বাঙালির বাংলাদেশ
আপডেট : বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শির পারিবারিক জীবন নিয়ে যা জানা গেল

চীনের প্রেসিডেন্ট শির পারিবারিক জীবন নিয়ে যা জানা গেল

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জীবনটা খুব সহজ নয়, বরং বড় উত্থান-পতনে ঘেরা। বলা চলে, তিনি ছিলেন সেই ‘রাজপুত্র’ যিনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। শির গল্পের শুরুটা হয়েছিল বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থান থেকে।

১৯৫৩ সালে বেইজিংয়ে জন্ম নেন শি জিনপিং। তার বাবা শি ঝংজুন ছিলেন একজন কমিউনিস্ট বিপ্লবী, যিনি গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন, পরবর্তীতে দলের ঊর্ধ্বতন নেতা এবং উপ-প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন।

শি ঝংজুনের ষষ্ঠ সন্তান ছিলেন শি জিনপিং। শৈশবে শি নামকরা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং এমন সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন যা অধিকাংশ পরিবারের জন্য সহজলভ্য ছিল না।

তিনি ২২ বছর বয়সে চীনের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রাসায়নিক প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করতে গ্রাম ছেড়েছিলেন।

স্নাতক শেষ করার পর, তিনি বেইজিং থেকে অনেক দূরে ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াংয়ে স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। এ উপকূলীয় প্রদেশগুলো ১৯৮০-এর দশকে অর্থনীতি উন্মুক্ত হওয়ার পর চীনের অন্যতম ধনী প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।

মাওয়ের মৃত্যুর পর শির বাবার পুনর্বাসন তাকে কেন্দ্রীয় সরকার ও সামরিক বাহিনীতে পদ পেতে এবং দলের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।

এ কর্মকর্তাদের অনেকেই পরবর্তীকালে তার বিশ্বস্ত নেতৃত্ব বলয়ের অংশ হয়েছিলেন।

শি ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত এক সাবেক রাষ্ট্রদূতের কন্যা কে লিংলিংকে প্রথম বিয়ে করেন, কিন্তু তিন বছর পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় ও বর্তমান স্ত্রী পেং লিউয়ানের সঙ্গে শি জিনপিং-এর পরিচয় হয় একজনের মাধ্যমে যিনি তাদের দুইজনেরই বন্ধু ছিলেন।

লিউয়ান সামরিক বাহিনীর একজন লোকসংগীত শিল্পী, যিনি প্রতি বছর চান্দ্র নববর্ষের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে চীনে ইতোমধ্যেই ঘরে ঘরে পরিচিত ছিলেন, যা কোটি কোটি দর্শক দেখতেন।

১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে অনেক চীনাদের কাছে, পেং তার স্বামী, প্রাদেশিক কর্মকর্তা শির চেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন।

পেং প্রায়শই শির সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছেন, যা চীনের ফার্স্ট লেডিদের ঐতিহ্যগতভাবে প্রচারবিমুখ ভাবমূর্তি থেকে একটি ব্যতিক্রম।

তাদের একমাত্র সন্তান, কন্যা শি মিংজে ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন— এটুকু ছাড়া তার সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না।

২০০৭ সালে, সাংহাইয়ের শীর্ষ নেতা হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময় দায়িত্ব পালনের পর, শি চীনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটিতে যোগ দেন। পাঁচ বছর পর, তিনি হু জিনতাওয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হন।

চীনের নেতা হিসেবে শি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এমনভাবে পরিবর্তন এনেছেন, যা খুব কম লোকই প্রত্যাশা করেছিল।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

চীনের প্রেসিডেন্ট শির পারিবারিক জীবন নিয়ে যা জানা গেল
0:00 0:00
1.0x
বাঙালির বাংলাদেশ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


চীনের প্রেসিডেন্ট শির পারিবারিক জীবন নিয়ে যা জানা গেল

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জীবনটা খুব সহজ নয়, বরং বড় উত্থান-পতনে ঘেরা। বলা চলে, তিনি ছিলেন সেই ‘রাজপুত্র’ যিনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। শির গল্পের শুরুটা হয়েছিল বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থান থেকে।

১৯৫৩ সালে বেইজিংয়ে জন্ম নেন শি জিনপিং। তার বাবা শি ঝংজুন ছিলেন একজন কমিউনিস্ট বিপ্লবী, যিনি গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন, পরবর্তীতে দলের ঊর্ধ্বতন নেতা এবং উপ-প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন।

শি ঝংজুনের ষষ্ঠ সন্তান ছিলেন শি জিনপিং। শৈশবে শি নামকরা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং এমন সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন যা অধিকাংশ পরিবারের জন্য সহজলভ্য ছিল না।

তিনি ২২ বছর বয়সে চীনের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রাসায়নিক প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করতে গ্রাম ছেড়েছিলেন।

স্নাতক শেষ করার পর, তিনি বেইজিং থেকে অনেক দূরে ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াংয়ে স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। এ উপকূলীয় প্রদেশগুলো ১৯৮০-এর দশকে অর্থনীতি উন্মুক্ত হওয়ার পর চীনের অন্যতম ধনী প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।

মাওয়ের মৃত্যুর পর শির বাবার পুনর্বাসন তাকে কেন্দ্রীয় সরকার ও সামরিক বাহিনীতে পদ পেতে এবং দলের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।

এ কর্মকর্তাদের অনেকেই পরবর্তীকালে তার বিশ্বস্ত নেতৃত্ব বলয়ের অংশ হয়েছিলেন।

শি ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত এক সাবেক রাষ্ট্রদূতের কন্যা কে লিংলিংকে প্রথম বিয়ে করেন, কিন্তু তিন বছর পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় ও বর্তমান স্ত্রী পেং লিউয়ানের সঙ্গে শি জিনপিং-এর পরিচয় হয় একজনের মাধ্যমে যিনি তাদের দুইজনেরই বন্ধু ছিলেন।

লিউয়ান সামরিক বাহিনীর একজন লোকসংগীত শিল্পী, যিনি প্রতি বছর চান্দ্র নববর্ষের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে চীনে ইতোমধ্যেই ঘরে ঘরে পরিচিত ছিলেন, যা কোটি কোটি দর্শক দেখতেন।

১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে অনেক চীনাদের কাছে, পেং তার স্বামী, প্রাদেশিক কর্মকর্তা শির চেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন।

পেং প্রায়শই শির সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছেন, যা চীনের ফার্স্ট লেডিদের ঐতিহ্যগতভাবে প্রচারবিমুখ ভাবমূর্তি থেকে একটি ব্যতিক্রম।

তাদের একমাত্র সন্তান, কন্যা শি মিংজে ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন— এটুকু ছাড়া তার সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না।

২০০৭ সালে, সাংহাইয়ের শীর্ষ নেতা হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময় দায়িত্ব পালনের পর, শি চীনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটিতে যোগ দেন। পাঁচ বছর পর, তিনি হু জিনতাওয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হন।

চীনের নেতা হিসেবে শি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এমনভাবে পরিবর্তন এনেছেন, যা খুব কম লোকই প্রত্যাশা করেছিল।


বাঙালির বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত