বাঙালির বাংলাদেশ

আর্কাইভ দেখুন

মিষ্টির শূন্য আসন: ফরম নিলেন ৭০ নেত্রী, তারা কারা?

মিষ্টির শূন্য আসন: ফরম নিলেন ৭০ নেত্রী, তারা কারা?

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া শূন্য আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রকাশি হয়েছে জোর প্রতিযোগিতা। আসনটিতে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে অন্তত ৭০ জন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন।মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সিংহভাগই সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেত্রী। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিভিন্ন স্তরের নেত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া হেভিওয়েট বিএনপি নেতাদের স্ত্রী ও কন্যারাও যুক্ত হয়েছেন মনোনয়নের এই দৌড়ে।শুক্রবার (দিনটি নির্দিষ্ট থাকলে বসানো যাবে) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ফরম বিতরণ করা হয়। সকাল থেকেই কার্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সারা দিন ধরে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় নেত্রীরা ফরম সংগ্রহ করেন। মনোনয়ন ফরমটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার টাকা।বিএনপি দপ্তরের দায়িত্বে থাকা তারিকুল ইসলাম তেনজিং যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম পূরণ করে জমা দেওয়া যাবে। এজন্য জামানত হিসাবে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের।ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় ছিল কর্মচাঞ্চল্য। ছিল নেতাকর্মীদের স্লোগান, বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট জটলা। কেউ ফরম সংগ্রহ করছেন, কেউ আবার সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়ন পাওয়ার হিসাবনিকাশ নিয়ে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী এক আসনের মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির নেত্রীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।এদিন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ। এছাড়া মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস এবং ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা ফরম সংগ্রহ করেন।উল্লেখ্য, ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তৎকালীন সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ১ অক্টোবর সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামী ১২ নভেম্বর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা দিতে বাধ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা দিতে বাধ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখতে হবে, এমন আলোচনা উঠে—এটি জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক। সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য। অতীতে অনেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছেন।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সবাই সমান অধিকারের অধিকারী। সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, আচার-অনুষ্ঠান পালন ও উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার অধিকার দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। তারপরও কেন পূজার সময় নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে কথা বলতে হয়, তা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক।’তিনি জানান, পৃথিবীর সব দেশেই কোনো না কোনো ধর্মের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে সব দেশেই কমবেশি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার স্বীকৃত। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবেও প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকা উচিত।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অতীতে আপনাদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা অনেকেই লুটেছেন। আমরা সেই প্রসঙ্গে যাব না। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন, কোন সময়ে আপনাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই।’তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে। এগুলো মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি। তাই প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর উচিত অন্য ধর্মের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরগুলোতেও দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব মানুষ স্বাধীনভাবে ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে।বনানী পূজামণ্ডপের আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান ও নকশায় মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি আয়োজকদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপের দায়িত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: আইজিপিএকই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সারা দেশে ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।আইজিপি বলেন, দায়িত্ব পালনের পরও একটি পক্ষ থেকে পূজার আয়োজন নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, যা দুঃখজনক। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে সুযোগ নিতে চায়, তারা এমন চেষ্টা করতেই পারে। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।


ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী।দিনের শুরুতে তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ (অপারেশন থিয়েটার) বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি।পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি।এরপর প্রধানমন্ত্রী যান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে অনেক মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।’যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে।এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে।প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তাঁদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে কি না। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পান তিনি।


বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের আগে কী হয়েছিল আর্জেন্টিনা দলে, মুখ খুললেন লাউতারো

বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের আগে কী হয়েছিল আর্জেন্টিনা দলে, মুখ খুললেন লাউতারো

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার খুব কাছে চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষমেশ স্পেনের কাছে হেরে রানার্স আপ হয়েই বিদায় নিতে হয় লিওনেল মেসির দলকে। তবে তার আগে তারা এমন এক ম্যাচ খেলেছে, যা তাদের ইতিহাসকে উসকে দিয়েছে আরও একবার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচটা শেষের পর নানা কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তার আগে ম্যাচটা জেতানো লাউতারো মার্তিনেজ এবার মুখ খুলেছেন সেই ইস্যুতে। জানালেন সেই ম্যাচের আগে কী হয়েছিল আর্জেন্টিনা দলে।ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে আর্জেন্টিনার পুরোনো বিরোধ আছে। লাউতারো জানিয়েছেন, এই বিরোধ ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দলের মধ্যে আলাদা আবেগ তৈরি করেছিল। তিনি ম্যাচটিকে শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ মনে করেননি। নিজের জয়সূচক গোলটি তিনি ১৯৮২ সালের যুদ্ধের সৈনিকদের উৎসর্গ করেছেন।১৫ জুলাই আটলান্টায় সেমিফাইনাল ম্যাচ হয়। পিছিয়ে পড়েও আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারায়। ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার ৯২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন। এতে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টাইনরা এই দ্বীপের যুদ্ধকে নিজেদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মনে করেন। তাই গোলটির মূল্য ফলাফলের চেয়েও বেশি হয়ে উঠেছিল।এএফএ স্টুডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ আবেগে ভেসে যান। তাকে একটি ভিডিও দেখানো হয়। সেখানে মালভিনাস যুদ্ধের এক সৈনিক তার গোল উদ্‌যাপন করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন।মার্তিনেজ বলেন, ‘এটা তাদের জন্যই সম্ভব হয়েছে [ফকল্যান্ড যুদ্ধের আর্জেন্টাইন সৈনিক], সে সময় তারা যেভাবে আমাদের দেশকে তুলে ধরেছিলেন তার জন্য। আজ অন্তত আমি এই গোলটা তাদের উৎসর্গ করতে পারি। তারা আজ জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারছেন, এটা আমরা এই সময়ে যা গড়েছি তারই প্রমাণ।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যত পুরস্কার, স্বীকৃতি ও প্রশংসা পাচ্ছি, সবই তাদের কারণে। কীভাবে লড়তে হয়, তা তারাই আমাদের শিখিয়েছেন।’ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, তিনি চান না ম্যাচটি এই যুদ্ধ নিয়ে হোক। কিন্তু মার্তিনেজের কথায় ড্রেসিংরুমের আবেগের কিছুটা আভাস মিলল। প্রকাশ্যে খেলোয়াড়েরা ফুটবল ও রাজনীতিকে আলাদা রেখেছিলেন।মার্তিনেজ বলেন, ‘ক্যামেরার সামনে আমাদের অন্যভাবে চলতে হয়েছে, কারণ এটা একটা ফুটবল ম্যাচ। কিন্তু ভেতরে এটা অন্য ম্যাচের মতো ছিল না। পুরো ইতিহাসের কারণে এটা বিশেষ ছিল।’তিনি আরও বলেন, ‘ফকল্যান্ডস ইস্যু ছিল একটি বিশেষ উপাদান।’ তার মতে, এটি দলকে ‘বাড়তি শক্তি ও সেই ইতিবাচক ইতিবাচক উদ্দীপনা’ দিয়েছে, যা এ ধরনের ম্যাচ খেলতে দরকার।দুই দেশের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শিকড় অনেক গভীরে। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সেনারা দ্বীপে নামলে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। ব্রিটেনে দ্বীপগুলো ফকল্যান্ড নামে পরিচিত। আর্জেন্টিনায় এর নাম ইসলাস মালভিনাস। যুদ্ধে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। তিনজন দ্বীপবাসীও মারা যান। ১৯৮২ সালের জুনে ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপগুলো আবার দখলে নেয়। তবে সার্বভৌমত্বের বিরোধ এখনো মেটেনি।সেমিফাইনালের পর রাজনৈতিক প্রসঙ্গ আবার সামনে আসে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো চেলসো গ্যালারির সামনে উদ্‌যাপনের সময় একটি ব্যানার তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’, অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’। ব্যানারটি কোথা থেকে এল, তা পরিষ্কার নয়। ফিফা পরে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া ফিফার নিয়মের লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে।লাউতারোর কাছে গোলের ব্যক্তিগত তাৎপর্য বুঝতে সময় লেগেছিল। ম্যাচের পর হেডের দৃশ্য বারবার দেখানো হয়। তিনি বলেন, ‘এটা এমন এক স্মৃতি, যা আমি চিরদিন আগলে রাখব।’ টুর্নামেন্টের তীব্রতা আর কয়েক দিন পরের ফাইনালের কারণে তিনি ‘গোলটা যে করেছি, সেটা পুরোপুরি টের পাননি’ বলে স্বীকার করেন।তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ফিরে যখন আর্জেন্টাইনদের সঙ্গে দেখা হলো, তখন আমি এটা অনুভব করলাম। গোলটার অর্থ বোঝাতে মানুষ আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিল। তখনই আমি এর গুরুত্ব বুঝলাম।’ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসাধারণ জয়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে ছিল স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল। দলে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসি। ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নরা দারুণ লড়াইয়ের আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু ফাইনালে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনের কাছে তারা পুরোপুরি ম্লান হয়ে যায়। ম্যাচ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে। স্পেনের আধিপত্যের তুলনায় এই ব্যবধান কিছুই নয়।মার্তিনেজ বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শরীর ও মন দুই দিক থেকেই দলকে ক্লান্ত করেছিল। তবে ফাইনালে দল সবটুকু দেয়নি, এ কথা তিনি মানেননি।তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আমাদের অনেক শক্তি শেষ করে দিয়েছিল। আমরা যা পেরেছি সবই দিয়েছি, ফাইনালেও তা-ই। কিছু খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। আমরা মাঠে সব উজাড় করে দিয়েছি, তা বোঝাও গেছে। কেউ কেউ হাঁটতে পারছিল না, তবু দৌড়াচ্ছিল।’তিনি আরও বলেন, ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের সুযোগ ছিল। মানুষ যখন ওই সব তত্ত্ব নিয়ে কথা বলে, তখন বিরক্ত লাগে। কারণ এটা পরিষ্কার যে আমরা সবকিছু দিয়েছি। এতে আমাদের মন শান্ত থাকে। প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী।’ইংল্যান্ডকে হারানোর স্মরণে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ১৫ জুলাইকে জাতীয় ফুটবল দিবস ঘোষণা করেছে। এই জয় ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে। সেই ম্যাচে দিয়েগো মারাদোনা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং বিখ্যাত একক গোলটি করেছিলেন।পুরো অভিযান নিয়ে মার্তিনেজ বলেন, সমর্থকদের সঙ্গে দলের যোগাযোগ সাফল্যের মূলে ছিল।তিনি বলেন, ‘এটা খুব তীব্র একটি বিশ্বকাপ ছিল। প্রতিটি ম্যাচ ছিল কঠিন। সমর্থকেরা আমাদের সঙ্গে, আমাদের পথচলার সঙ্গে নিজেদের মিলিয়েছেন। আমাদের এই দল এমন একটি দল, যে কখনো হাল ছাড়ে না, সব সময় আরও চায়। আর আছেন লিও [মেসি]র মতো নেতা, যিনি আমাদের হার না মানতে শিখিয়েছেন।’


কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৭

কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৭

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও পাঁচজন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার রিসোর্টে লাগা এ আগুন ১০টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে সাতটি লাশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, ওই রিসোর্টে মোট ১৭ জন পর্যটক ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, অনেকে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন পর্যটক মারা গেছেন, তা জানতে একটু সময় লাগবে।ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টটিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।


সন্তান নিতে চাইলে এই ৪ বদভ্যাস আজই ত্যাগ করুন

সন্তান নিতে চাইলে এই ৪ বদভ্যাস আজই ত্যাগ করুন

বাবা-মা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন? সুস্থ গর্ভাবস্থা ও একটি সুন্দর আগামীর জন্য শুধু জীবনযাত্রার বড় বড় পরিবর্তনই নয়, বরং নজর দিতে হবে দৈনন্দিন ছোটখাটো অভ্যাসের প্রতিও। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে সন্তান নেওয়ার আগে কোন অভ্যাসগুলো বর্জন করা জরুরি, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মদপান বর্জন করুন গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে বা গর্ভাবস্থায় মদপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা জরুরি। এটি বন্ধ্যত্ব ও গর্ভপাতের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ক্যাফেইনে নিয়ন্ত্রণ কফি ছাড়া দিন শুরু করা অনেকেরই অভ্যাস। তবে অতিরিক্ত চা বা কফি পানের অভ্যাস বন্ধ্যত্ব সৃষ্টির পাশাপাশি গর্ভপাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেকেই দাঁতের স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন থাকেন, যা মোটেও ঠিক নয়। মুখের বা দাঁতের অযত্ন পুরুষের শুক্রাণুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং অপরিপক্ব শিশুর জন্মঝুঁকি বাড়াতে পারে। ধূমপানকে না বলুন ধূমপানে থাকা নিকোটিন নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। যেহেতু এই হরমোনটি ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন নিয়ন্ত্রণ করে, তাই ধূমপান গর্ভধারণের পথকে কঠিন করে তোলে এবং চিকিৎসাধীন নারীদের অবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই সুস্থ ও স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে আজই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো থেকে দূরে থাকুন। 


আজ কতক্ষণ চলবে ব্যাংক লেনদেন

আজ কতক্ষণ চলবে ব্যাংক লেনদেন

শারদীয় দুর্গাপূজা আর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সামনে টানা পাঁচ দিন দেশের ব্যাংক বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ এই ছুটির কথা মাথায় রেখেই আজ শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। অন্য যেকোনো সাধারণ কর্মদিবসের মতোই আজ স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাংক লেনদেন ও সব ধরনের সেবা চালু থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর দুর্গাপূজার ছুটি। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে টানা পাঁচ দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।তবে ছুটির মধ্যেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা ও বুথে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে।উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে আজ শনিবার সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।


এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজপত্র

এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজপত্র

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে সংশোধনের ধরন ও ভুলের মাত্রা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নথি প্রস্তুত রাখলে প্রক্রিয়াটি সহজ হতে পারে।নাম সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রএনআইডিতে নিজের নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের জন্য সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদসহ নামের সঠিকতা প্রমাণের উপযোগী নথি জমা দিতে হতে পারে। প্রয়োজনে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কাবিননামা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডির অনুলিপিও দেওয়া যেতে পারে।সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত অনুলিপি, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা এবং জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের কপি প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের আবেদনে মূল কাগজপত্র প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হতে পারে।বাবা-মায়ের নাম সংশোধনে যেসব নথি লাগতে পারেএনআইডিতে বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি কিংবা সম্পূর্ণ নাম সংশোধনের জন্য শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডির অনুলিপি এবং নাগরিকত্ব বা চাকরিসংক্রান্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে।বাবা-মায়ের নাম আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের সনদ কিংবা রেজিস্ট্রেশন কার্ড, বাবা-মায়ের এনআইডির সত্যায়িত অনুলিপি এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বাবা-মা মারা গেলে ভাই-বোনদের এনআইডির অনুলিপিও চাওয়া হতে পারে।জন্মতারিখ সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রজন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি ভিন্ন হতে পারে।এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের সাধারণত সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হয়। বয়সের ব্যবধান অস্বাভাবিক মনে হলে মূল সনদ প্রদর্শন কিংবা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।এসএসসি বা সমমানের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এনআইডি ইস্যুর আগের তারিখের সার্ভিস বুক, এমপিওর কপি, জন্মনিবন্ধন সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট বা নিকাহনামার মতো নথি চাওয়া হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণসংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও জমা দিতে হতে পারে।ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবেএনআইডিতে স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংশোধনের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, বিদ্যুৎ, গ্যাস বা টেলিফোন বিল, পৌরকর বা চৌকিদারি করের রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া যেতে পারে।ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঠিকানা সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। তবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন না করে ঠিকানার নম্বর বা বানান সংশোধনের জন্যও আবেদন করা যায়।এ ক্ষেত্রে পরিবারের কোনো সদস্যের এনআইডির অনুলিপি এবং ঠিকানার সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হতে পারে।আবেদনের আগে যা মনে রাখবেননির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশোধনের ধরন ও জমা দেওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। জটিল বা বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শুনানি কিংবা সরেজমিন তদন্তও হতে পারে।তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস বা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা থেকে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা যাচাই করে নেওয়া ভালো।


যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয় যেভাবে

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয় যেভাবে

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সারা দেশে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নেওয়ার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।ইতোমধ্যেই প্রশ্নফাঁস সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি। গ্রেফতারদের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কাওরান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।গ্রেফতাররা হলেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ ও কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর।যেভাবে ফাঁস হয় প্রশ্নএসআরবি-৩-এর অধিনায়ক জানান, ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এসআরবির তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। নূর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তর পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম চালাতেন। প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, উত্তর তৈরি এবং বিতরণের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মূল উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত, পরে চক্রের সদস্যএসআরবি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে রুবেল ও মফিজুলের মাধ্যমে চক্রটির আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মফিজুল নিজেও চাকরিপ্রত্যাশী ছিলেন। তিনি চক্রের এক সদস্যকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় তিনি চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর-১০ ও মোহাম্মদপুর এবং সাভারে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করে এসআরবি। গ্রেফতারদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও চ্যাট পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সময় ও বিতরণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।অভিযানে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ২৫টি সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা, একটি ব্যাংক চেক, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মোবাইল ফোন এবং চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়। প্রশ্নপত্রের উৎস সম্পর্কে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক বলেন, নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করেছেন। তবে তাদের দেওয়া তথ্য এখনো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছে না তদন্ত দল। সংশ্লিষ্ট গ্রুপ ও আইডি যাচাই করা হচ্ছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ অধিদপ্তরের কারও সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা হয়। প্রশ্নপত্রের মূল উৎস ও অন্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।


স্ত্রীর সঙ্গে লুৎফুজ্জামানের শেষ কথা, ‘বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও, আসতে একটু দেরি হবে’

স্ত্রীর সঙ্গে লুৎফুজ্জামানের শেষ কথা, ‘বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও, আসতে একটু দেরি হবে’

‘বাচ্চাদের ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। আমার আসতে একটু দেরি হবে, একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে মোবাইল ফোনে এ কথাই বলেছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪৪)।তখন আনন্দিতার কোলে ছিল দেড় বছরের ছেলে আইয়ান সাফওয়ান। তিনি ভাবতেও পারেননি, স্বামীর সঙ্গে এটিই তার জীবনের শেষ কথা হবে।দুই সন্তানকে রাতের খাবার খাইয়ে স্বামীর অপেক্ষায় বসে ছিলেন আনন্দিতা। কিছুক্ষণ পরই তিনি তীব্র গুলির শব্দ শুনতে পান। প্রথমে ভেবেছিলেন আশপাশে কেউ হয়তো পটকা ফুটিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরেই জানতে পারেন, তার স্বামীকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। দ্রুত ছুটে গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান।নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে লুৎফুজ্জামানের শ্বশুরবাড়ির কাছে একটি চায়ের দোকানের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুই যুবক খুব কাছ থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে পরপর অন্তত পাঁচটি গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।লুৎফুজ্জামান কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আপসহীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতের এই বর্বরোচিত হামলায় নিভে গেল একটি তাজা প্রাণ।প্রায় ছয় বছর আগে তেলনজিয়া গ্রামের শিলা সাংমা ও প্রয়াত ফিলিপ রাংসার মেয়ে আনন্দিতা সাংমাকে বিয়ে করেন লুৎফুজ্জামান। তাদের চার বছরের মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছরের ছেলে আইয়ান সাফওয়ান রয়েছে।রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর অবুঝ শিশুকে কোলে নিয়ে নিথর স্বামীর লাশের পাশে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন আনন্দিতা।তিনি বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘এভাবে চোখের পলকে একজন মানুষকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। বাচ্চাদের যখন ভাত খাওয়াচ্ছিলাম, তখন গুলির শব্দ পেয়ে ভেবেছিলাম পটকা ফুটছে। একটু পরই মানুষ চিৎকার করে বলল, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীকে তো আর কোনোদিন ফিরে পাব না; কিন্তু যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আমার অবুঝ দুই সন্তানকে এতিম করল, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক বিশেষ ইউনিট মাঠে নেমেছে। ঘটনাস্থল থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জের পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর জেলার সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতকদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।লুৎফুজ্জামানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


মহাসচিবসহ দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল

মহাসচিবসহ দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল

দলীয় নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ড, ধর্মের নাম ব্যবহার করে ষড়যন্ত্র, দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং দলকে বিভক্ত করার অপচেষ্টার অভিযোগে ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য  অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিমকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার দলটির এক জরুরি সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তিতেও এসব তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।দলের ঐক্য, সংহতি ও আদর্শ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।এদিকে প্রেসিডিয়াম সদস্য আমিনুল ইসলাম সেলিমকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে দলটির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, কানাডাপ্রবাসী মেয়ের অসুস্থতার কারণে ১০ থেকে ২০ দিনের জন্য কানাডা যাচ্ছেন। তার অনুপস্থিতিতে আমিনুল ইসলাম সেলিম এ দায়িত্ব পালন করবেন।


‘কনট প্লেস কোনও বিক্ষোভস্থল নয়’, ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ নিয়ে সিজেপি-র দীপকে-কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল্লি পুলিশের

‘কনট প্লেস কোনও বিক্ষোভস্থল নয়’, ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ নিয়ে সিজেপি-র দীপকে-কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল্লি পুলিশের

জাতীয় রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’কর্মসূচির আয়োজনের বিষয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে সতর্ক করল দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (শরদচন্দ্র পওয়ার)-র মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের করোল বাগের বাসভবনে গিয়ে পুলিশ এই নোটিশ জারি করে।কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে বিকেল ৫টায় এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে নোটিশটি দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই অভিজিৎ দীপকে এই জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁকে কনট প্লেস এলাকায় কোনও ধরনের বিক্ষোভ, মিছিল বা সমাবেশ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তবে দীপকে এই বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই জমায়েতের উদ্দেশ্য ছিল কেবল জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা। সিজেপি-র সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে তাঁকে এক পুলিশ আধিকারিককে জিজ্ঞেস করতে শোনা যায়, "জাতীয় পতাকা ওড়ানোও কি নিষিদ্ধ?"তিনি প্রশ্ন করেন, “আমরা তো বলিনি যে আমরা বিক্ষোভ করব... আমরা কেবল তিরঙ্গা ওড়াব। এটাও কি অনুমোদিত নয়?”সংবাদমাধ্যমের নোটিশে দিল্লি পুলিশ ‘দিল্লি পুলিশ আইন, ১৯৭৮’-এর বিভিন্ন ধারা এবং ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারার অধীনে জারি করা নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ করেছে। এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই নির্দেশ অমান্য করলে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩’-এর ২২৩ ধারা এবং আইনের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।পুলিশ জানিয়েছে, কনট প্লেস একটি অত্যন্ত ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা, যেখানে যাতায়াতের পথ সীমিত। পুলিশের যুক্তি, কোনও অননুমোদিত জমায়েত হলে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে, জরুরি পরিষেবার যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে এবং ব্যবসায়ী, নিত্যযাত্রী ও সাধারণ মানুষ অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন।নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এলাকাটি সংসদ ভবন, কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থিত। এছাড়া, অতিরিক্ত ভিড় এবং অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল বাহিনীর গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যার বিষয়টিও এতে তুলে ধরা হয়েছে। এতে সিজেপি-এর আগের বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলোর প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করা হয় যে, পূর্ববর্তী সমাবেশগুলোতে অনুমোদনের শর্তাবলি লঙ্ঘিত হয়েছিল এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছিল। নোটিশে বলা হয়েছে, কনট প্লেস বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত কোনও স্থান নয়, বরং প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে অন্য কোনও নির্দিষ্ট স্থানে এই কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে।দিল্লি হাইকোর্ট ১৬ অক্টোবর সিজেপি ও দীপকের প্রস্তাবিত মিছিল আয়োজনে বাধা দিতে অস্বীকার করার একদিন পরই পুলিশের এই পদক্ষেপ সামনে এল। আদালত দিল্লি পুলিশের দেওয়া এই নিশ্চয়তা নথিবদ্ধ করেছে যে, তারা আইন অনুযায়ী সমাবেশটিকে নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


মোটরসাইকেলের সামনেও লাগাতে হবে নম্বরপ্লেট, সময় বেঁধে দিল বিআরটিএ

মোটরসাইকেলের সামনেও লাগাতে হবে নম্বরপ্লেট, সময় বেঁধে দিল বিআরটিএ

মোটরসাইকেলের সামনের দিকেও এখন নম্বরপ্লেট লাগাতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এত দিন শুধু পেছনে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ছিল। এবার সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট যোগ করতে হবে।মালিকদের নিজের উদ্যোগেই এ প্লেট বসাতে হবে। এর শেষ সময় আগামী ১৫ নভেম্বর। এই সময়ের মধ্যে নির্দেশনা না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিআরটিএ একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি দেয়। সেখানেই এ নির্দেশ জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে আরএফআইডিযুক্ত রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ নম্বরপ্লেট থাকার নিয়ম আছে। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি আরও জোরদার করতে সামনেও নিবন্ধন নম্বর দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুরুতে মালিকদেরই নির্ধারিত শর্ত মেনে ম্যানুয়াল প্লেট বসাতে হবে।সামনের নম্বরপ্লেট হতে হবে স্টেইনলেস স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের। প্লেটের পটভূমি হবে সাদা। তার ওপর কালো রঙে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা লিখতে হবে। প্লেটে কোনো নকশা বা বাড়তি সাজসজ্জা করা যাবে না।স্কুটার ও অন্য মোটরসাইকেলের জন্য প্লেটের মাপ আলাদা করা হয়েছে। স্কুটারের প্লেট হবে ২০০ মিলিমিটার লম্বা ও ১০০ মিলিমিটার চওড়া। স্কুটার ছাড়া অন্য সাধারণ মোটরসাইকেলের প্লেট হবে ২৮৫ মিলিমিটার লম্বা ও ৫০ মিলিমিটার চওড়া।দুই ক্ষেত্রেই নম্বরের হরফের উচ্চতা অন্তত ২০ মিলিমিটার হতে হবে। বিআরটিএ মোটরসাইকেল মালিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব নিয়ম মেনে সামনের নম্বরপ্লেট বসাতে আহ্বান জানিয়েছে।


১

মিষ্টির শূন্য আসন: ফরম নিলেন ৭০ নেত্রী, তারা কারা?

২

সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা দিতে বাধ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৩

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

৪

বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের আগে কী হয়েছিল আর্জেন্টিনা দলে, মুখ খুললেন লাউতারো

৫

কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৭

৬

সন্তান নিতে চাইলে এই ৪ বদভ্যাস আজই ত্যাগ করুন

৭

আজ কতক্ষণ চলবে ব্যাংক লেনদেন

৮

এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজপত্র

৯

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয় যেভাবে

১০

স্ত্রীর সঙ্গে লুৎফুজ্জামানের শেষ কথা, ‘বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও, আসতে একটু দেরি হবে’

সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর

আর্কাইভ