মানুষ সাধারণত জুলুম বলতে অন্যের ওপর অত্যাচার, কারও অধিকার হরণ কিংবা কাউকে কষ্ট দেওয়াকে বোঝে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে জুলুমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নিজের প্রতি জুলুম করা। আল্লাহর অবাধ্যতা, গুনাহে লিপ্ত হওয়া এবং তার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করার মাধ্যমে মানুষ নিজেরই ক্ষতি করে। এসব কাজের পরিণতি দুনিয়ার জীবনেও পড়তে পারে, আর আখিরাতেও এর জন্য জবাবদিহি করতে হতে পারে।
পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বারবার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাই নিজের প্রতি জুলুমের বিভিন্ন রূপ সম্পর্কে জানা এবং সেগুলো থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের প্রতি জুলুম করার ১২টি উদাহরণ
১. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা
আল্লাহর ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করা সবচেয়ে গুরুতর গুনাহগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন—
لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
‘আল্লাহর সঙ্গে শিরক করো না। নিশ্চয়ই শিরক মহা জুলুম।’ (সুরা লুকমান: আয়াত ১৩)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা নিজের প্রতি সবচেয়ে বড় জুলুমগুলোর একটি।
২. মিথ্যা কসম করা
কোনো বিষয়ে জেনেশুনে মিথ্যা শপথ করা এবং কসমকে অসত্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।
৩. আমানতের খিয়ানত করা
কারও কাছে রাখা সম্পদ, দায়িত্ব বা গোপনীয়তার যথাযথ হেফাজত না করা।
৪. অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করা
প্রতারণা, জবরদখল কিংবা অন্য কোনো অবৈধ উপায়ে মানুষের সম্পদ ভোগ করা।
৫. অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘন করা
কারও অধিকার নষ্ট করা, অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করা।
৬. অশ্লীল কথা বলা
অশালীন ও অনৈতিক কথাবার্তার মাধ্যমে নিজের চরিত্র কলুষিত করা এবং অন্যকে কষ্ট দেওয়া।
আরও পড়ুন
হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?
হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?
৭. কেনাবেচায় প্রতারণা করা
পণ্যের দোষ গোপন করা, মাপে কম দেওয়া কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাকে ঠকানো।
৮. হারাম দৃষ্টিতে তাকানো
আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কামনাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকানো।
৯. অন্যের গোপনীয়তা ও সম্মান নষ্ট করা
কারও ব্যক্তিগত বিষয় অন্যায়ভাবে প্রকাশ করা, অপমান করা কিংবা সম্মানহানি ঘটানো।
১০. গিবত করা
কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ আলোচনা করা, যা সে শুনলে অপছন্দ করবে। দোষটি সত্য হলেও তা গিবত হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا
‘তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান কর না এবং একে অপরের গিবত কর না।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১২)
এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং অন্যের সম্মানহানি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
মানুষের অধিকার নষ্ট করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সতর্কবাণী রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ مِنْ شَيْءٍ، فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ
‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্মান বা অন্য কোনো বিষয়ে তার প্রতি জুলুম করেছে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়।’ (বুখারি ২৪৪৯)
হাদিসটির শিক্ষা হলো, শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াই নয়, মানুষের অধিকার নষ্ট করে থাকলে যথাসম্ভব সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়াও জরুরি।
১১. নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করা
আল্লাহর নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রবৃত্তির চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং অন্যায়ের পথে চলা।
১২. অন্যান্য গুনাহে লিপ্ত হওয়া
ছোট-বড় যেকোনো গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে বারবার করতে থাকা এবং তওবা থেকে দূরে থাকা। গুনাহের পর আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন—
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
‘বলুন, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩)
এই আয়াত আমাদের শেখায়, গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে।
নিজের প্রতি জুলুম করা মানে শুধু নিজের ক্ষতি করা নয়; বরং আল্লাহর অবাধ্যতা, গুনাহে লিপ্ত হওয়া এবং কখনো অন্যের অধিকার নষ্ট করার মাধ্যমে নিজের দুনিয়া ও আখিরাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। তাই প্রতিদিন নিজেদের কাজ, কথা ও আচরণের হিসাব নেওয়া প্রয়োজন। কোনো গুনাহ হয়ে গেলে তা নিয়ে গর্ব না করে অনুতপ্ত হওয়া, গুনাহ পরিত্যাগ করা, পুনরায় না করার সংকল্প নেওয়া এবং মানুষের অধিকার নষ্ট হয়ে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
মনে রাখতে হবে, আল্লাহর রহমতের দরজা তওবাকারীদের জন্য উন্মুক্ত। তাই আসুন, শিরকসহ সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি, মানুষের অধিকার ও সম্মান রক্ষা করি এবং নিজেদের সংশোধনে সচেষ্ট হই।
হে আল্লাহ! আমাদের সব ধরনের গুনাহ ও জুলুম থেকে হেফাজত করুন। আমাদের অন্তরকে পবিত্র করুন, সঠিক পথে চলার তৌফিক দিন, আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং আন্তরিক তওবা করার সামর্থ্য দান করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
মানুষ সাধারণত জুলুম বলতে অন্যের ওপর অত্যাচার, কারও অধিকার হরণ কিংবা কাউকে কষ্ট দেওয়াকে বোঝে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে জুলুমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নিজের প্রতি জুলুম করা। আল্লাহর অবাধ্যতা, গুনাহে লিপ্ত হওয়া এবং তার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করার মাধ্যমে মানুষ নিজেরই ক্ষতি করে। এসব কাজের পরিণতি দুনিয়ার জীবনেও পড়তে পারে, আর আখিরাতেও এর জন্য জবাবদিহি করতে হতে পারে।
পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বারবার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাই নিজের প্রতি জুলুমের বিভিন্ন রূপ সম্পর্কে জানা এবং সেগুলো থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের প্রতি জুলুম করার ১২টি উদাহরণ
১. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা
আল্লাহর ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করা সবচেয়ে গুরুতর গুনাহগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন—
لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
‘আল্লাহর সঙ্গে শিরক করো না। নিশ্চয়ই শিরক মহা জুলুম।’ (সুরা লুকমান: আয়াত ১৩)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা নিজের প্রতি সবচেয়ে বড় জুলুমগুলোর একটি।
২. মিথ্যা কসম করা
কোনো বিষয়ে জেনেশুনে মিথ্যা শপথ করা এবং কসমকে অসত্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।
৩. আমানতের খিয়ানত করা
কারও কাছে রাখা সম্পদ, দায়িত্ব বা গোপনীয়তার যথাযথ হেফাজত না করা।
৪. অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করা
প্রতারণা, জবরদখল কিংবা অন্য কোনো অবৈধ উপায়ে মানুষের সম্পদ ভোগ করা।
৫. অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘন করা
কারও অধিকার নষ্ট করা, অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করা।
৬. অশ্লীল কথা বলা
অশালীন ও অনৈতিক কথাবার্তার মাধ্যমে নিজের চরিত্র কলুষিত করা এবং অন্যকে কষ্ট দেওয়া।
আরও পড়ুন
হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?
হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?
৭. কেনাবেচায় প্রতারণা করা
পণ্যের দোষ গোপন করা, মাপে কম দেওয়া কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাকে ঠকানো।
৮. হারাম দৃষ্টিতে তাকানো
আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কামনাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকানো।
৯. অন্যের গোপনীয়তা ও সম্মান নষ্ট করা
কারও ব্যক্তিগত বিষয় অন্যায়ভাবে প্রকাশ করা, অপমান করা কিংবা সম্মানহানি ঘটানো।
১০. গিবত করা
কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ আলোচনা করা, যা সে শুনলে অপছন্দ করবে। দোষটি সত্য হলেও তা গিবত হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا
‘তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান কর না এবং একে অপরের গিবত কর না।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১২)
এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং অন্যের সম্মানহানি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
মানুষের অধিকার নষ্ট করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সতর্কবাণী রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ مِنْ شَيْءٍ، فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ
‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্মান বা অন্য কোনো বিষয়ে তার প্রতি জুলুম করেছে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়।’ (বুখারি ২৪৪৯)
হাদিসটির শিক্ষা হলো, শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াই নয়, মানুষের অধিকার নষ্ট করে থাকলে যথাসম্ভব সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়াও জরুরি।
১১. নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করা
আল্লাহর নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রবৃত্তির চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং অন্যায়ের পথে চলা।
১২. অন্যান্য গুনাহে লিপ্ত হওয়া
ছোট-বড় যেকোনো গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে বারবার করতে থাকা এবং তওবা থেকে দূরে থাকা। গুনাহের পর আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন—
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
‘বলুন, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩)
এই আয়াত আমাদের শেখায়, গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে।
নিজের প্রতি জুলুম করা মানে শুধু নিজের ক্ষতি করা নয়; বরং আল্লাহর অবাধ্যতা, গুনাহে লিপ্ত হওয়া এবং কখনো অন্যের অধিকার নষ্ট করার মাধ্যমে নিজের দুনিয়া ও আখিরাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। তাই প্রতিদিন নিজেদের কাজ, কথা ও আচরণের হিসাব নেওয়া প্রয়োজন। কোনো গুনাহ হয়ে গেলে তা নিয়ে গর্ব না করে অনুতপ্ত হওয়া, গুনাহ পরিত্যাগ করা, পুনরায় না করার সংকল্প নেওয়া এবং মানুষের অধিকার নষ্ট হয়ে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
মনে রাখতে হবে, আল্লাহর রহমতের দরজা তওবাকারীদের জন্য উন্মুক্ত। তাই আসুন, শিরকসহ সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি, মানুষের অধিকার ও সম্মান রক্ষা করি এবং নিজেদের সংশোধনে সচেষ্ট হই।
হে আল্লাহ! আমাদের সব ধরনের গুনাহ ও জুলুম থেকে হেফাজত করুন। আমাদের অন্তরকে পবিত্র করুন, সঠিক পথে চলার তৌফিক দিন, আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং আন্তরিক তওবা করার সামর্থ্য দান করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

মতামত