বাঙালির বাংলাদেশ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

পয়সার টানে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে সুরাটের বাসিন্দা, চার মাস ধরে জানেন! পরিবার

পয়সার টানে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে সুরাটের বাসিন্দা, চার মাস ধরে  জানেন! পরিবার

সুরাটের হীরা শিল্পে মন্দার কবলে পড়ে ৩৯ বছর বয়সী রমণিক সাখওয়ালা রুটিরুজির আশায় ২০২৫ সালে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। তখন তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, তাঁর জীবনে এমন অপ্রত্যাশিত মোড় আসতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

২০২৬ সালের জুন মাসে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর চার মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত। কিন্তু রমণিক সাখওয়ালা-র কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সুরাটে তাঁর পরিবার (স্ত্রী ও ১৬ বছর বয়সী ছেলে) অধীর আগ্রহে তাঁর কোনও খবরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তাঁরা ভারত সরকার ও ভারতীয় দূতাবাসের কাছে ফের সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

বুধবার মহেশ সাখওয়ালা পিটিআই-কে জানান, "সুরাটের হীরা শিল্পে কাজ করে আর সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছিল না, তাই উন্নত জীবিকার সন্ধানে রমণিক রাশিয়ায় গিয়েছিলেন।" মহেশ আরও জানান, এর আগে রমণিক সুরাটের একটি হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় 'প্ল্যানিং' বিভাগে কাজ করতেন। কিন্তু হীরা শিল্পে মন্দা দেখা দেওয়ায় তিনি ভাল চাকরির খোঁজে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রমণিক প্রথমে ২০২৫ সালে তিন মাসের ব্যবসায়িক ভিসায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়।

মহেশ আরও বলেন যে, "রমনিক-কে এই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা কর্মীদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে তাঁর ওপর। রমণিক আমাদের জানিয়েছিলেন যে, তাঁকে লড়াই করতে হবে না বা কোনও ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করতে হবে না। তাঁর একমাত্র দায়িত্ব ছিল খাবার সরবরাহ করা।"

পরিবারের দাবি, গত চার মাস ধরে রমণিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ তাকে খুঁজে বের করার জন্য তাঁরা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার সাহায্য চেয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ জুন রমনিক তাঁর স্ত্রী শীতলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। জানিয়েছিলেন যে, আগামী ১০-১৫ দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না।

মহেশ জানান, রমণিক নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার দিল্লির বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি বলেন, "তবে কর্মকর্তারা আমাদের জানান যে, যেহেতু রমণিক রাশিয়ার পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন, তাই পরবর্তী সহায়তার জন্য তাদের রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।" তিনি আরও জানান, রমণিক তাঁর পাসপোর্টের একটি ছবি এবং অন্যান্য নথিপত্র পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন।

মহেশ কিছু নথিপত্র দেখিয়ে দাবি করেন যে, পরিবারের তরফে গুজরাট স্টেট নন-রেসিডেন্ট গুজরাটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে রমণিকের খোঁজ পেতে সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। এছাড়া তাঁরা মুম্বইয়ে অবস্থিত রুশ ফেডারেশনের কনস্যুলেট জেনারেলের কাছেও চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি।

রমণিক সাখওয়ালা-র ১৬ বছর বয়সী ছেলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে, সে নিজেও তার বাবাকে খুঁজে বের করার জন্য ইংরেজিতে ইমেইল ও চিঠি লিখে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বামী নিখোঁজ থাকায় রমণিকের স্ত্রী শীতল এখন সংসার চালানোর জন্য সেলাইয়ের কাজ করছেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাঁকে আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন।

মহেশের কথায়, "আমরা ওদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে রমণিক বেঁচে আছেন কি না। তারা বলল, এমনটা হতে পারে, তবে এই মুহূর্তে তারা কোনও তথ্য দিতে পারছে না। তারা আরও জানিয়েছে যে, কোনও উত্তর পেতে কয়েক মাস, এমনকি এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।"

পরিবারের দাবি, তারা ২০ দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) একটি চিঠি জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও সাড়া পাননি। মহেশের আর্জি, "আমাদের একমাত্র দাবি হল, সরকার যেন আমার ভাইকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করে এবং অন্তত সে বেঁচে আছে কি না কিংবা সে কোথায় আছে- সে বিষয়ে কিছু তথ্য দেয়।" মহেশ যোগ করলেন।

রমণিকের ভাই জানান, ২০২৬ সালের জুন মাসের শুরুর দিকে রমণিক রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তখন তিনি পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তাঁকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে (ফ্রন্টলাইনে) পাঠানো হবে না।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পয়সার টানে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে সুরাটের বাসিন্দা, চার মাস ধরে জানেন! পরিবার
0:00 0:00
1.0x
বাঙালির বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


পয়সার টানে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে সুরাটের বাসিন্দা, চার মাস ধরে জানেন! পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সুরাটের হীরা শিল্পে মন্দার কবলে পড়ে ৩৯ বছর বয়সী রমণিক সাখওয়ালা রুটিরুজির আশায় ২০২৫ সালে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। তখন তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, তাঁর জীবনে এমন অপ্রত্যাশিত মোড় আসতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

২০২৬ সালের জুন মাসে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর চার মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত। কিন্তু রমণিক সাখওয়ালা-র কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সুরাটে তাঁর পরিবার (স্ত্রী ও ১৬ বছর বয়সী ছেলে) অধীর আগ্রহে তাঁর কোনও খবরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তাঁরা ভারত সরকার ও ভারতীয় দূতাবাসের কাছে ফের সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

বুধবার মহেশ সাখওয়ালা পিটিআই-কে জানান, "সুরাটের হীরা শিল্পে কাজ করে আর সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছিল না, তাই উন্নত জীবিকার সন্ধানে রমণিক রাশিয়ায় গিয়েছিলেন।" মহেশ আরও জানান, এর আগে রমণিক সুরাটের একটি হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় 'প্ল্যানিং' বিভাগে কাজ করতেন। কিন্তু হীরা শিল্পে মন্দা দেখা দেওয়ায় তিনি ভাল চাকরির খোঁজে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রমণিক প্রথমে ২০২৫ সালে তিন মাসের ব্যবসায়িক ভিসায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়।

মহেশ আরও বলেন যে, "রমনিক-কে এই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা কর্মীদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে তাঁর ওপর। রমণিক আমাদের জানিয়েছিলেন যে, তাঁকে লড়াই করতে হবে না বা কোনও ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করতে হবে না। তাঁর একমাত্র দায়িত্ব ছিল খাবার সরবরাহ করা।"

পরিবারের দাবি, গত চার মাস ধরে রমণিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ তাকে খুঁজে বের করার জন্য তাঁরা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার সাহায্য চেয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ জুন রমনিক তাঁর স্ত্রী শীতলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। জানিয়েছিলেন যে, আগামী ১০-১৫ দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না।

মহেশ জানান, রমণিক নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার দিল্লির বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি বলেন, "তবে কর্মকর্তারা আমাদের জানান যে, যেহেতু রমণিক রাশিয়ার পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন, তাই পরবর্তী সহায়তার জন্য তাদের রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।" তিনি আরও জানান, রমণিক তাঁর পাসপোর্টের একটি ছবি এবং অন্যান্য নথিপত্র পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন।

মহেশ কিছু নথিপত্র দেখিয়ে দাবি করেন যে, পরিবারের তরফে গুজরাট স্টেট নন-রেসিডেন্ট গুজরাটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে রমণিকের খোঁজ পেতে সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। এছাড়া তাঁরা মুম্বইয়ে অবস্থিত রুশ ফেডারেশনের কনস্যুলেট জেনারেলের কাছেও চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি।

রমণিক সাখওয়ালা-র ১৬ বছর বয়সী ছেলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে, সে নিজেও তার বাবাকে খুঁজে বের করার জন্য ইংরেজিতে ইমেইল ও চিঠি লিখে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বামী নিখোঁজ থাকায় রমণিকের স্ত্রী শীতল এখন সংসার চালানোর জন্য সেলাইয়ের কাজ করছেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাঁকে আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন।

মহেশের কথায়, "আমরা ওদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে রমণিক বেঁচে আছেন কি না। তারা বলল, এমনটা হতে পারে, তবে এই মুহূর্তে তারা কোনও তথ্য দিতে পারছে না। তারা আরও জানিয়েছে যে, কোনও উত্তর পেতে কয়েক মাস, এমনকি এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।"

পরিবারের দাবি, তারা ২০ দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) একটি চিঠি জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও সাড়া পাননি। মহেশের আর্জি, "আমাদের একমাত্র দাবি হল, সরকার যেন আমার ভাইকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করে এবং অন্তত সে বেঁচে আছে কি না কিংবা সে কোথায় আছে- সে বিষয়ে কিছু তথ্য দেয়।" মহেশ যোগ করলেন।

রমণিকের ভাই জানান, ২০২৬ সালের জুন মাসের শুরুর দিকে রমণিক রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তখন তিনি পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তাঁকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে (ফ্রন্টলাইনে) পাঠানো হবে না।


বাঙালির বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত