বাঙালির বাংলাদেশ

অপ্রচলিত বাজারে বাড়ছে পোশাক রপ্তানি, পাঁচ দেশেই ৫৬.৫৮ শতাংশ

অপ্রচলিত বাজারে বাড়ছে পোশাক রপ্তানি, পাঁচ দেশেই ৫৬.৫৮ শতাংশ

দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অবদান বাড়ছে। এসব বাজারে মোট পোশাক রপ্তানির ৫৬.৫৮ শতাংশই আসছে পাঁচটি দেশ থেকে।

দেশগুলো হলো-জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই পাঁচ দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৯.৬২ শতাংশ।

পর্যালোচনাধীন সময়ে সব অপ্রচলিত বাজার মিলিয়ে মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮১ কোটি ডলারের।

জাপান শীর্ষে, প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে তুরস্ক

একক দেশ হিসেবে অপ্রচলিত বাজারের শীর্ষে রয়েছে জাপান।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এটি মোট অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির ১৮.৯৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ২.৬১ শতাংশ।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় তিন মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.০২ শতাংশ বেশি।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তবে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে একমাত্র ভারতেই রপ্তানি কমেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৫.৩৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১২৩.১৪ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ায় পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৮.৮১ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারে।

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি বেড়েছে ১৬.৭৭ শতাংশ

প্রথম তিন মাসের সামগ্রিক চিত্রের পাশাপাশি একক মাস হিসেবেও সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মাসটিতে শীর্ষ পাঁচ দেশে পোশাক রপ্তানি ১৬.৭৭ শতাংশ বেড়ে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

সেপ্টেম্বরেও প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল তুরস্ক। দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২২৪.৯৩ শতাংশ, যার পরিমাণ ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭.৮৮ শতাংশ এবং জাপানে ৫.১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে এ সময়ে ভারতে রপ্তানি কমেছে ০.৮৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ০.১৪ শতাংশ।

নতুন বাজারে মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও ভয়েস অব অ্যাপারেলের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির অংশ ও প্রবৃদ্ধি বাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রচলিত বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে নতুন বাজার সম্প্রসারণ জরুরি।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ অপ্রচলিত বাজারগুলোতে যাচ্ছে। এই অংশ বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। দেশটিতে আরও বেশি পোশাক রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। একইভাবে ভারতের বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রয়ক্ষমতা ভালো হওয়ায় সেখানেও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে পণ্যের গুণগত মানের পাশাপাশি এফওবি মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব বাজারে শুধু পণ্যের পরিমাণ নয়, বৈচিত্র্য, মান ও মূল্যের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই মূল্য সংযোজিত ও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজারগুলোতে আরও মনোযোগ দিতে হবে।

 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

অপ্রচলিত বাজারে বাড়ছে পোশাক রপ্তানি, পাঁচ দেশেই ৫৬.৫৮ শতাংশ
0:00 0:00
1.0x
বাঙালির বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


অপ্রচলিত বাজারে বাড়ছে পোশাক রপ্তানি, পাঁচ দেশেই ৫৬.৫৮ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অবদান বাড়ছে। এসব বাজারে মোট পোশাক রপ্তানির ৫৬.৫৮ শতাংশই আসছে পাঁচটি দেশ থেকে।

দেশগুলো হলো-জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই পাঁচ দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৯.৬২ শতাংশ।

পর্যালোচনাধীন সময়ে সব অপ্রচলিত বাজার মিলিয়ে মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮১ কোটি ডলারের।

জাপান শীর্ষে, প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে তুরস্ক

একক দেশ হিসেবে অপ্রচলিত বাজারের শীর্ষে রয়েছে জাপান।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এটি মোট অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির ১৮.৯৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ২.৬১ শতাংশ।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় তিন মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.০২ শতাংশ বেশি।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তবে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে একমাত্র ভারতেই রপ্তানি কমেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৫.৩৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১২৩.১৪ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ায় পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৮.৮১ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারে।

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি বেড়েছে ১৬.৭৭ শতাংশ

প্রথম তিন মাসের সামগ্রিক চিত্রের পাশাপাশি একক মাস হিসেবেও সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মাসটিতে শীর্ষ পাঁচ দেশে পোশাক রপ্তানি ১৬.৭৭ শতাংশ বেড়ে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

সেপ্টেম্বরেও প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল তুরস্ক। দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২২৪.৯৩ শতাংশ, যার পরিমাণ ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭.৮৮ শতাংশ এবং জাপানে ৫.১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে এ সময়ে ভারতে রপ্তানি কমেছে ০.৮৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ০.১৪ শতাংশ।

নতুন বাজারে মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও ভয়েস অব অ্যাপারেলের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির অংশ ও প্রবৃদ্ধি বাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রচলিত বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে নতুন বাজার সম্প্রসারণ জরুরি।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ অপ্রচলিত বাজারগুলোতে যাচ্ছে। এই অংশ বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। দেশটিতে আরও বেশি পোশাক রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। একইভাবে ভারতের বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রয়ক্ষমতা ভালো হওয়ায় সেখানেও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে পণ্যের গুণগত মানের পাশাপাশি এফওবি মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব বাজারে শুধু পণ্যের পরিমাণ নয়, বৈচিত্র্য, মান ও মূল্যের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই মূল্য সংযোজিত ও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজারগুলোতে আরও মনোযোগ দিতে হবে।

 


বাঙালির বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত