রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।বুধবার (৪ নভেম্বর) এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং চীন-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানান।রাষ্ট্রপতি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।কুনমিং ও চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করার প্রস্তাবিত করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান তিনি।
অনলাইন জরিপ
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াত আমির বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে আন্দোলন করছেন। ইতোমধ্যে এ আন্দোলনের কারণে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।তিনি বলেন, পোশাকশিল্প দেশের প্রধান রফতানি খাত। এ খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার এ পর্যন্ত এই পদক্ষেপটি নিয়ে উঠতে পারেননি।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এটাও ঠিক যে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে যত বিলম্ব হবে, ক্ষতির পরিমাণ তত বাড়বে।তিনি বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগ সন্ধানে অনেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগের সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করে। এই ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে।এসময়, গাজীপুরের শ্রমিক হত্যার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি বিরোধীদলীয় নেতা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিবৃতি দেওয়ায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সমালোচনা করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।টিআইবির বিবৃতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত’ মন্তব্য করে তিনি এর নিন্দা জানিয়েছেন বলে সোমবার রাতে জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে।বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে স্পষ্ট। তারপরও দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে টিআইবির মিথ্যা বর্ণনামূলক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানো অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুরভিসন্ধিমূলক।‘ঘটনার সঙ্গে ন্যূনতম সম্পৃক্ততা না থাকলেও জামায়াতকে জড়িয়ে এই ধরনের বিবৃতি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে গত রোববার রাতে ছাত্রদলের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে টিআইবি বিকালে বিবৃতি দিয়েছে।বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কর্তৃত্বের সহিংস লড়াই বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গ সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মূল রাজনৈতিক দায় কি ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এড়িয়ে যেতে পারে? তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে লোকদেখানো দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’টিআইবির বিবৃতি সম্পর্কে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সাংবাদিকদের পেশাদার যে কোনো কাজকে নির্বিঘ্নে সম্পাদনের পরিবেশ প্রত্যাশা করে। একইসঙ্গে কোনো গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী কর্তৃক তা বাধাগ্রস্ত হোক, কিংবা সত্য প্রকাশে বাধা অথবা হুমকির সম্মুখীন হবে- তা সমর্থন করে না, বরং প্রতিবাদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।’‘সুতরাং জামায়াতকে নিয়ে টিআইবির মনগড়া তথ্যনির্ভর বিবৃতি দেওয়া থেকে ভবিষ্যতে বিরত থাকা এবং সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক সম্মেলন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের (আইক্যাপ) ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই অধিবেশন।প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন— এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন।এবারের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন ৩৯টি দেশের ৯২টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল—ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কোরিয়া এবং পিপল পাওয়ার পার্টি সম্মেলনটির সহ-আয়োজক। সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, গণতন্ত্র, সুশাসন ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।উল্লেখ্য, আইক্যাপ ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা জোরদার করাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা সরকার ও বিরোধী দলে অবস্থানের পার্থক্য নির্বিশেষে দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে আসছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাহফুজ হাসান। আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খানের সই করা এক আদেশে নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা আদেশের তারিখ থেকেই কমিটির কার্যক্রম কার্যকর হবে।আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্যে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় আগের অ্যাডহক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীসহ ২১ ধারা এবং ২(৪) ও ২(৮) ধারায় পরিষদের চেয়ারম্যানের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে একই আইনের ১৪(৩) ধারা অনুসরণে।নতুন কমিটির সহসভাপতি হয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক মো. মনিরুল ইসলাম, মল্লিক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম, ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ তারিকুল আলম, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়া সংগঠক মো. শহীদুল ইসলাম এবং ক্রীড়া সংগঠক শাহেদ ওয়াহেদ আলী।সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ হাসান জাতীয় স্যান্ডো ও কোরাস প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়, বিচারক ও সংগঠক। যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন ক্রীড়া সংগঠক মো. শাহাদাত হোসেন খান ও সাঈদ মো. আলভী। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন আরবিএফসি ফাইট প্রমোশনের চেয়ারম্যান ও চ্যাম্পিয়ন এজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুল্লাহ পারভেজ।কমিটির সদস্যরা হলেন অ্যাডভোকেট মো. তাইফুর রহমান (সুমন), মো. বাবুল আহমেদ রুবেল, মো. মহিউদ্দিন, তাসলিমা চৌধুরী রিতা, পারভীন আক্তার, আমিরুল ইসলাম, হাসনা হেনা হ্যাপি, মো. আরিফ হোসেন, মো. সেলিম মাহমুদ, মো. নাজমুস সাকিব, নাদিম মাহমুদ, মঞ্জুর হোসেন বাদল, জুয়েল রক্ষিত, মো. খাইরুল হাসান, মো. আছরার আহমেদ, আরমানুল করিম আবীর, হোসেন অংকুর আন্দালিব ও মো. পলাশ।জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আদেশ অনুযায়ী, নতুন অ্যাডহক কমিটিকে আদেশ জারির পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন যৌক্তিক। সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই আন্দোলনের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সরকার পার পেতে পারে না। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পাবনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাবনা জেলা শাখার আয়োজনে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে যদি ফ্যাসিস্টরা অনুপ্রবেশ করে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে, তার দায়ও সরকারকেই নিতে হবে। কারণ, এটি সরকারের গোয়েন্দা তৎপরতার ব্যর্থতা। সরকার বিরোধী দল দমনে গোয়েন্দা সংস্থার শক্তি ব্যবহার করছে। অথচ যারা দেশের শত্রু, যারা জনগণকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে রয়েছে, তাদের বিষয়ে সরকারপ্রধানকে এখন পর্যন্ত কোনো গোয়েন্দা তথ্য জাতির সামনে প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ৫০০টি আন্দোলন মোকাবিলা করেছে। জনগণের আস্থা থাকলেই কেবল আন্দোলন থামবে। কিন্তু এই সরকারের ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই। কারণ, সরকার ৭০ শতাংশ জনগণের রায়ের সঙ্গে বেইমানি করেছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলোও সরকার ভঙ্গ করেছে।এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গতকাল আবারও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে খোলা বাজারে ১ হাজার ৮০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে রাজপথে নামতে হবে। রাজপথেই এই সরকারকে জবাব দিতে হবে।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবারও (৩ নভেম্বর) বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে। সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।এদিন সকাল ৯টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল শ্রমিক। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ছাড়া চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, কোনাবাড়ী, ভোগড়া ও সফিপুর এলাকাতেও শ্রমিকদের বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।একপর্যায়ে কোনাবাড়ী বিসিক এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে মহাসড়কে মহড়া দেন। এ সময় শ্রমিকদের একটি অংশ লাঠি হাতে তাদের সঙ্গে অবস্থান নেয়। তবে মহাসড়কের আশপাশে ও উড়ালসেতুর নিচে তাদের উপস্থিতি থাকলেও যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। দুপুর আড়াইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নতুন করে কোনো সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। তবে শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এসব কারখানার অধিকাংশ শ্রমিক নিরাপদে বাড়ি ফিরে যান।আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তবে তারা ভাঙচুর বা সহিংসতা চান না। আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান চান বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, শ্রমিক নামধারী দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা ঠেকাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ধরনের অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ, এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠে রয়েছে ১০ প্লাটুন বিজিবি এবং জেলা প্রশাসনের ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে যান। এ সময় কয়েকটি এলাকার শ্রমিকরা নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন স্থানে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে।গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া বহিরাগতদের আশ্রয় না দিতে বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকদের প্রতি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।