বাঙালির বাংলাদেশ

‘রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই দক্ষ চিকিৎসকের পরিচয়’

‘রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই দক্ষ চিকিৎসকের পরিচয়’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, রোগীর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়াই একজন চিকিৎসকের একমাত্র দায়িত্ব নয়। রোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ এবং চিকিৎসার পরবর্তী ধাপগুলো অনুসরণ করাও জরুরি। পাশাপাশি রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, নিয়মিত জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৫তম ব্যাচের (২০২৫-২০২৬) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, এমবিবিএস পাসের পর এক বছরের ইন্টার্নশিপ চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সময়ে অর্জিত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই ইন্টার্নশিপের প্রতিটি ধাপে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। চিকিৎসক হিসেবে দক্ষতা বাড়াতে ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ার পরও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। এফসিপিএস, এমডি ও এমএসের মতো উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি গবেষণায়ও মনোযোগী হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শুধু উপসর্গের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না। রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ফুসফুসে পানি জমার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ, যক্ষ্মা কিংবা ক্যানসারসহ বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে রোগের কারণ নির্ণয় করতে হবে।

তিনি বলেন, রোগীর নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত— প্রতিটি ধাপে শেখার মানসিকতা বজায় রাখা জরুরি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই একজন চিকিৎসককে পেশাগত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, সংক্রামক রোগের বিস্তার ও প্রকৃতি বুঝতে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গবেষণার বিকল্প নেই। বিভিন্ন বছরের রোগী ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে রোগের প্রবণতা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

মেয়র জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একটি দল নিয়ে কাজ করছে। রোগের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে অনুমাননির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে যাচাই করা তথ্য ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হবে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে ২০২২ সালে ৪১ জন, ২০২৩ সালে ১০৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৫ জন এবং ২০২৫ সালে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের আগের দিন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে ২৪ জনের মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে ১০ জন নগরের বাসিন্দা এবং ১৪ জন জেলার অন্যান্য এলাকার।

মেয়র বলেন, রোগের পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা চিকিৎসকদের দায়িত্বের অংশ। নির্ভরযোগ্য তথ্য জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা গ্রহণেও সহায়তা করে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, চিকিৎসকদের শুধু রোগের চিকিৎসা দিলেই হবে না, রোগ প্রতিরোধেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য টিকাদান, স্বাস্থ্যশিক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান, কিশোরীদের জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান এবং কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া অক্টোবর মাসজুড়ে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

নবীন চিকিৎসকদের রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, চিকিৎসকের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি তার আচরণও রোগীর আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলা, রোগের অবস্থা সহজ ভাষায় বোঝানো এবং চিকিৎসা সম্পর্কে তাদের আশ্বস্ত করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চর্চাও অব্যাহত রাখতে হবে।

দেশের ওষুধশিল্পের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র আরও বলেন, রোগীদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ নিশ্চিত করা জরুরি। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগত মানের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এতে চিকিৎসার কার্যকারিতা বজায় থাকবে এবং চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের নবীন চিকিৎসকেরা ইন্টার্নশিপে অর্জিত অভিজ্ঞতা, গবেষণামুখী চিন্তা, পেশাগত নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ কাজে লাগিয়ে দেশের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে অবদান রাখবেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা নতুন রোগের প্রতিষেধক ও টিকা উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক এবং ১৫তম ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

‘রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই দক্ষ চিকিৎসকের পরিচয়’
0:00 0:00
1.0x
বাঙালির বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


‘রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই দক্ষ চিকিৎসকের পরিচয়’

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, রোগীর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়াই একজন চিকিৎসকের একমাত্র দায়িত্ব নয়। রোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ এবং চিকিৎসার পরবর্তী ধাপগুলো অনুসরণ করাও জরুরি। পাশাপাশি রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, নিয়মিত জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৫তম ব্যাচের (২০২৫-২০২৬) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, এমবিবিএস পাসের পর এক বছরের ইন্টার্নশিপ চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সময়ে অর্জিত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই ইন্টার্নশিপের প্রতিটি ধাপে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। চিকিৎসক হিসেবে দক্ষতা বাড়াতে ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ার পরও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। এফসিপিএস, এমডি ও এমএসের মতো উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি গবেষণায়ও মনোযোগী হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শুধু উপসর্গের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না। রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ফুসফুসে পানি জমার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ, যক্ষ্মা কিংবা ক্যানসারসহ বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে রোগের কারণ নির্ণয় করতে হবে।

তিনি বলেন, রোগীর নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত— প্রতিটি ধাপে শেখার মানসিকতা বজায় রাখা জরুরি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই একজন চিকিৎসককে পেশাগত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, সংক্রামক রোগের বিস্তার ও প্রকৃতি বুঝতে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গবেষণার বিকল্প নেই। বিভিন্ন বছরের রোগী ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে রোগের প্রবণতা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

মেয়র জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একটি দল নিয়ে কাজ করছে। রোগের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে অনুমাননির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে যাচাই করা তথ্য ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হবে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে ২০২২ সালে ৪১ জন, ২০২৩ সালে ১০৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৫ জন এবং ২০২৫ সালে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের আগের দিন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে ২৪ জনের মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে ১০ জন নগরের বাসিন্দা এবং ১৪ জন জেলার অন্যান্য এলাকার।

মেয়র বলেন, রোগের পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা চিকিৎসকদের দায়িত্বের অংশ। নির্ভরযোগ্য তথ্য জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা গ্রহণেও সহায়তা করে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, চিকিৎসকদের শুধু রোগের চিকিৎসা দিলেই হবে না, রোগ প্রতিরোধেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য টিকাদান, স্বাস্থ্যশিক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান, কিশোরীদের জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান এবং কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া অক্টোবর মাসজুড়ে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

নবীন চিকিৎসকদের রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, চিকিৎসকের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি তার আচরণও রোগীর আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলা, রোগের অবস্থা সহজ ভাষায় বোঝানো এবং চিকিৎসা সম্পর্কে তাদের আশ্বস্ত করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চর্চাও অব্যাহত রাখতে হবে।

দেশের ওষুধশিল্পের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র আরও বলেন, রোগীদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ নিশ্চিত করা জরুরি। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগত মানের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এতে চিকিৎসার কার্যকারিতা বজায় থাকবে এবং চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের নবীন চিকিৎসকেরা ইন্টার্নশিপে অর্জিত অভিজ্ঞতা, গবেষণামুখী চিন্তা, পেশাগত নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ কাজে লাগিয়ে দেশের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে অবদান রাখবেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা নতুন রোগের প্রতিষেধক ও টিকা উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক এবং ১৫তম ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।


বাঙালির বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত