বাঙালির বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম-থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের আলোচনা

চট্টগ্রাম-থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের আলোচনা

চট্টগ্রাম বন্দর ও থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। এ ধরনের যোগাযোগ চালু হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি।

এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এ উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াবে না, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।

এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানো এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ। একই সঙ্গে বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

চট্টগ্রাম-থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের আলোচনা
0:00 0:00
1.0x
বাঙালির বাংলাদেশ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রাম-থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের আলোচনা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দর ও থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। এ ধরনের যোগাযোগ চালু হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি।

এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এ উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াবে না, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।

এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানো এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ। একই সঙ্গে বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাঙালির বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত