রূপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। মো. মজিবর রহমান জনতা ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।তিন ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের পর এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।