বাঙালির বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

এক সময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলায় সর্বহারা চরমপন্থিদের অবাধ বিচরণে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই আর খুন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সময়ের ব্যবধানে সেই জেলাগুলো এখন অনেকটাই চরমপন্থামুক্ত হয়েছে। দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সদর দফতরের আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমীন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'যে সোশ্যাল কন্ট্রাকটির মাধ্যমে তাদেরকে যে অধিকার দেয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে, সে অধিকার যেন আমরা তাদেরকে পৌঁছে দিতে পারি। আসলে সর্বহার একা হয় না, যারা বিপ্লবকে অন্য অর্থে ব্যবহার করবে সে দায়িত্বটা আমাদের এটা রাষ্ট্রের একটি সরকারের। আপনার সকলেই জানেন বর্তমান সরকার একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আপনারা আজ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। আপনাদের কি প্রয়োজন, সেটা বর্তমান সরকার ব্যবস্থা করবে।'

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। মূলত, সিরাজগঞ্জ , পাবনা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মার্কস-লেলিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল (লাল পতাকা), পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) অন্যতম। ১৯৬৮ সাল থেকে এসব সংগঠন বিস্তৃত হতে থাকে।

তরুণ সমাজকে ভুল বুঝিয়ে দলে ভেড়াতে থাকে চরমপন্থিদের শীর্ষ নেতারা। আশি-নব্বইয়ের দশকে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে চরমপন্থি সংগঠনগুলো। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে আলাদা রাজত্ব কায়েম করতে থাকে তারা। হত্যা করা হয় কয়েক হাজার মানুষকে। পরবর্তীতে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হতে থাকে তারা। একে অপরকে হত্যা করতে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক আরও বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন চরমপন্থিদলের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক সদস্য। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র‌্যাব-১২ কার্যালয়ে ৭ জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সিরাজগঞ্জের ৬ জন পাবনার ৫৪ জন ও রাজবাড়ীর ১৩ জন সর্বহারা চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করলো এসআরবির কাছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ
0:00 0:00
1.0x
বাঙালির বাংলাদেশ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

এক সময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলায় সর্বহারা চরমপন্থিদের অবাধ বিচরণে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই আর খুন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সময়ের ব্যবধানে সেই জেলাগুলো এখন অনেকটাই চরমপন্থামুক্ত হয়েছে। দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সদর দফতরের আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমীন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'যে সোশ্যাল কন্ট্রাকটির মাধ্যমে তাদেরকে যে অধিকার দেয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে, সে অধিকার যেন আমরা তাদেরকে পৌঁছে দিতে পারি। আসলে সর্বহার একা হয় না, যারা বিপ্লবকে অন্য অর্থে ব্যবহার করবে সে দায়িত্বটা আমাদের এটা রাষ্ট্রের একটি সরকারের। আপনার সকলেই জানেন বর্তমান সরকার একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আপনারা আজ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। আপনাদের কি প্রয়োজন, সেটা বর্তমান সরকার ব্যবস্থা করবে।'

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। মূলত, সিরাজগঞ্জ , পাবনা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মার্কস-লেলিন ও মাওবাদী আদর্শের নামে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠন সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল (লাল পতাকা), পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (এমবিআরএম) ও পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি (জনযুদ্ধ) অন্যতম। ১৯৬৮ সাল থেকে এসব সংগঠন বিস্তৃত হতে থাকে।

তরুণ সমাজকে ভুল বুঝিয়ে দলে ভেড়াতে থাকে চরমপন্থিদের শীর্ষ নেতারা। আশি-নব্বইয়ের দশকে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে চরমপন্থি সংগঠনগুলো। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে আলাদা রাজত্ব কায়েম করতে থাকে তারা। হত্যা করা হয় কয়েক হাজার মানুষকে। পরবর্তীতে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হতে থাকে তারা। একে অপরকে হত্যা করতে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক আরও বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন চরমপন্থিদলের শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক সদস্য। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র‌্যাব-১২ কার্যালয়ে ৭ জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সিরাজগঞ্জের ৬ জন পাবনার ৫৪ জন ও রাজবাড়ীর ১৩ জন সর্বহারা চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করলো এসআরবির কাছে।


বাঙালির বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত