বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের সংবাদের আনুপাতিক হার বিবেচনার পরিবর্তে সংবাদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একইসঙ্গে গত ১৭ বছরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ও পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের তালিকাও তলব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ বিষয় উঠে আসে। কমিটির সভাপতি মো. আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক এরশাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’র ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিটিভির সংবাদ ও অনুষ্ঠান পরিবেশনের সামাজিক প্রভাব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কমিটি জানায়, বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয় বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। তাই এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ পরিবেশনের বিষয়ে বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট দিনে বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ থাকলে তা বিটিভিতে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করতে হবে। ‘আর স্বৈরাচার নয়, আসুন সবাই মিলেমিশে কাজ করি’ বিটিভির অনুষ্ঠান ও সংবাদের মাধ্যমে জনগণের কাছে এমন ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে যেসব কর্মকর্তাকে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং যারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ের মধ্যে বাতিল করা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সেজন্য বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন, মো. মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোছা. নাজমুন নাহার অংশ নেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীনস্থ বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের সংবাদের আনুপাতিক হার বিবেচনার পরিবর্তে সংবাদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একইসঙ্গে গত ১৭ বছরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ও পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের তালিকাও তলব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ বিষয় উঠে আসে। কমিটির সভাপতি মো. আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক এরশাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’র ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিটিভির সংবাদ ও অনুষ্ঠান পরিবেশনের সামাজিক প্রভাব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কমিটি জানায়, বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয় বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। তাই এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ পরিবেশনের বিষয়ে বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট দিনে বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ থাকলে তা বিটিভিতে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করতে হবে। ‘আর স্বৈরাচার নয়, আসুন সবাই মিলেমিশে কাজ করি’ বিটিভির অনুষ্ঠান ও সংবাদের মাধ্যমে জনগণের কাছে এমন ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে যেসব কর্মকর্তাকে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং যারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ের মধ্যে বাতিল করা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সেজন্য বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন, মো. মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোছা. নাজমুন নাহার অংশ নেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীনস্থ বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত