বাঙালির বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

রিজিক আটকে গেছে, টেনশন পিছু ছাড়ছে না? কী করবেন

জীবনে হঠাৎ চারপাশ থেকে অন্ধকার নেমে এসেছে? রিজিকের পথটা যেন থমকে গেছে, দুশ্চিন্তার ভারে ঘুম হারাম, কিংবা শত চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো কাজের সন্ধান পাচ্ছেন না? অনেক খেটেখাটুনি করেও সংসারের টানাটানি ঘুচছে না, কাজে মিলছে না কোনো বরকত? এমন জটিল মুহূর্তে কী করবেন?এমন একলা ও একাকী মুহূর্তে হতাশা আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। মনে হয়, বুঝি সব পথ বন্ধ হয়ে গেল! কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের জন্য কখনোই সব পথ বন্ধ হয় না। অন্ধকার রাতের পরেই যেমন ভোরের আলোর ঝলকানি দেখা যায়, ঠিক তেমনি প্রতিটি কষ্টের পরপরই রয়েছে স্বস্তির বার্তা। জীবন যখন আপনাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে, তখন ভেঙে না পড়ে ফিরে আসুন আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে। মনের গভীর থেকে করুন— ইস্তিগফার।সব জটিলতা কাটিয়ে জীবনকে শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী করার জন্য এটি একটি মহৌষধ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন—তা হলো ‘ইস্তিগফার’ বা আল্লাহর কাছে মনেপ্রাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।ইস্তিগফার— এটি রিজিক ও রহমতের বন্ধ দুয়ার খোলার জাদুকরী চাবিকাঠি।ইস্তিগফার কেবল অতীতের গুনাহ ও ভুলত্রুটি মুছে ফেলার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের জীবনে আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার এক জাদুকরী আমল। যখন মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে হাত বাড়ায়, তখন আসমানের রহমতের বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। কুরআন মজিদে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত নূহ (আ.)-এর মুখ দিয়ে উম্মতকে ইস্তিগফারের অপার মহিমা শিক্ষা দিয়েছেন—فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন উদ্যান আর প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।’ (সুরা নূহ: আয়াত ১০-১২)এই আয়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ক্ষমা চাওয়ার এই সুবাসিত অভ্যাসের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ধন-সম্পদের বৃদ্ধি, সন্তানের মাধ্যমে সুখ লাভ এবং সার্বিক জীবনের অভাব দূর হওয়ার মূল রহস্য।সংকট মুক্তির আমল: যা বলছেন প্রিয়নবী (সা.)হতাশার সাগরে ডুবে থাকা মনকে সান্ত্বনা দিতে এবং কর্মজীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তার কঠিন সংকটগুলোকে সহজ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (অর্থাৎ ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে রাখবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি ও সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন, তার যাবতীয় চিন্তা-দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)আজ থেকেই শুরু হোক আপনার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। যখনই মন খারাপ হবে, কাজের অভাব বা কোনো জটিলতায় হতাশ লাগবে— তখনই জিভে জপতে থাকুন—أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’অথবা পড়ুন সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, কিংবা মন থেকে নিজের ভাষায় আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন। হেঁটে-চলে, কাজের ফাঁকে, কিংবা নিরিবিলি রাতে দু'ফোটা চোখের জল ফেলে রবের কাছে নিজের মনের সব কষ্ট ও অভাবের কথা খুলে বলুন।জীবন আমাদের সবসময় আমাদের মনের মতো চলে না, মাঝেমধ্যে পথগুলো কেমন যেন আটকে যায়। কিন্তু সেই থমকে যাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং তা হতে পারে আল্লাহর আরও কাছে যাওয়ার এক সুন্দর উসিলা। তাই হতাশাকে বিদায় জানান, দুশ্চিন্তার পাহাড় সরিয়ে রেখে জিকিরে মুখরিত রাখুন আপনার দুটো ঠোঁট। প্রিয় রবের দরবারে হাত তুলে বলুন—‘হে আমার রব! আমি অনুতপ্ত, আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার রিজিক ও জীবনে বরকত দাও।’মনে রাখবেন, যে হাত আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা নিয়ে প্রসারিত হয়, দয়াময় আল্লাহ তাকে কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। কেননা তিনি বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। আপনার ইস্তিগফারই হোক আল্লাহর রহমত ও রিজিকে বরকত লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সব সংকট কাটিয়ে আলোর মুখ দেখার  কার্যকরী হাতিয়ার।

‘কাজ শেষ না করে আমরা কোথাও যাচ্ছি না’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করে কোথাও যাচ্ছি না। শনিবার একনেক বৈঠকের পর হওয়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তিনি চলে যাবেন বলেননি। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, আমরা যে কাজ করছি, আমাদের সামনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সব বাধা অতিক্রম করব।অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। আমরা এ দায়িত্ব ছেড়ে যেতে পারি না।পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে কী কী বাধা আসছে, কে কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষের সমর্থন চেয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব শক্তি এবং সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার আহ্বান জানাব। এটা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়।ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টারা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসেননি। তবে তাদের একটি জাতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তারা তা ছেড়ে যাবেন না।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি উপদেষ্টা।

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা  : এলডিসি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত অধ্যাপক লুৎফে সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের অভাব এবং প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে কর বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে পরোক্ষ কর ও আমদানি করের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি। রপ্তানি খাতও শুধু তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ। তাও আবার পোশাকের প্রবৃদ্ধি নগদ প্রণোদনা ও কর ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন রপ্তানি পণ্য ও নতুন বাজার খোঁজা উচিত।প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে যে গতিতে বর্তমানে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। সত্যিকার অর্থে শিল্প খাতসহ অন্য সেক্টরে কোনো দীর্ঘমেয়াদে রোডম্যাপ নেই, যা হতাশার বিষয়। এলডিসি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণ করতেই হবে। এখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের উচ্চমানের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ওপর বেশি হারে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস) কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ (ইন্টারন্যাশাল কো-অপারেশন ডিভিশন) মসিউল ইসলাম, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন এবং ফকির ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ প্রমুখ।

অনিয়মে জর্জরিত ‘ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স’, ঝুঁকিতে ব্যান্ডউইথ নিরাপত্তা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একে একে আইআইজি, আইটিসি, আইজিডব্লিউসহ ইন্টারনেট-টেলিকম খাতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স দখলে নেয় আওয়ামী সুবিধাভোগী এ প্রতিষ্ঠান। এসব লাইসেন্স অর্জনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি), দেশের অভ্যন্তরের আইটিসি প্রতিষ্ঠান এবং এয়ারটেল ও টাটার মতো শীর্ষ ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ওয়ান এশিয়ার মোট বকেয়ার পরিমাণ ২৩ কোটি টাকারও বেশি। বিটিআরসির কাছেই এর বকেয়া প্রায় ৪ কোটি টাকা। বিএসসিসিএল-এর কাছে রয়েছে আরও ১ কোটি টাকার বেশি। অপরদিকে টেলিকম জায়ান্ট এয়ারটেল তাদের ১৩ কোটি টাকার এবং টাটা ৫ কোটি টাকার বকেয়া দাবি করছে। এদিকে বকেয়া আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে না পেয়ে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স-এর বিরুদ্ধে বিএসসিপিএলসি ঢাকা জেলা জজ আদালতে ‘আরবিট্রেশন মামলা’ দায়ের করে। এর রায়ে তারা জয়ী হয়। সেই রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অ্যাওয়ার্ড এক্সিকিউশন মামলা’ করে, যা এখনো চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যেন লাইসেন্স বাতিল না হয় এবং তাদের ব্যবসা চালু রাখা যায়। ইতোমধ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এনওসিও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির একটি সূত্র।ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স একসময় আইআইজি, আইটিসি ও আইজিডব্লিউ লাইসেন্স নিয়ে টেলিকম বাজারে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মালিকানাধীন বেঙ্গল ব্রডব্যান্ড ২০১৬ সালে ডিভিশনাল আইএসপি লাইসেন্স পেলেও নবায়ন না করেই বর্তমানে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর মালিকানাধীন প্রিজমা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের রয়েছে ন্যাশন ওয়াইড আইএসপি লাইসেন্স।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার মোবালইল ফোনে কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ওয়ান এশিয়া অ্যালায়ন্সের মূল প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফারিয়া খায়েরের সঙ্গে। তবে তিনি সাড়া দেননি। পরে পুনরায় চেষ্টা করলে দেখা যায়, তিনি প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দিয়েছেন।বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্সকে মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এনওসি প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আইএসপি সেক্টরের সেবাদান নির্ভর করে আইআইজি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারীদের ওপর। কেউ যদি কোটি টাকা বকেয়া রেখে অনিয়ম করে, তা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য হুমকি। তবে নেপথ্যে যদি নীতিগত বা কাঠামোগত কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বকেয়া বা নীতিগত ব্যত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন তাগাদা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি পাওনা পরিশোধ করেনি, চিঠির জবাবও দেয়নি। এখন তাদের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করুক, গ্রাহকদের সেবা দিক। কিন্তু সরকারের পাওনা পরিশোধ না করে কেউ যদি অনিয়মে জড়ায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

অধ্যাদেশ বিলুপ্তির দাবিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে

ন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনবিআরের অধীনস্থ সারা দেশের অন্য সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ভ্যাট ও কর অফিসেও সেবা বন্ধ ছিল। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাযক্রম চলমান ছিল। শনিবার এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও থিংকট্যাংকসহ সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এনবিআর তথা রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত সর্বোত্তম ব্যবস্থা ও পদ্ধতির অনুরূপ। দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন দর্শন এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। এছাড়া রাজস্ব প্রশাসন অধিকতর কার্যকর, প্রগতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে এবং এ সংস্কার বিশেষ কারও স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হবে না। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বার্থে আমাদের এমন যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকার কেন, কী কারণে এবং কাদের প্ররোচনায় বিলম্ব করছে, তা বোধগম্য নয়।    এতে আরও বলা হয়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে রোববারও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে হস্তক্ষেপ করবে, সেখানে তারা প্রেস ব্রিফিং করবেন।ভিন্নমত যাদের: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘দাবি আদায়ের নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এখন যা হচ্ছে তা রীতিমতো সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজ, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি এসব কর্মকাণ্ড পারমিট করে না।’ তারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্ত করে যে গেজেট করা হয়েছে সেখানে প্রত্যাশার অনেক কিছু চলে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা পরবর্তী সংশোধনী ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে সংযোজন করা সম্ভব। এজন্য এভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজন ছিল না। বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে গেলে ভালো হতো। 

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
১

২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন

২

ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে : চসিক প্রশাসক

৩

১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

৪

স্বজনহীন তরুণের বিয়েতে অচেনাদের ঢল, গাড়ি বহরের সঙ্গে এল বিশাল বরযাত্রী

৫

ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৬

ষড়যন্ত্রকারী-ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে

৭

মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার

৮

স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন কারা, জানালেন রিজভী

৯

চায়ের আড্ডায় জীবনসঙ্গীর খোঁজ, রাজধানীতে ভিন্ন আয়োজন

১০

স্পিকারের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

সর্বশেষ সব খবর
১

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

২

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

৩

পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

৪

আজকের স্বর্ণের দাম: ৮ অক্টোবর ২০২৬

৫

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ

৬

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বার্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

৭

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

৮

শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৯

বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

১০

মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর

জনপ্রিয় সব খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!

জাতীয়

ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’এসময় রাজধানীসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবন শনাক্ত, ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার

মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ এর উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এলিজা জামানের শপথগ্রহণ আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)।জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুর ১২ টায় জাতীয় সংসদ ভবনস্থ স্পিকারের কার্যালয়ে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত এই দুই সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।‎‎শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, হুইপরাসহ সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। শপথ গ্রহণ শেষে নিয়ম অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদ্বয় শপথ বইয়ে সই করবেন এবং তাদের আনুষ্ঠানিক সংসদীয় কার্যক্রম শুরু হবে।‎‎উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭টি ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪।‎‎অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে এলিজা জামান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পরদিন সোমবার এলিজা জামানকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন কারা, জানালেন রিজভী

স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন কারা, জানালেন রিজভী

স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যার জয়ের সম্ভাবনা বেশি তাকে প্রার্থী করা করা হবে। এক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যাতা বিবেচনা করা হবে।সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।রিজভী বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন কার্যক্রম আরো জোরদার হবে। ভোটগ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ঘোষণার পর দলীয় কার্যক্রমও সেই অনুযায়ী এগোবে।চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পেছনে দেশ ও দেশের বাইরের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।তিনি বলেন, দেশের পরাজিত শক্তি প্রতিবেশী দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিচ্ছে। দেশের ভেতরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে।তিনি বলেন, শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে পরাজিত শক্তি। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণও পাওয়া গেছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পোস্ট দিয়েছেন।জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৮ মাসের মধ্যে আবার বিপ্লবের কথা কেন বলা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।তিনি বলেন, যে বিষয়ে সংসদে বসে কথা বলে সমাধান করা যায়, সেটা না করে লংমার্চ করে দেশের মানুষকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছে। এ আন্দোলনে দলটির নেতাকর্মীরা রক্ত দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে মিশে গোপনে কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এজন্য তাদেরকে গুপ্ত সংগঠন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশেনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরী প্রমুখ।

 আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক

স্বজনহীন তরুণের বিয়েতে অচেনাদের ঢল, গাড়ি বহরের সঙ্গে এল বিশাল বরযাত্রী

স্বজনহীন তরুণের বিয়েতে অচেনাদের ঢল, গাড়ি বহরের সঙ্গে এল বিশাল বরযাত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অচেনা মানুষদের নিজ বিয়েতে আমন্ত্রণ জানিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়াকে আবেগে ভাসিয়ে দিয়েছেন এক চীনা তরুণ। ভিডিও বার্তায় নিজের জীবনের করুণ গল্প শেয়ার করে তিনি বলেছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার বাবা মারা যান। পরবর্তীতে মা অন্যত্র বিয়ে করলে বড় ভাই ও তিনি একে অপরের হাত ধরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে বড় হতে থাকেন।জীবনসংগ্রামের হাজারো বাধা পেরিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভালোবাসার মানুষকে ঘরে তোলার মতো অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন ওই তরুণ। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়; বিয়েতে উপস্থিত থাকার মতো নিকটাত্মীয় প্রায় কেউই ছিলেন না তাদের। স্বজনহীন এই বিয়েটা একেবারে খালি ও নিরুত্তাপ হয়ে পড়বে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক চিন্তায় পড়ে যান তিনি।ভিডিওতে বলা হয়, ‘‘ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার জন্য কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়েতে দাওয়াত দেওয়ার মতো আত্মীয়স্বজন না থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছেই সাহায্যের হাত বাড়ান এবং বিয়ের আমন্ত্রণ জানান।’’অনলাইন দুনিয়ায় সেই আহ্বানে তিনি পান অভাবনীয় ও উষ্ণ সাড়া। কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে লিখতে শুরু করেন, ‘‘ভাই, চিন্তার কিছু নেই! আমরা আসছি!!’’তবে চমকে যাওয়ার মতো বিষয় হলো, মানুষজন কেবল বিনা খরচে বিয়ের দাওয়াত খেতে আসেননি; বরং বর-কনের জন্য উপহার এবং রান্নার প্রয়োজনীয় নানা সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয়ে যান। এমনকি বহু পেশাদার রাঁধুনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিয়ের খাবার তৈরি করে দিতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।আমন্ত্রিতদের মধ্যে কেউ কেউ বিয়ের বরযাত্রীর জন্য পুরো একটি গাড়ি বহরের ব্যবস্থা করে দেন। আবার এক ব্যক্তি বর-কনের জন্য নিয়ে আসেন অতি বিলাসবহুল ‘মাইবাখ’ গাড়ি। অনেকে নিজ হাতে মোমবাতি এনে সাজিয়ে তোলেন বর-কনের বাড়ি। একদিকে তরুণের নিখাদ আন্তরিকতা, আর অন্যদিকে শত শত অচেনা মানুষের ভালোবাসা; সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক স্মরণীয় ও অবিস্মরণীয় বিয়ের মুহূর্ত।হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনায় যা বলছেন নেটিজেনরাসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ইউ স্যাফিরে ক্রিস্টাল নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ৩ হাজারেরও বেশি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় পোস্টটি।তরুণের এই আবেগঘন গল্প ছুঁয়ে গেছে লাখো মানুষের হৃদয়। অনেকে মন্তব্য করে লিখেছেন, শত শত অচেনা মানুষকে তার এই বিশেষ দিনটিতে পাশে দাঁড়িয়ে আনন্দ করতে দেখে বরের অনুভূতি নিশ্চিতভাবেই ভাষায় প্রকাশের মতো ছিল না।রেডিটের একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ঠিক ১৫ মিনিট আগে তিনি বিয়ের ছোট একটি ভিডিও দেখেছেন। তিনি বলেন, দৃশ্যটি দেখে তার চোখ ভিজে উঠেছিল।আরেক ব্যবহারকারী বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, এত মানুষের উপস্থিতি দেখে তরুণ বরের প্রতিক্রিয়া ঠিক কেমন ছিল? তিনি কি আদৌ এমন কিছু কল্পনা করতে পেরেছিলেন?তৃতীয় এক ব্যবহারকারী প্রত্যাশা জানিয়ে লেখেন, ঠিক যেভাবে বিয়ের দিনে গ্রামবাসী ও সাধারণ মানুষ এই দম্পতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, আগামীতে তাদের প্রতিটা বিবাহবার্ষিকীতেও যেন এই ভালোবাসার ধারা অব্যাহত থাকে।

৬ ঘণ্টা আগে
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

 সারাদেশ সারাদেশ

ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে : চসিক প্রশাসক

ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে : চসিক প্রশাসক

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা টেরীবাজারের ব্যবসায়ীদের সার্বিক উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে টেরীবাজার থেকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে একটি বক্স সিঁড়ি নির্মাণের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।সোমবার ( ২ নভেম্বর) টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাংগঠনিক সপ্তাহ-২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক সপ্তাহ উদযাপন করা হয়। টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল মনসুর।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে টেরীবাজারের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এ এলাকার উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল মান্নান বলেন, টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতি শুধু ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখছে । ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, পৃষ্ঠপোষক হাজী রফিকুল আলম, সিনিয়র সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি মো. আলমগীর, ফরিদুল ইসলাম ও গোলাম নবী, যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, সহসাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন ও এসএসএস বাহাদুর, অর্থ সম্পাদক ইমরানুল হক সাইয়েদসহ সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা।এর আগে টেরীবাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

৬ ঘণ্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

ষড়যন্ত্রকারী-ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে

ষড়যন্ত্রকারী-ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে

ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে; এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন। পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে।তিনি বলেন, কোনো মালিক কিংবা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিকই এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না।জামায়াত আমির আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা ধ্বংস করার জন্য গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকসহ সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির নতুন উইংয়ের আত্মপ্রকাশ আজ

এনসিপির নতুন উইংয়ের আত্মপ্রকাশ আজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন ক্রীড়া সংগঠন ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হবে।দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে কাজ করবে নতুন এই সংগঠন।অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও অর্থ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম।এনসিপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন সংগঠনে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদেরও যুক্ত করা হচ্ছে। শুরুতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।এম নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এনসিপির ক্রীড়া উইংয়ের হয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। যেখানে ফাহিম ভাই আহ্বায়ক ও আমি সদস্য সচিব আছি। এছাড়া সাবেক খেলোয়াড় ও অন্য সংগঠকদের রাখা হচ্ছে। ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়বে।’সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলব। পরামর্শ দেব। শুধু ক্রিকেট নয়, সারা দেশের সব খেলা নিয়ে আমাদের কাজ হবে। ভুলত্রুটি থাকলে বলব। যারা দায়িত্বে থাকবেন, তাদের সঙ্গে প্রয়োজনে সংলাপে বসব।’ভবিষ্যতে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হলে সরাসরি ক্রীড়া উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘পরবর্তীতে ফান্ড পেলে আমরা নিজেরাও ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করব।’

এনসিপির জামায়াত জোট ছাড়ার বিষয়ে যা জানা গেল

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সবশেষ বড় কার্যক্রম ছিল লংমার্চ। তবে সেখানে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। তার আগে পরের নানা ঘটনাপ্রবাহে জামায়াতের সঙ্গে দূরত্বের স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল। ফলে এনসিপির জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জনও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত ২১ অক্টোবর। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের উপস্থিতিতে হওয়া ওই বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই বৈঠকে জোটের কর্মসূচি কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মূলত নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী ইতোমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে এনসিপি। ঢাকা দক্ষিণে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে গাড়িবহর রওনা দেয়। উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমিরের পরপরই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের জন্য একটি চেয়ার খালি রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি উপস্থিত হননি।তার পরিবর্তে কর্মসূচিতে অংশ নেন যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সার্জিস আলম। তবে উদ্বোধনী সমাবেশে তাদের কেউ বক্তব্য দেননি। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এনসিপির নেতাদের বক্তব্যের কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ কর্মসূচি ঘিরে তেমন স্বতঃস্ফূর্ততাও দেখা যায়নি।ঢাকা, খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় আয়োজিত এই লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেননি, অথচ এর আগের দুটি লংমার্চে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ঢাকা থেকে শীর্ষ নেতারা যোগ না দিলেও লংমার্চের মাঝপথে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ অংশ নেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানান, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাহিদ ইসলাম। তাদের পক্ষে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তিনি। এ কারণেই লংমার্চে যাননি বলে ওই নেতা জানান।তবে এনসিপির আরেক শীর্ষ নেতার দাবি, বিষয়টি শুধু ব্যস্ততার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, সিটি নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে মতবিরোধ চলছে। এর বাইরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর অনিয়মের অভিযোগে জামায়াত জোরালো অবস্থান না নেওয়ায় দলটির প্রতি ক্ষুব্ধ এনসিপি। অভিমান থেকেই নাহিদ লংমার্চে যোগ দেননি বলে মনে করেন ওই নেতা।এনসিপি ও জামায়াতের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুই দলের দূরত্বের শুরু গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে আসন সমঝোতার আলোচনায় এনসিপি কমপক্ষে তিনটি সিটিতে ছাড় চেয়েছিল। ঢাকার দুই সিটির অন্তত একটিতে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে অনড় ছিল দলটি।জামায়াত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ঢাকার কোনো সিটিতেই শরিকদের ছাড় দিতে তারা রাজি নয়। বিনিময়ে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেয় তারা। এনসিপি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি এবং একপর্যায়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়। নেতারা জানান, এরপর থেকেই দুই দলের সম্পর্কে শিথিলতা তৈরি হয় এবং গত এক মাসে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেননি নাহিদ ইসলাম।পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে। সেখানে জামায়াত প্রার্থীর পরাজয়ের পর অনিয়মের অভিযোগে দলটির জোরালো প্রতিবাদ না করাকে ভালোভাবে নেয়নি এনসিপি। বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীর কাছ থেকে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর হাসিমুখে মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাও এনসিপি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এ নিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে তীব্র প্রতিবাদ জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।তবে সার্বিকভাবে সম্পর্ক ‘খারাপ’ তা মানতে নারাজ এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি সম্প্রতি একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে, এটা কে বলল? না, সম্পর্ক খারাপ এমন কিছু না। বিষয়টি হলো- একটা দলের সঙ্গে আরেকটা দলের সম্পর্ক, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো বা খারাপ হওয়ার মতো নয়। আমাদের প্রত্যেকটা দলের কিছু কিছু এজেন্ডা আছে, যেখানে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়। সেটার কারণেই মূলত একটা জোট হয়।’তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট ‘আদর্শিক’ নয়। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির কোনো আদর্শিক জোট নেই। নির্বাচনী ঐক্যের ভিত্তিতে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। ফলে জোটের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের কর্মসূচিও পালন করছে।’

এনসিপির জামায়াত জোট ছাড়ার বিষয়ে যা জানা গেল

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যেসব বিষয়ে সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে। কিন্তু বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের পথে না গিয়ে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সংসদে ডাকা হয়েছে। আপনারা আসুন, আমরা একসঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি। কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সংশোধনের মাধ্যমেই তা করতে হবে।তিনি বলেন, সংবিধান স্বাধীনতার পর প্রণীত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধন হয়েছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। আর যেসব বিষয়ে সাধারণ আইন প্রণয়ন করলেই হবে, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানোর পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হাতে মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছালে তারা হাঁস-মুরগি পালনসহ ছোট ছোট আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে। এতে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়েছে।রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি বিএনপি সরকার দায়ী? এর জন্য কি তারেক রহমান দায়ী? বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা যায়। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবদান বিএনপি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেন।

সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী

যৌক্তিক কারণ না থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতেই লংমার্চ করছে বিরোধীদল। সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তারা, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জামায়াত ইসলাম লংমার্চ করছে, এটার যৌক্তিকতা জনগণ জানে না। জ্বালানি সংকট বিএনপি তৈরি করেনি, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হয়েছে।রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের কোনো কর্মসূচি যখন কাজ করছে না, তখন জনপ্রিয় মন্ত্রীদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে।

সরকারের ইতিবাচক রাজনীতি দেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী

মিরপুর ১০-এর উচ্ছেদ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছেন জামায়াত আমির, ক্ষমা চাওয়া উচিত: মীর শাহে আলম

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমালোচনা করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ১০ নম্বরের উচ্ছেদ অভিযানের পর সস্তা রাজনীতি করতে এসেছেন জামায়াত আমির। লজ্জা থাকলে জনগণের সামনে ক্ষমা চাওয়া উচিত।শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।এ সময় বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য। জনগণ যাতে খুশি থাকে, সরকার সেই কাজই করে যাচ্ছে। বিএনপি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের জবাবদিহির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাত মাসের মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই প্রমাণ করে, প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দেবেন না।মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করা ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র নিয়ে ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাটি ইতিবাচক ছিল। ইশরাক জায়গা দখল করতে যাননি, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েছিলেন। তবে তার লড়াইয়ের পদ্ধতি ভুল ছিল।জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, ১১ দলীয় জোট লোক দেখানোর জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে, কিন্তু সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেনি। জামায়াত আমিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছোটখাটো ঘটনায়ও ব্যবস্থা নিচ্ছেন। অথচ বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ভোট নেওয়া ও প্রতারণার অভিযোগের পরও গাজী নজরুলকে সংসদ থেকে বিদায় করা হয়নি। তাঁকে সংসদ থেকে সরানো হলে জনগণের আস্থা বাড়ত বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।মীর শাহে আলমের দাবি, এ কারণেই গতকালের (ঠাকুরগাও-১ আসনের উপনির্বাচন) নির্বাচনে জামায়াত ৪০ হাজার ভোট কম পেয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একের পর এক জামায়াতের প্রার্থীরা পরাজিত হলে দলটি প্রচারণার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোডশেডিংয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সমস্যা সমাধানে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। তবে বিরোধী দল এ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।একই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত বলেন, একটি বিরোধী দল এখনো জনসভার রাজনীতিতে আটকে আছে, যেখানে মানুষের উপস্থিতি থাকে না। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী জনসেবার রাজনীতি করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় তিনি বলেন, ১৫০০ মানুষ নিয়ে বিলাসবহুল জনসভা না করে এলাকার ময়লা পরিষ্কার করুন। আসুন, শুধু এলাকার ময়লা নয়, ফ্যাসিবাদ ও দেশের যে জঞ্জাল আছে, একসঙ্গে পরিষ্কার করি।

মিরপুর ১০-এর উচ্ছেদ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছেন জামায়াত আমির, ক্ষমা চাওয়া উচিত: মীর শাহে আলম
.
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

আইন-কানুন

সকল জেলার খবর

 বিনোদন বিনোদন

আর্কাইভ

 অর্থনীতি অর্থনীতি

১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আন্তর্জাতিক বাজারদর বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি, আমদানিকারক, ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে এই দাম বৃদ্ধি বলে জানিয়েছে বিইআরসি।নতুন দর আজ রাত ৮ টার পর থেকে কার্যকর হবে। যদিও বাজারে বিইআরসি ঘোষিত দরে গতমাস থেকেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অক্টোবর মাসে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা করা হলেও খোদ রাজধানীতেই বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায়।একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪.৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯১.৯৫ টাকা করা হয়েছে। যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস সেপ্টেম্বর মাস প্রতি লিটারের দাম ছিল ৭৩.০৯ টাকা। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে বিক্রেতাদের কমিশনও।আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ (অপারেটরের প্লান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ) ১২ কেজিতে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ দশমিক ৭৬ টাকা। ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে।সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে অস্থির হয়ে পড়েছে এলপিজির বাজার। অন্তর্জাতিক বাজারদর উর্ধমূখী হলে আমদানিকারকরা সরবরাহ কমিয়ে দেন। এতে করে ১৫৮৫ টাকার এলপিজি কোথাও কোথাও ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বেচাকেনা হতে থাকে।