বাঙালির বাংলাদেশ

সমুদ্র সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

সমুদ্র সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 

তিনি বলেন, সমুদ্রের সম্পদ আহরণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

জাহাজ নির্মাণ, মেরামত, পুনর্ব্যবহার ও সামুদ্রিক প্রযুক্তির আধুনিক সমাধান নিয়ে তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের এ প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও সেবা তুলে ধরছে। প্রদর্শনী চলবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র, নদী ও নৌপথে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। মেরিটাইম খাতে উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গুলোর কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার। জাহাজ নির্মাণ, পুনর্ব্যবহার ও মেরামত, মৎস্য আহরণ এবং সমুদ্র থেকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের মতো সম্ভাবনাময় খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের মেরিটাইম খাতের সক্ষমতা আরও এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রসম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বছরে ২৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়। এ সম্পর্কে আরও শক্তিশালী করতে বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করতে চায় ইইউ। এ ক্ষেত্রে সদস্যদেশগুলোর অর্থনৈতিক কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় ইইউ-বাংলাদেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগ ফোরামের মাধ্যমে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা রয়েছে। এ ধরনের প্রদর্শনী পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, বাংলাদেশের মেরিটাইম খাতে টেকসই উন্নয়নে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস। পরিবেশবান্ধব জাহাজ চলাচল, শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী প্রযুক্তি এবং আধুনিক বন্দর উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, ‘দ্য মেরিটাইম ফিউচার ইজ নাউ’ প্রতিপাদ্যে এবারের বিমক্স প্রদর্শনীতে  নেদারল্যান্ডসের ১৪টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অংশ নিচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দুই দেশের অংশীদারিত্ব বাণিজ্যের বাইরেও পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও মেরিটাইম খাতে বিস্তৃত। এসব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক মেরিটাইম হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়েজুল আলম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উকিয়াও সোয়ে মোয়ে, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামাত এলাহী, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী এবং গ্রুপ নটিকার চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শফিক ভূঁইয়া। 

আয়োজকরা জানান, ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এ জাহাজ নির্মাণ, মেরামত ও পুনর্ব্যবহার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, অফশোর প্রযুক্তি, ড্রেজিং, বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে। প্রদর্শনীতে সাতটি দেশের ২০০টির বেশি স্টল রয়েছে। প্রদর্শনীটি ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যবসায়িক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সমুদ্র সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
0:00 0:00
1.0x
বাঙালির বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সমুদ্র সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 

তিনি বলেন, সমুদ্রের সম্পদ আহরণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

জাহাজ নির্মাণ, মেরামত, পুনর্ব্যবহার ও সামুদ্রিক প্রযুক্তির আধুনিক সমাধান নিয়ে তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের এ প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও সেবা তুলে ধরছে। প্রদর্শনী চলবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র, নদী ও নৌপথে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। মেরিটাইম খাতে উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গুলোর কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার। জাহাজ নির্মাণ, পুনর্ব্যবহার ও মেরামত, মৎস্য আহরণ এবং সমুদ্র থেকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের মতো সম্ভাবনাময় খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের মেরিটাইম খাতের সক্ষমতা আরও এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রসম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বছরে ২৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়। এ সম্পর্কে আরও শক্তিশালী করতে বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করতে চায় ইইউ। এ ক্ষেত্রে সদস্যদেশগুলোর অর্থনৈতিক কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় ইইউ-বাংলাদেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগ ফোরামের মাধ্যমে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা রয়েছে। এ ধরনের প্রদর্শনী পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, বাংলাদেশের মেরিটাইম খাতে টেকসই উন্নয়নে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস। পরিবেশবান্ধব জাহাজ চলাচল, শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী প্রযুক্তি এবং আধুনিক বন্দর উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, ‘দ্য মেরিটাইম ফিউচার ইজ নাউ’ প্রতিপাদ্যে এবারের বিমক্স প্রদর্শনীতে  নেদারল্যান্ডসের ১৪টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অংশ নিচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দুই দেশের অংশীদারিত্ব বাণিজ্যের বাইরেও পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও মেরিটাইম খাতে বিস্তৃত। এসব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক মেরিটাইম হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়েজুল আলম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উকিয়াও সোয়ে মোয়ে, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামাত এলাহী, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী এবং গ্রুপ নটিকার চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শফিক ভূঁইয়া। 

আয়োজকরা জানান, ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এ জাহাজ নির্মাণ, মেরামত ও পুনর্ব্যবহার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, অফশোর প্রযুক্তি, ড্রেজিং, বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে। প্রদর্শনীতে সাতটি দেশের ২০০টির বেশি স্টল রয়েছে। প্রদর্শনীটি ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যবসায়িক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


বাঙালির বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত