সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা, নাকি আত্মিক প্রশান্তি? মানুষের জীবনে সাফল্যের মাপকাঠি আসলে কীসে? পবিত্র কোরআনের ৮৭তম সুরা আ’লাতে এ প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর দেওয়া হয়েছে। মক্কায় অবতীর্ণ ১৯ আয়াতের এ সুরায় আল্লাহর মহিমা, আত্মশুদ্ধি, নামাজ এবং আখিরাতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
সুরা আ’লার শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন।’ (আয়াত ১) পরের আয়াতগুলোতে আল্লাহর সৃষ্টি, সৃষ্টির ভারসাম্য এবং তার দেওয়া পথনির্দেশের কথা এসেছে। আকাশ, পৃথিবী, উদ্ভিদ ও জীবনের নানা বৈচিত্র্য মানুষকে আল্লাহর ক্ষমতা ও অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই মুমিনের উচিত সৃষ্টির নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করা এবং স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।
সুরা আ’লার ১৪ ও ১৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, নিজের রবের নাম স্মরণ করে এবং নামাজ আদায় করে, সে সফল হয়। এ শিক্ষা মানুষকে শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতায় সীমাবদ্ধ থাকতে বলে না; বরং অন্তরকে অহংকার, হিংসা, লোভ ও অন্যায় থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানায়। ইবাদতের পাশাপাশি সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সুন্দর আচরণের চর্চাও আত্মশুদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মানুষ অনেক সময় অর্থ, পদ-পদবি ও ভোগবিলাসের পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য ভুলে যায়। সুরা আ’লার ১৬ ও ১৭ নম্বর আয়াতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, মানুষ দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়, অথচ আখিরাত উত্তম ও অধিক স্থায়ী। এর অর্থ দুনিয়ার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং হালাল উপার্জন, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরকালের প্রস্তুতি নেওয়া।
সুরা আ’লা শেখায়, প্রকৃত সফলতা কেবল পার্থিব অর্জনে নয়। আল্লাহর স্মরণ, আত্মশুদ্ধি, নিয়মিত নামাজ এবং আখিরাতমুখী জীবনই একজন মানুষকে সত্যিকারের সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা, নাকি আত্মিক প্রশান্তি? মানুষের জীবনে সাফল্যের মাপকাঠি আসলে কীসে? পবিত্র কোরআনের ৮৭তম সুরা আ’লাতে এ প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর দেওয়া হয়েছে। মক্কায় অবতীর্ণ ১৯ আয়াতের এ সুরায় আল্লাহর মহিমা, আত্মশুদ্ধি, নামাজ এবং আখিরাতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
সুরা আ’লার শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন।’ (আয়াত ১) পরের আয়াতগুলোতে আল্লাহর সৃষ্টি, সৃষ্টির ভারসাম্য এবং তার দেওয়া পথনির্দেশের কথা এসেছে। আকাশ, পৃথিবী, উদ্ভিদ ও জীবনের নানা বৈচিত্র্য মানুষকে আল্লাহর ক্ষমতা ও অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই মুমিনের উচিত সৃষ্টির নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করা এবং স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।
সুরা আ’লার ১৪ ও ১৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, নিজের রবের নাম স্মরণ করে এবং নামাজ আদায় করে, সে সফল হয়। এ শিক্ষা মানুষকে শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতায় সীমাবদ্ধ থাকতে বলে না; বরং অন্তরকে অহংকার, হিংসা, লোভ ও অন্যায় থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানায়। ইবাদতের পাশাপাশি সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সুন্দর আচরণের চর্চাও আত্মশুদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মানুষ অনেক সময় অর্থ, পদ-পদবি ও ভোগবিলাসের পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য ভুলে যায়। সুরা আ’লার ১৬ ও ১৭ নম্বর আয়াতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, মানুষ দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়, অথচ আখিরাত উত্তম ও অধিক স্থায়ী। এর অর্থ দুনিয়ার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং হালাল উপার্জন, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরকালের প্রস্তুতি নেওয়া।
সুরা আ’লা শেখায়, প্রকৃত সফলতা কেবল পার্থিব অর্জনে নয়। আল্লাহর স্মরণ, আত্মশুদ্ধি, নিয়মিত নামাজ এবং আখিরাতমুখী জীবনই একজন মানুষকে সত্যিকারের সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়।

মতামত